1

জীবনটা খারাপ নাতো !

মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দেয়া হয়েছে দেখার জন্যে যে কে সেটার কেমন ব্যবহার করে। আমরা চাইলে এটাকে ভালোর জন্যেও ব্যবহার করতে পারি আবার খারাপ কিছুর জন্যেও ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিৎ সেটাকে যুক্তি দিয়ে যাচাই করাটাই শ্রেয়। কেউ যখন তার কর্মকাণ্ডের বেশিরভাগ অংশই যুক্তি দিয়ে চিন্তা করবে অনেক কিছুই তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

রাস্তায় কোন বৃদ্ধ অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে পার হতে ভয় পাচ্ছে। আপনি সেটা দেখলেন। এখন আপনি দুইটা কাজ করতে পারেন।

->আপনি নিজে তাকে রাস্তা পার করতে সাহায্য করতে পারেন।
->ভাবলেশহীনভাবে আপনি যে কাজে ছিলেন সেটা করতে পারেন।

এবার নিজের মাথায় চিন্তার ঝড় তুলুন। কোনটি করা উচিৎ আর কোনটা করা উচিৎ না নিজেই পেয়ে যাবেন।

কোন বন্ধুর স্ট্যাটাসে বা খবরে বা পত্রিকায় জানতে পারলেন যে মুমূর্ষু কোন ভাই কিংবা বোনের রক্তের প্রয়োজন। আর কাকতালীয়ভাবে আপনার শরীরেও সেই রক্ত। এখন আপনি তিনটা কাজ করতে পারেন।

->স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে পারেন।
->অন্য কাউকে স্ট্যাটাস শেয়ারের মাধ্যমে বা মুখে বলে রক্ত দেয়ার জন্যে বলতে পারেন।
->ভাবলেশহীনভাবে আপনি যে কাজে ছিলেন সেটা করতে পারেন।

কি করবেন সেটা নিতান্তই আপনার সিদ্ধান্ত। তারপরেও কিছুটা সময় নিন, ভাবুন। আপনি পূর্ণবয়স্ক হলে আর শারীরিক কোন সমস্যা না থাকলে নিজেই কিন্তু রক্ত দিয়ে আসতে পারেন। আপনার জানার জন্যে বলছি আপনার রক্তের লোহিতকণিকার আয়ু মাত্র চার মাস তথা ১২০ দিন। এর মধ্যে আপনি রক্ত দিন বা না দিন আপনার রক্ত নষ্ট হয়ে নতুন রক্ত তৈরী হবে। আর নিয়মিত চার মাস পর পর রক্ত দিলে আপনার হৃদরোগের ঝুকি কমবে, নতুন ব্লাড সেল তৈরীর প্রবণতাও বাড়বে। যদি কোন কারণে অপারগ হন তাহলে কাউকে জানাতে পারেন বা কোনভাবে ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। আপনার খানিকটা সহায়তাই হয়তো কারো জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

ভাবলেশহীনভাবে নিজের কাজে মনোনিবেষের চেয়ে কিছুটা সময় ব্যয় করে একটু কষ্ট করে একটা মানুষের জীবন বাঁচাতে পারলে আপনি যে তৃপ্তি পাবেন সেটা টাকার বিনিময়ে কেনা সম্ভব না। 🙂

আপনি কাঠফাটা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে দোকান থেকে এক বোতল পানি কিনলেন। এক বোতল পানির দাম আর কয় টাকা? দেড়-দুই লিটার পানি পাওয়া যায় ৩০টাকার মধ্যেই। আপনি সামান্য সময় কাঠফাটা রোদে অতিষ্ঠ ! একবার ভাবুনতো সেই লোকটির কথা যিনি সকাল সকাল বাড়ি থেকে বের হন এরপর বিকেলে রোদ পড়ার আগ পর্যন্ত তাকে সেই রোদে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়… ভাবুন যার কাজই কাকমরা রোদে দাঁড়িয়ে থেকে আপনাকে দ্রুত অফিসে, বাসায় পৌছতে সাহায্য করা। হ্যা আমি সেই ট্রাফিক পুলিশের কথা বলছি…

সমস্যা না থাকলে এক বোতল ঠাণ্ডা পানি তার জন্যেও কিনুন না। তার কাছে গিয়ে বাড়িয়ে দিন পানির বোতল… উনার খুশি দেখে আপনার গায়ের রোম দাঁড়িয়ে যাবে। ট্রাফিকের পুলিশের সারা শরীর দিয়ে কৃতজ্ঞতা চুইয়ে বের হবে। সেটার যে তৃপ্তি তাতে সারাদিন আপনি হাজার দুঃখ কষ্টেও ভালো থাকার উপায় খুঁজে পাবেন।

দিনে অন্তত একটি ভাল কাজ করেই দেখুন। মানুষকে নতুনভাবে দেখতে শিখবেন আর ভাববেন “জীবনটা খারাপ নাতো”  🙂