সম্ভাবনাময় টার্কি মুরগী পালন বদলে দিতে পারে বেকারত্বের অভিশাপ

টার্কি এক সময়ের বন্য পাখী হলেও এখন একটি গৃহ পালিত বড় আকারের পাখী । এটি গৃহে পালন শুরু হয় উত্তর আমেরিকায় । কিন্ত বর্তমানে ইউরোপ সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এই পাখী কম–বেশী পালন করা হয় । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কি পাখির মাংস বেশ জনপ্রিয় । বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্যতালিকায় অন্যতম উপাদান। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে ওঠার ছয় মাসের মধ্যে টার্কি ডিম দেয়। ছয় মাসের মেয়ে টার্কির ওজন হয় পাঁচ থেকে ছয় কেজি। আর পুরুষগুলো প্রায় আট কেজি। আমেরিকায় টার্কির রোস্ট অভিজাত খাবার। আমাদের দেশে মুরগির মাংসের মতো করেই টার্কি রান্না করা হয়। রোস্ট ও কাবাব করা যায়।

পাখীর মাংসের মধ্যে হাস, মুরগী, কোয়েল, তিতির এর পর টার্কির অবস্থান । টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে । এর মাংসে প্রোটিন বেশী , চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখীর মাংসের চেয়ে বেশী পুষ্টিকর ।পশ্চিমা দেশ গুলতে টার্কি ভীষণ জনপ্রিয় । তাই সবচেয়ে বেশী টার্কি পালন হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স,ইতালি,নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড সহ অন্যান্য দেশে । তবে বাংলাদেশেও এখন ব্যাক্তি উদ্যোগে টার্কি চাষ শুরু হয়েছে । যেটা আমাদের জন্য সুখবর । এবং বেকার যুবকদের টার্কি পালনে আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরে এটা ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করবে ।

দেশের বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। যেখানে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার  ৪৬% সেখানে অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করেই এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ লাভের মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। বাংলাদেশে টার্কি পালন নতুন হলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে ব্যাপক হারে পালন করা হচ্ছে টার্কি। নতুন জন্ম নেয়া বাচ্চা কম সময়ের মধ্যে লালন পালন করেই মাত্র তিন মাসের মাথায় টার্কিগুলো দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে বেশ ভালো মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা।

টার্কির আদ্যপান্ত  

টার্কি (ইংরেজি: Turkey) মেলিয়াগ্রিডিডেই পরিবারের এক ধরণের বৃহদাকৃতির পাখিবিশের।  এক প্রজাতির বুনো টার্কি মেলিয়াগ্রিস গ্যালোপাভো উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার বনাঞ্চলে বসবাস করে অন্য জীবিত প্রজাতির মধ্যে মেলিয়াগ্রিস ওসেলাটা বা চক্ষু আকৃতির চিহ্নবিশিষ্ট টার্কি আবাসস্থল হচ্ছে ইউকাতান উপ-দ্বীপের বনাঞ্চলে।  বিশ্বের সর্বত্র টার্কি গৃহপালিত পাখিরূপে লালন-পালন করা হয়।

মেলিয়াগ্রিডিডেই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত টার্কি দেখতে কিছুটা মুরগির মত। এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো হলেও তুলনামূলকভাবে অনেক বড়। মেলিয়াগ্রিস গ্যালোপাভো নামে এক প্রজাতির বুনো টার্কি উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার বনাঞ্চলে দেখা দেয়। মেলিয়াগ্রিস ওসেলাটা বা চোখ আকৃতির চিহ্নবিশিষ্ট টার্কির আবাসস্থল ইউকাতান উপদ্বীপের বনাঞ্চল।

অন্যদিকে গৃহপালিত টার্কি এর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ধরনের। বিশ্বের সবখানেই টার্কি গৃহপালিত পাখি হিসেবে পালন করা হয়। বিশ্বে টার্কির গৃহপালিত প্রজাতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ, ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট, বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট ও নন্দনম টার্কি।

১)  ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ
পালকের মূল রং কালোতামাটে নয়৷ মাদী পাখির বুকের পালকের রং কালো তার ডগাগুলি সাদা হয়যার দরুন মাত্র 12 সপ্তাহ বয়সেই লিঙ্গনির্ধারণ করা যায়৷

২) ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট:
এটি ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ  হোয়াইট হল্যাণ্ডের সংকর যার পালকগুলি সাদা হয়৷ সাদা পালকের টার্কির গরম সহ্য করার ক্ষমতা বেশি  সেই সঙ্গেপালক ছাড়ানোর পরে এদের পরিষ্কার  ভাল দেখায়৷

৩)  বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট:
এটি রং  আকারে ব্রড  ব্রেস্টেড হোয়াইট প্রজাতির খুবই কাছাকাছি তবে আয়তনে ছোট৷ ভারী প্রজাতিগুলির তুলনায় এদের ডিম দেওয়াউর্বরতা ডিম ফোটার পরিমাণ বেশী হয় এবং ডিমে তা দেওয়ার ঝোঁক কম হয়৷

৪)   নন্দনম টার্কি 1

নন্দনম টার্কি – 1 প্রজাতিটি কালো দেশী প্রজাতি  বিদেশী বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট প্রজাতির শংকর৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসীরা সনাতনী ধারায় থ্যাঙ্কসগিভিং ডে’র ছুটির দিনে টার্কি ভোজন করে থাকে। এছাড়াও, ইউরোপীয় দেশগুলোয় বিশেষ খ্রীষ্টিয় পর্বের আহারেও টার্কি খাওয়া হয়। মূলতঃ টার্কি উৎপাদন মৌসুমভিত্তিক হলেও সারা বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাবারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে আছে। মেলিয়াগ্রিস গ্যালোপাভো জাতের টার্কি উত্তর আমেরিকায় খেলাধূলার বিনোদনে ব্যবহার করা হয়।

টার্কির মাংস

২৪ সপ্তাহ বয়সেই বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে টার্কি। একটি মেয়ে টার্কির ৫-৬ কেজি এবং পুরুষ টার্কি ৮-১০ কেজি ওজন হয়। তবে সাধারনত বাজারজাত করার ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক একটি পুরুষ টার্কির আদর্শ ওজন ৭ দশমিক ২৬ কেজি। মাদি টার্কির ক্ষেত্রে তা সাড়ে পাঁচ কেজি। টার্কির মাংস মূলত আমরা মুরগির মাংসের মতই খেয়ে থাকি।  টার্কির মাংসে চর্বির হার একেবারেই কম।

টার্কির প্রতি ১০০ গ্রাম মাংসে প্রোটিন ও ফ্যাটের পরিমাণ যথাক্রমে ২৬ ও ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া এতে এনার্জির পরিমাণ ১৬২ ক্যালরি। এছাড়া এতে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, সেলেনিয়াম, জিংক ও সোডিয়ামের মতো খনিজ পদার্থের উপস্থিতিও রয়েছে। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়াসিন-জাতীয় অ্যামিনো অ্যাসিডে ভরপুর টার্কির মাংসে ভিটামিন বি৬ ও বি১২-এর প্রাচুর্য রয়েছে। এটি অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অত্যাবশ্যক ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ এবং এতে কোলেস্টেরলের পরিমাণও অনেক কম।

টার্কি পালন

বাংলাদেশে টার্কি পালনের ইতিহাস বেশি দিনের না । দেশের গ্রাম ও শহরাঞ্চলের মানুষের এখন পাখিটির  প্রতি আগ্রহ জন্মেছে। টার্কি পালনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আমাদের দেশে বেশ ভাল । দেশে কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে টার্কি পালনের প্রসার ঘটানো গেলে কর্মসংস্থানের হার অনেকাংশে বাড়ানো যাবে। টার্কি পালনের জন্য যে  খুব বেশি অভিজ্ঞতার প্রয়োজন পড়ে এমন নয়। সঠিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললেই একজন  টার্কি চাষি ভাল আয় করতে পারবেন।

প্রজাতির নির্বাচন: টার্কি বাণিজ্যিক ভাবে মাংস উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত. ভারতে চাষকৃত টার্কির বিভিন্ন প্রজাতির নীচে তালিকা দেয়া হলো ।

ব্রোঞ্জ, বোরবন লাল, কালো এবং স্লেট, ছোট সাদা ও হোয়াইট হল্যান্ড ।

তালিকাভুক্ত প্রজাতির মধ্যে “হোয়াইট হল্যাড” ও “কালো এবং স্লেট” প্রজাতির টার্কি বাংলাদেশ ও এশিয়ার কিছু অন্যান্য গরম দেশের জন্য খুবই উপযুক্ত.এবং এটা আমাদের দেশে এখন পাওয়া যাচ্ছে ।

টার্কির পরিচালন পদ্ধতিসমূহ

ইনকিউবেশন বা ডিম ফোটান :

(ক) তা দেওয়া মাদীর সাহায্যে স্বাভাবিকভাবে ডিম ফোটান:

টার্কি স্বাভাবিকভাবেই ভাল তা দেয় এবং তা-দিতে বসা মাদী ১০-১৫ টি ডিম ফোটাতে পারে৷ ৬০-৮০% ডিম ফোটা ও সুস্থ শাবক লাভের জন্য কেবলমাত্র ভাল খোলা ও আকার এর পরিষ্কার ডিমই তা-য়ে বসাতে হবে।

(খ)কৃত্রিম উপায়ে  বা ইনকিউবেটরের সাহায্যে ডিম ফোটান:

কৃত্রিম উপায়ে, ইনকিউবেটরের সাহায্যে ডিম ফোটান হয়৷ সেটার ও হ্যাচারের তাপমান ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা নিম্নরূপ হতে হবে

তাপমান(ডিগ্রি ফা.)

আপেক্ষিক আর্দ্রতা(%)

সেটার 99.5

61-63

হ্যাচার 99.5

85-90

ব্রীডিং

টার্কির ০-৪ সপ্তাহ বয়সকে ব্রীডিং পিরিয়ড বলা হয়৷ তবে শীতকালে ব্রীডিং পিরিয়ড বাড়িয়ে ৫-৬ সপ্তাহ করা হয়ে থাকে৷ সাধারণভাবে মুরগীর তুলনায় টার্কির দ্বিগুণ হোভারের জায়গা লাগে৷ এক দিন বয়সের শাবকদের ব্রুডিঙের জন্য অবলোহিত আলোর বাল্ব বা গ্যাস ব্রুডার ওচিরাচরিত ব্রীডিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়৷

  • ০-৪ সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার মাপ পাখী প্রতি ১.৫ ব.ফু.৷
  • শাবক এসে পৌঁছোনোর অন্তত দু দিন আগে ব্রীডার হাউস তৈরী রাখতে হবে
  • ২মিটার ব্যাস জুড়ে গোলাকারে লিটার বিছিয়ে রাখতে হবে৷
  • শাবকরা যাতে তাপের উত্স থেকে দূরে চলে না যায় তাই অন্তত 1 ফুট উচ্চতার একটি বেড়া রাখতে হবে
  • প্রারম্ভিক তাপমাত্রা ৯৫০ফা. রাখতে হবে যা প্রতি সপ্তাহে 50 ফা. করে কমাতে হবে যতদিন না শাবকদের বয়স ৪ সপ্তাহ হয়।
  • অগভীর জলপাত্র ব্যবহার করতে হবে ৷

প্রথম চার সপ্তাহে গড় মৃত্যুর হার থাকে ৬-১০% । প্রথম দিকে জন্মের পর শাবকরা কিছু দিন খেতে বা পান করতে চায় না কারন তখন এদের দৃষ্টি শক্তি কম থাকে বাং ভয় পায়। এ কারনে জোড় করে খাওয়াতে হয়।

জোর করে খাওয়ান:

টার্কি শাবক জন্মের কিছু দিনের মধ্যে যেগুলো মারা যায় তার মূল কারন সাধারণত অভুক্ত থাকা। তাই খাদ্য ও পানি সরবরাহে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।   জোর করেখাওয়ানর ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জলে ১০০ মিলি হারে দুধ মিশিয়ে খাওয়াতে হবে এবং  ১৫  দিন পর্যন্ত প্রতি ১০ টি শাবকের জন্য একটি ডিম সিদ্ধদিতে হবে ৷ এটি শাবকদের প্রোটিন ও এনার্জির প্রয়োজন মেটাবে৷ 

খাবারের পাত্রটিকে আলতো করে আঙুল দিয়ে ঠুকে শাবকদের খাবারের দিকে আকৃষ্ট করা যেতে পারে৷ ফীডার এবং ওয়াটারারে রঙিন মার্বেল বানুড়িপাথর রাখলেও শাবকেরা সেদিকে আকর্ষিত হবে৷ যেহেতু টার্কিরা সবুজ শাকপাতা ভালবাসে, তাই খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেকিছু কুচোন সবুজ পাতাও খাবারে মেশাতে হবে৷ এই সঙ্গে প্রথম 2 দিন রঙীন ডিমের পাত্রকেও ফীডার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে৷

লিটারের সরঞ্জাম

ব্রীডিঙের জন্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত লিটারের সরঞ্জামগুলি হল কাঠের চোকলা, কাঠের গুঁড়ো, ধানের তুষ, কুচোন খড় ইত্যাদি৷ প্রথমে লিটার ২ ইঞ্চি পুরু করে বিছাতে হবে এবং আস্তে আস্তে তা বাড়িয়ে ৩-৪  ইঞ্চি পর্যন্ত করা যেতে পারে৷ দলা বেঁধে যাওয়া আটকাতে লিটার কিছুদিন পরেপরেই উলটে পালটে দিতে হবে৷

টার্কি পাখির কি খায়

বন্য টার্কি সাধারণতঃ বনভূমিতে পানির কাছাকাছি এলাকায় থাকতেই বেশি পছন্দ করে। ফসলের বীজ, পোকামাকড় এবং মাঝেমাঝে ব্যাঙ কিংবা টিকটিকি খেয়েও এরা জীবনধারণ করেন।
গৃহপালিত বা খামারে যারা টার্কি পালন করছেন তারা মোট খাবারের ৫০ ভাগ সবুজ ঘাস, শাক (পালং, সরিষা, কলমি, হেলেঞ্চা, সবুজ ডাটা, কচুরিপানা দিবেন। একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কির দিনে ১৪০- ১৫০ গ্রাম খাবার দরকার হয় । যেখানে ৪৪০০- ৪৫০০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে হবে । এছাড়া বয়লার বা লেয়ার মুরগীর খাবারও এরা খেয়ে থাকে।

সতর্কতা: শাকে অনেক সময় কীটনাশক থাকে। তাই শাক দেয়ার আগে এগুলো এক ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর তা কেটে খাওয়াতে হবে।

টার্কি মূলত দুইভাবে পালন করা যায়-

১. মুক্ত চারণ পালন পদ্ধতি;
২. নিবিড় পালন পদ্ধতি।

মুক্ত চারণ পালন পদ্ধতি :

মুক্ত চারণ পদ্ধতিতে এক একর ঘেরা জমিতে ২০০-২৫০টি পূর্ণ বয়স্ক টার্কি পালন করা যায়। রাতে পাখি প্রতি ৩-৪ বর্গফুট হারে জায়গা লাগে। চরে খাওয়ার সময় তাদের শিকারি জীবজন্তুর হাত থেকে বাঁচানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ছায়া ও শীতল পরিবেশ জোগানের জন্য খামারে গাছ রোপণ করতে হবে। চারণভূমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করতে হবে এতে পরজীবীর সংক্রমণ কম হয়। এ পদ্ধতির সুবিধা হলো খাবারের খরচ প্রায় অর্ধেক কম লাগে যা স্বল্প বিনিয়োগে খরচের তুলনায় লাভের হার বেশি হয়।

খাবার

মুক্ত চারণ পদ্ধতিতে টার্কি খুব ভালোভাবে আবর্জনা খুঁটে খায় বলে এরা কেঁচো, ছোট পোকামাকড়, শামুক, রান্নাঘরের বর্জ্য ও উঁইপোকা খেতে পারে। এগুলোত প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা খাবারের খরচকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এছাড়া শিম জাতীয় পশুখাদ্য যেমন- লুসার্ন, ডেসম্যান্থাস, স্টাইলো এসব খাওয়ানো যায়। চরে বেড়ানো পাখিদের পায়ের দুর্বলতা ও খোঁড়া হওয়া আটকাতে খাবারে ঝিঁনুকের খোলা মিশিয়ে সপ্তাহে ২৫০ গ্রাম হিসেবে ক্যালসিয়াম দিতে হবে। খাবারের খরচ কম করার জন্য শাকসবজির বর্জ্য অংশ দিয়ে খাবারের ১০ শতাংশ পরিমাণ পূরণ করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য রক্ষা

মুক্তচারণ ব্যবস্থায় পালিত টার্কির অভ্যন্তরীণ (গোল কৃমি) ও বাহ্য (ফাউল মাইট) পরজীবী সংক্রমণের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে। তাই পাখিদের ভালো বিকাশের জন্য মাসে একবার ডিওয়ার্মিং ও ডিপিং করা আবশ্যক।

নিবিড় পালন পদ্ধতি  

নিবিড় পালন পদ্ধতিতে টার্কির বাসস্থান এদের রোদ, বৃষ্টি, হাওয়া, শিকারি জীবজন্তু থেকে বাঁচায় ও আরাম জোগায়। অপেক্ষাকৃত গরম অঞ্চলগুলোতে খামার করলে ঘরগুলো লম্বালম্বি পূর্ব থেকে পশ্চিমে রাখতে হবে। খোলা ঘরের প্রস্থ ৯ মিটারের বেশি হওয়া চলবে না। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ঘরের উচ্চতা ২.৬ থেকে ৩.৩ মিটারের মধ্যে থাকতে হবে। বৃষ্টির ছাঁট আটকাতে ঘরের চালা এক মিটার বাড়িয়ে রাখতে হবে। ঘরের মেঝে টেকসই, নিরাপদ ও আর্দ্রতারোধক বস্তু যেমন- কংক্রিটের হওয়া বাঞ্ছনীয়। কম বয়সি এবং প্রাপ্ত বয়স্ক পাখির ঘরের মধ্যে অন্তত ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং পাশাপাশি দুটি ঘরের মধ্যে অন্তত ২০ মিটার দূরত্ব থাকতে হবে। ডিপ লিটার পদ্ধতিতে টার্কি পালনের সাধারণ পরিচালনা ব্যবস্থা মুরগি পালনেরই মতো, তবে বড় আকারের পাখিটির জন্য যথাযথ বসবাস, ওয়াটারার ও ফিডারের জায়গার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সুবিধা

উন্নত উৎপাদন দক্ষতা; উন্নততর পরিচালন ও ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ।

নিবিড় পালন ব্যবস্থায় খাদ্য

নিবিড় পালন ব্যবস্থায় টার্কি মুরগিকে ম্যাশ ও পিলেট (ট্যাবলেট) দুইভাবেই খাবার দিতে হবে। মুরগির তুলনায় টার্কির শক্তি, প্রোটিন ও খনিজের প্রয়োজন বেশি। সেজন্য টার্কির খাবারে এগুলোর আধিক্য থাকতে হবে। খাবার মাটিতে না দিয়ে ফিডারে দিতে হবে। যেহেতু পুরুষ ও মাদিও ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শক্তির (এনার্জি) পরিমাণ আলাদা, তাই ভালো ফল পাওয়ার জন্য তাদের পৃথকভাবে পালন করতে হবে। টার্কিদের সব সময় অবিরাম পরিষ্কার পানির প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালে ওয়াটারারের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে এবং আপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা সময়ে খাবার দিতে হবে। পায়ের দুর্বলতা এড়াতে দিনে ৩০-৪০ গ্রাম হারে ঝিঁনুকের খোসার গুঁড়া দিতে হবে এবং খাবারে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে তা আস্তে আস্তে করতে হবে।

সবুজ খাদ্য

নিবিড় পদ্ধতিতে ড্রাই ম্যাশ হিসাবে মোট খাদ্যের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সবুজ খাবার দেয়া যায়। সব বয়সের টার্কির জন্য টাটকা লুসার্ন প্রথম শ্রেণীর সবুজ খাদ্য। এছাড়া খাবারের খরচ কম করার জন্য ডেসম্যান্থাস ও স্টাইলো কুচি করে টার্কিদের খাওয়ানো যেতে পারে।

ডিবীকিং(ঠোঁট কাটা)

পালক খোঁটা ও পরস্পরকে ঠোকরান নিয়ন্ত্রণ করতে বাচ্চা পাখির ডিবীকিং করতে হবে৷ এক দিন বা ৩-৫ সপ্তাহ বয়সে ডিবীকিং করা যায় ৷ নাকের ছিদ্র থেকে ঠোঁটের ডগার প্রায় অর্ধেক দূরত্বে ঠোঁট কেটে দিন ৷

ডিস্নুডিং

ঠোকরান ও মারামারি থেকে মাথায় আঘাত লাগা আটকাতে স্নুড বা ডিউবিল (ঠোঁটের গোড়ায় মাংসল পিণ্ড) সরিয়ে ফেলা হয়৷ এক দিন বয়সে আঙুলের চাপ দিয়ে স্নুড তুলে ফেলা যায় ৩ সপ্তাহ বয়সে তা ধারাল কাঁচি দিয়ে মাথার একেবারে কাছাকাছি কেটে ফেলা যায়৷

ডিটোয়িং বা পায়ের আঙুল কাটা(ক্লিপিং) :

এক দিন বয়সে ক্লিপিং করা হয়৷ এর জন্য বাইরের দিকের টো প্যাডের ভেতর ঘেঁষে আঙুলের ডগা ও পুরো নখটি কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়৷

ডিম উৎপাদন :

৩০ সপ্তাহ বয়সেই একেকটি মাদি টার্কি ডিম পাড়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। সঠিক খাদ্য ও যথাযথ কৃত্রিম আলোর প্রয়োগ করা হলে প্রতিটি মাদি টার্কি বছরে ৬০-১০০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে । ৬০ – ৭০ শতাংশ টার্কি মুরগী বিকেল বেলায় ডিম দেয় । রঙিন এসব ডিমের ওজন হয় প্রায় ৮৫ গ্রাম। এসব ডিমের একদিক একটু সুচালো ও খোলা শক্ত। টার্কির ডিমে প্রোটিন, লিপিড, কার্বোহাইড্রেট ও খনিজ পদার্থ থাকে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ১, ১১ দশমিক ৮, ১ দশমিক ৭ ও দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতি গ্রাম কুসুমে কোলেস্টেরল থাকে ১৫ দশমিক ৬৭ থেকে ১৩ দশমিক ৯৭ মিলিগ্রাম। টার্কির ডিম দেশী মুরগি বা ইনকিউবেটর ব্যবহার করে ফুটানো যায়।

সতর্কতা :

অন্যান্য পাখির তুলনায় টার্কির জন্য বেশী ভিটামিন, প্রোটিন, আমিষ, মিনারেলস দিতে হয় । কোন ভাবেই মাটিতে খাবার সরবরাহ করা যাবে না । সব সময় পরিষ্কার পানি দিতে হবে । সবুজ খাবার – সব সময় মোট খাবারের সঙ্গে ৫০% সবুজ ঘাস খেতে দিলে ভালো । সে ক্ষেত্রে নরম জাতীয় যে কোন ঘাস হতে হবে । যেমন – কলমি, হেলেঞ্চা ইত্যাদি । একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কির দিনে ১৪০ – ১৫০ গ্রাম খাবার দরকার হয় । যেখানে ৪৪০০ – ৪৫০০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে হবে ।

প্রজনন ব্যবস্থা :

একটি টার্কি মুরগীর জন্য ৪ – ৫ বর্গ ফুট জায়গা নিশ্চিত করতে হবে । ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যাবস্থা থাকতে হবে । ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । একটি মোরগের সঙ্গে ৩ বা ৪ টি মুরগী রাখা যেতে পারে । ডিম সংগ্রহ করে আলাদা জায়গায় রখতে হবে । ডিম প্রদান কালীন সময়ে টার্কিকে আদর্শ খাবার এবং বেশী পানি দিতে হবে ।

যত্ন নেওয়া

টার্কির ঘর ও ঘরের আশপাশের ঝোপজঙ্গল কেটে পরিষ্কার রাখতে হয়। এছাড়া পাখির বাসস্থানে যেন সবসময় আলো-বাতাসের প্রবাহ থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। টার্কিকে কখনই মাটিতে খাবার সরবরাহ করা যাবে না। সেক্ষেত্রে খাবারের অপচয় হবে। এছাড়া পাখিটির জন্য সবসময় পরিষ্কার পানির সরবরাহ থাকাও জরুরি। এছাড়া পাখিটির বাসস্থানে পর্যাপ্ত জায়গারও প্রয়োজন হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক টার্কির জন্য অন্তত চার-পাঁচ বর্গফুট জায়গা নিশ্চিত করতে হবে।

বাচ্চা ফুটানো :

টার্কি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় । তবে দেশী মুরগী অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায় । তাছাড়া বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সময় নষ্ট না হওয়ার কারণে টার্কিও ডিম উৎপাদন বেশী করে ।

রোগ বালাই :

গৃহপালিত টার্কির বেশকিছু রোগবালাই দেখা দেয়। পাখিটির জন্য মারাত্মক কয়েকটি রোগ হলো পক্স, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, মাইটস, সালমোনেলোসিস ও কলেরা। এগুলো থেকে রক্ষার জন্য টার্কিকে নিয়মিত টিকা দিতে হবে। তবে রোগাক্রান্ত পাখিকে কোনো অবস্থায়ই টিকা দেয়া যাবে না। অসুস্থ টার্কিগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অন্যান্য পাখির কাছ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় রোগ ছড়াতে পারে। বেশি সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পালন করা হলেও টার্কির মধ্যে রোগের সংক্রমণ হতে পারে।

টার্কির জন্য বয়স অনুযায়ী ভ্যাকসিন

একদিনের বাচ্চা ——- নিউ কাসল রোগ এর বি১ স্টেরেইন ( New Castle Disease- B1 Strain )
৪র্থ ও ৫ ম সপ্তাহ——- ফাউল পক্স ( Fowl Pox )
৬ ষ্ঠ সপ্তাহে ————–নিউ কাসল রোগ (New Castle Disease–R2B)
৮ – ১০ সপ্তাহ ————কলেরা ভ্যাকসিন ( Cholera Vaccine )

সতর্কতা

কোন অবস্থায় রোগাক্রান্ত পাখিকে টিকা দেয়া যাবে না। প্রতিবার  টিকা প্রদান করার পূর্বে টিকার গায়ে দেয়া মেয়াদ উত্তের্ণের তারিখ দেখে নিবেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ টিকা কোন অবস্থাতেই প্রয়োগ করবেন না ।
এছাড়া নিয়ম মাফিক, পরিচ্ছন্ন খাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক রোগ বালাই এড়িয়ে চলা সম্ভব ।

বাজার সম্ভবনা :

টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে । পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে । যাদের অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু / খাসীর মাংস খায়না , টার্কি তাদের জন্য হতে পারে প্রিয় একটি বিকল্প । তাছাড়া বিয়ে, বৌ –ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর/গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার । এবং গরু / খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম ।

বানিজ্যিক খামার করলে এবং মাংস হিসেবে উৎপাদন করতে চাইলে ১৪/১৫ সপ্তাহে একটি টার্কির গড় ওজন হবে ৫/৬ কেজি । ৪০০ টাকা কেজি দর হিসেব করলে একটি টার্কির বিক্রয় মুল্য দাঁড়াবে ২০০০/২৫০০ টাকা । ১৪/১৫ সপ্তাহ পালন করতে সর্বচ্চ খরচ পরবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা । তাহলে কম পক্ষে একটি টার্কি থেকে ৫০০ টাকা লাভ করা সম্ভব ।

তবে মাংস হিসেবে বানিজ্যিক খামার গড়ে উঠতে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে । কারন তাতে বিদেশ থেকে আরো উন্নত জাতসংগ্রহ করতে হবে, অধিক বিনিয়োগ করতে হবে । কিন্তু বর্তমানে ছোট আকারের খামার করার যে চাহিদা দেশ ব্যাপী তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী ৩/৪ বসরে কয়েক লাখ টার্কির প্রয়োজন হবে । এবং সে ক্ষেত্রে দাম ও বেশী পাওয়া যাচ্ছে । ৩০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বয়স ও রং ভেদে টার্কির জোড়া কেনা – বেচা চলছে ।

আপনি কেন টার্কির খামার করবেন

দেশের নগর ও গ্রামাঞ্চলে অনেক জমি অনাবাদি বা পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসব জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে নানা ধরনের ঘাস, লতা, আগাছা। এ ধরনের উন্মুক্ত জায়গা টার্কি পালনে ব্যবহার করলে একদিকে যেমন অনুপাদনশীল সম্পদকে উৎপাদনশীল করে তোলা সম্ভব, অন্যদিকে কর্মসংস্থানও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে যারা কম ঝামেলা ও পুঁজিতে ভালো আয়ের উত্স খুঁজছেন, টার্কি খামার তাদের জন্য আদর্শের।

আমাদের দেশে এখন চাকরির তুলনায় চাকরি প্রত্যাশির সংখ্যা অনেক বেশি। তাই কর্মক্ষম জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। তারা না পাচ্ছে চাকরি আর না পারছে আত্মসম্মান নিয়ে বাচতে । টার্কি পালন তাদের এদু'টি সমস্যা থেকেই মুক্তি দিতে পারে। আপনি কেন টার্কি পালনে নিয়োজিত হবেন ?

১। অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যের মত  টার্কি খামার করতে খুব বেশী পুঁজির প্রয়োজন হয় না ।

২।  গরু কিংবা মুরগি যাইহোক না কেন  অন্যান্য ফার্মের তুলনায়  টার্কি ফার্মে রোগ বালাই কম  হয়  এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই খামারে ঝুঁকি অনেক কম ।

৩। টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ অনেক কম, কারণ এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি শাক, ঘাস,লতাপাতা খেতেও পছন্দ করে । যেহেতু ৫০% পর্যন্ত ঘাস দেয়া যায়, তাই খবারে খরচ কম ।

৪। টার্কি পাখি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে ।

৫। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায় ।

৬। বাজার চাহিদা প্রচুর ।

৭। উচ্চ মুল্য থাকায় খরচের তুলনায় আয় অনেক বেশী ।

ইতিকথা

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে টার্কি মুরগি পালন দিনে দিনে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। টার্কি বাণিজ্যিক মাংস উৎপাদনের জন্য খুবই উপযুক্ত কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয়।  তারা দেখতে খুব সুন্দর হয় এবং আপনার বাড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে করতে সাহায্য করে।

টার্কি মুরগি দ্রুত বড় হয়ে যায় এবং ব্রয়লার মুরগির মতো খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অন্যান্য পরিস্থিতিতে টার্কি মুরগি পালনের জন্য খুবই উপযুক্ত। এগুলোর পালন মুরগির মতো খুব সহজ।

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন-ব্যবসা করে ভালো মুনাফা অর্জনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। একটুখানি সচেতনতা, সরকারি গবেষণা এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক অংশগ্রহণে এ টার্কিই হয়ে উঠতে পারে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম  এমনকি ব্যপক উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উপায়।

তথ্য সূত্রঃ http://test19668.blogspot.com, http://www.ais.gov.bd ও নানা ওয়েব পোর্টাল

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক