মহৌষধ নামে পরিচিত কালোজিরার উপকারিতা যা আমাদের জানা উচিত

বহু প্রাচীনকাল থেকেই কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কানন অব মেডিসিন' এ বলেছেন, ‘‘কালজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে।

সাধারণত কালোজিরা নামে পরিচিত হলেও কালোজিরার আরো বেশ কিছু নাম রয়েছে, যেমন- কালো কেওড়া, রোমান করিয়েন্ডার বা রোমান ধনে, নিজেলা, ফিনেল ফ্লাওয়ার, হাব্বাটুসউডা ও কালঞ্জি ইত্যাদি। যে নামেই ডাকা হোকনা কেন এই কালো বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিধন থেকে শুরু করে শরীরের কোষ ও কলার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কালোজিরা। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্যই না কালোজিরা চুল ও ত্বকের জন্যও অনেক উপকারি। প্রত্যেকের রান্নাঘরেই কালোজিরা থাকে যা খাবারকে সুবাসিত করে।

মসলা হিসেবে কালো জিরার চাহিদা অনেক। কালো জিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, যা মানব শরীরের জন্য খুব উপকারি। এতে আছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস। এছাড়া এতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক কেরটিন, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান এবং অম্ল রোগের প্রতিষেধক।

কালো জিরা পরিচিতি

কালো জিরার বোটানিক্যাল নাম হচ্ছে ‘নাইজিলা সাটিভা’ (Nigella sativa), এটি পার্সলে পরিবারের একটি উদ্ভিদ। এটি মাঝারী লতাপাতা জাতীয় মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয় । তিন-কোনা আকৃতির কালো রং এর বীজ হয় । লম্বায় ২০-৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া। পত্রদণ্ডের উভয় দিকে যুগ্মপত্র হয়। পাতাগুলো ছোটো ফলকের মতো বিভাজিত অবস্থায় দেখা যায়।

সাধারণত এর ফুলের রঙ হয় সাদা বা নিষ্প্রভ নীল। তবে পীতবর্ণের ফুলের কালিজিরা গাছও দেখা যায়। ফুলের পাঁচটি পাপড়ি থাকে। পুংকেশরের সংখ্যা অনেক। এর গর্ভকেশর বেশ লম্বা হয়। বাংলা কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে এর ফুল ফোটে এবং শীতকালে ফল ধরে। ফলের আকার গোলাকার এবং প্রতিটি ফলে ২০-২৫ টি বীজ থাকে। এর বীজ কালো বর্ণের এবং প্রায় ত্রিকোণাকার। এর বীজগুলো একটি খোলসের ভিতরে থাকে। খোলসের ভিতরে অনেক বীজ থাকে। এর বীজগুলোতে তেল থাকে। এই উদ্ভিদের বীজ ব্যবহার করা হয়। মূলত এই বীজকেই কালিজিরা বলা হয়।

আয়ুর্বেদীয় , ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মশলা হিসাবে ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে, এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। মানুষ ২০০০ বছর ধরে ঔষধ হিসেবে কালো জিরার বীজ ব্যবহার করেছে

কালোজিরা নিয়ে ধর্মীয় প্রচলিত ধারনা

রোমান সাম্রাজ্যের মত প্রাচীন সভ্যতাগুলো কালোজিরা কে "সব আরোগ্য" (Panacea) বলা হত যার আক্ষরিক অর্থ "সর্বব্যাধির ঔষধ" (cure all)। রোম এর ঔষধ হিসাবে কালোজিরার ব্যাপক ব্যবহার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কালো জিরা প্রোটিন, ভিটামিন B1, ভিটামিন B2, ভিটামিন B3, ক্যালসিয়াম ও লৌহ মত পুষ্টি সমৃদ্ধ ওষধি।

অন্যদিকে,

হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন: 

“ কালোজিরা সাম ব্যতীত সকল রোগের উপশম (healing)।" সাম মানে হলো মৃত্যু।(বুখারী: ৫৬৮৮,তিরমিযী ২০৪১,ইবনু মাজাহ ৩৪৪৭)

তিরমিযী,বুখারী,মুসলিম থেকে নেয়া—
হযরত কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে,

“প্রতিদিন ২১টি কালোজিরার ১টি পুটলি তৈরী করে পানিতে ভিজাবে এবং পুটলির পানির ফোঁটা এ নিয়মে নাশারন্দ্রে (নাশিকা, নাক) ব্যবহার করবে-“প্রথমবার ডান নাকেরছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা। দ্বিতীয়বার বাম নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং ডান নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা। তৃতীয়বার ডান নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা ও বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা।”

হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, 

“নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যখন রোগ-যন্ত্রণা খুব বেশী কষ্টদায়ক হয় তখন এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা নিয়ে খাবে তারপর পানি ও মধু সেবন করবে।”
– মুজামুল আওসাতঃ তাবরানী।

এখন উল্লেখ করা প্রয়োজন যে অনেকে বলে থাকেন আচ্ছা তাহলে কালিজিরা যদি সব রোগের  ঔষধই হয়ে থাকে, তাহলে কেন সব রোগে যেমন ক্যান্সারের রোগীকে কালিজিরা খাওয়ালে ভাল হয়ে যেতে তাই না ? সেটাই তো ? ধর্ম বিরোধী অনেকে এই বলে নাজেহাল করতে চান যে আচ্ছা তোমাদের নবী তো বলেই গেছে কালিজিরা সকল রোগের ঔষধ তাহলে তো কালিজিরা খাওয়া না কেন । অসুখ ভাল হয়ে যাবে । 

স্বাভাবিক তো তাই মনে হচ্ছে তাই না যে  তাই তো কালিজিরা খাওয়ালেই তো হয়। ভাই থামেন ! 

ভালো করে দেখুন এখানে ওষুধ বলা হয়নি,বলা হয়েছে উপশম/healing বা নিরাময়।এখন বলুন উপশম আর ওষুধ কি এক হয়?”

 নবী সা: বলেননি রোগ হলে কালোজিরা খেতে,তিনি বলেছেন কালোজিরা খেতে যাতে সেটি রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে আরো শক্তিশালী করে।কিন্ত হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আপনি বলছেন ওষুধের কথা !

তবে কালোজিরাতে এমন সব উপাদান আছে যা ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের পথপ্রদর্শক ইবনে সিনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কানুন ফিত তিবব’ (Canon Of Medicine) গ্রন্থে বলেছেন,কালোজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং এর মধ্যে শতাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে যার মধ্যে ২১ শতাংশ প্রোটিন,৩৮ শতাংশ শর্করা,স্নেহ পদার্থ ৩৫ শতাংশ এবং বাকি অংশ ভিটামিন ও খনিজ।

কালিজিরাতে বিদ্যমান উপাদান

কালো জিরা গাছের বীজে প্রায় ১০০টি রাসায়নিক যৌগ আছে। এতে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি। কালিজিরার অন্যতম উপাদানের মধ্যে আছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন ও স্থায়ী তেল। এতে আরও আছে আমিষ, শর্করা ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিডসহ নানা উপাদান।

পাশাপাশি কালিজিরার তেলে আছে লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, নিয়াসিন ও ভিটামিন-সি। এর মধ্যে রয়েছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস, কার্বো-হাইড্রেট ছাড়াও জীবাণু নাশক বিভিন্ন উপাদান সমূহ।

এতে রয়েছে ক্যন্সার প্রতিরোধক কেরোটিন ও শক্তিশালী হর্মোন, প্রস্রাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান, পাচক এনজাইম ও অম্লনাশক উপাদান এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক।

কালি জিরার উপকারিতা

অসুখ-বিসুখে কালো জিরাকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন চিকিৎসক-কবিরাজরা। মাথার চুল থেকে পায়ের নখ- সব অঙ্গের রোগ নিরাময়ে জুড়ি নেই কালো জিরার। সর্দি-কাশি, আমাশয়, ফুসফুসের প্রদাহ, মাথার যন্ত্রণা থেকে শুরু করে জন্ডিস সব রোগেরই উপযুক্ত দাওয়াই এই কালো জিরা। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, আশ্চর্য বীজ কালোজিরার উপকারিতা গুলোঃ

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতে কালোজিরা

নিয়মিত কালোজিরা খেলে দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিক মতো হয়। এক চা-চামচ পুদিনা পাতার রস বা কমলার রস বা এক কাপ রঙ চায়ের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার করে নিয়মিত  খেতে হবে । এতে দুশ্চিন্তা দূর করে। এছাড়া কালোজিরা মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে।

কালোজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক। মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। কালোজিরা খেলে আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির হয়। যা আমাদের স্মৃতি শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধে কালোজিরা

শরীরের রোগ প্রতিরোধে কালিজিরার মতো এত সহজে এত কার্যকর আর কোনো প্রাকৃতিক উপাদান আছে বলে জানা যায়নি ।  কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে।

কালিজিরায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এই উপাদানের জন্য শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না। এটি যে কোনো জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে সক্ষম করে তুলে  এবং সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। ১ চামচ কালোজিরা অথবা কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল ও ১চামচ মধুসহ প্রতিদিন সেবন করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

যখনই গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখন চেষ্টা করবেন তার সাথে কালোজিরা কোন না কোন ভাবে খাবার । গরম খবার বা ভাত খাওয়ার সময় কালোজিরা ভর্তা খাওয়া যেতে পারে । এ সময় রসুনের সাথে কালিজিরার তেল মিশিয়ে  সারা দেহে মালিশ করুন। কালোজিরা, নিম ও রসুনের তেল একসাথে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন।  কালোজিরা নিন্ম রক্তচাপকে বৃদ্ধি এবং উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাসের মাধ্যমে শরীরে রক্তচাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা সুনিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

সর্দি সারাতে :

সর্দি-কাশির  জন্য গ্লান্ড ফুলেছে বা সর্দি বসে  গেছে ? সে ক্ষেত্রে কালোজিরা ও চাল পোড়া সমান পরিমাণে নিয়ে বেটে প্রলেপ দিলে এক দিনের মধ্যে ফোলা ও ব্যথা উভয়ই উপশম হয়।

কাঁচা সর্দি থেকে মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে? এ ক্ষেত্রে কালোজিরা কাপড়ে পুঁটলি করে বেঁধে শুকোতে হবে। হাতে রগড়ে নিয়ে সেই গন্ধটা শুকলে উপকার পাওয়া যায়। শ্লেষ্মা তরল হয়ে ঝরে পড়বে। আরো দ্রুত ফল পেতে বুকে ও পিঠে কালিজিরার তেল মালিশ করুন।

এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩বার গ্রহণ করতে হবে এবং মাথায় ও ঘাড়ে রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত মালিশ করতে থাকুন। এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হয়।

মাথাব্যথা

মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তি স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করুন। ৩ দিন খালি পেটে চা চামচের এক চামচ করে তেল পান করুন।  সচরাচর মাথাব্যথায় মালিশের জন্য রসুনের তেল, তিল তেল ও কালোজিরা তেলের সংমিশ্রণ মাথায় ব্যবহার করুন।

মাথা ব্যাথায় কালোজিরা

মাথা ব্যাথায় কালোজিরা

কিডনির পাথর ও ব্লাডার

২৫০ গ্রাম কালোজিরা ও সমপরিমাণ বিশুদ্ধ মধু নিন।  কালোজিরা ভালভাবে গুঁড়ো করে মধুর সাথে মিশিয়ে দুই চামচ মিশ্রণ আধাকাপ গরম পানিতে মিশ্রিত করে প্রতিদিন আধাকাপ তেল সহ পান করতে হবে। কালোজিরার টীংচার মধুসহ দিনে ৩/৪ বার ১৫ ফোটা সেবন করতে পারেন।

চোখের ব্যথা দূর করতে

চোখ ব্যাথা করলে রাতে ঘুমোবার আগে চোখের দুই পাশে ও ভুরুতে কালোজিরা তেল মালিশ করে রাখুন। একই সাথে  এক কাপ গাজরের রসের সাথে এক মাস  কালোজিরা তেল মিশিয়ে পান করুন। নিয়মিত গাজর খেয়ে ও কালোজিরা টীংচার সেবন আর তেল মালিশে উপকার হবে।

নানা প্রকার  চর্মরোগ সারাতে :

চর্মরোগে আক্রান্ত হলে, আক্রান্ত স্থানে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে কালি জিরার মালিশ করতে হবে । সাথে  এক চা-চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সম পরিমাণ কালোজিরার তেল, সমপরিমান মধু বা এককাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার করে ২/৩ সপ্তাহ খেলে আশা করা যায় চর্মরোগ থেকে উপশম পাওয়া যাবে।

কালোজিরা ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানিতে উপকার হয়। এতে ১০০ গ্রাম সরষের তেলে ২৫-৩০ গ্রাম কালোজিরা ভেজে সে তেল ছেঁকে নিয়ে ব্যবহার করতে হয়।

দাঁতের ব্যথায়

দাতের ব্যাথা আমার মতে সবচেয়ে বিশ্রি এক ধরনের ব্যাথা।  দাঁত ব্যথা হলে, মাঢ়ি ফুলে গেলে বা দাতের গোড়া দিয়ে রক্ত পড়লে কালো জিরা সেটি উপশম করতে পারে। পানিতে কালিজিরা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এই পানির তাপমাত্রা কমে উষ্ণ অবস্থায় এলে তা দিয়ে কুলি করুন। এতে দাঁত ব্যথা কমে যাবে, মাঢ়ির ফোলা বা রক্ত পড়া বন্ধ হবে। এছাড়া বোনাস হিসেবে জিহ্বা, তালু ও মুখের জীবাণু ধ্বংস হবে।

শ্বাস কষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে

আপনি কি হাপানি বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন?  হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা সমাধানে কালোজিরা বেশ ভাল কাজ করে। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা খেলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উপশম হয়। যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমসসায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। এছাড়া এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ দুধ বা রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত সেব্য।

হজমে সমস্যা হলে

আমাদের অনেকেরই হজমে সমস্যা হয়।  হজমের সমস্যায় হলে এ ক্ষেত্রে ১-২ চা-চামচ কালোজিরা বেটে পানির সঙ্গে খেতে থাকুন। এভাবে প্রতিদিন দু-তিন বার খেলে এক মাসের মধ্যে হজম শক্তি বেড়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। একই সাথে পেট ফাপা ভাবও দূর হবে।

ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে

ডায়বেটিক একটি নিরব ঘাতক। বর্তমান প্রচুর ডায়াবেটিক রোগি দেখা যায়। হতে পারে আমাদের কেউ নিকট আত্মীয়।  ডায়াবেটিকদের রোগ উপশমে বেশ কাজে লাগে কালিজিরা।  কালোজিরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এক চিমটি পরিমাণ কালিজিরা এক গ্লাস পানির সাথে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে থাকলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। এই কালোজিরা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এছাড়া এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার করে নিয়মিত খেলে  ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

দুগ্ধ দান কারিনী মা’ দের দুধ বৃদ্ধির জন্য 

অনেক মা আছেন তাদের ছোট বাচ্চাদের পান করানোর জন্যে পর্যাপ্ত বুকের দুধ উৎপন্ন হয় না।   যে সব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই তারা কালো জিরা গ্রহণ করতে পারেন। কারন কালোজিরা দুধ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।  মায়েরা প্রতি রাতে শোবার আগে ৫-১০ গ্রাম কালোজিরা গুড়ু  করে দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে থাকুন। ১০-১৫ দিনের মধ্যেই আশা করা যায় দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে।

এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালিজিরা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন। এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দৈনিক ৩ বার করে নিয়মিত গ্রহণ করুন। এত বুকের দুধ বৃদ্ধি পাবে।

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে কালোজিরা

নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি  তরান্বিত হয় । কালোজিরা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও বেশ কাজ করে। দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে বলে জানা যায়। তবে দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করতে পারেন।

লিভার ক্যান্সারে কালোজিরা

লিভারের সুরক্ষায় ভেষজটি অনন্য। কালোজিরা লিভার ক্যান্সারের জন্য দায়ী আফলাটক্সিন নামক বিষ ধ্বংস করে। তাই যারা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত তারা আজ থেকে খেতে শুরু করে দিন।

গ্যাষ্ট্রীক বা আমাশয় নিরাময়ে  

গ্যাষ্ট্রিক বা আমাশয়ে ভুগছেন? তাহলে এক চা-চামচ তেল সমপরিমাণ মধু সহ দিনে ৩বার করে ২/৩ সপ্তাহ ধরে খেতে থাকুন।  তাহলে গ্যাস্টিক বা আমাশয়ের জন্য আর কষ্ট পেতে হবে না।

মেদ কমাতে

চায়ের সাথে কালোজিরা মিশিয়ে পান করলে তা বাড়তি মেদ ঝরে যেতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে দিন। পানি ফুটে গেলে চা পাতা ও সমপরিমাণ কালোজিরা পানিতে দিন। চায়ের রঙ হয়ে এলে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সাধারণ চায়ের মতো পান করুন।

ফোঁড়া সারাতে

ব্যথাযুক্ত ফোঁড়া সারাতে কালো জিরা সাহায্য করে। তিলের তেলের সাথে কালিজিরা বাটা বা কালিজিরার তেল মিশিয়ে ফোঁড়াতে লাগালে ব্যথা উপশম হয় ও ফোঁড়া সেরে যায়।

মাথা ব্যথায়

ঠাণ্ডাজনিত মাথাব্যথা দূর করতে কালো জিরা সাহায্য করে। একটি সুতি কাপড়ের টুকরায় খানিকটা কালিজিরা নিয়ে পুঁটুলি তৈরি করুন। এই পুঁটুলি নাকের কাছে নিয়ে শ্বাস টানতে থাকুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথা সেরে যাবে।

হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে

একটু বয়স হলে কিংবা এমনিতেও আমরা অনেকে নানা হার্টের সমস্যায় পড়ি। এ ক্ষেত্রে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সহ  দৈনিক ২বার করে এক কাপ দুধ  ৪/৫ সপ্তাহ খেতে হবে। পাশাপাশি শুধু কালোজিরার তেল বুকে নিয়মিত মালিশ করতে হবে। হার্টের নানা সমস্যা এটি উপশম করবে।

দেহের সাধারণ উন্নতি

নিয়মিত কালোজিরা সেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সতেজ করে ও সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। অরুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি,কাশি, হাঁপানি নিরাময়ে কালোজিরা অনেক সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া  ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কালোজিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন  করে।

পারকিনসন্স রোগের প্রতিকারে

কালোজিরায়  রয়েছে থাইমোকুইনিন যা পারকিনসন্স ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের দেহে উৎপন্ন টক্সিনের প্রভাব থেকে নিউরনকে সুরক্ষা করতে সচেষ্ট হয়।

উরুসদ্ধি প্রদাহ

স্থানটি ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিয়ে ৩ দিন সন্ধ্যায় আক্রান্ত স্থানে কালোজিরা তেল লাগান এবং পর দিন সকালে ধুয়ে নিন।

অনিয়মিত মাসিক স্রাববা মেহ/প্রমেহ রোগের ক্ষেত্রে

যে সব মহিলা অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় ভোগেন, তাদের পিরিয়ড শুরুর পাঁচ-সাত দিন আগে থেকে অল্প গরম জলে ৫০০ মিলিগ্রাম কালোজিরা মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে খেলে পিরিয়ড নিয়মিত হবে।

এ ছাড়াও এক কাপ কাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার করে নিয়মিত  করে খেলে স্বাভাবিক মাসিক হবে।

রিউমেটিক এবং পিঠেব্যাথা দূর করে কালিজিরা

আমাদের পিঠে অনেক সময় আমরা ব্যাথা অনুভব করি।  কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

কৃমি রোধে

আমাদের কেউ কখনো কৃমিতে আক্রান্ত হয় নি এমনটি খুঁজে পাওয়া খুব দুষ্কর হবে। ভিনেগারে ভিজিয়ে কালোজিরা খেলে কৃমি নষ্ট হয়।

অর্শ রোগ নিরাময়ে

এক চা-চামচ মাখন ও সমপরিমাণ তিলের তেল, এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সহ প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ খেতে হবে । এতে সাধারনত অর্শ রোগ নিরাময় হয়।

শান্তিপূর্ণ নিদ্রার জন্য

কালোজিরার তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপূর্ন নিদ্রা হবে। তাই যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা কালোজিরা নিয়মিত খেতে পারেন।

বিছার হুলের ব্যাথা উপশমে

আপনারা কেউ বিছার কাপড় খেয়েছেন কিনা জানি । যদি কেউ খেয়ে থাকেন বুঝবেন বিছার কামড় কতটা বেদনাদায়ক। কালোজিরা বেটে কামড়ের জায়গায় লাগিয়ে দিলে অল্প সময় পরই বিছার হুলের জ্বালা কমে যায়।

প্রস্রাবের জ্বালা পোড়া ভাব রোধে

অনেকেরই প্রস্রাব নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত কালোজিরা খেলে প্রস্রাব পরিষ্কার হয়ে যায়।

পক্ষাঘাত (প্যারালাইসীস ও কম্পন) রোগে কালোজিরার তেল

পক্ষাঘাত বাপ্যারালাইসীস  ও কম্পন রোগে কালোজিরার তৈল মালিশ করলে আশ্চর্যজনক ফল পাওয়া  যেতে পারে। 

ত্বকের আদ্রতার বাড়াতে

শীতকালে ত্বকের আদ্রতার জন্য বডি লোশনের পরিবর্তে শুধু কালোজিরার তেল অথবা জাইতুন (অলিভওয়েল) তেল এর সাথে কালোজিরার তেল মিশিয়ে সারা শরীরে সারা শরীরে মালিশ  করা যেতে পারে। এটি আপনার বা আপনার শিশুর ত্বকের আদ্রতা ও লাবণ্যময়তা বৃদ্ধি করবে এবং চর্মরোগের ঝুঁকি কমাবে। বিশেষভাবে শিশুর ত্বকের জন্য এই পদ্ধতিতে সারা বছর ব্যবহার করতে পারেন। শিশুর ত্বক থাকবে চর্মরোগ মুক্ত।

চুলের  যত্নে কালোজিরা

আমাদের সৌন্দর্যের একটি বড় অংশ হলো চুল। ঘন কালো চুল আর উজ্জ্বল ত্বক পেতে চায় সবাই। কিন্তু হাজার রকমের ক্রিম, তেল ইত্যাদি ব্যবহার করেও মনের মতো চুল ও ত্বক পাওয়া যায় না। অথচ এর সমাধান রয়েছে আপনার হাতের নাগালে, রান্নাঘরেই।

কালোজিরার তেল চুলের কোষ ও ফলিকলকে চাঙ্গা করে ও শক্তিশালী করে যার ফলে নতুন চুল সৃষ্টি হয়।  কালোজিরা বেটে মাথায় নিয়মিত মালিশ করলে চুল পড়া কমে ও নতুন চুল গজায়। একই সাথে চুলের গোড়া শক্ত হয়।  মাথায় তেল মালিশ করার সময়ে তেলের সঙ্গে কালো জিরার পেস্ট মেশান। এতে চুল ঘন ও কালো হয়।

মুখের যত্নে কালো জিরা

ত্বকের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভা বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা অত্যাবশ্যকীয়। এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুন্দর করে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

  • ছিঁচকে প্রতিরোধ করুন: অর্ধেক তেল দিয়ে তেলের আধা চামচ তেল মেশান, অর্ধেক আধা কেজি তেল, দই এক চামচ চামচ, মিশ্রণটি ২0 মিনিটের জন্য মুখে ছেড়ে দিন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করুন।
  • বয়সের স্পটগুলি সরিয়ে নিন: কালো জিরার মধ্যে ভিটামিন বি ও ওমেগা ৩ অ্যাসিড থাকে, যার ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং পিম্পল কমে। নিয়মিত ত্বকে কালো জিরা বাটা লাগালে বলিরেখাও দূর হয়। জিঙ্ক থাকার ফলে ত্বকে চুলকানি দূর হয়। এছাড়া ত্বকে ট্যান পড়লে, তা-ও দূর হয়।
    ডমিনিকটি তেলের তৈলাক্ত পেঁয়াজ, আপেল সিডার ভিনেগারের তিন টেবিল চামচ পানি দিয়ে তিনটি টেবিল চামচ মিশিয়ে নিন, 15 মিনিটের জন্য মুখ দিয়ে মিশ্রণটি ছেড়ে দিন এবং তারপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • ত্বকে উজ্জ্বলতা: মধুর চা চামচ এবং অল্প আউকাকো দিয়ে কালো জিরার এক চা চামচ মিশ্রিত করুন এবং মুখে 10 মিনিটের জন্য ছেড়ে দিন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • ব্রণ থেকে পরিত্রাণ পেতে: মধুর একটি চামচ দিয়ে একটি কালো চামচ তেল একটি চা চামচ মিশ্রিত করুন, মুখের উপর 15 মিনিট জন্য, তারপর ঠান্ডা জল দিয়ে এটি ধুয়ে।
  • মৃত ত্বকের পরিত্রাণ এবং ত্বক পরিষ্কার করা: মধুটির চামচ দিয়ে এক চামচ দারুচিনি এবং এক চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ২0 মিনিটের জন্য মুখ বন্ধ করুন এবং তারপর শুকিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

আপনার চামড়া এই তেলের জন্য সংবেদনশীল কিনা তা খুঁজে বের করার জন্য, আপনার হাতে চামড়ার উপর একটু তেল রাখুন এবং 15 মিনিটের জন্য ছেড়ে দিন, এবং যদি লাল দাগ বা অনুভূতি অনুভব করে না, এবং সন্ধ্যায় করা পরামর্শ দেওয়া হয়, ভিটামিন A এর উপস্থিতি যা সূর্যকে সংবেদনশীল করে তোলে।

এত উপকারের ভীড়েও এখনো কিছু ক্ষেত্রে কালোজিরার এ সব সমস্যার সামাধান করার জন্যে সেবন করলে ক্ষতি হবে কি না তা এখনো প্রমানিত হয় নি।  তাই গর্ভাবস্থায় ও দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল না খাওয়াই উচিত । তবে বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে।

শেষ কথা
কালো জিরা ভর্তা আমরা অনেকেই শখ করে খাই। রান্নার মশলার মধ্যে কালো জিরার গুণাগুণের তুলনা নেই। কালো জিরা শুধু ক্ষুধা বাড়ায় তা নয়, পেটের বায়ুনাশক ও ফুসফুসের রোগেও মহাউপকারী। এ রকম অসংখ্য সমস্যার সমাধান আমরা কালোজিরার থেকে পাই । এ কারনে আমাদের খাদ্য তালিকায় আমরা কালোজিরা যোগ করলে সেটি আমাদের জন্যে খুব উপকারী হবে আমার বিশ্বাস।

তথ্য সূত্র ও ছবিঃ নানা দেশি বিদেশি ওয়েব পোর্টাল

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক