গারো পাহাড়ঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাহাড়

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সীমান্ত কন্যা পাহাড়ি সুষমা মন্ডিত শেরপুর একটি অতি প্রাচীন জনপদ। দেশের ছোট্ট সুন্দর  এবং সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর। অতি প্রাচীনকাল থেকেই কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এই শেরপুর জেলা। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইক্তার উদ্দিন উজবেগ তুগ্রলখা, ১৪৯১ খ্রিস্টাব্দ থেকে দ্বিতীয় ফিরোজ শাহ, ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে হুসেন শাহ, পরবর্তীতে পাঠান সম্রাট শেরশাহ, মোগল সম্রাট বাবর, হুমায়ুন, আকবর- এমনি আরও অনেক রাজা-বাদশাহগণ এ অঞ্চল শাসন করতেন।

মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বিশাল চওড়া ও খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র পার হয়ে শেরপুর পৌঁছতে সময় লাগত এক প্রহর বা তিন ঘন্টারও বেশী। পার হতে লাগত দশকাহন কড়ি বা সুলতানী দশ টাকা। এ কারনে তখন এ অঞ্চলকে বলা হতো ‘দশকাহনিয়া বাজু’(বিভাগ)। আর এই শেরপুর জেলায়  অবস্থিত দেশের প্রসিদ্ধ গারো পাহাড়।

ওপাশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলা আর এ পাশে বাংলাদেশের জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ। সীমান্ত ঘেষা বকশীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছবির মতো গারো পাহাড়ের সারি, আর বনভূমি মানুষকে আকৃষ্ট করেছে সব সময়। গারো পাহাড় ভারতের মেঘালয়ের গারো-খাসিয়া রেঞ্জে অবস্থিত। এ পাহাড়ে মূলত, আদিবাসীদের বসবাস, যার অধিকাংশই গারো। এটি মেঘালয়ের প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ইকো বনাঞ্চলের অংশ।  যেহেতু পাহাড় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাহলে মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে তাহলে পর্বত কি, তাই না ?

ভূগোলের ভাষায় পাহাড় হল -

" সমুদ্র সমতল হতে উচ্চে অবস্থিত ঢাল বিশিষ্ঠ্য শিলাস্তুপকে বলে পাহাড় । আর "সমুদ্র সমতল হতে অতিউচ্চে অবস্থিত খাড়াঢাল বিশিষ্ঠ্য শিলাস্তুপকে বলা হয় পর্বত" ।

পাহাড় শব্দটি হলো বিশেষ্য আর পর্বত শব্দটি হলো বিশেষণ। তাছাড়া পাহাড় ও পর্বত এই দুইয়ের মাঝে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। পাহাড়ে একটু কম ঝুঁকিপূর্ণ আর পর্বতে একটু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ।

গারো পাহাড় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া পর্বতমালার একটি অংশ। এর কিছু অংশ ভারতের আসাম রাজ্য ও বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলায় অবস্থিত। ভারতের মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে ও বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে অরণ্যরাজি আর গারো পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড়ি নদী ভোগাই, চেল্লাখালি, মৃগী, সোমেশ্বরী, মালিঝি, মহারশীর ঐশ্বরিক প্রাচুর্যস্নাত অববাহিকায় সমৃদ্ধ জনপদ শেরপুর জেলার বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে গারো পাহাড়ের বিস্তৃতি। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জ জেলায় এর কিছু অংশ আছে।

গারো পাহাড় বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলসমূহের মধ্যে একটি। এখানকার আবহাওয়া, শান্ত সুন্দর পরিবেশ এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সকলকে মুগ্ধ করে। গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং। নদীটির উৎপত্তি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উচ্চতায় নক্রেক অঞ্চলে, পরবর্তীতে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীর দুই ধারের আকর্ষণগুলো হলো, বাঘমারা, সিজু গুহা, সিমসাংরি ইত্যাদি।

গারো পাহাড়ের  ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর  দ্রাঘিমাংশ।

গারো পাহাড় এর  আয়তন প্রায় ৮০০০ বর্গ কিলোমিটার। এই গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নক্রেক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪,৬৫২ ফুট। গারো পাহাড়েই মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং অবস্থিত। তবে গারো পাহাড়ের প্রধান শহর তুরা। এই শহরটি পাহাড়ের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত।

কিংবদন্তি রয়েছে, প্রাচীনকালে সম্ভ্রান্ত রাজ বংশের জনৈক এক রাজার অবস্থানের কারণে এখানকার বড় পাহাড়টির নাম হয় রাজার পাহাড়।  এক সময় উপর্যুপরি বুনোহাতির আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজার বাড়ি ও কাচারী ধ্বংস হয়ে যায়। শেরপুর জেলা শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে কর্ণঝোড়া বাজার সংলগ্ন সীমান্ত সড়কের সমতল থেকে রাজার পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় একশ’ মিটার।  গারো পাহাড়ের যতগুলো পাহাড় রয়েছে তার মধ্যে রাজার পাহাড়ের উচ্চতা সবচেয়ে বেশি। তাই এর বৈশিষ্ট্যও আশেপাশের অন্যান্য পাহাড়গুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম। কিন্তু এ পাহাড়ের আগের সৌন্দর্য এখন আর নেই। তবে এর বৈশিষ্ট প্রতিবেশী পাহাড়গুলো রয়ে গিয়েছে। এ পাহাড়ের চূড়ায় শতাধিক হেক্টর জমির সমতল বিরান ভূমি। এখান থেকে মেঘালয় যেন আরো কাছে মনে হয়। এর চূড়া সবুজ আর নীলের সংমিশ্রণে যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

পাকিস্তান আমলে শ্রীবরদী থানায় একজন দারোগা ছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাকে পাগলা দারোগা বলে অভিহিত করতো। তিনি পরিত্যক্ত রাজার পাহাড়ের সন্ধান পান। রোগার এই জায়গা এত ভাল লাগে যে সে এখানে মৃত্যু পর্যন্ত থাকার বাসনা করল। পরবর্তীকালে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে ঐ স্থানে সুলতানিয়া বাগে মদিনা দরবার শরীফ নামে একটি দরগাহ স্থাপন করেন। ১৯৮০ সালে পাগলা দারোগা রাজার পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।বর্তমানে দরবার শরীফটির অস্তিত্ব নেই। তবে তার বংশধরেরা সেখানে বসবাস করছেন। সে অনেক আগের কথা। এখন থাকে তার মেয়ের স্বামী। দারোগা মরেছে অনেক আগে।

পাহাড়ের পাশেই রয়েছে আদিবাসী জনপদ বাবেলাকোনা। অসংখ্য উচু টিলায় ঘেরা অন্যবদ্য এই গ্রাম প্রকৃতির উজাড় করা সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাচীনকাল থেকেই এখানে গড়ে উঠেছে জনবসতি। বাবেলাকোনায় গারো , হাজং ও কোচ অধ্যুষিত আদিবাসীদের সংস্কৃতির ভিন্নমাত্রায় রয়েছে বিচিত্র জীবনধারা।

উপজাতিদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চার কেন্দ্রগুলোও যেন আলাদা আকর্ষণ। বাবেলাকোনার উপজাতিদের কারুকার্য মন্ডিত ধর্মীয় গীর্জা, মন্দিরসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক নিদর্শনের সমাহার।আদিবাসীদের সংস্কৃতি, সংরক্ষণ ও চর্চার কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে বাবেলাকেনা কালচারাল একাডেমী, জাদুঘর, লাইব্রেরী, গবেষণা বিভাগ ও মিলনায়তন । এখান থেকে আদিবাসীদের সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যাবে ।  উপজাতিদের চালচলন, কথাবার্তা ও জীবনপ্রণালী দর্শনার্থীদের অাকৃষ্ট করে। তাদের সংস্কৃতিতে রয়েছে ভিন্নতা। ওদের জীবন যেন প্রবাহিত হয় ভিন্ন ধারায়। এখানে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন, বিট অফিস, বিজিবি ক্যাম্প এবং রাবার বাগান।

পাহাড় থেকে ঝোপঝাড়ের আড়ালে কুলকুল শব্দ করে নেমে এসেছে কর্ণঝোরা ও ঢেউফা নদী।  চারদিকে অসংখ্য নয়নাভিরাম টিলা, পাহাড়ি সবুজ অরণ্যের বেষ্টনী আর টিলার পাদদেশ ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া ঢেউফা নদীর ফল্গুধারা ‘রাজার পাহাড়’কে অপরূপ করে তুলেছে। বর্ষাকালে ঢেউফা নদী জোয়ারে কানায় কানায় ভরে উঠে। কিন্তু শীতে হয় শীর্ণকায়া।

তবে খরস্রোতা এই নদীর পানি কখনই কমেনা। এর বুকের বিশাল বালুচর দেখলে মনে হবে যেন পাহাড়ের কূলঘেষা এক বিকল্প সমুদ্র সৈকত। বে খরস্রোতা এ নদীর পানির গতি কখনোই কমেনা। সারা বছরই হেঁটে পার হওয়া যায়। ক’বছর ধরে এ নদীর দু’পাশে দুটি ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় এখন আর নদীতে নামতে হয়না।

বাবেলাকোনা গ্রামে  রয়েছে উপজাতীদের কারুকার্য মন্ডিত ধর্মীয় গীর্জা, মন্দির, উপাসনালয় ও অসংখ্য প্রাকৃতিক নির্দশনের সমাহার। টিলা থেকে নিচের দিকে তাকালে যেন চোখ ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমনি এ পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় আশপাশের কর্নঝোড়া, মালাকোচা, দিঘলাকোনা, হারিয়াকোনা, চান্দাপাড়া, বাবেলাকোনাসহ ভারতের সীমান্ত এলাকা।

গারো পাহাড় ঘন বন-জঙ্গলে আচ্ছাদিত। গারো পাহাড়কে কেন্দ্র করে এখানে রয়েছে এক বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এই বনভূমির আয়তন প্রায় ২০০ বর্গ কিলোমিটার। সমগ্র গারো পাহাড় অঞ্চলে এই সংরক্ষিত বনভূমিতে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান শালগাছ জন্মায়। অসংরক্ষিত বনের সংখ্যা এবং আয়তনও কম নয়। এসব বনভূমিতেও প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান গাছ, বাঁশ, বেত প্রভৃতি জন্মায়। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেযোগ্য সেগুন এবং শাল।

গারো পাহাড়ে বাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, বনবিড়াল, সজারো, বনরুই, শুকর, বনগরু, চিত্রা ও মায়া হরিণ, রামকুত্তা, মেঘলা চিতা, সোনালি বিড়াল, গেছোবাঘ, উল্লুক, হনুমান, খরগোস, বেজি, লজ্জাবতী বানর, চশমাপড়া বানর, বন ছাগল, অজগর সাপ, শেয়াল  ও বন্য হাতি ইত্যাদির দেখা পাওয়া যেত। কিন্ত বর্তমানে এসব প্রাণীর মধ্যে শিয়াল, বন্যহাতি ও বেজি ছাড়া আর কোন প্রাণীর সচরাচর বিচরণ লক্ষ করা যায় না। তবে মাঝে মধ্যে বানর, বনরুই, গেছোবাঘ, খরগোস, বনশুকর ও মায়া হরিনের দেখা মেলে।

নব্বই দশকে এসব পাহাড়ে সচারচর বিচরণ করতো পাখ-পাখলির মধ্যে ময়না এবং ধনেশ বনমোরগ, বনহাঁস, কোকিল, বেনেবউ, বউ কথা কও, টিয়া, ময়না, ঘুঘু, চড়ুই, টুনটুনি, মাছরাঙা, বক, কোয়েল, পাতিকাক, দাঁড় কাক, কাঠময়ূর, বালিহাঁস, চন্দনা, হরিয়াল, কাঁঠঠোকরা, ফেসকুল, বুলবুলি, ঈগল, বাজপাখি, শকুন, হারগিলা, কাইম, ডাহুক, সারস, পেঁচা। এসবের মধ্যে অনেক পাখিই আজ বিলুপ্তির পথে। বনভূমিতে রয়েছে অসংখ্য ঝর্না এবং পাহাড়ি নদী। এর ভিতরে উল্লেখযোগ্য নদীগুলো হলো সিমসাং, সোমেশ্বরী, গণেশ্বরী, ঝিনারী, কৃষ্ণাই, দুধনাই, ভোগাই, নিতাই, রংরা ইত্যাদি। এই পাহাড়ের দীর্ঘতম নদী হলো সিমসাং।

গারো পাহাড় একটি দুর্গম পার্বত্য এলাকা।  টিলার ওপর এবং সমতলে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠীর নানা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে। পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে উঁচু-নিচু পাহাড়ের গায়ে মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অধিবাসীদের ঘর-বাড়ির  দৃশ্যে মন ছুঁয়ে যায়।এই পাহাড়ে প্রধান বাসিন্দা গারো জাতি। মেঘালয় রাজ্যের অন্তর্গত ঈস্ট গারো হিলস, ওয়েস্ট গারো হিলস এবং সাউথ গারো হিলস নামক তিনটি জেলায় অধিকাংশ গারো বসবাস।

প্রকৃতির উজাড় করা সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ী গ্রামগুলো। বন, পাহাড়, পাথর, ঝরনা আর আদিবাসীদের নিজেদের মতো জীবন যাপন সব দেখতে আর নগর কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে ডুবে যেতে দেশের নানা জায়গা থেকে এখানে মানুষ ঘুরতে আসে।  পর্যটকদের কথা ভেবে জামালপুর জেলা পরিষদ ১৯৯৬ সালে ২৬ একর জায়গা জুড়ে গারো পাহাড়ের চূড়ায় নির্মাণ করেছে পিকনিক স্পট ‘ক্ষনিকা’। গারো পাহাড়ের ১৫০ ফুট চূঁড়ায় ‘ক্ষনিকা’ পিকনিট স্পটে নির্মাণ করা হয়েছে ৬০ ফুট উঁচু টাওয়ার

এই টাওয়ারে উঠলেই এক লাফে চোখের সামনে চলে আসবে দিগন্ত বিস্তৃত সারি সারি সবুজ পাহাড়-টিলা। চোখে পড়বে সীমান্তের ওপারের মেঘালয় রাজ্যের বিস্তৃত পাহাড়, তুরা জেলার পাহাড়ী ছোট্ট থানা শহর মহেন্দ্রগঞ্জ। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল ছিল পাহাড়ী শহর মহেন্দ্রগঞ্জ।

পাহাড়ের অনেক জায়গায় উচ্চ সমভূমি আছে। এই সব সমভূমিতে প্রচুর পরিমাণ ধান ও অন্যান্য শস্য উৎপন্ন হয়। এছাড়া গারোরা জুম পদ্ধতিতে অনেক স্থানে ধান চাষ করে থাকে। বসতি-প্রধান অঞ্চলটিকে দক্ষিণ-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিমে লম্বালম্বি গারো পাহাড় দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

প্রাথমিক-মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তক সমূহে, সমাজবিজ্ঞান বা ভূগোলে ময়মনসিংহের (যদিও গারো পাহাড়ের বাংলাদেশের বেশিভাগ অংশ জামালপুর জেলায় পড়েছে ) গারো পাহাড় বলে দেশের যে বৃহত্তম পাহাড়ের কথা উল্লেখ করা আছে, তা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়  বলে অনেকে মনে করেন। তাদের মতে,  বাজারে প্রাপ্ত সাধারণ জ্ঞানের বই, বিসিএস গাইডগুলোতে কিংবা বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতায় এই ভুল তথ্যটিকেই বারবার সত্য বলে উপস্থাপন করা হচ্ছে । গারো পাহাড়ের সবচেয়ে উচু পাহাড়টি হল রাজা পাহাড় যা মাত্র ১০০ মিটার উচিত যা মূলত টিলা ধরা যায়।  এ কারনে অনেকে একে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাহাড় মানতে নারাজ। 

কেউ যদি শেরপুরে ঘুরতে এসে রাত্রিযাপন করতে চান তবে শেরপুর জেলা সদরেই  থাকাটাই সব দিক থেকে ভাল এবং একমাত্র সমাধান । কারণ সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার কোনো স্পটেই রাত্রীযাপনের তেমন কোন ব্যবস্থা বা অনুমতি নেই। তবে রাজার পাহাড়ের  বাবেলাকোনার পাশেই রয়েছে অবসর কেন্দ্র। রাত হলে সেখানে থাকার জন্য রয়েছে নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক ভবন। শেরপুর জেলা শহরে হাতে গোনা দুই/তিনটি ভালো মানের আবাসিক হোটেল ছাড়াও ভিআইপিদের জন্য জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ও এলজিইডির রেস্ট হাউজ রয়েছে। ঝিনাইগাতী ডাকবাংলো অথবা বন-বিভাগ ডাকবাংলোও থাকতে পারবেন। সেগুলোতে রাত্রি যাপন বা রেস্ট নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট অফিসে অগ্রিম বুকিং দিতে হবে।

শেষকথা

নগর জীবনের একঘেয়েমি আর ক্লান্তি দূর করতে ছুটিতে বেড়িয়ে আসতে পরেন শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায়। এখানে রয়েছে শাল-গজারি বাগান আর বাগানের ফাঁকে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে দেখতে পাবেন মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর আদিবাসী গারো-কোচ-হাজংসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের জীবন-জীবিকা।

গারো পাহাড়ের অধিবাসীরা খুবই আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। প্রকৃতির প্রতি তাদের রয়েছে বিশেষ মমত্ববোধ আর ভালোবাসা। তাইতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সম্পদ সংরক্ষণে তারা খুবই যত্নবান। তাদের জীবনধারা, আর সাহিত্য সংস্কৃতিকে প্রকৃতির প্রতি যে ভালোবাসাই প্রতিফলিত হয়।

তাই আমরা যখন কোথাও ভ্রমণ করতে যাব আমাদের অবশ্যই উচিত এ বিষয়ে সচেতন থাকা। 

তথ্য সূত্রঃ উইকি ও নানা ওয়েব সাইট। 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক