কিভাবে একটি ইমেইল একাউন্ট খুলবেন ?

ই-মেইলের সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত। এর পরেও যারা এখনো ইমেইল একাউন্ট সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না তাদের জন্যে এই পোষ্ট করা। চলুন তাহলে জেনে নেই ই-মেইল কি , কিভাবে একটি নতুন ইমেইল খোলা যায়।

ই-মেইল কি ?

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগ আমাদের  দৈনন্দিন  চলার পথকে আরো সহজ এবং প্রাণবন্ত করে তুলেছে।  এর সাথে সাথে ই-মেইল সব চেয়ে প্রচলিত একটি টার্ম।

Electronic Mail এর সংক্ষিপ্ত রুপ হল ইমেইল। মূলত ইন্টারনেট সংযুক্ত একটি কম্পিউটার বা অন্য কোন ডিভাইস থেকে অন্য কোন ডিভাইসে ইন্টারনেটের সাহায্যে বার্তা পাঠানোর পদ্ধতিকেই ই-মেইল বলতে পারি। 

যেকোন একটি ই-মেইলকে ব্যবচ্ছেদ করি। ধরি একটি ই-মেইল হল, pplika@gmail.com। ইমেইলকে সহজেই দু’টি ভাগে ভাগ করতে পারি। @ (এট দা রেট অফ, at the rate of ) এর আগের অংশ হল ইউজার নেম আর @ এর পরের অংশ হল সার্ভিস প্রোভাইডের ওয়েব এড্রেস মানে যাদের মাধ্যমে ই-মেইল পাঠাবো।  তাহলে পাচ্ছে username@service provider (pplika@gmail.com) । উপরে বর্ণিত ইমেইলে দেখতে পাই ইউজার নেম হল pplika আর সার্ভিস প্রোভাইডার হল gmail.com ।

আমরা যখন ছোট ছিলাম নিশ্চয় দেখেছি আমাদের আত্মীয়-স্বজন বিদেশ থাকলে তারা চিঠি পাঠাতেন। একটা চিঠি পাঠানোর কয়েক সপ্তাহ পড়ে হয়ত সেই চিঠি আমাদের হাতে আসত। মূলত নির্ভরতা ছিল পোষ্ট অফিসের উপর। কিন্ত বর্তমানে আমাদের আর এভাবে কারো উপর নির্ভর করতে হয় না। ইমেইলের মাধ্যেমে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আমরা তথ্য পাঠাতে পারি  নিমেষেই।

ই-মেইল কেন ব্যবহার করব ?

ই-মেইল কেন ব্যবহার করব ? খুব ভাল একটি প্রশ্ন এটি। আচ্ছা আপনাকে যদি বলা হয় আপনি কেন মোবাইল ব্যবহার করেন ? উত্তর কি দিবেন ? নিশ্চয় বলেন সবার সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারছি নিমেষেই। দেখুন  মোবাইল থাকলেই কিন্ত কারো সাথে কথা বলতে পারবেন  না ঠিক কিনা ?  প্রয়োজন কোন মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের সিম। প্রত্যেকটা সিমের আবার আলাদা নাম্বার বা আইডেনটিটি আছে যেন সহজেই আপনাকে খুঁজে নেওয়া যায় বা আপনি কারো যোগাযোগ করেছেন সেটি বুঝা যাবে।

মোবাইল ফোন যেমন জরুরী, দিনে দিনে ইমেইল ও তেমন জরুরী হয়ে উঠছে । এক সময় ছিল যেকোন ডকুমেন্ট পাঠাতে গেলে বেশ কিছু সময় ব্যয় হতো। তবে এখন কার দিনে নিমিষেই যেকোন ডকুমেন্ট পাঠাতে পারি ইমেইলের মাধ্যেমে যেকোন দেশে কিংবা স্থানে। এ ক্ষেত্রে মোবাইলের সীমের মত সবার একটি আইডেনটিটির দরকার পড়ে যাতে করে আপনাকে আলাদাভাবে চেনা যায় । এখানেই ই-মেইলের সেই কাজটি করে।

শুধুমাত্র যে বার্তা পাঠাতেই ইমেইল ব্যবহার করবেন এমন নয়। বর্তমানে অনলাইনের প্রায় সব কাজের জন্যে আপনার একটি ইমেইল প্রয়োজন। অনলাইন ব্যাংকিং, ফেসবুক একাউন্ট, কোন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম বা অন্য যে কোন ধরনের অনলাইন একাউন্ট বা সেবা পেতে আপনার একটি ই-মেইল একাউন্ট লাগবে।

কোন ই-মেইল সার্ভিস ব্যবহার করব?

অসংখ্য ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছে যারা বিনা মূল্যেই ই-মেইল সেবা প্রদান করে থাকে।  ইয়াহু মেইল, জি মেইল,  ইয়ানডেক্স মেইল, মেইল ডট কম,  আউটলুক, হটমেইল ইত্যাদি নানান ইমেইল সার্ভিস প্রোভাইডার আছে। এখন তাহলে কোন ই-মেইল সার্ভিস ব্যবহার করব ? বিচার, নিরাপত্তা ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় আমার ব্যক্তিগত পছন্দ হল জি মেইল। তবে আপনি চাইলে অন্য কোন ই মেইল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন। জি মেইলের পরে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইয়াহুর পক্ষে। চলুন তাহলে কিভাবে একটি জি মেইল একাউন্ট খুলবেন দেখে নেই। অন্যান্য মেইল খোলাও কাছাকাছি পদ্ধতিতে হবে।

কিভাবে ইমেইল ( জি মেইল)  একাউন্ট খুলবেন?

প্রায় সব ই-মেইল সার্ভিস প্রোভাইডারের ক্ষেত্রেই ই-মেইল নতুন করে খুলা প্রায় কাছাকাছি পদ্ধতি অনুসরন করে। আজকে আমরা জি-মেইল একাউন্ট খুলব। চলুন তাহলে দেখে নেই কিভাবে জি মেইল একাউন্ট খুলতে হয়। আপনি চাই চাইলে একই ভাবে অন্য কোন প্রোভাইডারে একাউন্ট খুলতে পারেন।

যেহেতু আমরা জি মেইলের ওয়েব ঠিকানা জানি না  তাই ব্রাউজারে যেয়ে লিখি gmail এবং এন্টার চাপি । তাহলে সার্চ ইঞ্জিন আমাদের জিমেইলের ঠিকানা সম্ভলিত পেজে নিয়ে যাবে। এত ক্লিক করলে নিচের ছবির মত পেজ আসবে।

জি মেইল একাউন্ট খোলা

 

ক্রিয়েট একাউন্টে ক্লিক করি । তাহলে নীচের স্ক্রীনশটের মত একটি পেজ আসবে।

এখানে নিজের নাম, ফাস্ট নেম লাস্ট নেম হিসেবে দিতে হবে। অর্থাৎ নামের দু’টি অংশ লাগবে। ধরুন আপনার নাম শুধুমাত্র Ashik  সেক্ষেত্রে কি করবেন ?  হুম সে ক্ষেত্রে একটা অংশ লাগিয়ে নিতে হবে। আমি যদি ফাস্ট নেমে Mohammad বা অন্য কিছু দিয়ে দেই তাহলেই হচ্ছে।

দ্বিতীয় অংশে আসতেছে ইউজার নেম। আপনি যে নামে ই-মেইল খুলতে চান সেটি দিন। এবার পাসওয়ার্ড দিন । এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে জি মেইলে কমপক্ষে ৮ অক্ষরের পাসওয়ার্ড দিতে হবে। পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করার জন্যে বড় হাতের অক্ষর, কোন সিম্পল , নাম্বার সবগুলো এক সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন। নেক্সট ক্লিক করুন।

যদি আপনার দেওয়া ইউজার নেম পূর্বে কেউ ব্যবহার না করে থাকে সে ক্ষেত্রে আপনাকে অন্য একটি পেজে নিয়ে যাবে  । আর যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত ই-মেইল অন্য কেউ ব্যবহার করে থাকে সে ক্ষেত্রে আগে বা পিছনে অল্প কিছু অংশ লাগিয়ে নিন। যেমন  এ ক্ষেত্রে পূর্বেই pplika নামে ইউজার নেমে একাউন্ট খুলে ফেলায় এ নামে একাউন্ট খোলা যাবে না । তাই আমি সাথে কিছু এড করেছি। pplika.blog@gmail.com ।

নেক্সট চাপলে আপনার মোবাইলে নাম্বার দিতে বলবে। এটি আপনার নিরাপত্তার জন্যেই চালু করা হয়েছে।

নাম্বার দিয়ে নেক্সট চাপলে আপনার ফোনে একটি ভেরিফিকেশন নাম্বার পাঠাবে। এটি দিলে পরবর্তি পেজে জন্ম তারিখ,  লোকেশান, অন্য কোন ইমিল(অপশনাল), সিকিউরিটি প্রশ্ন ইত্যাদি ফিল আপ করলে অন্য একটি পেজে নিয়ে যাবে  । এরপর I agree to Google Terms of Service and Privacy Policy র নিয়ে গিলে এগ্রিতে  টিক চিহ্ণ দিন। আপনার একটি ইমেইল একাউন্ট ওপেন হয়ে গেল।  এরপর উপরের অংশে নিল continue to gmail লেখা অংশে ক্লিক করুন। ক্লিক করার পর আপনি সরাসরি ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করবেন। যেখানে আপনি পেয়ে যাবেন আপনার ইমেইলের ইনবক্স ।

একই ভাবে আপনি অন্যান্য সব সার্ভিস প্রোভাইডারের ই-মেইলও খুলতে পারেন।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক