আশরাফুলের ম্যাচ ফিক্সিং এবং আমার ভাবনা !

আশরাফুল

আমি আশরাফুলের ভক্ত। আশরাফুল দশটা ম্যাচ খারাপ খেললেও হাল ছাড়তাম না। আশা করতাম পরবর্তী কোন ম্যাচে নিশ্চয়ই সে ভালো করবে, ঠিকই মন রাখবে আমাদের। হাজারো বাঙ্গালি তার ভালো খেলার জন্যে প্রত্যাশা করে থাকে ! মনে আছে, আশরাফুল যখন ১৯০ করলো তখন এক চাওয়ালা আমাকে খিচুড়ি খেয়ে যাওয়ার জন্যে দাওয়াত দিয়েছিলো ! শুধু আমাকে না, সারা মার্কেটের দোকনদারদের জন্যে সে খিচুড়ির ব্যবস্থা করেছিলো। নির্দ্বিধায় একজন চাওয়ালা তার কয়েকদিনের ব্যবসার টাকা খরচ করে দিলো একজন আশরাফুলের জন্যে ! তখন গর্বে আর শ্রদ্ধায় মনটা ভরে গিয়েছিলো।

আমি আশরাফুলের ভক্ত, যখন দেখি বড় বড় দলগুলোর বোলারদের কাছে যেখানে দেশের অন্য কোন ব্যাটসম্যান পরাস্ত সেখানে আমাদের আশরাফুল জ্বলে উঠেছে ! অসাধারণ সব শট খেলে দর্শকদের মন মাতিয়েছে।

আমি আশরাফুলের ভক্ত যখন বারবার মনে হয় সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে আমাদের আশরাফুলের নামটাই থাকে।

কিন্তু আমি আশরাফুলের ভক্ত “ছিলাম” যখন দেখি আশরাফুল স্পট ফিক্সিং এর সাথে জড়িত ! আমি আশরাফুলের উপর ক্রুদ্ধ যখন সে নৈতিকতা বিসর্জন দেয় ! কিন্তু আমি আশরাফুলের বিচার চাই যখন এই আশরাফুল দেশের মানুষের উপর কালিমা মেখে দিয়ে এতোগুলো স্পট ফিক্সিং এর সাথে জড়ায় ! আমি আশরাফুলকে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে আর কখনো দেখতে চাইনা যখন দেখি আশরাফুল জাতীয় দলে খেলার সময়েও স্পট ফিক্সিং এর সাথে জড়িত ছিলো !

টাকা পয়সাই কি সব? নৈতিকতা বলে কি কিছু নেই? এতোশতো মানুষের আশার প্রতিদান এভাবে দিলো আশরাফুল ? সেই চাওয়ালা যিনি আমাকে খিচুড়ির দাওয়াত দেন আশরাফুল ভালো খেলায় তিনি কি আর কখনো খিচুড়ি খাওয়াবেন কাউকে আশরাফুল ভালো করেছে বলে? তার মনের কি অবস্থা? সে কি ভালো থাকবে?

সম্ভব হলে আশরাফুলকে সামনাসামনি একটা কথা বলতাম – “আশরাফুল ভাই, আমি আপনার ভক্ত ছিলাম

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি