জিকা ভাইরাস কি? এর লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়

বর্তমানে একটি আলোচিত বিষয় হল ‘জিকা’ ভাইরাস। জিকা ভাইরাস ভারত, পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ এখনো আশংকা মুক্ত। মশাবাহিত জিকা ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোন চিকিৎসা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এতোদিন আফ্রিকায় এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও ২০১৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলে সর্বপ্রথম এর সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার পর থেকে দেশটিতে অপরিণত বা ছোট মস্তিষ্কের শিশু জন্ম নেওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় শিশুদের এ ছোট মস্তিষ্কের অবস্থাকে বলা হয়‘মাইক্রোসেফালি’। এতে আক্রান্ত শিশুদের মস্তিষ্কের গঠন পরিপূর্ণ হয় না। ফলে ওই শিশুরা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হতে পারে,শারীরিক বৃদ্ধি বিলম্বিত হতে পারে ।সম্প্রতি ব্রিটেনসহ অনেকগুলো দেশে মানুষের মধ্যে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তরা সকলেই দক্ষিণ আমেরিকা সফর করেছিলেন।

জিকা ভাইরাসটি ডেঙ্গু ভাইরাস, পীতজ্বর ভাইরাস, জাপানিজ এনসেফালাইটিস, এবং ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস এর সাথে সম্পর্কিত। এই ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করে তার সাথে ডেঙ্গু জ্বর এর কিছুটা মিল রয়েছে। এডিস প্রজাতির মশা থেকে জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে।

জিকা ভাইরাস কি?

জিকা পশ্চিম গোলার্ধের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায়  ভাইরাস।  আজকাল এ রোগের কথা সংবাদমাধ্যমে, টিভি মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শোনা গেলেও এমন কিন্তু না যে এ রোগের উৎপত্তি হয়েছে অল্প কয়েকদিন হলো। জিকা অনেকটা ডেঙ্গুর মতো হলেও এটি দেহে তার চেয়ে হালকা প্রভাব ফেলে। জিকা ইনফেকশন রোগটি আমাদের সকলের পরিচিত ডেঙ্গু রোগের মতো মশাবাহিত একটি রোগ । এটি ছড়ায়ও এডিস মশার মাধ্যমেই।

জিকা ভাইরাস (Zika virus) হচ্ছে ফ্ল্যাভিভাইরিডি পরিবারের ফ্ল্যাভিভাইরাস গণের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারের অন্যান্য ভাইরাসের মত এটি আবরণযুক্ত ও আইকসাহেড্রাল আকৃতির একসূত্রক RNA ভাইরাস।

শনাক্তকরণ ও নামকরণ

১৯৪৭ সালে পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার অতি পরিচিত জিকা (স্থানীয় ভাষায় ‘বাড়ন্ত’) বনাঞ্চলে প্রথম এ ভাইরাসের সন্ধান মেলে।  উগান্ডার জিকা ফরেস্টে হলুদ জ্বর নিয়ে গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা একটি খাঁচায় একটি বানর রাখে। পরে বানরটি জ্বরে পড়লে তার দেহে একটি সংক্রামক এজেন্টের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। রকফেলার ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে উগান্ডা, আমেরিকা ও ইউরোপের বিজ্ঞানীরা ওই বনে তখন ‘পীত জ্বর’ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। গবেষণার এক পর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত’ বানরের দেহে নতুন এক ভাইরাসের খোঁজ পান বিজ্ঞানীরা, যার নাম দেওয়া হয় ওই বনেরই নামে ‘জিকা ভাইরাস’। Rhesus 766 বানরটি ছিল রকফেলার ফাউন্ডেশনের বন্য ইয়োলো ফিভার ভাইরাস গবেষণায় ব্যবহৃত একটি বানর। দুই দিনের জ্বরে আক্রান্ত বানরটির সিরাম যখন মাউসের মস্তিষ্কে এটি ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়, দশ দিনের মাথায় মাউসের মস্তিষ্কের টিস্যু থেকে সন্ধান পাওয়া যায় এই ভাইরাসটির।  ১৯৫২ সালে এর নাম দেয়া হয় জিকা ভাইরাস।

আফ্রিকা থেকে আমেরিকা জিকা ভাইরাস

১৯৪৭ সালে সন্ধান পাওয়ার সাত বছর পর ১৯৫২ সালে উগান্ডা ও তানজানিয়াতে মানবদেহে প্রথমবারের মত এ ভাইরাস সনাক্ত করা হয়। এরপরে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৪৮ সালে নাইজেরিয়ায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোতে।  ১৯৫০ সাল থেকে এই ভাইরাস আফ্রিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত নিরক্ষরেখা বরাবর অঞ্চলগুলোতে রোগ ছড়ায়। ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীরা আফ্রিকা থেকে মশার এই জাতকে সমুদ্র পার করে আমেরিকায় নিয়ে আসেন বলে গবেষকদের ধারণা। এরপর দীর্ঘ সময় পরপর দুই দফায় এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে এশিয়া ও মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে। এর পরে  ১৯৬২ সালে আমেরিকা মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে এডিস এজিপ্টিকে ‘নির্মূল’ করা হয়েছিল।

এটি ২০০৭ সালে ইয়াপ দ্বীপপুঞ্জে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটায়। এতে কমপক্ষে ৪৯ জন মানুষ আক্রান্ত হয় কিন্তু কেউ মারা যায়নি। ২০১৪ সালে এটি প্রশান্ত মহাসাগর এর ফরাসি পলিনেশিয়া অঞ্চলে ও পরবর্তীকালে ইস্টার আইল্যান্ডে এবং ২০১৫ সালে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়ায়। ২০১৫ সালের দিকে নতুন করে ব্রাজিলে  জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া যায় । এর পর মাত্র চার মাসের ব্যবধানে বার্বাডোজ, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ফ্রেঞ্চ গিনি, গুয়াতেমালা, পানামা, প্যারাগুয়ে, পুয়ের্তো রিকো, গুয়াদেলোপ, গায়ানা, হাইতি, হন্ডুরাস, মেক্সিকো,  সুরিনাম ও ভেনিজুয়েলাসহ দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় বহু দেশে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগ এর আগে কখনোই এবারের মতো হুমকি হয়ে আসেনি।

জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায় ?

জিকা ভাইরাস মূলত মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে । তবে সব ধরনের মশা নয়, শুধু এডিস গণের (genus) মশার মাধ্যমে দ্রুত এ ভাইরাসটি ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত দিনে বেলা কামড়ায়। মূলত দুই ধরণের এডিস মশা দিয়ে এই ভাইরাস ছড়ায়। এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস এজেপটি প্রজাতির মশার কামড় থেকে এ রোগের উত্পত্তি। এদের গোত্রের সবচেয়ে ভয়াবহ সদস্য হলো এডিস এজিপ্টি যারা জিকা রোগের প্রধান বাহক।

ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটেছে এমন কোনো রোগীকে এডিস মশা কামড়ানোর মধ্য দিয়ে এর স্থানান্তর হয়। মশা যখন কোনো আক্রান্ত মানুষকে কামড়ায়, তখন রোগীর কাছ থেকে মশা জিকা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সে আবার জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়। এরপর ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমেই ভাইরাসটির বিস্তার ঘটতে থাকে।

গ্রীষ্মমণ্ডল ও এর নিকটবর্তী অঞ্চলে এডিস এজেপটি মশার মাধ্যমে ছড়ায় কারণ শীতপ্রধান অঞ্চলে এরা টিকে থাকতে পারেনা। এদের বিচরণ আমেরিকায় মূলত ফ্লোরিডা, গালফ কোস্ট আর হাওয়াই-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব গরমের সময় এদের ওয়াশিংটনেও দেখা যায়। শীতপ্রধান অঞ্চলে এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা এই রোগ ছড়াতে পারে। এশিয়ার টাইগার মশা এডিস অ্যালবোপিকটাস মশাও এ রোগ ছড়ায়, কিন্তু পরিসরে এজিপ্টির থেকে কম।

উল্লেখ্য যে , ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া ভাইরাস ছড়ানোর জন্যও এই জাতের মশাগুলো দায়ী। শুধু স্ত্রী মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। এই মশাগুলো একবারে একের অধিক ব্যক্তিকে কামড়াতে পছন্দ করে। একবার রক্ত খাওয়া হলে ডিম পাড়ার পূর্বে তিন দিন বিশ্রাম নেয়।  এ মশার ডিমগুলো পানিতে এক বছর পর্যন্ত  বেঁচে থাকতে পারে ।  এরা মানুষের আশেপাশেই থাকতে পছন্দ করে এবং বাড়ির আশাপাশে নালা-নর্দমা, ফুলের টপ ও পরিত্যক্ত জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিও ডিম পরিস্ফুটনের জন্য যথেষ্ট।

তবে মশাই একমাত্র উপায় না ভাইরাসটির সংক্রমণের  শিকার হবার জন্য, আক্রান্ত মা থেকে শিশু আক্রান্ত হবার ব্যাপারে জোরালো কিছু পর্যবেক্ষণ মূলক গবেষণা  রয়েছে।  তবে বর্তমানে যেটি চিন্তার বিষয় সেটি হচ্ছে গর্ভবতী মা থেকে শিশুদের সংক্রমণ, যা দক্ষিণ আমেরিকায় সম্প্রতি আমরা দেখছি।  জিকা ভাইরাস শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমেরিকাতে এরকম ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষ্মণ

ভাইরাস আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ করেনা। অর্থাৎ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ জনের একজন মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়। যারা করে তাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ উপসর্গগুলো সাধারণত মৃদু।হালকা জ্বর, শরীরের সামনে ও পিছনে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ, গায়ে, মাংসে ও অস্থি সন্ধিতে ব্যথা, এই সব লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় মশার কামড়ে ভাইরাসটি দিয়ে আক্রান্ত হবার পর ৩ থেকে ১২ দিনের মধ্যে। সাধারণ এক সপ্তাহের মধ্যে রোগী আরোগ্য লাভ করে।হাসপাতালে ভর্তি হবার মত গুরুতর পরিস্থিতি ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে কদাচিৎ, কিন্তু বর্তমান কিছু ঘটনা বিজ্ঞানীদের ভাবাতে বাধ্য করেছে, তারা কি জিকা ভাইরাসের ঝুঁকিটি সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন কিনা।কারণ এখন বেশ কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে ভাইরাসটি জন্মগত ক্রটির জন্য দায়ী হতে পারে।

জিকা ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করে তার নাম জিকা জ্বর। এর সাথে ডেঙ্গু জ্বর, পীত জ্বর প্রভৃতির অনেক মিল আছে। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাঝারি মাত্রার জ্বর, চোখে প্রদাহ, হাল্কা মাথা ব্যথা, অবসাদগ্রস্ততা, কনজাংটিভাইটিস, গোড়ালিতে ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, পেশিতে ও মাথাব্যথা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। শরীরে র‌্যা শও (চামড়ায় লাল ফুসকুড়ি) বেরোতে পারে। কিন্তু এই লক্ষণগুলো এতই মৃদু যে রোগী জিকা আক্রান্ত না সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত, তা বোঝা খুব কঠিন। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে এই ভাইরাস কয়েকদিন থাকে তবে কোন কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এর সুপ্তিকাল কয়েকদিন হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অসুস্থতা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। সাধারনত ৫-৭ দিনের মধ্যে এমনিতেই রোগ সেরে যায়। মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। হাসপাতালে যাবার মতো অবস্থাও কিন্তু তৈরি হয় না। অসুস্থতা কমে গেলেও রক্তের মধ্যে এ ভাইরাস কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে। র‍্যাশ ওঠার কারণে অনেকেই এ অসুখটিকে ডেঙ্গু বা হামের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।

মাইক্রোসেফালি

মাইক্রোসেফালি

গর্ভবতী নারীরা জিকা ভাইরাস আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বিকাশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যেটি মাইক্রোসেফালি (Microcephaly) নামে পরিচিত। ব্রাজিলে গত বছর হঠাৎ করে কয়েক হাজার শিশু স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট মাথা নিয়ে জন্মায়। অনেকেই মনে করছেন জিকা ভাইরাসের কারণে এমনটি হতে পারে।

ধারণা করা হয় ব্রাজিলে ভাইরাসটি প্রবেশ করেছে ২০১৪ সাথে বিশ্বকাপ ফুলবল দেখতে আসা দর্শকদের সাথে- বর্তমানে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড় মিলিয়ন স্পর্শ করেছে। এই একই সময় ব্রাজিলে মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যাও বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে। এই জন্মগত ক্রুটির ফলে নবজাতকের মাথার আকৃতি স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হয় এবং সেই সাথে ব্রেইন বা মস্তিষ্ক বিকাশও থাকে অসমাপ্ত। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মাইক্রোসেফালি সহ। নবজাতককে শনাক্ত করেছে ইতিমধ্যেই, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশী।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভবতী মা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি (Microcephaly)। এর ফলে আক্রান্ত শিশু ‘বুদ্ধি প্রতিবন্ধী’ হতে পারে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবিকশিত মস্তিষ্ক শিশুর মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। তবে জিকা ভাইরাস ঠিক কীভাবে গর্ভের শিশুর এই ক্ষতি ঘটায় তা এখনো স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটন করা যায়নি। মশাবাহিত জিকা ভাইরাসের সংক্রমণে গর্ভের শিশু মাইক্রোসেফালি নামের রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে অপরিণত ও ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক নিয়ে জন্ম নেয় শিশুরা।

এছাড়া জিকা ভাইরাস আক্রান্ত মায়েদের মধ্যে গর্ভপাতের ঘটনাও দেখা গেছে। এছাড়া বিজ্ঞানীরা যখন ফরাসী পলিনেশিয়ার দ্বীপগুলোর মহামারী পুনবিশ্লেষণ করেছেন, তারা দেখেছেন যে জিকা ভাইরাস সেখানে আসার পর জন্মগত ক্রুটির পরিমাণ বেড়ে গেছে স্বাভাবিকের চেয়েও বেশী।

যদিও জিকা ভাইরাসের সাথে জন্মগত ক্রটির সংযোগ নিয়ে যা ভাবা হচ্ছে  সেই বিষয়টি কিন্তু সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি এখনও। তবে প্রাপ্ত সব প্রমাণগুলো আপাতত সেদিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়াও পৃথকভাবে আরেকটি সমস্যা, জিকা ভাইরাসের সাথে গিয়ান-বারেসিনড্রোমেরও  সংযোগ আছে,  স্নায়ুরজ্জুর আচ্ছাদন ও সহযোগী কাঠামো উপাদানগুলোকে যখন  নিজের রোগ প্রতিরোধ তন্ত্রের উপাদানগুলোই আক্রমণ করে, যা প্যরালাইসিসের কারণ হয়।

জিকা রোগ নির্ণয় বা ডায়াগনাইসিস

জিকা ভাইরাস জনিত রোগ নির্ণয়  করা বেশ দুরুহ কারণ এটি ডেঙ্গে, চিকুনগানিয়ার ভাইরাসের মত একই ভেক্টর বা বাহক মশা, ভৌগলিক বিস্তার ও উপসর্গ  বহন করে । সেকারণে ক্লিনিকাল কোনো লক্ষণ এবং রোগতাত্ত্বিক ভাবে ডায়াগনিসেসর প্রচেষ্টা তেমন নির্ভরযোগ্য নয়। তিনটি ভাইরাস জনিত অসুখেরই প্রায় একই লক্ষণ হতে পারে – জ্বর, ম্যাকুলোপ্যাপুলার র‍্যাশ বা গায়ে ফুসকুড়ি ওঠা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং প্রদাহ বা কনজাংটিভাইটিস, শরীরের অস্থি সন্ধি ও মাংসপেশিতে ব্যথা ইত্যাদি।

শরীরে জিকা ভাইরাস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রক্ত, প্রশ্রাব, মুখের লালা ইত্যাদি পরীক্ষা করা জরুরি। তবে ইয়েলো ফিভার, ওয়েস্ট নাইল, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু যে গোত্রের সদস্য, জিকা ভাইরাসও একই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি ফ্লাভিভাইরাস। জিকা ভাইরাস পলিমারেজ চেইন রিয়াকশন(PCR)এর মাধ্যমে সনাক্ত করা হয় এবং রক্তের নমুনা থেকে ভাইরাস পৃথক করা যায়।

জিকা সংক্রমণ নিশ্চিত করার জন্য ল্যাবরেটরি টেস্ট করার সময় সেখানে বেশ সমস্যা রয়েছে , রক্তের IgM অ্যান্টিবডিটি যদিও চিকুনগানিয়ার ( আরেকটি ফ্লাভিভাইরাস অর্থাৎ সমগোত্রীয়) সাথে তেমন সংশয় সৃষ্টি করে না, তবে ডেঙ্গোর প্রতি এদের ক্রস-রিঅ্যাক্টিভিটি আছে, অর্থাৎ এই ডায়াগনোসিস দিয়ে নিশ্চিতভাবে ডেঙ্গে থেকে আলাদা করা যাবে না যে এই অ্যান্টিবডিটি জিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে নাকি ডেঙ্গোর বিরুদ্ধে। উপরের লক্ষনগুলো প্রকাশের   ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ইউরিন বা প্রস্রাব অথবা মুখের লালায় RT-PCR  লালা পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসটি শনাক্ত করা যায়। লালায় ভাইরাসটি থাকে রোগের শুরুর দিকে, তবে ইউরিনে ভাইরাসটিকে পাওয়া যায় বেশ দীর্ঘ সময় ধরে ( যেমন উপসর্গ হবার ১০ দিন পরেও)।

যদি সেরোলজিকাল টেস্ট করতে হয় তবে দুটি নমুনা নিতে হয়। প্রথম নমুনা ৬ দিনের পর থেকে কোন এক দিন এবং ২য় নমুনা সংগ্রহ করতে হয় ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর। ভুলভাবে পজিটিভ রেজাল্ট হবার সম্ভাবনা থাকে যদি সেই রোগীদের ক্ষেত্রে যদি এই ভাইরাসটি সংক্রমের আগেই অন্য ফ্লাভিভাইরাস – যেমন ডেঙ্গো সংক্রমণ করার যদি ইতিহাস থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আরেকটি বিশেষায়িত পরীক্ষা plaque reduction neutralization testing (PRNT) করা যেতে পারে অ্যান্টিবডিটি সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য। মানুষের রক্তে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলে অসুস্থতা শুরু হবার দিনেই, অসুস্থতা শুরু হবার ১১ দিনের মাথায় রক্তে ভাইরাল নিউক্লিক অ্যাসিড সন্ধান মিলে ।

জিকা ভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রতিকার

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম এক সপ্তাহ রোগীর রক্তে ভাইরাস থাকতে পারে তাই এই সময় রোগীকে যেন মশা না কামড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কারণ ঐ ব্যক্তিকে কামড়ালে ভাইরাস মশার শরীরে প্রবেশ করবে এবং ঐ মশা কোন সুস্থ্য ব্যক্তিকে কামড়ালে সে ব্যক্তিও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবে। জিকা ভাইরাস আপাতদৃষ্টিতে খুব ভয়ংকর না হলেও এর ক্ষতিকর দিক কিন্তু অনেক। এখন পর্যন্ত এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। কোন চিকিৎসা নেই জানার পরেও কিন্ত আমাদের বেশ কিছু করনীয় রয়েছে । যেহেতু আমরা জানি এডিস মশার কারনে এই রোগে ছড়িয়ে পড়ে তাই যথাসম্ভব এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে পারি।

এডিস মশা সাধারণত বালতি, ফুলের টব, গাড়ীর টায়ার প্রভৃতিতে জমে থাকা পানিতে জন্মায় তাই সেগুলোতে যেন পানি না জমে থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘর-বাড়ি মশা মুক্ত রাখতে ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির আশেপাশে যাতে ময়লাযুক্ত পানি দীর্ঘসময় জমে থাকতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। এরা দিনের বেলাতে আক্রমণ করবে। তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারী টানাতে হবে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌনমিলন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেকোনো রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সবথেকে ভালো উপায় হলো নিজেকে সতর্ক রাখা। এলাকার মানুষজন মিলে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন কীটনাশক দূরীকরণের স্প্রে প্রয়োগ একটি ভালো উদ্যোগ। তবে ঝুঁকি আছে এমন এলাকায় যদি আপনি ভ্রমণ করতে চান তাহলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

যেখানে ভাইরাসের প্রকোপ বেশী সেখানে বসবাসকারীদের ইনসেক্ট রেপেলেন্ট ও মশার নেট ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে, এমন কি দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়, এছাড়া ঘরের জানালা দরজায় নেট ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া হালকা রঙে লম্বা হাতা যুক্ত কাপড় পড়তে পরামর্শ দেয়া হয়।

জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক বা চিকিৎসা

জিকা ভাইরাস দমনের জন্য এখনো কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ উদ্ভাবিত হয়নি। তবে  প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান এ দৌড়ে সামিল হয়ে থাকলেও তাদের কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। জেনেভার এক সম্মেলনে এ সংস্থার মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রে খুব শীঘ্রই এর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি স্বীকৃত হয়ে মানুষের নাগালে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ অনেকটা সময়।

জিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাক্সিন ( ভ্যাক্সিন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে) আর সুনির্দিষ্ট ঔষধ নেই, মশার কামড় এড়িয়ে চলা তাই গুরুত্বপূর্ণ।  তবে আক্রান্ত হলে নিন্মোক্ত উপদেশগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন।

১।  বেশী বেশী বিশ্রাম নিন
২।   দেহে পানি স্বল্পতা রোধে বেশী করে পানি পান করুন ।
৩। ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
৪।   আপনি যদি অন্য কোন স্বাস্থ্য গত সমস্যার জন্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে অতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণের কথা ডাক্তারকে                     জানান ।
৫।   আপনি যদি জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হন , তাহলে অসুস্থ হওয়ার প্রথম সপ্তাহ মশার কামড় থেকে দুরে থাকুন

বাংলাদেশ  কি জিকা ভাইরাসের হুমকির মুখে?

আধুনিক যুগে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবার কারণে ভাইরাসটি ছড়ানো সহজ করতে পারে।ডেঙ্গে ভাইরাসের উপস্থিতি  জিকা ভাইরাসের শনাক্ত করণ বেশ জটিল করে দিয়েছে । আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’। সে কারণে ভারত হতে বাংলাদেশেও আক্রমণ হতে পারে এই জিকা ভাইরাসের।  তাই আমরা যে একেবারে হুমকির সম্মুখে না, তা বলা যায় না। তবে আশার কথা এই যে, দক্ষিণ এশিয়াতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জিকা ভাইরাসের গোপন নথি!

আপনার আমার জানার বাইরেও কিছু খবর আছে, যা হয়তো ইচ্ছে করেই রাখা হচ্ছে সবার অগোচরে। বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এ ফাউন্ডেশনের ব্রিটিশ বায়োটেক কোম্পানি ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড এক ধরনের মশার উদ্ভাবন করে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিশেষ ধরনের মশাই আসলে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। যে ভাইরাস মানুষের জীবনে আতংক বয়ে নিয়ে এসেছে, যে রোগ নিয়ে নিত্যদিন মিডিয়া এত বিপুল পরিমাণে মেতে উঠেছে তা প্রাকৃতিক কোনো রোগ নয়!

২০১১ সাল থেকে অক্সিটেক নামের এ কোম্পানি ব্রাজিলের গহীন অরণ্যে এ মশার বংশবিস্তার করে চলেছে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য। এক সপ্তাহে তারা প্রায় দুই মিলিয়ন মশা উৎপাদন করে ব্রাজিলের ক্যম্পিনাসে অবস্থিত ফ্যাক্টরিতে। আরেকটি রহস্যময় তথ্য জেনে নিন। ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল সরকার গর্ভবতী মায়েদের একটি নতুন ভ্যাক্সিন নেয়া অত্যাবশ্যক করেন।

টিডিএপি নামক এ ভ্যাক্সিনের সঠিকভাবে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ এভাবে আবশ্যকীয় করে দেয়া আর ঠিক একই সময়ে এরকম অদ্ভুত শিশু জন্মের হার হুহু করে বেড়ে যাওয়াটা আসলে কাকতালীয় ঘটনা থেকে একটু বেশি কিছুই বলে মনে হয়। এ ভ্যাক্সিনের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে একটু খোঁজ নিতে শুরু করলেই একটি নাম আবার সামনে পেয়ে যাবেন- বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এমনকি এ ভ্যাক্সিন লাইসেন্সড হবার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের শরীরে গিয়ে আসলেই কাজ করে কিনা সেই ব্যাপারে পরীক্ষা করার কোনো নথিপত্রও পাওয়া যায়নি।

একটু যদি অন্যভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে কি এটাই মনে হয় না, জন্মগত এ ত্রুটি আর জিকা ভাইরাসকে একই সময়ে সামনে আনা হয়েছে? ব্রাজিলই বা কেন আমেরিকা থেকে এমন একটি ভ্যাক্সিন কিনে তার দেশে অত্যাবশ্যক করে দিলো যার কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ইতিহাস নেই? নাকি এজন্য তারা উপযুক্ত পরিমাণে পকেট গরম করার সুযোগ পেয়েছে? এখন আবার আমেরিকা জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধকের পেছনে ছুটছে। চেষ্টা করে দেখুন তো এমনই কোনো ঘটনার কথা স্মৃতিতে আসে কি না? হ্যাঁ, একইভাবে মিডিয়া ইবোলা ভাইরাস নিয়েও মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছিল।

যেমনটি আগেই বলেছি অনেক দেশে গর্ভধারণ এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আসলেই বিল গেটস এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র একজন মানুষের শুক্রাণুতে এ ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই একে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের কাতারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানব মনে শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান ধারণের প্রতি আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই বিল গেটস জোরপূর্বক ভ্যক্সিনাইজেশন করে জন্মনিয়ন্ত্রণের সপক্ষে কথা বলেছেন।

তবে এ রহস্যের কূলকিনারা এতো সহজে সম্ভব নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিপক্ষে বা সপক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব কখনোই ছিল না। তাই আমরা শুধু আপনাদের চলতি বিশ্বের পরিস্থিতির কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারি। সত্য-মিথ্যা জানার জন্য আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছু সময়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক ঘটনার সুরাহা যে আমাদের কান পর্যন্ত আসে না, এ নতুন কিছু নয়। তাই আপাতত এসব কোন্দলে না পড়ে আমরা নিজেদের ও নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদানের দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আশা করি বিশ্বে বিরাজমান এ জিকা ভাইরাস আতঙ্ক আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কখনোই হানা দেবে না।

ফাহমিদা ফারজানা অনন্যা
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্বিদ্যালয়

শেষ কথা

জিকা ভাইরাস নিয়ে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রমূলক চিন্তা ধারনা ছড়িয়ে পড়ছে।  যদিও বেশিরভাগেরই কোন বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি নেই আবার সেগুলোকে উড়িয়েও দেওয়া যায় না। অনেকের ধারণা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ভাইরাস ছেড়েছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে জিকা ভাইরাসে মানুষের মৃত্যু হয় না। এমনকি এটি জন্মহারেও কোন প্রভাব ফেলে না। বরং  এতে কিছু শিশু বিকলাঙ্গ হচ্ছে। কম জনসংখ্যার চেয়ে বিকলাঙ্গ জনসংখ্যা আরো বিপদজনক। সুতরাং এটি কখনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ফলপ্রসু ষড়যন্ত্র হতে পারে না।

বাংলাদেশে প্রায়শই কোনো রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না দিয়ে ভয় জাগিয়ে দেওয়া হয়। অযথা ভীতি নিয়ে না থেকে সঠিকভাবে জানুন। নিজে সচেতন হয়ে অন্যকে জানান। সে অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করুন। মানব সভ্যতায় রোগ নতুন কিছু নয়। রোগ লড়াইয়ে প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান ও সাবধানতা। বাংলাদেশ হোক জিকা ভাইরাস মুক্ত-এই কামনা।

তথ্য সূত্রঃ জিরো টু ইনফিনিটি, উইকিপিডিয়া, সাধারণ জ্ঞান,  সিলেট টু ডে ২৪ নিউজ ও নানা ওয়েব পোর্টাল

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক