5

ক্যামেরা রিভিউ – ক্যানন ৬০০ডি/রেবেল টি থ্রি আই/ কিস এক্স ৫

ক্যামেরার জগতে ক্যানন অন্যতম এক ভরসার নাম। প্রতিনিয়ত নির্দিষ্ট সময় পর পর ক্যানন সবাইকে উপহার দিয়ে যাচ্ছে দারুণ সব ক্যামেরা। এই ধারায় বিচ্যুতি না ঘটিয়ে ২০০৩ এর আগস্টে ক্যানন সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীকে “ডিজিটাল রেবেল” এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। এর পর থেকে নিত্য-নতুন সুবিধাদিউ যোগ করে ক্যানন নিয়ে এসেছে ডিজিটাল রেবেল এর বেশ কয়েকটি ক্যামেরা। রেবেল টি টু আই/ ইওস ৫০০ডি এর অবমুক্ত হওয়ার ঠিক এক বছরের মাথায় ফেব্রুয়ারি ২০১১তে ক্যানন নিয়ে আসলো রেবেল টি থ্রি আই/৬০০ডি যা জাপানে কিস এক্স ৫ নামেও সমাদৃত। এই পোস্টে ক্যানন রেবেল টি থ্রি আই/ ৬০০ডি এর ছোটখাট একটা রিভিউ দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

ক্যামেরাটিতে রয়েছে ১৭.৯ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। বাজারে অন্যান্য কোম্পানীর বা ক্যাননেরই আরো অনেক ক্যামেরা আছে। যারা মেগাপিক্সেল যাচাই করে ক্যামেরা পছন্দ করছেন তারা মেগাপিক্সেল এর চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারেন, ডিজিটাল এস এল আর এর ক্ষেত্রে মেগাপিক্সেল খুব বড় একটা ভূমিকা রাখেনা। একজন ভালো মাপের ফটোগ্রাফার চাইলে ১২ মেগাপিক্সেল এর এস এল আর দিয়ে চোখ ধাঁধানো ছবি তুলে ফেলতে পারেন। ক্যামেরাটির ন্যাটিভ রেজ্যুলুশন ৫১৮৪x৩৪৫৬ এবং এর পিক্সেল সাইজ ১৮.৫µm² ।

এতে যুক্ত আছে অটোমেটিক সেন্সর ক্লিনিং সুবিধা। এতে ৩.০” এর এলসিডি স্ক্রিণ যার রেজ্যুলুশন ১,০৪০কে ডটস। আর রেবেল টিথ্রিআই এর অন্যতম সুবিধা হলো এলসিডিতে আপনি ছবির লাইভ ভিউ দেখতে পারবেন আর যে এলসিডিটি লাগানো আছে তা ফ্লিপ আউট করতে পারবেন এবং তা ইচ্ছা করলেই আপনি যেকোনোভাবে নড়া-চড়া করে আপনার সুবিধামতো ভাবে রাখতে পারেন। যারা ছবি তোলার পাশাপাশি খানিকটা ভিডিওগ্রাফিও করতে চান তাদের জন্যে দারূণ উপকারী ফ্লিপ আউট স্ক্রিণটি।

অনেকেই আছেন যারা ছবি তোলার পাশাপাশি খানিকটা ভিডিওগ্রাফিও করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই রেবেল টি থ্রি আইতে হাই ডেফিনিশন ভিডিও রেকর্ড করার সুবিধা দেয়া হয়েছে। আপনি ১০৮০পি @  ৩০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন 😀 । আপনি চাইলে অডিও রেকর্ডিং এর সুবিধার্থে আলাদাভাবে এক্সটার্নাল মাইক জ্যাক যুক্ত করতে পারেন। এতে বিল্ট ইন ফ্ল্যাশ ও যুক্ত রয়েছে। বাজারে এই ক্যামেরাটির জন্যে মোটামুটি ১৬২ টির মতো লেন্স পাওয়া যাচ্ছে। :mrgreen:

canon 600D

আর অন্যসব ক্যামেরার মতো রেবেল টি থ্রি আই এরও কিছু অসুবিধা রয়েছে। আপনি এতে থ্রিডি সাপোর্ট পাবেন না, এইচ ডি আর ফটো তুলতে চাইলে আপনাকে এই ক্যামেরা অটো সুবিধা দিবেনা, ম্যানুয়ালি করে নিতে হবে। স্টোরেজ বা মেমরী কার্ড স্লট একটাই আর একবার পুরো চার্জ দিলে আপনি ফাইন জেপিজি তে ৪৪০ টির কাছাকাছি ছবি তুলতে পারবেন। উল্লেখ্য আমি ফাইন জেপিজিতে প্রায় ৫৫০ এরও বেশি ছবি তুলতে সমর্থ হয়েছি একবার চার্জ দিয়েই।

টেকনিক্যাল ইমেইজ প্রেস অ্যাসোসিয়েশান বা “টিপা” অ্যাওয়ার্ডে সেরা এন্ট্রি-লেভেল ডি এস এল আর এর খেতাব জিতে নিয়েছে ৬০০ডি/ রেবেল টি থ্রি আই। তাছাড়া দ্য ইউরোপিয়ান ইমেইজিং অ্যান্ড সাউন্ড অ্যাসোসিয়েসান এর ২০১১-২০১২ এর সেরা এন্ট্রি লেভেল ডি এস এল আর নির্বাচিত হয়েছে এই ক্যামেরাটি। পিসি ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনেও অন্যতম সেরা ক্যামেরা হিসেবে প্লাটিনাম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ক্যামেরাটি।

আপনি যদি সবেমাত্র ফটোগ্রাফি শুরু করতে চান তাহলে দারুণ একটা ক্যামেরা হিসেবে ক্যানন এর ৬০০ডি হতে পারে সেরা ক্যামেরা। ক্যামেরাটি সম্বন্ধে আরো ভালো ধারণা পেতে ক্যামেরাটির ভিডিও রিভিউ দেখে নিতে পারেনঃ

কেমন লাগছে পিপীলিকা ডট কম এর পোস্ট সমূহ? আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত কমেন্টে জানালে খুশি হবো। আপনাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা পাশাপাশি মতামত ও দিতে পারেন আমাদেরকে।