জরায়ু ক্যান্সার- কি , কেন হয়? চিকিৎসা কি ?

নারীর পেটের ভেতরে নিচের দিকে মূত্রথলির পেছনে আরও একটা থলি থাকে, যার মধ্যে বাচ্চা আসে, তাই জরায়ু।  জরায়ু নারী দেহের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জরায়ুকে ইংরেজিতে womb বা uterus বলা হয়। এটি মানুষসহ অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রধান প্রজনন অংগ।

নারীর দেহে জরায়ু থলের মত দেখতে একটি পেশিবহুল অংগ। এর আকৃতি অনেক নাশপাতির মত। এটি ৫ সেন্টিমিটার চওড়া, ২.৫ সেন্টিমিটার পুরু এবং ওজন ৩০ গ্রাম। এর অবস্থান দেহের মধ্যরেখা বরাবর মূত্রাশয় ও মলাশয়ের মাঝে থাকে। জরায়ুর তিনটি প্রান্ত রয়েছে।

বিভিন্ন সময় হরমন ক্ষরণের মাধ্যমে এর কাজ প্রভাবিত হয়। এটি একটি হরমন প্রতিক্রিয়াশীল অংগ। পুরুষ দেহের শুক্রাণু নারী দেহের ডিম্বাণুর সাথে এখানে মিলিত হয়ে সন্তানের জন্ম হয়।

জরায়ু ক্যান্সার কি ?

জরায়ু বা বাচ্চাদানির সবচেয়ে নিচের অংশ হলো জরায়ু মুখ যা প্রসবের পথ বা যোনিতে গিয়ে মিশেছে। জরায়ুর বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই অংশে ক্যন্সার এর আশংকা সবচেয়ে বেশি। জরায়ুর মুখ যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তখন এটি জরায়ু মুখ ক্যান্সার বা  জরায়ু ক্যান্সার নামে ডাকা হয়। ইংরেজিতে একে বলে Cervical cancer।   অতিরিক্ত সাদাস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, অতিরিক্ত অথবা অনিয়মিত রক্তস্রাব, সহবাসের পর রক্তপাত, মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবার পর পুনরায় রক্তপাত, কোমড়-তলপেট বা উড়ুতে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গগুলো জরায়ু মুখ ক্যান্সার এর লক্ষণ।

জরায়ু-মুখের ক্যান্সার বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নারীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের শতকরা ৩০ ভাগই হচ্ছেন জরায়ু মুখের ক্যান্সারের শিকার। জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে একজন নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন এবং প্রতি বছর ৫০ লক্ষাধিক নারী নতুন করে আক্রান্ত হন

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর পৃথিবীতে শুধু জরায়ু ক্যান্সারেই আক্রান্ত হয় ২ লাখ ৫০ হাজার নারী। যদি আক্রান্ত নারীরা প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করান তাহলে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫০% কমে যায়। আর প্রথম থেকেই চিকিৎসা করালে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ৯৫%।

জরায়ু ক্যান্সারকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়। কারণ এই অসুখ দেখা দিলে অনেক নারীই এর লক্ষণ বুঝতে পারেন না। আবার ভিন্ন লক্ষণ দেখা দিলেও অনেক সময় গুরুত্ব দেন না।

জরায়ু ক্যানসার কেন হয়

জরায়ু ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হিসেবে ‘হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) [human papilloma virus (HPV)] ‘ বা ‘ এইচপি ভাইরাস’-কে দায়ি করা হয়।এই ভাইরাসের অনেকগুলো প্রজাতি রয়েছ। যার অধিকাংশই জরায়ু মুখ ক্যান্সারের কারন নয়। শধুমাত্র অল্প কিছু প্রজাতি জরায়ু মুখ ক্যান্সারের জন্যে দায়ী।  কিছু কিছু ভাইরাস যৌনাঙ্গে ওয়ার্ট বা ছোট ছোট আচিলের মত করে রোগ করে থাকে আর রেশিরভাগ কোন ইনফেকশনই করেনা।

২০১০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১০০ ধরনের এইচপি ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। অবশ্য এর বেশিরভাগই জরায়ু ক্যান্সারের জন্য অতোটা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে এইচপিভি-১৬, এইচপিভি ১৮, এইচপিভি-৬, এইচপিভি-১১ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এই ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশের প্রায় ২ থেকে ২০ বছর আগেই একজন নারী এই ভাইরাস বা এই জাতীয় দ্বারা আক্রান্ত হন।

স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত শরীরে জরায়ু প্রায়ই HPV আক্রান্ত হয়ে থাকে। এতে কোনো উপসর্গ থাকে না বা শারীরিক পরীক্ষায় কোনো চিহ্ন বা ক্ষত পাওয়া যায় না। এর জন্য কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাবলে ১৮-২৪ মাসের মধ্যে জরায়ু প্রায় সব HPV থেকে মুক্ত হয়ে যায়।

জরায়ুতে HPV দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে জরায়ুকোষে পরিবর্তনের সূত্রপাত হয় এবং ধীরে ধীরে তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। সাধারণত পুরুষ এই ভাইরাসের বাহক। যৌন মিলনের সময় এই ভাইরাসটি নারীর শরীরে সংক্রমিক হয়। তবে যৌন মিলন ছাড়াও জননাঙ্গের স্পর্শেই ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।

এক গবেষনায় দেখা গেছে আমেরিকার ৫০ বছরের মহিলাদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই কোন কোন সময় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সবার ক্যান্সার হয় নাই। খারাপ প্রজাতির ভাইরাসের সংক্রামনেই এ ক্যান্সার হয়েছে। শুধু মহিলারাই নয় পুরুষরাও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। তবে তাদের যৌনাঙ্গে ওয়ার্ট হয় কিন্তু ক্যান্সার হয় না। এ ভাইরাসে আক্রান্ত কারোও সাথে যৌন মিলনে অন্যজনে ছড়ায়।

জরায়ুর কোষগুলোতে ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দেয়, একে বলে ডিসপ্লাশিয়া। স্বাভাবিক অবস্থা থেকে বিচ্যুত এ সব কোষগুলি পরে ক্যান্সার কোষে পরিনত হয়। মজার বিষয় হল, পরিবর্তিত কোষগুলি ক্যান্সার কোষে পরিবর্তিত হতে অনেক সময় লেগে যায় । এ ক্ষেত্রে দেখা যায় নূন্যতম ৮ বছর লাগতে পারে আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ১৫-২০ বছর বা তারও বেশি সময় লাগে।

এইচ পি ভি ভাইরাস

এ সময়ের মধ্যে ক্যান্সার নির্ণয় করা গেলে পুরুপুরি সুস্থ হয়ে উঠা সম্ভব। প্যাপ স্পেয়ার বা ভিয়া  নামে সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই কাটা-ছেড়া ছাড়াই ক্যান্সার রোগ নির্ণয় করা যায় । এ ক্ষেত্রে জরায়ুর মুখ থেকে একটু খানি টিস্যু নিয়ে নির্ণয় করা যায় জরায়ুর কোষগুলো পরিবর্তন হচ্ছে কি না?

যদি পরীক্ষায় ধরা পড়ে কোষগুলো কেবল ডিসপ্লাস্টিক বা কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে বা এমনকি ক্যান্সারেও পরিনত হয়েছে কিন্তু দেহে এখনও ছড়িয়ে পড়ে নাই তবে চিকিৎসকরা চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত নারীকে সুস্থ করে তুলতে পারেন। কিন্তু সারা দেহে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকদের কিছুই করার থাকে না।

মূল কারণ না জানা গেলেও নিম্নোক্ত রিক্স ফ্যাক্টরসমূহকে জরায়ু ক্যান্সারের জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। যেমন-

  • অল্প বয়সে বিয়ে হলে বা ১৬ বছরের আগে যৌনমিলন করে থাকলে
  • ২০ বছরের নিচে গর্ভধারন করে থাকলে
  • অধিক ও ঘনঘন সন্তান প্রসব করলে
  • নিম্ন আয়ের মানুষ হলে ও স্বাভাবিক জীবন যাপন বাধাগ্রস্ত হলে
  • বহুগামিতা
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম থাকলে
  • HIV দ্বারা সংক্রমন হলে
  • জন্মনিয়ন্ত্রন পিল দীর্ঘদিন খেলে
  • ধূমপান করলে
  • স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং জননাঙ্গ অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকলে।
  • নানা রোগ জীবাণু দ্বারা জরায়ু বার বার আক্রান্ত হলেও জরায়ু ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেমন – হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস।

কারা আক্রান্ত হয়

তবে অনেকেই মনে করেন যে এই অসুখটি হয়তো প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরে হয়ে থাকে কিন্তু এটি ভুল ধারণা। যেকোন বয়সেই নারীদের জরায়ু ক্যানসার হতে পারে। জরায়ুমুখ ক্যান্সার ১৫-৪৫ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কিন্তু ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশের প্রায় ২ থেকে ২০ বছর আগেই একজন নারী এ রোগের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন।

তবে বিশেষ করে ৫০ বছর বয়স্ক কিংবা এর থেকেও বেশি বয়সের নারীরা জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বেশি। তবে সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে শিল্পোন্নত দেশের নারীরা বেশি জরায়ু ক্যানসারে অধিক আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এবং অন্য দিকে আফ্রিকান, আমারিকান ও এশিয়া প্রদেশের নারীদের এই ক্ষেত্রে জরায়ু ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম সাদা চামড়ার নারীদের থেকে।

প্রতি বছর লাখে  ১৬ জন নারী এই রোগে আক্রান্ত হন।  আক্রান্তদের প্রায় ৫০ শতাংশ মানে ৮ জনের মত মারা যান।   উন্নয়নশীল দেশের আনুমানিক ৮০ শতাংশ নারীরা এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী ৪৭৩,০০০ টি জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঘটনা জানা যায়। ২৫৩,০০০ জনের প্রতিবছরে মৃত্যু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে ৮ম কমন রোগ। ১৯৯৮ সালে ১২,৮০০ মার্কিন নারীর মধ্যে ৪,৮০০ জন মৃত্যুবরন করেন।২০০৮ সালে ৩,৮৭০ জন মার্কিন নারী এই রোগে মারা যায় বলে ধারনা করা হয়। (উইকিপিডিয়া)

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ সমূহ

জরায়ুমুখের কোষ  ক্যানসার কোষে পরিণত হলে, তা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং এক সময় পিণ্ডে পরিণত হয়। পরবর্তিতে, এই পিণ্ড ফেটে গিয়ে জরায়ুমুখে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং রক্তক্ষরণ হয়। এই ক্ষত ব্যক্টেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে রোগটিকে আরও জটিল করে তোলে। এর ফলে শরীরে জ্বর, বেদনা, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা ইত্যাদি ,উপসর্গ দেখা দেয়।
এক সময় ক্যান্সার কোষগুলো পুরো যৌনাঙ্গকে ধ্বংস করে দেয় এবং যৌনাঙ্গ-সংলগ্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় জরায়ু মুখ ক্যান্সারে আক্রান্তদের লক্ষণ থাকে না বলেই চলে। ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি ও দেহে ছড়িয়ে পড়লে লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।  যে সকল লক্ষণগুলো দেখা যায় সেগুলো হলঃ
আ্যবনরমাল ভ্যাজাইনাল ব্লিডিংঃ মেনস্ট্রুয়াল সার্কেলের মধ্যবর্তী সময়ে, সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স চলাকালীন অথবা পরে, বা মেনোপজের পর ব্লিডিং হলে অতি সত্বর ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আ্যবনরমাল ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জঃ সাদা স্রাব নির্গত হওয়া একটা সাধারণ ব্যাপার। তবে কালচে খয়েরি (রক্তসহ)ঘন অথবা পানির মতো পাতলা ফ্যাকাশে, দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ নির্গত হওয়া একটি লক্ষণ।
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগঃ প্রেগন্যান্সিতে  ঘন ঘন প্রস্রাব করা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু প্রেগন্যান্সি ছাড়া যদি এমন হয় তাহলে এ ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হচ্ছে তাহলে সেটা ভালো লক্ষণ নয়। যদি ব্লাডারের উপর বেশি কন্ট্রোল না থাকে অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও প্রস্রাব না ধরে রাখতে পারেন, তাহলে আপনার উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। ক্যান্সার না হলেও সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিকস বা বহুমূত্র হবার সম্ভাবনা থাকে।
তলপেট ব্যথাঃ মেয়েদের মাসিক চলাকালীন সময়ে তলপেট ব্যথা স্বাভাবিক। তবে মাঝে মাঝেই যদি হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা শুরু হয়ে যায়, তবে সেটা ভালো লক্ষণ নয়।
প্রস্রাব করতে অস্বস্তিঃ  স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব করতে কারো অস্বস্তি লাগে না কিন্ত মাঝে মাঝে প্রস্রাব করতে অস্বস্তি লাগে । আর এটি জরায়ু ক্যান্সারের একটি অন্যতম লক্ষণ। প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া, সূঁচের মতো বেঁধা, অথবা প্রস্রাব করার সময় প্রচন্ড চাপ অনুভব করা হতে পারে ক্যান্সারের লক্ষণ। ক্যান্সার না হলেও, হতে পারে এইটা ইউরিন ইনফেকশন, ঈস্ট ইনফেকশন অথবা STD। তাই সাবধানতয়া অবলম্বন করতে হবে।
ইন্টারকোর্সের সময় ব্যথাঃ ইন্টারকোর্সের সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া জরায়ূ ক্যান্সারের একটি অন্যতম লক্ষণ। ব্যাথা অনুভূত হলে বুঝা যায় যে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে যদি এ ব্যাথার কারন ক্যান্সার নাও হয় সে ক্ষেত্রেও এ উপসর্গটি ভাল লক্ষন নয়। কোন ইনফেকশন বা সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিসিজ (STD) হবার সম্ভাবনা সে ক্ষেত্রে প্রকট।
দীর্ঘমেয়াদী ঋতুস্রাবঃ দীর্ঘ দিন ধরে  ঋতুস্রাব হওয়া, প্রচুর পরিমাণে রক্ত যাওয়া (প্রতি দুই ঘন্টায় প্যাড বা ট্যাম্পন চেঞ্জ করতে হয়), এমন যদি হয়  তবে হতে পারে  সেটি জরায়ু ক্যান্সারের জন্য হচ্ছে। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদী ঋতুস্রাব হতে পারে হরমোনাল ইমব্যালান্স, ফাইব্রয়েডস, পলিপস, লিভার অথবা কিডনির অসুখ। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।
দ্রুত ওজন কমে যাওয়াঃ  নানা কারনে ওজন কমতে পারে , তবে ওজন কমার হার সাধারণত খুব দ্রুত হয় না। যখন মনে হবে হুট করে কোন কারন ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া অন্যান্য ক্যান্সারের মতো জরায়ূ ক্যান্সারের একটি অন্যতম লক্ষণ। তাই হঠাৎ করে যদি আপনার ওজন কমে যায়, এই উপসর্গটিকে  গুরুত্বসহকারে দেখে জরায়ু ক্যান্সারের বিষয়টি মাথায় আনতে হবে।
ক্লান্ত বোধ করাঃ  দিন শেষে কাজের কারনে ক্লান্তি বোধ করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোন কাজ না করেই অথবা অল্প কাজ করেই যদি আপনি প্রচন্ড ক্লান্ত বোধ করেন, এনার্জি না পান, তাহলে এইটি একটি চিন্তার বিষয়।
ক্যান্সার হলে সুস্থ সবল লোহিত রক্তকণিকাগুলোকে শ্বেত রক্তকণিকারা ক্যান্সারের সাথে লড়াই করবার জন্য রিপ্লেস করে ফেলে। এ কারণে এনিমিয়া হয়, শরীরে অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি এসে যায়, ক্ষুধামন্দা হয়। এবং শরীরে অক্সিজেন সাপ্লাই ও কমে যায়। এনিমিয়া হওয়া যে কোন ক্যান্সারের একটি অন্যতম লক্ষণ। এর মানে হচ্ছে ক্যান্সার  দ্রুত আপনার শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।
পা ব্যথা ও ফুলে যাওয়াঃ জরায়ু ক্যান্সারের রোগিদের অনেক সময় পা ফুলে যায়, পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এবং এই। পা ব্যথা একসময় কোমর অব্ধি ছড়িয়ে পরে।

রোগ নির্ণয় বা screening

জরায়ুর মুখে ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য  নানা প্রকারের স্ক্রিনিং টেস্ট করা হয়। যেমন Pap smear ও VIA টেস্ট।  জরায়ুর মুখে লালা বা কোষ স্ক্র্যাপ করে নিয়ে স্ক্রিন করে দেখা হয় যে ওই টিস্যুগুলোর পরিবর্তন হয়েছে কিনা। পরিবর্তন হলে বুঝতে হবে এটা আরও ১০ বছর বা তার চাইতে বেশি সময় পর ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়বে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে ক্যান্সার থেকে দূরে থাকতে পারবে।

বাংলাদেশ সরকার VIA  বা ভায়া (ভিজ্যুয়াল ইন্সপেকশন উইথ এসিটিক এসিড) পরীক্ষাটকেই সর্বসাধারণের জন্য স্ক্রিনিং টেস্ট হিসাবে নির্ধারণ করেছে। এর কারন হচ্ছে  ভায়া টেস্ট অতি সহজেই ও স্বল্পমূল্যে করা সম্ভব।সকল সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরীক্ষাটি বিনামূল্যে করানোর সুযোগ রয়েছে।

ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা বা এ থেকে ক্যান্সার হতে যাচ্ছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য এই ভায়া পদ্ধতি বাংলাদেশে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হয়। বর্তমানে ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৩০টি জেলা হাসপাতাল ও ৩০টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভায়া করা হচ্ছে”। এই পদ্ধতিতে শতকরা ৫ ভাগ এসিটিক এসিড একটি তুলার বলে মিশিয়ে জরায়ু মুখে এক মিনিট লাগিয়ে রাখা হয়। এক মিনিট পর জরায়ু-মুখের কোন অংশ সাদা বর্ণ ধারণ না করলে তার ক্যান্সার-পূর্ব অবস্থা অনুপস্থিত (ভায়া-নেগেটিভ) ধরা হয় এবং তাকে তিন বছর পর আবার ভায়া করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।

অপরদিকে ভায়া পরীক্ষায় কোন মহিলার জরায়ু-মুখের কোন অংশ সাদা বর্ণ ধারণ করলে (ভায়া-পজেটিভ) তার ক্যান্সার-পূর্ব অবস্থা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয় এবং কল্পোস্কপি (জরায়ু-মুখের ক্যান্সার-পূর্ব অবস্থা সনাক্তকরণের সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি। এই পদ্ধতিকে মাইক্রোস্কোপ জাতীয় যন্ত্রের সাহায্যে জরায়ু-মুখ বড় করে দেখা হয় এবং সবচেয়ে অস্বাভাবিক অংশটি থেকে বায়োপ্সি পরীক্ষা করা হয়)।  -ডা: আশরাফুন্নেসা (ইনকিলাব)।

অন্য দিকে পেপ স্মেয়ার হল আরো একটি সহজ পরীক্ষা। জরায়ুমুখ থেকে রস নিয়ে অণুবীক্ষণিক (মাইক্রোস্কোপিক) যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা। এ পরীক্ষা দিয়ে ক্যানসার, ক্যানসার হওয়ার আগের অবস্থা ও জরায়ুমুখের অন্যান্য রোগ যেমন প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) শনাক্ত করা যায়।

কখন করতে হবে: জরায়ুতে কোন ধরনের সমস্যা থাকলেই যে কেবল এ পরীক্ষাটি করতে হবে, তা কিন্তু নয়। ২১ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত প্রত্যেক মহিলাদের প্রতি তিন বছর পর পর পরীক্ষাটি করা উচিত। যদি পেপ টেস্টের সঙ্গে HPV-DNA টেস্ট নর্মাল থাকে তবে প্রতি পাঁচ বছর পর পর এ টেস্টটি করা যাবে। গর্ভাবস্থায়ও পরীক্ষাটি করা যায়।

কিভাবে করা হয় : এ পরীক্ষার জন্য চামচের মতো একটি যন্ত্র মাসিকের রাস্তায় ব্রাশ এবং কাঠির সাহায্যে জরায়ু মুখ থেকে কোষ নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এতে আপনি তেমন ব্যথা পাবেন না, তবে সামান্য অস্বস্তি লাগতে পারে।

ফলাফল এবনরমাল হলে কি করতে হবে : এ পরীক্ষার ফলাফলে যদি কোষের অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে, তবে ভয় পাবেন না, কারণ এটি সাধারণভাবে ক্যান্সার বোঝায় না। অনেক সময় জরায়ুতে জীবাণুর সংক্রমণ বা প্রদাহ থেকেও এবনরমাল ফলাফল হতে পারে।

সংগৃহীত কোষের পরিমাণ কম থাকলে এটি পুনরায় করার দরকার হয়। তবে পরীক্ষার ফলাফলে CIN বা ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা দেখা গেলে আপনাকে কলপসকপি এবং বায়পসি করার জন্য পাঠানো হবে। বায়পসি রেজাল্টের পর অথবা অনেক সময় কলপসকপি করাকালীন অবস্থাতেই চিকিৎসা করা হয়। এর বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে লিগ, কোল্ড কোয়াগুলেসন, কটারি, লেজার। এ চিকিৎসার পরও ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ফলোআপ করে যেতে হবে।

-ডা. নুসরাত জাহান (কালের কন্ঠ)

জরায়ু ক্যান্সারের প্রতিকার ও প্রতিরোধ

ভাবনার ব্যাপার হল,  রোগটি ক্যান্সারে রূপান্তর হওয়ার আগে সাধারণত কোন লক্ষণই প্রকাশিত হয় না। তাই রোগীও সহজে বুঝতে পারে না যে সে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত । সাধারণত যখন খুব সমস্যাবোধ করে তখনই রোগী ডাক্তারের কাছে আসে। কিন্ত তত দিনে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে বা রোগটি বিস্তৃত হয়।

জরায়ু ক্যান্সারকে খুব ভয়াবহ ভাবলেও জরায়ু ক্যান্সার আমাদের কিন্তু চিকিৎসা করার যথেষ্ট সময় দিচ্ছে। অথচ আমাদের অবহেলা বা অজ্ঞতার কারণে অনেক উচ্ছল প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে। একদিন বা একমাসে হঠাৎ করে এই ক্যান্সার হয় না,  স্বাভাবিক কোষ থেকে জরায়ু মুখের ক্যান্সার হতে প্রায় ১০-১৫ বছর সময় লাগে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার দ্বারা শতকরা ১০০ ভাগ রোগীই ভালো হয়ে যেতে পারে। রোগের শুরুতে উপসর্গ গুলো অল্পমাত্রায় থাকে  থাকার কারনে একে কেউ গুরুত্ব দিতে চান না।

ক্যান্সারে রূপান্তর হওয়ার পর তা খুব দ্রুত জরায়ুর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন অস্ত্রোপচার ও রেডিওথেরাপি ছাড়া কোনো চিকিৎসা থাকে না। সে ক্ষেত্রে ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

স্টেজ এর উপর ভিত্তি করে একেক স্টেজে একেক চিকিত্‍সা দেয়া হয়। সার্জারি, রেডিও এবং কেমোথেরাপি এই তিন ধরনের চিকিত্‍সা দেয়া হয়। সাধারণ কিছু চিকিত্‍সা মূল চিকিত্‍সার পাশাপাশি দেয়া হয়। লক্ষণের উপর নির্ভর করে ব্যথানাশক ,এন্টিবায়োটিক , ব্লাড ট্রান্সফিউশন ইত্যাদি।

একটা কথা প্রচলিত ” প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সহজ। “ রোগের চিকিৎসার পরিবর্তে প্রতিরোধ অর্থাৎ রোগটা হতে না দেওয়া হলো বুদ্ধিমানের কাজ। যদিও সকল রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব হয় না, তবে জরায়ু-মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

যদিও সকল রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব হয়না, তবে জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব। কারণ ডাক্তার অথবা স্বাস্থ্যকর্মী সহজেই জরায়ু মুখ দেখতে এবং পরীক্ষা করতে পারেন।

মহিলাদের বয়স ৩০ এর বেশি হলেই জরায়ু মুখ অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে। ১৮ বছরের আগে আর বিবাহিতদের ক্ষেত্রে ২৫ বছর হলেই জরায়ু মুখ পরীক্ষা করাতে হবে। বাংলাদেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি জেলা সদর হাসপাতাল, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, এমনকি নির্বাচিত কিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে জরায়ু মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রাথমিক ধাপটি বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে জরায়ু মুখে অনেক দিন ধরে একটি ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা বুঝা যায় কিংবা ভবিষ্যতে ক্যান্সারের আশংকা আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। দেশের  সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জরায়ুর মুখের ক্যানসারপূর্ব অবস্থায় চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। আর এ অবস্থা ধরা পড়লে সামান্য চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। ক্যানসারপূর্ব অবস্থা ধরা পড়লে সামান্য চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে জরায়ু ফেলে দেবার প্রয়োজন হয় না এবং চিকিৎসার পর সন্তান ধারণ সম্ভব।

ভিজুয়াল ইন্সপেকশন অফ ছারভিক্স উইথ এছিটিক এসিড (VIA) এই পদ্ধতির জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব –ক্যান্সার হওয়ার আগে খালি চোখে জরায়ু মুখে কোনরকম ক্ষত বা চাকা দেখা যাবে না । এ ব্যাপারে আমরা অবশ্য পূর্বেই আলোচনা করেছি।

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য এখন টিকা পাওয়া যায়। মেয়েদের বয়স যখন ১০ থেকে ১২ বছর তখন তিনটি ডোজে ছয় মাসের মধ্যে এই টিকা দেওয়া হয়। এই টিকা মূলত বিয়ের পূর্বে অথবা যৌন সক্রিয় হওয়ার আগে দেওয়া উচিত। এছাড়াও নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১. টিকা প্রদান করে অবিবাহিত মহিলাদের জরায়ু ক্যান্সার থেকে নিরাপদ রাখা। জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের টিকা সারভারিক্স দেশে পাওয়া যায়। নিকটস্থ গাইনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এই টিকা গ্রহণ করা যেতে পারে। এই টিকা সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক, মেরিস্টোপস্ ক্লিনিক, বড় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও পাওয়া যায়।এই টিকাটি ৯ বছর বয়স থেকে নারীকে দিতে হয়।

টিকা তিনটির ডোজ, প্রথম নেওয়ার এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ। এই টিকা হাতের মাংসপেশিতে দিতে হয়।সাধারণত ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে টিকা গ্রহণ করা ভালো। এ বয়সে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার হার অন্য বয়সের চেয়ে বেশি থাকে।

এইচভিপি ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার পর বা ক্যানসার হয়ে যাওয়ার পর টিকা দিলে কোনো কাজে আসে না। কারণ, এ টিকা ইনফেকশন দমন করতে পারে না এবং ক্যানসারের গতি রুদ্ধ করতে পারে না।

২. নারীশিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা করা যাতে, এ রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

২. কোন লক্ষণ চোখে পড়লেই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা

৩. জরায়ু ক্যান্সার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা

৪. নারীদের সাহস জোগাতে এক্ষেত্রে পুরুষদেরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে

৫. ১৮ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত নারীদের বছরে একবার করে পরীক্ষা করা উচতি। তবে পর পর দুইবার রিপোর্ট নেগেটিভ হলে ৩ অথবা ৫ বছর পরপর পুনরায় পরীক্ষা করাবেন। ঝুঁকিপূর্ণ নারীরা ৩ বছর পর পর পরীক্ষা করাবেন। নিয়মিত পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। যৌনক্ষমতা বা যৌনমিলন শুরুর পর থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি মহিলাকে একবার প্যাপ স্মেয়ার করে বাকী জীবনের প্রতিবছরে একবার করে এ পরীক্ষা করা দরকার।

শেষ কথা

গবেষনায় দেখা গেছে, প্যাপ স্মেয়ার করার কারণে আমেরিকায় প্রতিবছর ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ মহিলার জরায়ু কোষ পরিবতির্ত বা ডিসপ্লাস্টিক অবস্থায় ধরা পড়ে। এ বিশাল সংখ্যা থেকে ১২ হাজার নারী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় আর ৪ হাজারে মত মারা যায়। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে,  গত ৫ বছরে যারা একবারও প্যাপ স্মেয়ার করেনি তাদের মারা যাওয়ার হার বেশি।

গবেষনায় আরোও দেখা গেছে যেসব মহিলা প্রতি বছরে একবার প্যাপ স্মেয়ার করান তাদের এ ক্যান্সারে মারা যাওয়ার ঝুকি ৪১ শতাংশ কমে যায়। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে গত ৪০ বছরে এ ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমে গেছে শুধু নিয়মিত স্ক্রিনিং বা প্যাপ স্মেয়ার পরীক্ষা করার কারনে। বিয়ের পূর্বেই জরায়ু ক্যান্সারের টিকা দেওয়া উচিত। আর বিয়ের পর নিয়মিত চেক আপ আপনাকে ভয়াবহ ক্যান্সার থেকে মুক্তি দিতে পারে।

তথ্যঃ নানা নিউজ পোর্টাল ও ব্লগ।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক