কোয়েল পালন হতে পারে বেকার সমস্যার এক সুন্দর সমাধান !

 কোয়েল পাখি আমাদের দেশে একটি সুপরিচিত পাখি । পাখির মধ্যে অতিক্ষুদ্র প্রজাতি হচ্ছে কোয়েল। তবে এটি আমাদের দেশের পাখি নয় । কোয়েলের আদি জন্মস্থান জাপানে। সর্বপ্রথম জাপানী বিজ্ঞানীরা কোয়েলকে গৃহপালিত পাখি হিসেবে পোষ মানানোর উপায়  বের করেন । পরে জাপান সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কোয়েলকে একটি লাভজনক পোলট্টি  ব্যবসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয় । কোয়েল পালন করার জন্য অতিরিক্ত বা বাহুল্য কোন খরচ হয় না।

কোয়েলকে সহজেই পোষ মানানো যায়। বাড়ির যেকোন স্থান বা আঙিনা অথবা বাড়ির ছাদ ইত্যাদি জায়গাতেও কোয়েল পালন  করতে পারবেন। খুব সহজেই বাড়িতে লালন পালন করা যায় এই পাখি। কোয়েলের মাংস ও ডিম খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। কোয়েলের মাংস ও ডিমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমিষ,প্রোটিন ও স্নেজাতীয় পদার্থ। যা’ মানব দেহের সুস্থ্যতার জন্য অন্যতম সহায়ক শক্তি।

কোয়েলের ডিম দেখতে অনেক সুন্দর । এর গায়ে ছোট ছোট রঙের ছিটা দেওয়া থাকে ।  কোয়েলকে সহজেই পোষ মানানো যায় । বাড়িতে স্বল্প জায়গাতেও কোয়েল পালন করা যায় । অর্থনৈতিক ভাবেও কোয়েল পালন অত্যন্ত লাভজনক । বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল পালনের জন্য সর্বাধিক উপযোগি। এই কারণে, বিভিন্ন হাস মুরগির খামারেও ইদানিং কোয়েল পালন ব্যাপকভাবে সাড়া জাগিয়েছে। দেশের পুষ্টি মিটিয়ে ইদানিং কোয়েলের মাংস বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে। আপনি আপনার বাড়িতেই এই কোয়েল চাষ করতে পারেন । আসুন জেনে নেই কিভাবে এই পাখির চাষ করা সম্ভব ।

কোয়েলের বাসস্থান

কোয়েলের থাকার জন্য অন্যান্য পোল্ট্রি বিশেষ করে  হাঁস মুরগির মতো ব্যবস্থা নিতে হয় না। তবে অন্য সব গৃহপালিত পশু পাখির মতো তাদের বাস্থান যাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের মধ্যে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

কোয়েল পাখি সাধারণত মেঝে ও খাঁচায় উভয়ভাবেই রেখে পালন করা যায়। বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পালন করতে চাইলে লিটার পদ্ধতির চেয়ে কেইজে পালন অধিক লাভজনক। এক্ষেত্রে বাচ্চা অবস্থায় প্রতিটি কোয়েলের জন্য খাঁচায় ৭৫ বঃ সেঃ মিঃ এবং মেঝেতে ১০০ বঃ সেঃ মিঃ জায়গায় দরকার। অন্যদিকে বয়স্ক কোয়েলের বেলায় খাঁচায় প্রতিটির জন্য ১৫০ বঃ সেঃ মিঃ এবং মেঝেতে ২৫০ বঃ সেঃ মিঃ জায়গা প্রয়োজন। কোয়েলের ঘরে পর্যাপ্ত আলোবাতাসের প্রয়োজন হয়। সাধারণত দৈর্ঘ্য ১২০ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৬০ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার একটি খাঁচায় ৫০টি কোয়েল পালন করা যায়।

প্লাস্টিকের খাঁচায় কোয়েল পালন করা সহজ। তিন সপ্তাহ বয়স পর্যন বাচ্চার খাঁচার মেঝের জালের ফাঁক হবে ৩ মিলিমিটার এবং বাড়ন ও পূর্ণবয়স্ক কোয়েলের মেঝের জালের ফাঁক হবে ৫ মিলিমিটার। খাঁচা তিন থেকে চারটি স্তরে করা যেতে পারে। কোয়েলের বাসা বন্য পশুপাখির নাগালের বাইরে রাখতে হবে। খাঁচায় খাদ্য ও পানির পাত্র থাকতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণত তুষ, বালি, ছাই, কাঠের গুঁড়া এসব দিয়ে কোয়েলের মেঝের লিটার তৈরি করা হয়। অবস্থা দেখে কোয়েলের এ লিটার পরিবর্তন করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর না হয়। প্রথমেই পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি পুরু তুষ বিছিয়ে লিটার তৈরি করতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে যেন লিটার ভেজা না হয়।

কোয়েল পাখি চাষে কিভাবে খাঁচা বা ঘর তৈরি করবেন

বাড়িতে কোয়েল পাখি চাষ করার জন্য আপনাকে প্রথমে উপযুক্ত খাঁচা তৈরি করতে হবে । এক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ্ধতি আছে । তাঁর মধ্যে ব্যাটারি বা খাঁচা পদ্ধতি সবচাইতে সহজ এবং লাভজনক । এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের খাঁচা আছে যেমন লেয়ার খাঁচা,  ব্রিডার খাঁচা, ব্রডার খাঁচা, বিয়ারিং খাঁচা  ইত্যাদি । তবে অল্প জায়গায় যদি বেশি সংখ্যেক কোয়েল পাখি পালন করতে চান তাহলে ব্যাটারী পদ্ধতি ব্যবহার করার সর্বোত্তম ।

খাচায় ৫০টি বয়স্ক কোয়েলের জন্য ১২০ সেঃ মিঃ দৈর্ঘ্য, ৬০ সেঃ মিঃ প্রস্থ এবং ৩০ সে মিঃ উচ্চতা বিশিষ্ট একটি খাচার প্রয়োজন। ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত বাচ্চার খাচার মেঝের জালের ফাক হবে ৩ মিঃ মিঃx৩ মিঃ মিঃ এবং বয়স্ক কোয়েলের খাচায় মেঝের জালের ফাক হবে ৫ মিঃ মিঃx৫ মিঃ মিঃ। খাচার দুই পার্শ্বে একদিকে খাবার পাত্র অন্যদিকে পানির পাত্র সংযুক্ত করে দিতে হবে। খাচায় ৫০টি কোয়েলের জন্য তিন সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত ২৫ সেঃ মিঃ বা ১০ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট ২৮ বঃ সেঃ মিঃ বা ৩ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন।

কোয়েলের জন্য খাবার এবং পানির সুব্যবস্থা তার খাঁচাতেই রাখতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে-পানি খাবার বা রাখার পাত্র উল্টে যেন কোয়েলের গা ভিজে না যায়।

ঘরের যেখানে পর্যাপ্ত আরো বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে-সেখানে কোয়েলের খাঁচা রাখা যেতে পারে । তবে লক্ষ্য রাখতে হবে-বৃষ্টির পানি বা অন্য কোন তরল পদার্থ দ্বারা কোয়েলের খাঁচা ভিজে না যায়। আদ্র পরিবেশ কোয়েলের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্নক হুমকিস্বরূপ । খাবার পাত্র এবং পানি রাখার পাত্রগুলো মুরগির খামারের মতোই হবে-তবে সেগুলো আকারে ছোট হলেও অসুবিধা নেই।

কুয়েলের জাত নির্বাচনঃ

পৃথিবীতে কোয়েলের ১৬টি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রজাতি বাংলাদেশে দেখা যায়। তার একটি জাপানিজ কোয়েল আর অন্যটি হলো বব হোয়াইট কোয়েল (মাংস উৎপাদনকারী)। জাপানি কোয়েলের অনেক জাত ও উপজাত রয়েছে। ডিম উৎপাদনকারী কোয়েল হচ্ছে ফারাও, ব্রিটিশ রেঞ্জ, ইংলিশ হোয়াইট, ম্যানচুরিয়াল গোল্ডেন, বব হোয়াইট (আমেরিকা), হোয়াইট বেস্ট কোয়েল (ইন্ডিয়ান) ইত্যাদি। বর্তমানে এসব জাতের কোয়েল বাংলাদেশে পালন করা হচ্ছে।

পৃথিবীতে কোয়েলের বিভিন্ন জাতের মধ্যে “জাপানীজ কোয়েল” অন্যতম। উল্লেখ্য বিভিন্ন জাতের কোয়েলের প্রকৃত উৎস জাপানীজ কোয়েল।

কিভাবে কোয়েল পাখি পালন করবেন ও সঠিক নিয়মে যত্ন নিবেন ?

কোয়েল পাখি পালন করার জন্য খুব বেশী পরিশ্রমের দরকার পড়ে না । তবে খেয়াল রাখতে হবে কোয়েল পাখির বাসায় যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে ।  কোয়েল পাখির  থাকার স্থান সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । মনে রাখবেন ময়লাযুক্ত ডিম সাধারণত রোগ ও জীবাণুর প্রধান উৎস । তাই কয়েল পাখির বাচ্চা ফুটানোর জন্য সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ডিম বসাতে হবে ।বাচ্চা ফুটানোর ডিম কখনও ধোয়া উচিত নয় ।

কোয়েল পাখি সাধারণত  প্রথমে পোলট্রিতে বড় হয় । এরা ডিম ফোটানোর সময় দেখা যায় যে ডিমে  তা দেয় না । কোয়েল পাখির বাচ্চা সাধারণত ইনকিউবেটরে ফোটানো হয় । এই কাজ সম্পাদন করতে প্রায় ১৬–১৮ দিন সময় লাগে ।  বাড়িতে কোয়েল পাখি চাষ করার ক্ষেত্রে যদি শুধুমাত্র ডিম ফুটাতে চান তাহলে স্ত্রী কোয়েল প্রতিপালন অধিক লাভজনক । তবে সবসময় লক্ষ্য রাখবেন কোয়েল পাখি পালনে ব্রুডারের তাপমাত্রা যেন সবসময় সঠিক নিয়মে থাকে । তা না হলে কোয়েল পাখির অনেক ক্ষতি হতে পারে ।

কোয়েলের বাচ্চা পালনের সময় একটি অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়। এই সময় বাচ্চাকে ব্রুডিং এর ব্যবস্থা করতে হয়। বাচ্চার বয়স ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত কৃত্রিম উত্তাপের মাধ্যমে এই ব্রুডিং এর ব্যবস্থা করতে হয়। কারণ, ডিম থেকে ফোটার পর বাচ্চা উক্ত সময় পর্যন্ত খুবই স্পর্শকাতর এবং দুর্বল থাকে। এই সময় তাদেরকে প্রয়োজনীয় ক্যালোরিযুক্ত খাবারও প্রদান করতে হয়। তা না হলে সদ্যজাত বাচ্চা ক্যালোরির অভাবে শরীর ঠান্ডা হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে পারে। এ বিষয়ে আমরা পরে বিস্তারিত আলোচনা করব। 

সাধারণভাবে বাচ্চা ফুটলে সেগুলোকে আলাদা খাঁচায় স্থানান্তর করা উচিত। কারণ, তাহেল বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় ব্রুডিং এর ব্যবস্থা করা সম্ভবপর হয়ে থাকে। মুরগির বাচ্চার মতো একই পদ্ধতিতে কোয়েলের বাচ্চাকে ব্রুডিং বা কৃত্রিম তাপ প্রদান করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। বড়ো আকারের কোয়েলের খামারে বাচ্চা রাখার জন্য আলাদা ব্রুডার খাঁচা তৈরি করা হয়ে থাকে। যাতে করে বাচ্চা ডিম ফুটে বের হবার প্রায় সাথে সাথে সেই খাঁচায় বাচ্চা স্থানান্তর করা যায়।

মোটামুটিভাবে কোয়েল পালনের জন্য এই ধরণের বাড়তি যত্ন আর বাসস্থান প্রয়োজন হয়। তবে হিসেব করে দেখা গেছে ১০০টি মুরগির জন্য যে ধরনের ব্যাপক বাসস্থানের প্রয়োজন হয়-সেই ধরনের জায়গায় কমপক্ষে ১০০০ থেকে ১২০০ কোয়েল পালন করা সম্ভবপর হয়ে থাকে।

কোয়েল পাখির পালনে খাবার ব্যবস্থাপনা

কোয়েলের জন্য খাবার এবং পানির সুব্যবস্থা তার খাঁচাতেই রাখতে হবে।  কোয়েল পালনে তেমন খরচ নেই এই কারণেই বলা হয়ে থাকে যে, কোয়েলের জন্য আলাদা তেমন কোন সুষম খাদ্যের প্রয়োজন হয় না। কোয়েল পাখি যেসব খাদ্য খেয়ে থাকে সেগুলো হলো গম ভাঙা, ভুট্টা, চালের কুঁড়া, শুকনো মাছের গুঁড়া, তিলের খৈল, সয়াবিনের খৈল, ঝিনুকের গুঁড়া ও লবণ। চার সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধির জন্য ২৭ শতাংশ প্রোটিন এবং ২ হাজার ৮০০ কিলোক্যালোরি/কেজি শক্তি দিতে হবে।

শুধুমাত্র ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হবার পর কিছুটা বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হয়। এইসময় কোয়েলের বাচ্চাকে সুষম খাদ্য প্রদান করতে হয়।

বাচ্চা, বাড়ন্ত অথবা প্রজনন কাজে ব্যবহৃত কোয়েলের জন্য স্ট্যান্ডার্ড রেশন বাজারে সহজলভ্য নয়। কোয়েলের রেশনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথাঃ স্টার্টার, বাড়ন্ত, এবং লেয়ার বা ব্রিডার । ডিম পাড়া কোয়েলের প্রতি কেজি খাবারে ২.৫-৩.০% ক্যালসিয়াম থাকতে হবে। ডিমের উৎপাদন ধরে রাখার জন্য গরমের সময় ৩.৫% ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।

কোয়েল পাখিকে শুষ্ক গুঁড়া/ম্যাশ ফিড প্রদান করতে হবে। চার সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিটি কোয়েল দিনে চার গ্রাম করে খাদ্য খায়। পঞ্চম সপ্তাহ বয়স থেকে দৈনিক প্রতিটি কোয়েল ২০ থেকে ২৫ গ্রাম খাদ্য খায়। একটি কোয়েলের বছরে খাদ্য লাগে আট কেজি। এদের খাদ্যে আমিষ ও ক্যালোরির পরিমাণ হয় সাধারণভাবে প্রতি কেজি খাদ্য অনুপাতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ আমিষ এবং ২৫০০ থেকে ৩০০০ কিলোক্যালোরি বিপাকীয় শক্তি বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন।

সাধারণভাবে হাস মুরগির যে খাবার সরবরাহ করা হয়ে থাকে তার মধ্যেই এই ধরনের আমিষ এবং ক্যালোরি বিদ্যমান। সুতরাং হাস মুরগির জন্য যে খাবার আনা হয় তার থেকেও খাবার প্রদান করে কোয়েল পালন করা যায়।

মুরগির খামারে ব্যবহৃত আকারে একটু ছোট হলে ভাল হয়। তবে কোয়েল খুব ঘন ঘন পানি পান করে। তাই কোয়েলের খাচায় কয়েকটি স্থানে পানির ব্যবস্তা খাকতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে পানির পাত্রগুলো যেন খাঁচার সাথে শক্ত করে আটকানো থাকে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে,পানি খাবার বা রাখার পাত্র উল্টে যেন তারা ভিজে না যায়।

বাড়ির যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রয়েছে-সেখানে কোয়েলের খাঁচা তৈরী করা যেতে পারে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে-বৃষ্টির পানি বা অন্য কোন তরলপদার্থ খাঁচায় না যায়। ভেজা বা স্যাত স্যাতে স্থান কোয়েলের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ। বিশেষ করে কোয়েলের বাচ্চা পালনের সময় একটি অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আর নিয়মিত পানি পরিবর্তন করে দিতে হবে।

কোয়েল পাখি পালনে রোগ বালাই

ককুতরের মতো কোয়েলেরও তেমন কোন রোগ ব্যাধি নেই বললেই চলে। তবে মাঝে মাঝে কোয়েলকে রোগক্রান্ত হতে ধেখা যায়। কোয়েল পাখি পালন করার ক্ষেত্রে কোয়েল পাখির বেশকিছু রোগ বালাই দেখা যায় । খাঁচায় কোন কোয়েল মারা গেলে সাথে সাথে তার কারণ অসুসন্ধান করতে হবে। মরা কোয়েল পুড়িয়ে বা পুতে পেলতে হবে।

কোয়েলের বিভিন্ন রোগ ব্যাধির মধ্যে আমাশয় উল্লেখ্যযোগ্য। এই রোগ হলে কোয়েলের ঘন ঘন পায়খানা হয়, খাবার গ্রহনে অনীহা দেখা দেয় পাশাপাশি কোয়েলের স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে। এই অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এম্বাজিন জাতীয় ঔষধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে যদি কোন কোয়েল পাখি অসুস্থ্য হয় তাহলে উক্ত পাখিটীকে যথাশীঘ্রই কোয়েলের খাঁচা থেকে সরিয়ে নিতে হবে । অসুস্থ্য কোয়েলের সংস্পর্শে থাকলে বাকি সুস্থ কোয়েলও আক্রান্ত হতে পারে ।

কোয়েলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় তেমন কোনো রোগবালাই দেখা যায় না । এ কারনে সাধারণত কোনো ভ্যাক্সিন বা কৃমিনাশক ঔষধ দেয়া হয় না। অব্যবস্থাপনার কারণে কোয়েলের বাচ্চা মারা যায়, তবে পূর্ণবয়স্ক কোয়েলের মৃত্যু হার খুবই কম। এরা হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না। তাই বিরূপ পরিবেশে কোয়েল পাখি নিম্মোক্ত রোগে আক্রান্ত হতে পারে-

রক্ত আমাশয় বা ককসিডিওসিসঃ এ রোগ হলে কোয়েল ঘন ঘন পায়খানা করে, খাবার গ্রহণে অনীহা দেখা দেয় এবং শরীর স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়। এক ধরনের ‘মাইটস’ এ রোগের জন্য দায়ি। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, থাকার জায়গা, খাবার জায়গা, খাবার ও পানি পানের পাত্রের জায়গা শুকনো ও পরিস্কার রাখতে হবে। রোগের প্রকোপ দেখা দিলে সালফার জাতীয় ঔষধ খাওয়ানো যেতে পারে।

ব্রুড-নিউমোনিয়াঃ আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে বাচ্চা কোয়েল মারা যেতে পারে, যদি না ব্রুডারে থাকাকালীন অবস্থায় স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখা হয়। ‘এসপারজিলাস ফিউমিগেটাস’ নামক ছত্রাকের প্রভাবে এই রোগ হয়ে থাকে। নিউমোনিয়া হলে বাচ্চা পাখি ঝিমায়, দুর্বল হয়ে পড়ে ও খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে থাকে, চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এ অবস্থায় এন্টিবায়োটিক খাওয়াতে হবে। চিকিৎসা হিসাবে দুই গ্রাম ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেট ১০০ কেজি খাবারের সাথে মিশাতে হবে।

আলসারেটিভ ইন্টারাইটিসঃ এটি কোয়েলের গুরুত্বপূর্ণ রোগ। পাতলা পায়খানা হয়, পাখি দুর্বল হয়ে পড়ে, খিঁচুনি হয়, ক্ষুদ্রান্ত্রে ও সিকামে ক্ষত দেখা যায়। চিকিৎসা হিসাবে খাবারের সাথে এন্টিবায়োটিক খাওয়াতে হবে।

ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন

যদি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটাতে চান সে ক্ষেত্রে তিনিটি স্ত্রী কোয়েলের সাথে একটি পুরুষ কোয়েল রাখুন। ডিম দেওয়ার পরে কোয়েল কখনও কুঁচে বসে না বলে মুরগির নিচে বা ইনকিউবেটরে কোয়েলের ডিম ফোটানো যায়। কোয়েলের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ১৬-১৮ দিন সময় লাগে। বাচ্চা ফোটানো ও ডিম উৎপাদনের জন্য কোয়েলের ঘরে ১৬ ঘণ্টা আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
পূর্ণবয়স্ক কোয়েল থেকে বেশি ডিম পেতে হলে কোয়েলের পঞ্চম সপ্তাহ বয়সে ১২ ঘণ্টা, ষষ্ঠ সপ্তাহে ১৩ ঘণ্টা, সপ্তম সপ্তাহে ১৪ ঘণ্টা, অষ্টম সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা ও নবম সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা আলো দিতে হবে। তবে যতক্ষণ দিনের আলো থাকবে কৃত্রিম আলো ততক্ষণ দিতে হবে না। কৃত্রিম আলোর জন্য ১০০ বর্গফুট জায়গায় ৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব যথেষ্ট।

বাণিজ্যিকভাবে সফলভাবে বাচ্চা ফোটানোর হার বেশি পেতে হলে ইনকিউবেটর  ব্যবহার করতে হবে । এ ক্ষেত্রে  নির্মাতার নির্দেশ সতর্কতার সাথে পালন করতে হবে।  ইনকিউবেটরে বসানোর পূর্বে দিনে অন্তত দু'বার ফোটানোর ডিম সংগ্রহ করতে হবে এবং ১৫.৫০ সে তাপমাত্রায় ৮০% আর্দ্রতায় ৭-১০ দিন সংরক্ষণের জন্য ২০ মিনিট ফরমালডিহাইড গ্যাসে রাখতে হবে। কোয়েলের ডিমের খোসা ভাঙ্গার প্রবণতা বেশি থাকায় ডিম অত্যন্ত সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। ইনকিউবেটর অথবা হ্যাচারী এলাকা প্রতিবার ব্যবহারের পর প্রতিটি হ্যাচিং ইউনিট ভালভাবে ধৌত করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। 

শুধুমাত্র কোয়েলের ডিম বসানোর জন্যই ইনকুবেটরের কিছু কিছু মডেল ডিজাইন করা হয়। নিয়ম মাফিক কোয়েলের ডিম প্রথম ১৫ দিন সেটিং ট্রেতে এবং পরবর্তী ৩ দিন হ্যাচিং ট্রেতে দিতে হবে। তাপমাত্রা ৯৮-১০১০ ফা এবং প্রথম ১৫ দিন ৫০-৬০% আর্দ্রতা এবং পরবর্তীতে ৬০-৭০% আর্দ্রতা রাখা বাঞ্ছনীয় (ইনকুবেটর নির্মাতার নির্দেশ অনুসারে)। প্রতি ২ থেকে ৪ ঘন্টা অন্তর ডিম ঘুরিয়ে (টার্নিং) দিতে হবে যাতে ভ্রূণ খোসার সাথে লেগে না যায়। ১৫তম দিনে ডিম সেটিং ট্রে থেকে হ্যাচিং ট্রেতে স্থানান্তর করতে হবে এবং ডিম ঘুরানো বন্ধ করতে হবে। ডিম থেকে বের হওয়া বাচ্চা ২৪-২৮ ঘন্টার মধ্যে ব্রুডার ঘরে স্থানান্তর করতে হবে।

কোয়েলের বাচ্চার ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা এবং যত্ন 

সদ্য ফুটন্ত কোয়েলের বাচ্চার আকার খুবই ছোট থাকে। এক দিন বয়সের কোয়েলের বাচ্চার ওজন মাত্র ৫-৭ গ্রাম থাকে। তাই ঠান্ডা বা গরম কোনটাই তারা সহ্য করতে পারে না। এসময় নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।  এ অবস্থায় কোন রকম ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা বা কোন রকম  অব্যবস্থাপনা হলে  এর বিরূপ প্রভাব দৈহিক বৃদ্ধি, ডিম উৎপাদন এবং জীবনি শক্তি  উপর পড়ে। বাচ্চাকে যে তাপ হয়  তা  সাধারণত দুই পদ্ধতিতে করা যায়। যেমনঃ খাঁচায় বা কেইজে ব্রুডিং এবং মেঝেতে ব্রুডিং।

বাচ্চার বয়স ২১ দিন পর্যন্ত কৃত্রিম উত্তাপের মাধ্যমে এই ব্রডিং এর ব্যবস্থা করতে হয়।  যে পদ্ধতিতেই তাপ দেয়া হোক না কেন তাপমাত্রার প্রয়োজনীয়তা একই রকম। প্রথম সপ্তাহে সাধারণত ৩৫  ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা দিয়ে ব্রুডিং আরম্ভ করা হয় এবং এই তাপমাত্রা প্রতি সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩.৫০সে কমিয়ে আনতে হবে। ২য় সপ্তাহে ৩২.২ সেঃ। ৩য় সপ্তাহে ২৯.৫ ডিগ্রী সেঃ । ৪র্থ সপ্তাহে ২৭.৬ ডিগ্রী সেঃ করা হয়।

থার্মোমিটারের সাহায্যে এই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় । তবে থার্মোমিটার ছাড়াও ব্রুডারের তাপ সঠিক হয়েছে কি না তা ব্রুডারের বাচ্চার অবস্থান দেখেও বুঝতে পারবেন । কোয়েলের বাচ্চাগুলো যদি বাল্বের কাছে জড়োসড়ো অবস্থায় থাকে তবে বুঝতে হবে তাপমাত্রা কম হয়েছে। আর যদি বাল্ব থেকে দূরে গিয়ে থাকে তবে বুঝতে হবে তাপমাত্রা অধিক। অন্যদিকে বাচ্চাগুলো যদি চারিদিকে সমভাবে ছড়িয়ে থাকে এবং স্বাভাবিক ঘুরাফেরাসহ খাদ্য পানি গ্রহণ করতে থাকে তবে বুঝতে হবে তাপমাত্রা কাংক্ষিত আছে।

গবেষণা থেকে জানা যায় যে, দুই সপ্তাহ কেজে ব্রুডিং করে পরবর্তীতে মেঝেতে পালন করলে মৃত্যু হার অনেক কম হয় এবং বাচ্চার ওজন অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। কোয়েলের মৃত্যুহার নির্ভর করে এদের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার উপর।

কোয়েলের বাচ্চা ফোটার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্রুডিং ঘরে এনে প্রথমে গ্লুকোজ মিশ্রিত পানি এবং পরে খাদ্য দিতে হবে। খাবারের পাশাপাশি তিন দিন গ্লুকোজ পানি পান করানো উত্তম।  তারপর এমবাভিট ডবি্লও এস পানির সঙ্গে তিন দিন সরবরাহ করতে হবে। প্রথমেই বাচ্চা খাবারের ট্রে থেকে খাবার খেতে পারবে না তাই প্রথম সপ্তাহে খবরের কাগজের উপর খাবার ছিটিয়ে দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিদিন খবরের কাগজ পরিবর্তন করতে হবে। উল্লেখ্য প্রথম সপ্তাহ থেকে ৫ গ্রাম দিয়ে শুরু করে প্রতি সপ্তাহে ৫ গ্রাম করে বাড়িয়ে ২০-২৫ গ্রাম পর্যন্ত উঠিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

এক সপ্তাহ পর ছোট খাবার পাত্র বা ফ্লাট ট্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। পানির পাত্রে বাচ্চা যাতে পড়ে না যায় সেজন্য মার্বেল অথবা কয়েক টুকরা পাথর খন্ড পানির পাত্রে রাখতে হবে।  নিয়মত পানি পরিবর্তন করতে হবে।  প্রতি ৫০টি কোয়েলের জন্য একটি পানির পাত্র দেয়া উচিত। নিপল ড্রিংকার বা কাপ ড্রিংকারও ব্যবহার করা যায়।

কোয়েলের পালনের জন্য ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে যের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন সেগুলো হচ্ছে, পাখিদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রাকৃতিক আলো-বাতাস নিশ্চিত করা ও প্রয়োাজন মতো তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা। অতিরিক্ত শীত, গরম বা বৃষ্টি ও স্যাঁতসেঁতে অবস্থা থেকে পাখিদের রক্ষা করা। বিভিন্ন বয়সের কোয়েলের জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থা করা। খামারে পাখির মল-মূত্রের কারণে যে কোন দুর্গন্ধ না হয়, সেজন্য আগে থেকেই সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। রোগ-জীবাণু মুক্ত পরিবেশ তৈরী করা প্রভৃতি।

সঠিক ভাবে বাচ্চা পালনের জন্য যে সব বিষয়ের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে তা হচ্ছে- ১. সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, ২. পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, ৩. বাচ্চার ঘনত্ব বেশি না হওয়া, ৪. পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা ও ৫. স্বাস্থ্য বিধি পালন করা।

কোয়েল পাখি পালনের সুবিধা

কোয়েল পাখির পালন করলে অনেক ধরণের সুবিধা আছে । বাড়িতে কোয়েল পাখির পালন করলে একটি ভাল জাতের কোয়েল থেকে বছরে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি ডিম পাওয়া যায় । কোয়েল চাষের ঝুঁকিও কম ।  রোগ ব্যাধির দিকে থেকে কোয়েল খুবই লাভজনক বিনিয়োগ। কারণ, কোয়েলের রোগ ব্যাধি প্রায় হয় না বললেই চলে। যেহেতু কোয়েলের রোগ ব্যাধি কম হয় সুতরাং এদের জন্য বাড়তি চিকিৎসা ব্যবস্থার তেমন প্রয়োজন হয় না। মুরগির মতো কোন টিকা দিতে হয় না ।

কোয়েল চাষে বেশী খরচ করতে হয় না । কোয়েলের আকার ক্ষুদ্র বলে এদের লালন পালনের জন্য বিস্তৃত জায়গা প্রয়োজন হয় না। ছোট আকারের একটি খাচাতেই কোয়েল পালন করা যায়। একটি প্রমাণ সাইজের মুরগির জন্য যে পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন হয়। সেই একই জায়গা কমপক্ষে ১২টি কোয়েল পালন করা যায়।

খুবই অল্প সময়ের মধ্যে একটি বাচ্চা কোয়েল ডিম দিয়ে থাকে । কোয়েলের ডিম থেকে সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যেই বাচ্চা ফুটে বের হয় । ডিম থেকে পাখি হতে মোটামুটি ১৮ দিন । পূর্ণ মাপের পাখি হতে লাগে ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ । তার পরেই ডিম দেবে পাখি ।  একটি পরিণত বয়সের কোয়েল বছরে ২৫০ থেকে ৩০০টি ডিম প্রদান করতে পারে।

কোয়েল পালনের প্রশিক্ষণ

বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পাখি পালন করতে হলে এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে প্রাথমিক প্রশিক্ষন নেওয়া যেতে পারে। কোয়েল পাখি পালনসংক্রান্ত কোনো তথ্য জানতে হলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে পশুবিষয়ক কর্মকর্তা অথবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্ধারিত ফির বিনিময়ে পশু পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

শেষ কথাঃ

স্বল্প বিনিয়োগে,স্বল্প সময়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে কোয়েল পাখি পালন। চাকুরীর পেছনে না ছুটে কোয়েল পাখি পালন করে এরই মধ্যে স্বাবলম্বী হয়েছে অনেকে। সর্বত্র ব্যপকহারে পালনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরন করে কোয়েলের মাংশ ও ডিম রফতানির বড় ধরণের সুযোগ রয়েছে। তাই, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পালন করা গেলে বেকারত্ব হ্রাস এবং মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশে আর্থিক কর্মকা- বাড়াতে পারে বহুগুন।

উৎপাদনের দিক থেকে কোয়েল অধিক উৎপাদনশীল। অন্যান্য পাখির তুলনায় কোয়েলের মাংস এবং ডিম গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ। কোয়েলের ডিমে কোলেস্টেরল কম এবং আমিষ বেশি। অল্প জায়গায় বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অল্প খরচে পারিবারিক পর্যায়ে অথবা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোয়েল পালন দেশের পুষ্টি ঘাটতি মিটাতে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

তথ্য সংগ্রহঃ সরকারী ও বেসরকারী নানা ওয়েব পোর্টাল

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক