• Home
  • স্বাস্থ্যবটিকা
1

গ্রীষ্মে সুস্বাস্থ্যঃ পানিশূন্যতা এবং এটি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য

আম-জাম-কাঁঠালের ঋতু গ্রীষ্ম। নানারকম লোভনীয় ফলের সমারোহের পরও নানা কারণেই গ্রীষ্ম খুব কম মানুষেরই পছন্দের ঋতু। কারণ একটাই, সূর্যের প্রচন্ড তাপ ও তা থেকে উৎপন্ন নানা স্বাস্থ্য সমস্যা। গ্রীষ্মে ছেলে-বুড়ো, ছুড়ি-বুড়ি সকলেই যে সমস্যাতে সবচেয়ে বেশি ভোগে তা হচ্ছে  “পানিশূণ্যতা”। এটি থেকে খুব সহজেই, কিছু সাধারণ নিয়ম পালনের মাধ্যমে রক্ষা পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেয়া যাক পানিশূণ্যতা কি এবং কি করে গ্রীষ্মে সুস্থ ও সতেজ থাকা যায়।

 পানিশূণ্যতায় বেহাল

পানিষূণ্যতা কি এবং কারণ – পানি দেহের অত্যন্ত জরু্রী একটি উপাদান। দেহের কার্যক্রম যথাযথ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পানি দেহে উপস্থিত থাকা দরকার।  দেহের ৭৫% এরও বেশি ওজন পানির। পানিশূণ্যতা তখন সৃষ্টি হয় যখন পানি গ্রহণের চেয়ে বেশি পরিমাণে পানি দেহ ত্যাগ করে। শ্বাস-প্রশ্বাস, ঘাম, রেচন পদার্থ ত্যাগের সময় দেহ যথেষ্ট পরিমাণে পানি ত্যাগ করে। যখন আমরা কম পানি গ্রহণ করি তখন দেহের বিভিন্ন কোষ প্রয়োজনীয় পানি পায়না এবং যথাযথভাবে কাজ করতে পারেনা। এমতাবস্থায় দেহ যে সকল লক্ষণ প্রকাশ করে অর্থাৎ আমরা যে সকল সমস্যা অনুভব করি তাই হচ্ছে পানিশূণ্যতা।

 

পানিশূণ্যতার ফলে সৃষ্ট সমস্যা

গ্রীষ্মে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। গ্রীষ্মে সূর্যের প্রচন্ড তাপ দেহ থেকে পানি শুষে নেয়। প্রচন্ড তাপ ও আর্দ্রতার ফলে দেহ ঘাম দ্বারা প্রয়োজনের বেশি পানি ত্যাগ করে, এই ত্যাগ এর পরিমাণ আমরা প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ পানি গ্রহণ করি তার চেয়ে বেশি হওয়ার ফলে পানিশূণ্যতা দেখা দেয়।

পানিশূণ্যতা থেকে রক্ষা পাওয়ার  জন্য করণীয় – পানিশূণ্যতার ফলে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। যেমন – শুষ্ক মুখ, ছিখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘাম বন্ধ হওয়া, মাসল ক্র্যাম্পস, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা প্রভৃতি। এই গ্রীষ্মে পানিশূণ্যতা ও এর ফলে সৃষ্ট সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে নিম্নলিখিত নিয়মাবলী অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।

  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান – পানিশূণ্যতা থেকে রক্ষা পেতে দিনে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা। বিশেষজ্ঞরা তাই বলেন, দিনে ৮-১০ গ্লাস অর্থাৎ  ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এর ফলে গ্রীষ্মে প্রবল খরতাপেও দেহ প্রয়োজনীয় পানি পাবে এবং দেহকোষ যথাযথভাবে কাজ করবে এবং দেহ আর্দ্র থাকবে।
  • লেবুর শরবত, গ্লুকোজ প্রভৃতি গ্রহণ – পানিশূণ্যতার ফলে যে দূর্বলতার সৃষ্টি হয় তা প্রতিরোধে লেবুর শরবত, মধু, গ্লুকোজ প্রভৃতি গ্রহণ খুব কার্যকরী। গ্রীষ্মের খরতাপে এ সকল পদার্থ প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং দেহকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে।
  • রসালো ফল, সবজি খাওয়া – আম, জাম, তরমুজ, ডালিম, বেদানা ইত্যাদি ফল নিয়মিত খাওয়া উচিত। এ থেকে দেহ প্রয়োজনীয় পানি এবং খনিজ পায়। ফলে দেহ সুস্থ থাকে।
  • পানির বিকল্প নেই। গ্রীষ্মে প্রচুর পানি পান করুন, সুস্থ থাকুনসালাদ, কম মশলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ – গ্রীষ্মে দেহকে শীতল রাখতে মশলাযুক্ত তৈলাক্ত খাদ্য এড়িয়ে চলা মঙ্গলকর। এটি দেহকে পানিশূণ্যতা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
  • রোদে কম যাওয়া – রোদে ঘোরাঘুরি ও প্রখর রোদে ভারী কাজ এড়িয়ে চলা উচিত। এর ফলে দেহ কম ঘামবে এবং কম পানি নিঃসরণ করবে।

উপরোক্ত বিধিগুলো অনুসরণের মাধ্যমে এই গ্রীষ্মে আপনি থাকতে পারবেন সুস্থ, সজীব ও সতেজ এবং গ্রীষ্মকে উপভোগ করতে পারবেন। আশা করি লেখাটি থেকে কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন। লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানোর অনুরোধ রইল 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

দেবশ্রী মুখার্জী টুনটুনি
 

সাধারণ একটা মেয়ে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে চাই...:)