3

গরমে সাইক্লিং করার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে

ভরদুপুরে সাইকেল চালাচ্ছেন, মাথার উপরে সূয্যিমামা প্রতি মূহূর্তে আপনার থেকে পানি শুষে নিচ্ছে, আপনি ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, এই মূহুর্তে আপনার গন্তব্যে পৌছাতে পারলেই যেনো হাফ ছেড়ে বাচেন ! নিয়মিত সাইক্লিং করে থাকলে ইতোমধ্যেই নিঃসন্দেহে এমন কোন অভিজ্ঞতা আছে আপনার। প্রচণ্ড গরমে সাইক্লিং দুর্বিষহ এক ব্যাপার। মনোবল দৃঢ় না থাকলে খুব কম সাইক্লিস্টই এই অসহ্য গরমে নিয়মিত সাইকেল চালাতে সক্ষম। গরমে সাইক্লিং করার প্রধাণ সমস্যা খুব দ্রুত পানিশূণ্যতায় ভোগা। পর্যাপ্ত পানি না থাকলে শরীর ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে পড়ে। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে এই গরমেও নিয়মিত সাইক্লিং করা সহজ হয়ে যাবে। সাইক্লিং বিষয়ক লেখার এ পর্বে এমনই কিছু বিষয় তুলে ধরা হবে।

গরমে সাইক্লিং

পর্যাপ্ত পানি পান

গরমে সাইক্লিং করলে আপনার শরীরে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আর এর জন্যে আপনার নিজেকেই পানি বহন করে নিতে হবে। সাইকেল চালানোর মাঝে মাঝে যখনই প্রয়োজন মনে করবেন খানিকটা পানি শরীরে চালান করে দিবেন। এতে করে শরীর পর্যাপ্ত পানি পাবে আর সে অনুযায়ী আপনাকে সার্ভিস দিবে 😛 । আপনি চাইলে পানি রাখার জন্যে বোতল কিংবা হাইড্রেশন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। বোতলের তুলনায় হাইড্রেশন প্যাক ব্যবহার করলে খানিকটা বেশি সুবিধা পাবেন।

চেষ্টা করবেন প্রতি পনেরো মিনিটে ৩-৪ আউন্স পানি খেয়ে নেয়ার, আর ঘন্টায় গড়ে ১৫-১৬ আউন্স পানি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে বয়েস, ওজন আর তাপমাত্রায় ভিত্তিতে পানির পরিমাণ কম বেশি হতে পারে।

পাতলা কাপড় পড়া

অত্যধিক গরমে গাড় রঙের কাপড় এড়িয়ে হালকা রঙের পাতলা কাপড় পড়াটাই বেশি আরামদায়ক। কালো বা অন্য গাড় রঙের কাপড় তুলনামূলক বেশি তাপ শোষণ করে আপনার শরীরে গরমের পরিমাণ বাড়িয়ে দিবে। যার ফলাফল হিসেবে আপনি আরো বেশি ঘামবেন এবং দ্রুতই দূর্বল হয়ে পড়বেন। তাই গরমে হালকা রঙের পাতলা কাপড় পড়াটাই সুবিধাজনক। এক্ষেত্রে কেউ যদি মনে করেন পাতলা হালকা রঙের কাপড় পড়লে তথাকথিত “ভাব” বজায় থাকবেনা তারা চাইলে সাদা বা অন্য হালকা রঙের মধ্যে ভালো ব্র্যান্ডের টিশার্ট পড়তে পারেন 😀 । আর গরমের মধ্যে ফুল প্যান্ট এর চেয়ে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পড়াটা আরামদায়ক হবে।

বিশ্রাম নেয়া

রোদের মধ্যে সাইকেল চালানোর সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়ার প্রয়োজন আছে। তাই যখনই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন তখনই আশেপাশের কোন স্থানে যেখানে ছায়া আছে সেখানে দাঁড়িয়ে বা ছায়াযুক্ত স্থানে বসে বিশ্রাম নিয়ে নিন। মাত্র পাঁচ দশ মিনিটের ছোট্ট বিশ্রাম হয়তো আপনাকে পুনরায় আগের মতো ফুরফুরা করে দিবে, যাতে আপনি আরামে আরো বেশ অনেক কিলো সাইক্লিং করতে পারবেন। আশেপাশে গাছ থাকলে সেখানেও বিশ্রাম নিতে পারেন, আর এটাই সবচেয়ে বেশি উপকারী।

ভারী বোঝা বহন না করা

সম্ভব হলে ভারী বোঝা বহন না করাই ভালো। আপনি স্বাভাবিকভাবে সাইক্লিং করলে যতটুকু চালাতে পারবেন ভারী কিছু বহন করে নিলে তার থেকে অনেক কম দূরত্ব চালাতে পারবেন। তাই সম্ভব হলে ভারী কিছু বয়ে নেয়া থেকে বিরত থাকুন যদি নিতান্তই প্রয়োজনীয় কিছু না হয়ে থাকে।

তাড়াহুড়ো না করা

শুধু গরমেই না যেকোনো সময়েই ব্যস্ত সড়কে তাড়াহুড়ো করে সাইকেল চালানো বেশ বিপদজনক। গতকাল মৌচাক অভারব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দূর থেকে একজনকে দেখলাম অন্য একটা সাইকেল কে পেছনের ফেলার জন্যে উনি রীতিমত যুদ্ধ বাঁধিয়ে বসেছেন। বিপদজ্জনকভাবে গাড়ি, বাসকে পাশ কাটিয়ে উনি এগিয়ে গেলেন। এক্ষেত্রে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো। আর যদি এমন কিছু ঘটতোও তাহলেও সম্পূর্ণ দোষ ঐ সাইক্লিস্ট এর উপরেই বর্তাতো। উনি তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থে চালিয়ে গেলেই পারতেন। উনার মতো অনেককেই পাওয়া যাবে তাড়াহূড়ো করে কোন বাস, সিএনজি কিংবা অন্য সাইকেলের সাথে পাল্লা দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কোন একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে একজনের কারণে পুরো কমিউনিটির উপরেই দোষ বর্তাবে, কারণ আমরা সাইক্লিস্টরা প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে বিডিসাইক্লিস্টস কে রিপ্রেজেন্ট করি।

গরমের সময় শরীর এমনিতেই দূর্বল থাকে, এমতাবস্থায় তাড়াহূড়ো করলে বিপদের আশঙ্কা অনেকাংশেই বেড়ে যাবে। তাই সবার প্রতিই অনুরোধ থাকলো তাড়াহুড়ো না করে ভালোভাবে চালিয়ে যান। 🙂

শর্টকাট অনুসরণ করা

ধরা যাক আপনি দূরের কোন গন্তব্যে যাচ্ছেন। যদি কোন শর্টকাট থাকে তাহলে সেটা ব্যবহার করুন। যদি আপনার গন্তব্যে পৌছানোই মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে তাহলে যত কম দূরত্ব অতিক্রম করে আপনি সেখানে পৌছুতে পারেন ততোই আপনার জন্যে ভালো।

সানসস্ক্রিম ব্যবহার করা

রোদে পোড়া সাইক্লিস্ট

যদি এমন হয় নিয়মিত সাইক্লিং করার কারণে প্রতিদিন ঘষে মেজে সুন্দর করা চেহারাটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোদে পুরে, তাহলে আপনি সানস্ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। সানসক্রিম আপনার চেহারাকে রোদে পুরে ডিসকালার হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখবে। সাইক্লিং করার কারণে বউ পাবেন না, তা হবে না তা হবেনা ! 😉

গ্লভস ব্যবহার করা

হাত কম বেশি সবারই ঘামে, তবে অনেকেরই হাত মাত্রাতিরিক্ত ঘামে। ঘর্মাক্ত হাতে হ্যান্ডেলবার ধরলে তা পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে, যা কিনা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে সক্ষম। তাই সবসময় হাতে গ্লভস ব্যবহার করা উচিৎ, এতে করে আপনি যেমন কোন দূর্ঘটনায় হাত ছড়ে যাওয়া থেকে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন, ঠিক একইভাবে ঘর্মাক্ত পিচ্ছিল হ্যান্ডেলবার পাওয়া থেকেও নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন । গ্লভস কেনো ব্যবহার করবেন তার জন্যে নিরাপদ সাইক্লিং বিষয়ক আর্টিকেলটি দেখতে পারেন।

রুমাল বা তোয়ালে ব্যবহার করা

এই সময়ে সাইক্লিং করলে অতিমাত্রায় ঘেমে যাওয়া স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে আপনি ঘাম মোছার জন্যে নিজের কাছে রুমাল বা মাঝারি আকারের তোয়ালে সাথে রাখতে পারেন। যখনই আপনি খানিকটা সময়ের জন্যে থামছেন তখন চাইলে শরীরের ঘামটা মুছে নিতে পারেন। এতে করে আপনি আগের থেকেও ফ্রেশ অনুভব করবেন।

পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা

খাবার

গরমে নিয়মিত সাইক্লিং করলে আপনার প্রচুর শক্তির প্রয়োজন পড়বে। আর সেই শক্তির যোগান দিতে হবে আপনাকেই। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, তেল-চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে মৌসুমী ফলমূল আর শাক-সবজি খান। এতে আপনি পর্যাপ্ত শক্তি পাবেন যা পরবর্তীতে সাইকেল চালানোর সময় কাজে আসবে।

তো এই ছিলো গরমে সাইক্লিং করার কিছু টিপস। নিতান্তই নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা থেকে লেখা। তাই অসাবধানতাবসত ভুল-ভ্রান্তি রয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে নির্দ্বিধায় আমাকে জানাতে পারেন।

গরমে সাইক্লিং করার সময় আপনার কোন অভিজ্ঞতা কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন। আমি জানতে আগ্রহী। :mrgreen:

 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি