5

ক্রিকেট এবং পান্টার

ক্রিকেট শব্দটি শুনলেই যাদের নাম চোখে ভাসে পান্টার তাদের মধ্যে একজন। তার খেলার কৌশল ও নেতৃত্বের দক্ষতা নিয়ে বলার কিছু থাকে না। শুরু থেকেই তার পরিচয় দিয়ে এসেছে সে। তাকে দেখার জন্যই অপেক্ষায় থাকে হাজারও মানুষ। কেউ গ্যালারিতে আবার কেউ বা টেলিভিশনের পর্দার সামনে। মাঠে নামতেই সারা পরে যেত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এর শুরুর কিছুদিন পরই। নিজস্ব কায়দায় জয় করে নেয় সবার মন। সে আর কেউ নয় সেরাদের অন্যতম রিকি থমাস পন্টিং। পান্টার নামেই দলে পরিচিত সে। এই তো সেদিন ২৯শে নভেম্বর দিয়ে দিল অবসরের ঘোষণা এবং ৩রা ডিসেম্বর খেলে নিল শেষ ইনিংস।

1

১৯৭৪ সালের আজকের এই দিনে (১৯শে ডিসেম্বর) তাসমানিয়ার লন্সেস্টনে পান্টার এর জন্ম। চার ভাইবোনের মধ্যে পান্টার বড়। খেলাধুলাটা পরিবার থেকেই পেয়েছিল সে। পিতা গ্রেইম পন্টিং ভাল ক্লাব ক্রিকেটার ছিলেন এবং সাথে ফুটবলও খেলতেন। মা লরেইন পন্টিংও ছিলেন সে অঞ্চলের ভিগোরো চ্যাম্পিয়ন। তাই খেলা যেন রক্তেই মিশে ছিল। অন্যদিকে চাচা গ্রেগ চ্যাম্বেলকেও খেলতে দেখেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে।

লন্সেস্টনের মওব্রোতে প্রাইমারী এবং সেখানকারই ব্রুক্স উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন পান্টার। মওব্রোতে পড়ার সময়ই মাত্র ১১বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৩ এর দলে ক্রিকেট খেলা শুরু করে সে এবং দক্ষিণ তাসমানিয়ার ৫দিনের জুনিয়র ক্রিকেট প্রতিযোগিতায়ও নাম লেখায়। এক সপ্তাহেই চারটি শতকের দেখা পেলে স্পন্সরশীপ এর কথা জানায় কুকাবুরা।

পান্টার শুধু ক্রিকেট নয় ফুটবলও খেলত। ১৩বছর বয়সে দক্ষিণ তাসমানিয়ার হয়ে ফুটবল খেলতে গিয়ে ডান হাতে প্রচণ্ড আঘাত পায় সে এবং ১৪ সপ্তাহের জন্য থাকতে হয় বিশ্রামে। এরপর কখনো প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলেনি পান্টার। ১৭বছর বয়সেই সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে তাসমানিয়ার হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এ ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায় সে এবং সেখানে ৩৫০রান করে পাকা করে নেয় নিজের জায়গা।

১৯৯৫সালে জায়গা করে নেয় জাতীয় দলে। ওয়ান-ডে তে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং টেস্ট এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামে পান্টার। পার্থের সেই টেস্টেই খেলে ৯৬রানের ইনিংস। বেশ কয়েকবার জায়গা হারালেও ১৯৯৯ এর পর আর ঘুরে তাকাতে হয়নি। ২০০২সালে পেয়ে যায় ওয়ান-ডে দলের অধিনায়কত্ব এবং ২০০৪সালে টেস্ট দলের।

পান্টার একে একে খেলেছে-
১৬৮টি টেস্ট (ইনিংস-২৮৭, রান-১৩৩৭৮, গড়-৫১.৮৫, শতক-৪১, অর্ধ-শতক- ৬২, সর্বচ্চো-২৫৭, ক্যাচ-১৯৬),

৩৭৫টি ওয়ান-ডে (ইনিংস-৩৬৫, রান-১৩৭০৪, গড়-৪২.০৩, শতক-৩০, অর্ধ-শতক-৮২, সর্বচ্চো-১৬৪, ক্যাচ-১৬০),

১৭টি টি-টুয়েন্টি (ইনিংস-১৬, রান-৪০১, গড়-২৮.৬৪, অর্ধ-শতক-২, সর্বচ্চো-৯৮*, ক্যাচ-৮)

২৮০টি ফার্স্ট-ক্লাস (ইনিংস-৪৭৮, রান-২৩১০১, গড়-৫৫.১৩, শতক-৭৮, অর্ধ-শতক-১০৩, সর্বচ্চো-২৫৭, ক্যাচ-২৯৮)

৪৫১টি লিস্ট এ (ইনিংস-৪৪১, রান-১৬২২১, গড়-৪১.৮০, শতক-৩৪, অর্ধ-শতক-৯৮, সর্বচ্চো-১৬৪, ক্যাচ-১৯৩)

২৪টি টুয়েন্টি২০ (ইনিংস-২৩, রান-৪৮৫, গড়-২৩.০৯, অর্ধ-শতক-২, সর্বচ্চো-৯৮*, ক্যাচ-১০)

বল হাতেও দেখা গেছে তাকে-
টেস্ট (ইনিংস-৩৬, বল-৫৮৭, রান-৫৮৭, উইকেট-৫, গড়-৫৫.২০)

ওয়ান-ডে (ইনিংস-৫, বল-১৫০, রান-১০৪, উইকেট-৩, গড়-৩৪.৬৬)

ফার্স্ট-ক্লাস (বল-১৪৮২, রান-৮০২, উইকেট-১৪, গড়-৫৭.২৮)

লিস্ট এ (বল-৩৪৯, রান-২৬৯, উইকেট-৮, গড়-৩৩.৬২)

পান্টারকে দেখা যায় একজন সফল অধিনায়কের ভূমিকায়। অধিনাকয় হিসেবে জয় এনে দেয় ১৬২টি ওয়ান-ডে তে এবং ৪৮টি টেস্টে। ২বার ওয়ার্ল্ড কাপ এনে দেয়া এই অধিনায়ক টানা ২৫টি ম্যাচ-এ দলকে রাখে অপরাজিত (২০০৭)।

2

১০০তম টেস্টে করে জোড়া শতক।
সফলতার সম্মান স্বরূপ পায়  আই.সি.সির বর্ষ সেরা খেলোয়াড় এর এ্যাওয়ার্ড(২০০৬,২০০৭), টেস্টে(২০০৩,২০০৪,২০০৬) এবং ওয়ান-ডে তে(২০০২)। এছাড়াও পায় অ্যালান বর্ডার মেডেল(২০০৪,২০০৬,২০০৭,২০০৯)। ওয়াইসডেন বর্ষ সেরা খেলোয়াড় এর পুরস্কারও পায় পান্টার(২০০৬)।

3

২০০২সালের জুনে রিয়ানা জেনিফার কান্টরকে বিয়ে করে পান্টার। ২০০৬সালের ২৬শে জুলাই প্রথম কন্যা সন্তান হয় তাদের, নাম রাখা হয় এমি চারলট। এরপর ২য় কন্যা সন্তান হয় ২০১১সালের ৮ই সেপ্টেম্বর যার নাম রাখা হয় ম্যাটিস এলি।

4

অনেক অবদানের মধ্য দিয়ে ২০১২সালে অবসর নেয় পান্টার। অধিনায়ক হিসেবে তার দক্ষতা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আর খেলতে দেখা যাবে না তাকে। তবে নামটা ঠিকই থেকে যাবে সযত্নে। অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে ক্রিকেট – রিকি থমাস পন্টিং।।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

অচ্যুত সাহা জয়
 

"কখনো কোনো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা বলতে হয় না। আমরা বলি না। আপনি বলেছেন। এর দায়দায়িত্ব কিন্তু আর আমার না - আপনার!"