চোখের নীচে কালো দাগ নিয়ে চিন্তিত? খুব সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার উপায়

চোখের সৌন্দর্য  মানুষের সৌন্দর্যের উপর বিরাট একটা প্রভাব ফেলে। মানুষ যখন সৌন্দর্যের বর্ণনা করে তখন চোখের সৌন্দর্যই সবার আগে আসে। মানুষের চেহারার সবচেয়ে সুন্দর একটি অঙ্গ চোখ। এটি খুব বেশি স্পর্শকাতর। কোন কারনে যদি সেই সুন্দর চোখের নীচে কালো দাগ পড়ে তখন সৌন্দর্যে খুঁত পড়ে। 

অনেক সময় চোখের নিচের অংশে বা উপরের পাতাসহ চোখের নিচের পাতায় কালো দাগ দেখা যায়। এই দাগ মুখের অন্যান্য অংশের রঙের চেয়ে গাঢ়। হঠাৎ করে দেখলে মনে হয় শেড বা ছায়া পড়েছে। একে আইব্যাগও (Eyebags) বলে।

চোখের নিচের কালচে ভাব নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে থাকেন। অর্থাৎ চোখের নিচের কালো কালি অনেকেরই দুশ্চিন্তার কারণ।  বরং উল্টোভাবেও বলা যায়,  দুশ্চিন্তার কারণেও কালি পড়ে চোখের নিচে।

 প্রখর রোদে সানগ্লাস ছাড়া বাইরে ঘোরাঘুরি করা, অ ইত্যাদি 

চোখের নীচে কালো দাগ কেন পড়ে ? 

প্রায় মানুষেরই চোখের নিচে কালো দাগ পরে। অনেক কারনে চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে। মহিলা এবং পুরুষ উভয়েরই এই দাগ হতে পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রে কিশোর বয়সেও হয়ে থাকে। এতে সুন্দর চেহারা ঢাকা পরে যায়। চোখের নিচে কালো দাগ একটি সাধারণ সমস্যা।

আমাদের চোখের নিচের ত্বক অনেক বেশি স্পর্শকাতর এবং এর নিচে অনেক ছোট ছোট রক্তনালী বয়ে গেছে যারা আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে এবং চোখের নিচের ত্বক কালো হতে থাকে। চোখের নিচের অংশে ফ্লুইড জমা হতে থাকার কারণে চোখের নিচটা ফুলে যেতে থাকে এবং চোখের নিচে কালি পড়ে। 

নানা কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো - ঘুম কম হওয়া বা রাত জেগে থাকা, , খাবারে অনিহা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, , কাজের বাড়তি চাপ নেওয়া, অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান,  বার্ধক্যজনিত কারণ, অনেক সময় সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মির ইত্যাদি কারনে চোখের নিচে কালি পড়ে বা কালো দাগ হয়। 

১. ঘুমের অসুবিধা

স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষের উচিত দৈনিক কমপক্ষে আট ঘন্টা ঘুমানো। কেউ যদি  দৈনিক পরিমিত পরিমাণ না ঘুমায় , তাহলে তার চোখের নিচে কালি পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আট ঘন্টা সম্ভব না হলে অন্ত ছয় ঘন্টা ঘুমানো উচিত।

কম ঘুমালে রক্ত সঞ্চালন ধীরগতির হয়।  এতে ত্বকের রক্তনালীগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যা ত্বক নিলচে বা কালচে করতে সাহায্য করে। যা, চোখের নিচে কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল তৈরির একটি কারণ। এটি কেবল চোখের নিচে কালো দাগ তৈরি করে না, ত্বকের আরো সমস্যা  করতে পারে। 

২. চোখের মেকআপ

আমাদের দেশের মেয়েদের একটি সাধারণ অনুষঙ্গ হল মেকাপ। ঘর থেকে বের হলেই অনেক মেয়ে মেকাআপ করতে পছন্দ করে। এটি আরেকটি বিষয় চোখে ডার্ক সার্কেল তৈরি করার। চোখের মেকআপ ঠিকমতো না পরিষ্কার করলে কালো দাগ পড়তে পারে। তাই মেকআপ করার পর ঠিকমতো চোখ পরিষ্কার করতে হবে। 

৩. পানিশূন্যতা

শরীর থেকে অনেক বেশি মাত্রায় পানি বেরিয়ে গেলে ত্বক শুষ্ক এবং শরীর দূর্বল হয়ে যায়।  বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, পানিস্বল্পতা ও চোখের নিচে কালো দাগের যোগ রয়েছে। ফলে পানি শুন্যতা থেকে চোখের নীচে কালো দাগ পড়তে পারে।  এখন গরম পরে গেছে, শরীর থেকে তাই ঘামও বের হয় প্রচুর।  তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।

৪. মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

চোখের নিচে কালি পড়ার খুব প্রচলিত একটি কারণ হলো কোন কারণে খুব বেশি চাপে থাকা বা কোন ব্যাপার নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা।

৫. খুব বেশি চোখ ঘষা

এটি আরেকটি প্রচলিত অভ্যাস চোখের নিচে কালো দাগ পড়ার। কারণ, এই অভ্যাস ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই আছেন কারনে অকারনে চোখ ঘষতে থাকেন।  চোখ ঘষার কারণে ত্বকে প্রদাহ হয়ে কালো দাগ তৈরি হতে পারে। 

৬ . বার্ধক্য জনিত কারন

সূর্যের আলো চোখের চারপাশে বয়সের দাগ ফেলে এবং ত্বক পাতলা করে ফেলে যার কারনে চোখের চারপাশে কালো দাগ পড়তে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় হতে পারে চোখের নিচের ত্বকের রং। পাতলা ত্বকের নিচে রক্তের কৈশিক জালিকার কারনে একটা কালো ভাব চলে আসে আবার পুষ্টিহীনতা বা বার্ধক্যের কারনে চোখ গর্তের ভেতর ঢুকে গেলেও মনে হয় কালো দাগ পড়েছে চোখের নিচে।

৭ . গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া

চোখের চারপাশের ত্বক একটু স্পর্শকাতর ও পাতলা। গরম পানি দিয়ে চোখ ধোয়া পিগমেন্টেশন তৈরি করতে পারে। এতে চোখের নিচে কালো দাগ হয়।

৮. বংশগত কারনে

বংশগত কারনে চোখের নিচে এই কালো দাগ হতে পারে। অনেক পরিবারে দেখা যায় বংশ পরম্পরায় এরকম চোখে কালো দাগ হয়ে আসছে। বিশেষ করে যাদের গায়ের রং ফর্সা এবং চোখ কোটরে বসা  তাদের ক্ষেত্রে রকম হবার সম্ভাবনা বেশি। 

৯. এলার্জি জনিত কারনে

অনেক সময় এলার্জির কারনে  চোখের নিচে  কালো দাগ পড়তে পারে । এলার্জি যেমন ধূলাবালি, ফুলের রেনু, পোষা প্রাণীর লোম ইত্যাদির কারনে চোখ চুলকায় তখন চোখ ঘষলে চোখের নিচে এ ধরনের কালো দাগ পড়তে পারে। আবার এলার্জি জনিত জ্বর এবং ফুড এলার্জির কারনেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

১০.  অতিরিক্ত ওজন কমে গেলে

অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়ার কারনেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুষম খাদ্যের অভাবে এবং অতিরিক্ত ডায়েটিংও একটি কারন।

চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়

প্রায় মানুষেরই চোখের নিচে কালো দাগ পরে। এতে সুন্দর চেহারা ঢাকা পরে যায়। চোখের নিচে কালো দাগ একটি সাধারণ সমস্যা। 

চোখের নিচে দাগ বা আন্ডার আই ডার্ল সার্কেল আজকাল তরুণ-তরুণী এমনকি অনেক মধ্যবয়স্ক নারী-পুরুষের মুখের সৌন্দর্যের ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। পুরো মুখটি অসম্ভব সুন্দর অথচ চোখের নীচে কালোদাগ অনেকেই এটা মানতে পারেন না। চোখের নিচের কালচে ভাব নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে থাকেন।

আর চোখের নিচের এই কালো ভাব দূর করতে মেকআপের সময় কনসিলার ও ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হয়। সত্যি বলতে কি, এই ডার্ক সার্কেল কোন বিউটি ক্রিম দ্বারা দূর করা সম্ভব নয়। এর চাইতে বরং প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনেক বেশি সহজ ও কার্যকরী সহজ উপায়ে আপনি আপনার চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে পারেন। আর তা করতে পারেন আপনার হাতের কাছে যা আছে তাই দিয়ে। চলুন তাহলে সে সব পদ্ধতিগুলো দেখে নেওয়া যাক। 

নারকেল তেল

নারকেল তেলের ম্যাসেজ চোখের নিচের কালি দূর করার একটি সহজ  ঘরোয়া উপায়। কালো দাগ দূর করতে প্রতিদিন ২-৩ বার নারকেল তেল চোখের নিচের নরম চামড়ায় হালকা করে ম্যাসেজ করতে হবে। ২-৩ ঘন্টা রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নারকেল তেল ত্বকে নমনীয়তা দান করে চোখের নিচের কালী দূর করার সাথে সাথে এটি চোখের নিচের নরম চামড়া কুচকে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে। খেয়াল রাখবেন যেন এরপর রোদে না বেড়তে হয়। তবে বেড়াতে হলে ছাতা বা অন্য কোন প্রতিরোধ্মূলক ব্যবস্থা যাতে গ্রহণ করা হয়। 

টি ব্যাগ ব্যবহার

 টি ব্যাগ একবার ব্যবহার করার পরে আমরা এটি ফেলে দেই। তাইলে কিন্ত পুনরায় ব্যবহার করা যায়। ব্যাগ নিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর টি ব্যাগ দুটি আলতো চিপে নিয়ে চোখের ওপর মাত্র ১০ মিনিট রাখুন। এবার বিছানায় শুয়ে এবার টি-ব্যাগ টি চোখের উপর কয়েক মিনিট রাখুন। ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন।

প্রথম ব্যবহারেই বিস্ময়কর ফল পাবেন। চায়ের ক্যাফেইন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চোখের নিচের ক্ষতিগ্রস্থ চামড়া ঠিক করতে দাগ দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে কালো দাগের নাম নিশানাও থাকবে না।

চায়ের ট্যানিন চোখের পাতার ফোলা এবং দাগ দূর করতে কার্যকর। টি-ব্যাগ সারারাত ফ্রিজে রেখে সকালে ব্যবহার করলে ভাল কাজে দেবে। এক্ষেত্রে হারবাল টি-ব্যাগ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ হারবাল টি-ব্যাগ তেমন কার্যকর নয়।

তবে  টি ব্যাগের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। যাদের এলার্জি আছে তাদের ক্ষেত্রে কেমোমাইল পূর্ণ টি ব্যাগ ব্যবহারের কারনে চোখে এলার্জি দেখা দিতে পারে বা চোখ ফুলে যেতে পারে।

আলু

একটি আলুকে বেন্ডারে বেল্ড  করে রস বের করে নিন।  ফ্রিজে রেখে দিন কিছুক্ষণ। ঠান্ডা হয়ে গেলে ওই রসে তুলো ভিজিয়ে চোখ বন্ধ করে চোখের ওপর ১৫-২০ মিনিট  রেখে দিন । এর পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  খেয়াল রাখবেন চোখের তলার কালো অংশ যেন ওই তুলোর নিচে থাকে। প্রতিদিন দুই বার করে এই পদ্ধতিতে আপনি খুব সহজেই চোখের নিচের কালি দূর করতে পারবেন।

আবার চাইলে আপনি কাঁচা আলু ঠাণ্ডা করে ব্লেন্ডারে পিষে পেস্ট তৈরি  নিতে পারেন। খোসাসহ আলু বেঁটে চোখের নিচে লাগাতে হবে।  সেই পেস্ট দাগের উপর মেখে ১০-১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আলু পেস্ট করতে ঝামেলা মনে হলে শসার মত স্লাইস করেও ব্যবহার করতে পারেন।  এটি আপনি সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।

লেবুর রস

লেবুতে বিদ্যমান থাকা ভিটামিন সি চোখের নীচের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। লেবুর রসে তুলা ভিজিয়ে নিয়ে চোখ বন্ধ করে চোখের ওপর ১০-১৫ মিনিট দিয়ে রাখুন। এ সময় লক্ষ্য করুন কালো অংশেও লেবুর রস  পৌঁছায় কিনা । এর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া লেবুর রসের সাথে বেসন, হলুদ বাটা ও টমেটোর রস  মিশিয়ে চোখের নিচের কালো দাগে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতেও আশানুরুপ ফল পাবেন বলে আশা করা যায়। 

শসা

বাংলাদেশী মেয়েদের রুপ চর্চায় শসা একটি খুব পরিচিত উপাদান। এই শসা দিয়ে খুব সহজেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে চোখের কালো দাগ দূর করা যায়। 

সজীব শসা স্লাইস করে কেটে আধ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করুন। দশ মিনিট চোখের উপর রেখে পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে অন্তত দুবার, এক টানা সাত দিন। আবার শসা আর লেবুর রস সমান পরিমান মিশিয়ে মাখতে পারেন ত্বকে। দিনে একবার করে সাত দিন মাখুন। স্বাভাবিক রং ফিরে আসবে।

আলু ও শসার মিশ্রন

কয়েক টুকরা শসা এবং আলু নিন। ঠাণ্ডা পানিতে এগুলো ব্লেন্ড করে এমনভাবে পেস্ট করে নিন যাতে একটি তরল মিশ্রণ তৈরি হয়। কিছু তুলা এই মিশ্রণে ভিজিয়ে নিন এবং চোখের নিচে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এতে আপনার চোখের নিচের কালো দাগ কমে যাবে।

অন্যভাবে,  শশা এবং আলু স্লাইস করে কেটে নিন। প্রথমে চোখ বন্ধ করে উপরে দুই টুকরো শশা লাগান। এভাবে ২০ মিনিট রাখুন। এবার একইভাবে আলুর স্লাইস চোখের উপর লাগান। অথবা শশা এবং আলু ব্লেন্ড করে নিন। দু’টুকরো তুলা নিন। এবার ব্লেন্ড করা রস তুলাতে নিয়ে চোখে লাগাতে পারেন। এভাবে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন এটা করুন। খুব দ্রুতই আপনি এর ফলাফল দেখতে পারবেন। 

আমলকীর তেল

আমলকী আমাদের পরিচিত একটি ফল।  চোখের নিচে যেখানে কালি পড়েছে, সেখানে আমলকী তেল লাগিয়ে ঘুমাতে যেতে পারেন। তাহলে চোখের নিচের কালি কমে যাবে বলে আশা করা যায়। 

আলমন্দ অয়েল

চোখের নিচে কালি দূর করার অপর একটি কার্যকরী ঘরোয়া উপাদান হলো আলমন্দ অয়েল।  স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য আমন্ড ওয়েলের খ্যাতি আছে। এতে বিদ্যমান উপাদান ত্বক বিশেষ করে চোখের নিচের স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য উপকারী। রাতে শুতে যাবার আগে অল্প পরিমানে আলমন্দ অয়েল চোখের নিচের অংশটিতে হালকা করে ম্যাসেজ করে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। কালো দাগ বিদায় হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ব্যবহার করুন ভালো ফল পাবেন বলে আশা করা যায়।

নারিকেল তেল

চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর করতে একটি ছোট কন্টেইনারে নারিকেল তেল নিয়ে তাতে ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিয়ে ফ্রীজে রেখে দিয়ে জমিয়ে প্রতিদিন রাতে শোবার আগে চোখের নীচে লাগালে দাগ দূর হয়ে যায়।

পুদিনা

পুদিনা পাতার রস চোখর কালা দাগ দূর করতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতার রস তুলাতে করে চোখের যে অংশে কালো দাগ আছে সেখানে লাগান। সাবধান থাকবেন যেন কোনভাবেই এই রস চোখের ভেতরে প্রবেশ না করে। পুদিনার রস আর্য়ুবেদিক ওষুধের কাজ করে। এই রস ঠাণ্ডা হওয়ায় আপনার চোখকেও ঠাণ্ডা রাখবে বেশ সময় নিয়ে। দেখবেন চোখে অনেক প্রশান্তি লাগবে।

টমেটো

টমেটো চোখের নীচের কালো দাগ দূর করতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এর সাথে সাথে আপনার ত্বককে করবে কোমল লাবন্যময়। ১ চা চামচ টমেটোর রস, ১ চাচামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি চোখের নিচে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে ২ বার করা চেষ্টা করুন।

টমেটোর রস , লেবুর রস আর সাথে পুদিনা পাতা যোগ করে তৈরি করে নিতে পারেন দারুন একটি হেলথ ড্রিংক। এটি আপনার চোখের নীচের কালি ভিতর থেকে দূর করতে সাহায্য করবে।

গোলাপ জল

চোখের নিচের স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য গোলাপ জল অত্যন্ত উপকারী। প্রাকৃতিক ভাবেই গোলাপ জল স্কিন টোনার হিসেবে কাজ করে। ছোট্ট পরিস্কার কাপড়ের টুকরা বা আই প্যাড বা তুলো কয়েক মিনিট গোলাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন । প্রতিদিন এর ব্যবহার আপনার এই সমস্যাটি সমাধানে কার্যকরী।  কাপড়ের টুকরা বা আই প্যাড বা তুলো গোলাপ জলে ভিজিয়ে চোখ বন্ধ করে চোখের ওপর দিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এটি আমাদের চোখের তলার কালী দূর করে ওই অংশটিকে নমনীয়ও মসৃন রাখে। কালো দাগ দূর হবার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। 

ঠান্ডা দুধ

দুধ গ্রাম- বাংলার একটি ঐতিহাসিক খাদ্য উপাদান। খাবার ছাড়াও এটি নানা প্রসাধনী কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। চোখের নীচে কালো দাগ পড়লে  প্রতিদিন ঠাণ্ডা দুধ ব্যবহারে চোখের নীচের কালো দাগ দূর  হয়ে যায়। তুলা  ঠাণ্ডা দুধে ভিজিয়ে নিন। ভেজা তুলা চোখে ওপর রেখে দিন । ১০/১৫ মিনিট পর তুলা সরিয়ে নিন। এবার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন করাতে আপানার চোখের নীচের কালির দাগ করবে।

মুলতানি মাটি, নারকেল, শসার আই প্যাক

৩-৪ চামচ মুলতানি মাটি, ১ চামচ ফ্রেশ ব্লেন্ড করা নারকেল, লেবুর রস, দু চামচ ব্লেন্ড করা শসা ও দুধ মিশিয়ে একটি পেস্ট   বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি কিছুক্ষণের জন্য ফ্রিজে রেখে দিতে হবে । এবার, ফ্রিজ থেকে বের করে চোখের নীচের কালো অংশে পেস্টটি লাগিয়ে নিন। একটু খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার চোখে মিশ্রণটি না পৌঁছয়। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা  পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আস্তে ধীরে আপনার চোখের কালো দাগে কমে আসছে। 

মধু

দুই ফোঁটা মধু নিয়ে চোখের চারপাশে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করে লাগান। কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা চোখের চারপাশের চামড়ার রোদেপোড়া ভাব দূর করতে সাহায্য করবে।

ময়দা এবং অলিভ ওয়েল

দুই চা চামচ ময়দায় আধা চা চামচ অলিভ ওয়েল দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ‍এবার চোখের নীচে এই পেস্ট লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর গোলাপ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাত্র তিন বার প্রতিটি পেস্ট  ব্যবহারের পরেই আপনার চোখের চার পাশের কালো দাগ ‍হালকা হতে শুরু করবে। আর নিয়মিত ব্যবহারে এই কালো দাগ ত্বক থেকে চিরতরে মুছে যাবে।

কমলার রস

কমলার রস চোখের কালি দূর করার অন্যতম একটি উপায়। কমলার রসের সাথে দুই-এক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে চোখের নিচে লাগান। এটা কালো দাগ দূর করার পাশাপাশি চোখকে আরো উজ্জ্বল করে তোলে।

হলুদ ও আনারসের রস

হলুদে রয়েছে আন্টি-অক্সিডেন্ট ও আন্টি-ইনফ্লামেটারি উপাদান। এ উপাদানগুলো চোখের তলার কালি দূর করার সাথে সাথে ত্বক নরম ও মসৃন করে তোলে। ২ চামচ কাচা হলুদ বাটা ও আনারসের রস মিশিয়ে একটি মসৃন পেস্ট মত বানিয়ে নিন। কালো হয়ে যাওয়া অংশটিতে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে একটি নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। ব্যাস, দেখবেন কয়েক দিন পরেই চোখের নীচের কালো দাগ কমতে শুরু করছে। 

চোখের কালো দাগ প্রতিরোধ

চোখের কালো দাগ একটি অস্বস্তিকর সমস্যা । তবে এ ক্ষেত্রে আমরা কিছু নিয়ম মেনে চললেই চোখের নিচে কালি পরবে না-

-  রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন । চেষ্টা করুন টানা আট ঘন্টা যেন ঘুমানো সম্ভব হয়। 

-   অযথা রোদে ঘোরাঘুরি করবেন না। যদি একান্তই বাইরে যেতে হয় তাহলে একান্ত সানস্ক্রিন ক্রিম (SPF – 30), ছাতা এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

-সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায় এবং এটি চোখের নিচের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

-মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। মনকে প্রফোল্ল রাখার চেষ্টা করুন সবসময়।

-এন্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফলমূল বা ফলের তৈরি বিভিন্ন জুস খেতে হবে। এন্টি অক্সিডেন্ট রক্তনালীকে মজবুত করে। রক্তনালীর প্রাচীরকে প্রসারিত হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

-প্রতিদিন কাজের এক ফাঁকে ১০ মিনিট চোখ বুজে রেস্ট নেবার অভ্যাস করুন।

-চোখের নীচে কালোদাগ দুর করতে প্রচুর পরিমাণ পানি পান, সবুজ শাক-সবজি আহার এবং নিয়ম মাফিক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা ও মানসিক চাপ কমাতে হবে৷

- খাবারের অতিরিক্ত লবণ বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত লবণ রক্ত সরবারাহে বাধা সৃষ্টি করে ফলে ত্বকের নিচের রক্তনালীগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং নীলচে রং ধারন করে।

-ধূমপান বর্জন করতে হবে। ধূমপান শুধু শ্বসনতন্তেরই ক্ষতি করে না রক্তনালীরও ক্ষতি করে। ধূমপানের কারনে ত্বকের নিচে রক্তনালীগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে ও নীলচে রঙ ধারণ করে।

-মাল্টিভিটামিন খেলে, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম খাওয়াও চোখের নিচে কালি দূর করতে সাহায্য করে।

-যদি আপনার চোখ কচলানোর অভ্যাস থাকে, তাহলে সেটি বাদ দিন। কেননা এটি আপনার ত্বকের নিচের রক্ত কণাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

- প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, কে, ই ও বি১২ সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাক সবজি খেতে হবে। কারণ এ সমস্ত ফলমূল ও শাকসবজি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

শেষ কথা

মনে রাখতে হবে চোখ ও এর আশেপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং স্পর্শকাতর। চোখের নিচের দাগ দূর করতে গিয়ে যেন চোখ দুটোতে সমস্যা না যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। চোখের নিচে নানা উপাদান মাখতে গিয়ে যেন কোন উপাদান চোখে ঢুকে না যায় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে।

চোখের নীচে কালো দাগ দুর করতে প্রচুর পরিমাণ পানি পান, সবুজ শাক-সবজি আহার এবং নিয়ম মাফিক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা ও মানসিক চাপ কমানো উচিত।

সূত্রঃ নানা ওয়েব পোর্টাল 

ডিসক্লেইমারঃ উপরের তথ্যগুলো নানা ওয়েব পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা নিজেরা পরীক্ষা করে দেখি নি। তাই নিজ দায়িত্বে উপরের সমাধানগুলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোন ধরনের সমস্যা বা উপকার না হলে কোন ভাবেই লেখককে দায়ী করা যাবে না।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক