চলন বিল – বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল হল চলন বিল। এ বিল উত্তর বঙ্গের নাটোর, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনা জেলার মধ্যে অবস্থিত। দেশের সর্ববৃহৎ এই বিলটি বিভিন্ন খাল দ্বারা সংযুক্ত অনেকগুলো ছোট ছোট বিলের সমষ্টি নিয়ে গঠিত।কাছে থেকে এই অপরুপ সৌন্দর্য্যের এই চলন বিল  দেখলে মনে অতৃপ্তি থেকে যাবে। যেমনি নাম চলন বিল তেমনি তার সৌন্দর্য্য। বর্ষাকালে তো পানিতে একাকার হয়ে যায় প্রায় ৩৬৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। তবে, চলন বিল বর্ষাকালেই অপরুপ সাজে সজ্জিত হয়। তখন দর্শনার্থীর সংখ্যাও থাকে ভরপুর।

বিলের অবস্থান ও গঠন

চলনবিল বলতে চলমান (চলন্ত) কোন বিলকে বোঝায়। অর্থাৎ যে বিল প্রবাহমান। বিল সাধারণত বদ্ধ থাকে; তবে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল চলনবিলের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হত। এ বিলের চলমান পানির অংশের পরিধি ছোট  হতে হতে এখন এটা বদ্ধ বিলে পরিণত হয়েছে। এতে বদলে গেছে চলনবিল; দিনের পর দিন এর পরিধি আরো  ছোট হয়ে পড়ছে । রাজশাহী বিভাগের চারটি জেলাআটটি উপজেলা৬০টি ইউনিয়ন, ১৬০০ গ্রাম এবং ১৪টি নদী নিয়ে এর বিস্তৃতি।

১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় এর আসল আয়তন ১০৮৮ বর্গ কিমি শুকিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৬৮ বর্গ কিমি-তে। বাকি অংশ হয় বসতি স্থাপনের কারণে অথবা কৃষিকাজের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। কিন্তু এই অবস্থাতেও প্রায় ৮৬ বর্গ কিমি এলাকা বছরের সবসময় জলমগ্ন থাকে। জরিপে আরও দেখা গেছে যে, পানি সরবরাহকারী নদী দ্বারা বৎসরে প্রায় ৬.৩ মিলিয়ন ঘনফুট পলি জমা হয়, আর ১.৫ মিলিয়ন ঘনফুট পলি বিভিন্ন নদী বা ক্যানেল দিয়ে বের হয়ে যায়। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ঘনফুট পলি জমা হয় এই বিলে। এই পলি যদি ৩৬৮ বর্গ কিমি এলাকায় সমভাবে বিস্তৃত করে দেয়া হয় তাহলে প্রতি বৎসর এর উচ্চতা প্রায় ১.২৭ সেমি করে বৃদ্ধি পায়। বিলের শুষ্ক মৌসুমের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে আরেকটি জরিপ পরিচালিত হয় এবং সেখানেও দেখা যায় যে, বিলের আয়তন হ্রাস পাচ্ছে।

১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের পরিচালিত ৩য় জরিপে দেখা যায় যে ৩১ থেকে ৩৯ বর্গ কিমি এলাকা বছরের সবসময় পানির নিচে থাকে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসের দিকে বিলের মূল এলাকায় পানির গভীরতা মাপা হয় ২.৭৫ থেকে ৫.৪৯ মিটার। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে দেখা যায় শুষ্ক মৌসুমে শুধুমাত্র কিছু পুকুর আর খাল ছাড়া বাকি অংশ প্রায় পুরাটাই শুকিয়ে যায়।

উইকিপিডিয়া ও বাংলা পিডিয়ায় এর আয়তন দেখানো হয়েছে ৩৬৮ বর্গ কিলোমিটার। পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, নাটোরের বড়াইগ্রাম, সিংড়া, গুরুদাসপুর এবং নওগাঁ জেলার আত্রাই রানীনগর চলনবিলের অন্তর্ভূক্ত।

১৯১৪ সালে ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেলপথ স্থাপন হওয়ার পরে চলনবিল বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ রেল লাইনের উত্তর ও পশ্চিম অংশকে চলনবিল বলা হয়।২০০১ সালে চলনবিলের বুক চিরে দীর্ঘ ৫৫ কিলোমিটার হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়ক নির্মিত হয় যা চলন বিলকে আবার উত্তর এবং দক্ষিন দুই ভাগে বিভক্তি করেছে। চলনবিল এলাকায় জমির পরিমাণ রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮শ’ ৭ হেক্টর। সমগ্র চলনবিল বিষুবরেখার ২৪ ডিগ্রী ৭মিনিট থেকে ২৪ ডিগ্রী ৩৫ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯ ডিগ্রী ১০ মিনিট থেকে ৮৯ ডিগ্রী ৩৫ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।

চলনবিল এলাকায় রয়েছে ২২ টির মত নদী। নদীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আত্রাই, গুমানী, বড়াল, নন্দকুজা,  গোহালা, বারনই, নাগর, করতোয়া ভদ্রাবতী, বানগঙ্গা, নারদ, চিকনাই, কাটাগাং। আত্রাই নদী আত্রাইয়ে দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে আত্রাই ও গুড় নাম ধারণ করে প্রবাহিত হয়ে সিংড়ায় আবার মিলিত হয়েছে। নদীটি গুরুদাসপুরে নন্দকুজার সাথে মিলিত হয়ে গুমানী নাম ধারণ করেছে। নদীগুলো বছরের প্রায় ৭ মাস সচল থাকে। বাকি ৫ মাস থাকে পানিশূন্য। আত্রাই নদী শুষ্ক মৌসুমে প্রায় শুকিয়ে যায়, বড়াল নদী মৃতাবস্থায় এখনো তার অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে কালের স্বাক্ষী হিসেবে। গুমানী বড়ালের সাথে মিশে যমুনায় পড়েছে। বানগঙ্গা, করতোয়ার অস্তিত্বও বিলীনের পথে।

চলন বিলের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পাবনা জেলার অস্টমনিষায় গুমনি এবং বড়াল নদী মিশেছে। পাবনার তারাশ উপজলার একটা বড় অংশও চলনবিলের মধ্যে পড়েছে। প্রস্থে চলনবিল প্রায় ১৩ কিঃ মিঃ, তারাশ থেকে নারায়ণপুর পর্যন্ত, আর দৈর্ঘ্যে সিংড়া থেকে কাছিকাটা পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিঃ মিঃ।

চিকনাই নদীতে বর্ষাকালে কিছু পানি থাকলেও বছরের বেশিরভাগ সময়ই থাকে পানিশুন্য। চাটমোহরের নিমাইচড়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে কাটাগাং এবং করতোয়ার একটি ক্ষীণ ধারা রয়েছে, যা বছরের অধিকাংশ সময় পানিশূন্য অবস্থায় থাকে। রাজশাহীর চারঘাট থেকে ৪৬ কিঃমিঃ ভাটিতে এসে বাগাতিপাড়ার আটঘরিতে বড়াল নদী দুই ভাগ হয়ে যায়। একভাগ বড়াল নামে আরেক ভাগ নন্দকুজা নামে ভাটিতে চলে আসে। নন্দকুজা নাটোরের গুরুদাসপুরে এসে আত্রাই নদীর সাথে মিশে গুমানী নাম ধারণ করে পাবনার ছাইকোলা হয়ে চাটমোহরে প্রবেশ করে।

চরসেন গ্রামের ভাটিতে ত্রিমোহনীতে আবার দুই ভাগ হয়ে একভাগ ত্রিমোহনীর ২ কিঃমিঃ ভাটিতে এসে নূর-নগর নামক স্থানে বড়ালের সাথে মিশে বড়াল নামে চলে যায় বাঘাবাড়ি পর্যন্ত। বাঘাবাড়ির ভাটিতে করতোয়া ও বড়াল এক হয়ে হুরাসাগর নাম ধারণ করে যমুনায় মিশেছে। ত্রিমোহনী থেকে অপর ভাগ গুমানী নামেই প্রবাহিত হয়ে ফরিদপুরের সোনাহারা এলাকায় বড়ালের সাথে মিশে যায়। গুরুদাসপুর থেকে সোনাহারা পর্যন্ত গুমানী নদীর দৈর্ঘ প্রায় ৪০ কিঃমিঃ ।

ধারনা করা হয় ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলন বিলের সৃষ্টি।করতোয়া ও  আত্রাই নদীর পরিত্যক্ত গতিপথ এর মাধ্যমে একটি বিস্তৃত হ্রদে পরিণত হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি সম্ভবত এটি ছিল একটি পশ্চাৎজলাভূমি । চলন বিলের গঠন ঐতিহাসিকভাবেই আত্রাই ও বড়াল নদীর সংকোচনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আত্রাই নদী ছিল চলন বিলের প্রধান  পানি সরবরাহকারী নদী যা বৃহত্তর রাজশাহী জেলার উত্তরাংশ ও দিনাজপুর এলাকার জল নিষ্কাশন করত। বড়াল চলন বিল থেকে জল নির্গম পথ হিসেবে কাজ করে এবং বিলের পানি বয়ে নিয়ে যমুনা নদীতে ফেলে।  ধারণ করা হয় উৎপত্তির সময় চলনবিলের আয়তন ছিল প্রায় ১০৮৮ বর্গ কিমি।

চলন বিলের দক্ষিণ প্রান্ত ঘেঁষে থাকা গুমনী নদী যা বিলটির পানি বয়ে নিয়ে প্রথমে বড় বিলে ফেলে এবং শেষ অবধি যমুনা নদীতে ফেলে । যমুনা নদী যখন বন্যায় প্লাবিত হয়ে যায় তখন পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে বড়াল কিছুটা পানি ধারন করে সে ক্ষেত্রে বিলের পানিও বৃদ্ধি পায়। যমুনা থেকে যতক্ষন পর্যন্ত না পানি নেমে যায় ততক্ষন বিলের পানিও কমে না।

শুষ্ক মৌসুমে বিলের বেশিরভাগ অংশ শুকিয়ে ২৫.৯ থেকে ৩১.০৮ বর্গ কিমি আয়তনের এক জলাশয়ে পরিণত হয়, একে চাইলে  বিলের ‘মূল অংশ’  হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে । এ মূল অংশ অবশ্য অব্যাহত পানি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত, বরং কিছুসংখ্যক অগভীর জলাশয়ের সমন্বয়ে গঠিত যা অাঁকাবাঁকা কিছু খাল দ্বারা পরস্পরের সাথে সংযুক্ত।

মূল অংশকে ঘিরে দুটি এককেন্দ্রিক অসম ডিম্বাকার এলাকা আছে যেখানে আঞ্চলিকভাবে ‘ভাসমান ধান’ নামে পরিচিত সরু চালের  ধান উৎপন্ন হয়। প্রথম বৃত্তটি, যা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সঙ্কীর্ণ, বর্ষা মৌসুমে ১.৫৩ থেকে ১.৮৩ মিটার গভীর পানিতে পূর্ণ থাকে। চলন বিলের পশ্চিম দিককে ‘বহিঃবৃত্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় যেখানে বর্ষা মৌসুমে পানি বিলের অন্যান্য অংশ থেকে অনেক কম থাকে। তবে এ দুইটি বৃত্তই ডিসেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত পুরোপুরি শুকনা থাকে।

চলন বিল গঠনকারী ছোট ছোট বিলগুলি পশ্চিম থেকে পূর্বে যথাক্রমে: ১) পূর্ব মধ্যনগর, ২) পিপরুল, ৩) ডাঙাপাড়া, ৪) লারোর, ৫) তাজপুর, ৬) নিয়ালা, ৭) চলন, ৮) মাঝগাঁও, ৯) ব্রিয়াশো, ১০) চোনমোহন, ১১) শাতাইল, ১২) খরদহ, ১৩) দারিকুশি, ১৪) কাজীপাড়া, ১৫) গজনা, ১৬) বড়বিল, ১৭) সোনাপাতিলা, ১৮) ঘুঘুদহ, ১৯) কুরলিয়া, ২০) চিরল, ২১) দিক্ষিবিল এবং ২২) গুরকা। বড় আকারের বিলগুলির বেশিরভাগই পাবনা জেলায় অবস্থিত, যেমন- গজনা বিল, বড়বিল, সোনাপাতিলা বিল, ঘুঘুদহ, চিরল বিল এবং গুরকা বিল।

গজনা বিল দুলাই-এর দক্ষিণে ১২৩ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে অবস্থিত। বড়বিলের আয়তন ৩১ বর্গ কিমি। প্রায় ৩৫ বর্গ কিমি আয়তনের সোনাপাতিলা বিল পাবনা জেলার উত্তরাংশ জুড়ে অবস্থিত। চাটমোহর উপজেলায় কুরলিয়া ও দিক্ষিবিল দুটি যথাক্রমে ১৮ ও ১৫ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে অবস্থিত। চিরল ও গুরকা বিল- উভয়েরই আয়তন ৮ বর্গ কিমি এবং ঘুঘুদহ ৪ বর্গ কিমি।

কোন সময় চলন বিলের জন্ম হয় এবং কে এর নাম রেখেছে তার সঠিক হদিস পাওয়া যায় না। দুই হাজার বছর আগে চলন বিল নামে কোন ভুভাগ ছিল না তবে দুই হাজার বছর আগেও চলনবিলে জলময় কোন উঁচু ভূ-ভাগ ছিল না। তখন চলনবিল মুলতঃ সমুদ্রেরই অংশ ছিল। কিছুকাল পর সমুদ্র চলনবিলকে জন্ম দিয়ে দক্ষিনে অনেক দুর সরে পরে।


চলনবিলের জলরাশি অন্যান্য বদ্ধ বিলের ন্যায় স্থির না হয়ে নদীর স্রোতের ন্যায় চলন্ত বলে বা গতিশীল বলে এর নাম হয় ‘চলনবিল’।
খৃষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে দরন্ত শিশু চলনবিল হামাগুড়ি দিয়ে চলতে শিখে। এই সময় চলনবিলের কোন কোন এলাকা পলি পরে জেগে উঠে সেখানে কিছু কিছু মানুষ বসতি শুরু করে। ৪র্থ ও ৫ম শতাব্দীতে গুপ্ত রাজাদের রাজত্বকালের নিদর্শন কিছুকাল পর্বে চলনবিল এলাকায় পাওয়া গেছে। বড়াইগ্রাম থানার ধানাইদহ গ্রামে ৪৩২ খৃষ্টাব্দের কুমার গুপ্ত প্রদত্ত তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হয়েছে। ইহা হতে বোঝা যায় চলনবিলের দক্ষিনাংশ বড়াইগ্রাম ও চাটমোহর থানা অনেক আগেই বাসোপযোগী হয়েছিল। রায়গন্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া থানার উত্তরাংশেও সেন রাজত্বকালে অনেক গ্রাম প্রতিস্ঠিত হয়েছিল। তাড়াশ থানার মাধাই নগর গ্রামে সেন দেবের একটি তাম্রশাসন আবিষ্কৃত হয়। এই তাম্রশাসনের শেষাংশ ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় এটি কোন সময় সম্পাদিত হয় তা নির্ণয় করা যায় নাই ।
(গঙ্গার হতে ভাগীরথী প্রবাহিত তার নিম্নাংশের পর্বগামী শাখা পদ্মা এবং ব্রন্মপুত্রের দক্ষিন পশ্চমিগামী শাখা যমুনা নামে পরিচিত। সুদুর অতীতে চলনবিলের বুকে পদ্মা যমুনা মিলিত হত। ‘রাখাল দাস বন্দোপাধ্যায় লিখিত বাংলার ইতিহাস পৃষ্ঠা ৩২৭’)

চলনবিলের উত্তরাংশের এক বিরাট অংশ সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত যে পদ্মা ও যমুনার সঙ্গে মিশেছিল তা হিউয়েন সাঙের বিবরন হতে সহজেই অনুমান করা যায়।

বৌদ্ধযুগে বাংলাদেশ কামরুপ,পৌন্ড্রবর্দ্ধন , কর্ণ সুবর্ন, সমতট ও তাম্রলিপ্ত এই পাঁচটি ভাগে বিভক্ত ছিল।পৌন্ড্রবর্দ্ধন বিভাগ মালদ হতে মোমেনশাহী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।গুপ্তযুগে চলনবিল এলাকা গুপ্তরাজাদের অধীনে ছিল। খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে আদিশুরের রাজত্বকালে চলন বিল গৌড়রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই জন্য বিল এলাকার লোকজনকে এখনও ভড়িয়া এবং চড় এলাকার লোকজনকের চড়িয়া বলা হয়। পাল ও সেন রাজত্বকালে বঙ্গদেশ মিথিলা, রাঢ়, উপবঙ্গ, বঙ্গ ও বরেন্দ্র এই পাঁচটি ভাগে বিভক্ত ছিল। চলন বিল এলাকা বরেন্দ্র বিভাগের অন্তরগত ছিল।

রামপালের রাজত্বকালে কৈবর্তনায়ক ভিম চলনবিলের উত্তর সীমান্তে সিরাজগন্জ হতে বগুরা পর্যন্ত একটি মৃত্তিকা প্রাকার নির্মাণ করেন। এটি অদ্যবধি ভীমের জাঙ্গাল নামে পরিচিত। সেন রাজত্বকালের অনেক নিদর্শন যেমন – জয়সাগর, উদয়দীঘি, প্রতাপদীঘি প্রতাপদীঘি ভদ্রাবতী খাল প্রভৃতি এখনো চলনবিল এলাকায় বিদ্যমান আছে।

পাঠান ও মোঘল আমলে চলনবিল ভাতুরিয়া পরগনা ও সুবায়ে বাংলার অন্তরভুক্ত ছিল। মুর্শিদকুলি খাঁ ও সুজাউদ্দৌলার সময়ে বঙ্গে জমিদারি প্রথার প্রচলন হলে চলনবিল রাজশাহী জমিদারীর পরগনে ভাতুরিয়ার অন্তর্গত হয়েছিল। ইংরেজ শাসন-আমলে ও পাকিস্থানে চলনবিল রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত হয়। (  ‘চলনবিলের ইতি কথা’- এম এ হামিদ)

বিখ্যাত চায়নিজ পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ-এর বিবরণ থেকে জানা যায়,সপ্তম শতাব্দীতে চলনবিল অঞ্চল পদ্মা ও যমুনা নদী গর্ভে ছিল। কারণ তিনি তৎকালীন পুন্ড্রবর্ধন (বগুড়া মহাস্থানগড়) থেকে বিরাট নদী অতিক্রম করে আমামের কামরুপে (কামরুপ কামাক্ষা) পৌঁছে ছিলেন।

খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে টলেমির বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ্যা ম্যাপ অনুযায়ী উত্তরে মহাস্থানগড়,দক্ষিণ-পূর্বে বিক্রমপুর (ঢাকা) আর চট্রগ্রাম দেখা যায়। পদ্মা ও ব্রক্ষপুত্র নদীর মধ্যবর্তী কোন স্থান দেখা যায় না। এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় চলনবিল অঞ্চল তৎকালীন গঙ্গা  ব্রক্ষপুত্রের অংশ ছিল। ক্রমে পলি জমে এই বিশাল বিল এলাকা জেগে ওঠে। শুরু হয় নতুন নতুন গ্রাম ও জনপদের গড়ে ওঠা।

চলন বিলের জীব বৈচিত্র

পানি সরবরাহকারী নদী দ্বারা বৎসরে প্রায় ৬.৩ মিলিয়ন ঘনফুট পলি জমা হয়, আর ১.৫ মিলিয়ন ঘনফুট পলি বিভিন্ন নদী বা ক্যানেল দিয়ে বের হয়ে যায়। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ঘনফুট পলি জমা হয় এই বিলে। এই পলি যদি ৩৬৮ বর্গ কিমি এলাকায় সমভাবে বিস্তৃত করে দেয়া হয় তাহলে প্রতি বৎসর এর উচ্চতা প্রায় ১.২৭ সেমি করে বৃদ্ধি পায়। এ কারনে প্রাকৃতিকভাবেই চলনবিলের মাটি খুব উর্বর। ফলে চলনবিল অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়। সেই কারণেই চলনবিলকে উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার বলা হয় ।

বর্ষার পানি নেমে যাবার সাথে সাথে চলনবিলের নিম্নাঞ্চলে দুই লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ শুরু  হয়ে যায় । মাটির উর্বরা শক্তি ভাল থাকায়  একবিঘা জমি থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত ইরি ধান উৎপাদিত হয়। জলাবদ্ধতার কারণে অন্য কোন ফসল উৎপাদন করা না গেলেও অপেক্ষাকৃত উচু জমিতে প্রচুর পরিমাণে গম,সরিষা, তিল,রসুন, আদা, পেয়াজ,ভট্টাসহ নানাবিধ ফসল উৎপদিত হচ্ছে। কয়েক বছর যাবত গুরুদাসপুর,বড়াইগ্রাম ও চাটমোহরে (আংশিক) বিপুল পরিমাণ রসুন উৎপাদিত হচ্ছে।

দেশী প্রজাতি মাছের একটি প্রধান উৎস চলনবিল। চলনবিলে রয়েছে এক বিশাল মাছের ভান্ডার। চলনবিলের মাছের কদর দেশ জুড়ে রয়েছে। এ বিলে প্রায় ৮২ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।  চলনবিলের বিস্তীর্ণ হাওড়, খাল, বিল, নদীনালায় ইলিশ, কৈ, মাগুর, শিং, টাকি, বোয়াল,রিটা, গজার, নান্দিনা, শৌল, মধু পাপদা, রানী চিতল, বাইন, শোল, চিতল, ফলই, রুই, মৃগেল, চিংড়ি, টেংরা, মৌসি, কালিবাউশ, , চেলা, বাতাসী, বাঁশপাতা, ঘৈরা, ফাঁসী, মোয়া, মৌমি, রায়েক, এলং, ঘাইরা, চান্দা, নোদাই, দাঁইত পুটি, বৌ,সরপুটি, তিতপুটি,পুঁটি, গুজা,গাগর,বাঘাইর কাঁটা ইত্যাদি জাতের বিপুল পরিমাণ মাছ  চলন বিলে দেখা মিলে।

প্রতি বছর বর্ষার পর পর চলবিলের আশাপাশের শত শত মানুষ মাছ শিকারে নেমে পড়ে। তবে মুলত অপেক্ষাকৃত দরিদ্র  জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ মাছ মেরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে।  চলন বিলে প্রতি বছর যে পরিমান মাছ ধরা পরে তা দিয়ে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। মাছ ধরার মৌসমে তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটি বিশ্বরোডে প্রতিদিন মাছে হাট বসে। মধ্যরাত থেকে শুরু হয় এই মাছের হাট। সকাল সকাল ট্রাকে করে মাছ চলে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

একটি গভেষণায় দেখা গেছে বিগত কয়েক দশকে চলন বিলে মাছের উৎপাদন যেমন কমেছে তেমনি কমেছে মাছের জাত। ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে এক সমিক্ষায় দেখা গেছে চলন বিলে ৮১ প্রজাতির রেকর্ড করা হয়েছে যার মধ্যে ৭২ প্রজাতি দেশি ও ৯ প্রজাতি বিদেশী। যেখানে ১৯৮২ সালে ৭৫ প্রকারের দেশীয় মাছ ছিল।

চলন বিল নানা প্রজাতির পাখির কলকালতিতে মুখরিত থাকে। বালিহাঁস, তিরমূল, বাটুলে, মুরগীহাঁস, খয়রা, বোতক, নলকাক, ফেফী, ডাইক, চখা, বকধেনু, ইচাবক, করা, মানিক জোড়, ডুটরা, চা-পাখি, লোহাড়াং, মেমারু, কাছিচোরা, রাতচোরা, ভুবনচিল, মাছরাঙ্গা, কাউর,চাকলাসহ প্রভৃতি পাখির কলতানে এক সময় চলন বিল মুখরিত থাকত। ধীরে ধীতে পাখির সংখ্যা কমে আসতেছে। এক সময় নাকি মানুষ হাত দিয়েই পাখি ধরতে পারত। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নাকি শুধু পাখি শিকারের জন্য কয়েকবার এ বিলে এসেছেন।  শীতকালে নানা পরিযায়ী পাখিতে ভরে উঠে এই বিল।

চলন বিল ভ্রমণ

বর্ষায় নৌকা ভ্রমন সকলের কাছেই খুব প্রিয়। কিন্তু অনেকে নৌকা ভ্রমনের জন্য ভাল জায়গা খুঁজে পান না। তাই আপনারা যারা নৌকা ভ্রমনে আগ্রহী তাদের জন্য নাটোরের চলন বিল হতে পারে চমৎকার সৌন্দর্য মন্ডিত একটি ভ্রমন স্থান। চলুন জেনে নিই চলন বিলে নৌকা ভ্রমন নিয়ে কিছু মজার তথ্য।

চলন বিলের প্রধান আর্কষণ হল এই বিল ।এটি সচারচর বাংলাদেশের আর দশটি বিলের মত না । কারন বর্ষা মৌসুমে এই বিলে পানি স্রোতের ধারায় প্রবাহিত হয় । সচারচর বিলে স্রোত দেখা যায় না কিন্তু চলনবিলের নামকরনের সাথেই চলন কথাটার একটা সার্থকতা আছে । বর্ষা মৌসুমে বিলের উত্তর পশ্চিম দিক থেকে স্রোতের ধারায় পানি বিলের ভেতরে প্রবেশ করে এবং পূর্ব দক্ষিন দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বের হয়ে যায় । চলনবিলের পানির প্রধান উৎস আত্রাই নদী ।

ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন যমুনা সেতু পার হবার পর থেকে সিরাজগঞ্জ থেকে নাটোর যাবার সংযোগ সড়কে আপনি নিশ্চিত ভিন্ন ধরনের এক অনুভতি পাবেন । রাস্তার দুই পাশে নিরব পানির ঝলকানি তাকালে যেন চোখ জুরিয়ে যায় । যখন আপনি চলনবিলের মাঝদিয়ে ভ্রমন করবেন দেখবেন চলনবিলের মাঝে প্রতিটি গ্রামকে মনে হবে এক একটি করে দ্বীপ । বর্ষা মৌসুমে ওই গ্রামগুলাতে যাবার একমাত্র উপায় নৌকা ।

বর্ষা কিংবা শুস্ক মৌসূমে আপনি এলে নয়ানাভিরাম এ সড়ক চোখ জুড়াবে। এ সড়ক দিয়ে চলে নৌকা, চলে সব ধরনের গাড়ি। দুরদুরান্ত হতে ভ্রমনপিপাসুরা ছুটে আসছে এখানে। ঐখানেই রয়েছে চলনবিল পর্যটন পার্ক। সেখানে বেড়ানোর সুন্দর জায়গা রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন রাইড। চলনবিল পর্যটন পার্ক এর সবচেয়ে আকর্ষন ঝুলন্ত সড়ক। যেখানে দাড়িয়ে উপভোগ করতে পারবেন চলনবিলের চোখজুড়ানো দূশ্য। নৌকায় যেতে পারবেন ঐতিহাসিক তিশিখালী মাজার। এ মাজারের অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। বর্ষাকালে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে এসে মানত করেন। এছাড়া মাজার ঘুরতেও আসেন অনেকে। এর আশপাশে রয়েছে ডাহিয়া,সাতপুকুরিয়া,হিজলা গ্রাম। গ্রাম গুলো দেখতে ও সুন্দর লাগে দ্বীপের মত দাড়িয়ে থাকে ।

চলন বিল ঘুরে দেখার পরে দেখে নিতে পারেন চলনবিল জাদুঘরটিও। গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে এ জাদুঘর। স্থানীয় শিক্ষক আব্দুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এ সংগ্রশালা। চলনবিলে প্রাপ্ত নানান নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। নাটোর থেকে বাসে গুরুদাসপুর উপজেলায় এসে সেখান থেকে নদী পার হয়ে রিকশায় আসা যাবে খুবজিপুর গ্রামের এই জাদুঘরে।

বিলে ঘুরাফেরা শেষে বিল পাড়ের হোটেলে খেতে পারেন মাছ। এই বিলে পাওয়া যায় চিতল, কৈ, মাগুর, শিং, টাকি, বোয়াল, শোল, ফলই, রম্নই, মৃগেল, চিংড়ি, টেংরা, মৌসি, কালিবাউশ, রিটা, গজার, বৌ, সরপুটি, তিতপুটি, পুঁটি, গুজা, গাগর, বাঘাইর কাঁটা প্রভৃতি জাতের মাছ দিয়ে ভাত খেতে পারবেন।

 ভ্রমণের সতর্কতা ও কিছু পরামর্শ

–  ভ্রমণকালে অবশ্যই অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিন।

– বর্ষায় বজ্রপাত বেশি হয় তাই বজ্রপাতের সময় নৌকার ছৈয়ের নিচে অবস্থান করুন।

– খাবারের অতিরিক্ত অংশ/উচ্ছিষ্ট জৈবিক অংশ ইত্যাদি হাওরের পানিতে ফেলতে পারেন।

–  পলিথিন , প্লাস্টিক , চিপসের প্যাকেট এসব হাওরে ফেলবেন না।

– উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী মাইক বা যন্ত্র পরিহার করুন।

– মাছ, বন্যপ্রাণী কিংবা পাখি ধরা বা এদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে এমন কাজ থেকে বিরিত থাকুন।

–  শামুক, ঝিনুক বা অন্য কোন প্রকার জলজ বা স্থলজ প্রাণী/কীটপতঙ্গের ক্ষতিসাধন করা  থেকে সতর্ক থাকুন।

আপনি কিভাবে চলনবিলে আসবেন এবং চলনবিলে এলে দেখার মতই বা কি আছে ?

যেহেতু চলনবিল উত্তর বঙ্গের ৩টি জেলা নাটোর, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনা জেলার মধ্যে আবস্থিত সেইজন্য আপনি যদি সিলেট ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আসতে চান তাহলে আপনাকে আসতে হবে ঢাকা হয়ে, ঢাকা থেকে রাজশাহীর গাড়িতে সিরাজগঞ্জ আথবা নাটোরের কাছিকাটা তে নামবেন । কাছিকাটা দিয়ে যাবার ক্ষেত্রে কাছিকাটা থেকে ৮ কি.মি দুরে চাঁচকৈর বাজার । চাঁচকৈর বাজার থেকে ৫-৬ কি. মি. দুরে চলনবিলের প্রান্ত ঘেষে খুবজীপুর গ্রামে গড়ে উঠা চলনবিল জাদুঘর । আর চলনবিল জাদুঘরের পরেই পাবেন সেই কাংঙ্খিত চলনবিল ।

অথবা ঢাকা কিংবা দক্ষিনাঞ্চল হয়ে আসলে সরাসরি নাটোর নামবেন। নাটোর থেকে ১৮কিঃমিঃ অদূরে সিংড়া উপজেলা । সিংড়া বাসট্যান্ড থেকে কিছুদুর হেটেই বালুয়া বাসুয়া মোড় সেখান থেকে অটোরিকসা,ভ্যান,রিকসা যোগে যেতে পারবেন চলনবিলে । ভাড়া ১০ টাকা। নামবেন পেট্রেবাংলা পয়েন্টে। এখানে নেমে দেখতে পারবেন চলনবিলে বুক চিরে সাবমার্সিবুল সড়ক। ১৪ কিঃমিঃ এ সড়ক সরাসরি সিংড়া-তাড়াশ উপজেলার যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে । এ সড়ক দেখতে খুব সুন্দর।

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ আসা যায় সড়ক ও রেল পথে। ঢাকার মহাখালী থেকে সৌরভ পরিবহন,  এস আই এন্টারপ্রাইজ,  গাবতলী থেকে ইউনিক বাস যায় সিরাজগঞ্জ। ভাড়া ১৭০ টাকা। এছাড়্‌ চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে সিমান্ত সুপার সার্ভিস, দামপাড়া স্টেশন রোড থেকে ইউনিক সার্ভিস যায় সিরাজগঞ্জ। ভাড়া ৩৫০ টাকা।

ট্রেনে যেতে হলে কমলাপুর থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা ও লালমনি এক্সপ্রেস এ উঠতে হবে। ঢাকা থেকে ট্রেনে সদানন্দপুর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জ শহর। ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, পদ্মা ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো সদানন্দপুর স্টেশনে থামে। ভাড়া ১১০-১২৫ টাকা মাত্র।

চলনবিলে ঘুরে বেড়াতে পারেন নৌকায় করে। সাধারণ নৌকা আর ইঞ্জিন নৌকা দুই-ই পাবেন। দরদাম করে ভাড়া ঠিক করে নিতে হবে। সাঁতার না জানলে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নেবেন।

থাকার ব্যবস্থা

সিরাজগঞ্জ শহরে থাকার জন্য ভালো মানের হোটেলগুলো হলো- শহরের স্বাধীনতা স্কোয়ারে হোটেল আল হামরা, (০১৭৪৫৬২৯২৬৪, ০৭৫১-৬৪৪১১) এসি এক শয্যা কক্ষ ৫০০ টাকা, এসি দ্বি-শয্যা কক্ষ ৭০০ টাকা, নন-এসি এক শয্যা কক্ষ ৪৫০, নন-এসি দ্বি-শয্যা কক্ষ ২৫০ টাকা পর্যন্ত।
শেখ মুজিব রোড হোটেল অনিক (০১৭২১৭১৯২৩৫, ০৭৫১-৬২৪৪২) এসি এক শয্যা কক্ষ ৪৫০ টাকা, এসি দ্বি-শয্যা কক্ষ ৭০০ টাকা, নন-এসি এক শয্যা কক্ষ ১৫০, নন-এসি দ্বি-শয্যা কক্ষ ২৫০ টাকা মাত্র।

শেষ কথা

চলন বিল আমাদের জাতীয় সম্পদ । নানা কারনে এটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। সরকার নানা উদ্দ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করে বিল ও বিল এলাকার আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের  সরকারের নানা সীমবদ্ধতায় সেই উদ্দ্যোগগুলো আলোর মূখ দেখছে  না। বর্ষা মৌসুমে অনেক স্থানে তীব্র পানির স্রোতের কারণে অনেক বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ফসল ও সম্পদের ক্ষতি হয়।

তথ্য সূত্রঃ chatmohar.pabna.gov.bd, উইকি, নানা ওয়েব পোর্টাল

 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক