ডাবের পানির উপকারিতার পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু অপকারিতা

ডাব একটি অতিপরিচিত শব্দ। রোগী কিংবা সুস্থ সকলের কাছে এটি একটি সুপেয় পানীয়। লো ক্যালোরি, প্রাকৃতিক এনজাইম ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ ডাবের পানি একটি অসাধারণ পানীয়। গরমে ছোট-বড় সবারই দেহের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়।  ডাবের পানি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে শরীরকে রাখে ঠাণ্ডা। এটি সৌন্দর্যচর্চার প্রাকৃতিক মাধ্যম ও চর্বিবিহীন পানীয়। ডাবের পানি মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকারী।
ডাবের পানি যে কোনো কোমল পানীয় থেকে অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ। গরমের দিনে এ পানি তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ও শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায়। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং ডায়াবেটিস ফাইবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান।  আজকে সকালে ডাবের পানি খাচ্ছিলাম তখন মনে পড়ল আচ্ছা ডাবের পানির উপকারিতাগুলো কি কি ? তাই অনলাইন ঘেটে সেসব একসাথে জড়োর করার চেষ্টা করেছি। আসুন জেনে নেই ডাবের কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা।

ডিহাইড্রেশন

অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীরে ঘামের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি বেরিয়ে যায়। আবার কখনও অতিরিক্ত গরমে ডায়রিয়া বা বমির ফলেও অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। প্রয়োজনীয় জল শরীর থেকে বেরিয়ে যাবার ফলে ডিহাইড্রেশনের মত সমস্যা হয়। গরমের সময় তৃষ্ণা মেটাতে বা অন্য কোন কারনে পানির অভাব পূরন করতে আমরা নানা ধরনের পানীয় পান করে থাকি। কিন্তু সেগুলো শরীরের কতখানি উপকার বা অপকার করছে তা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই।

এমন পরিস্থিতিতে ডাবের পানি খুবই উপকারী। এটি কোনো কৃত্রিম পানীয় নয়। এতে আছে কার্বোহাইড্রেড যা এনার্জি বাড়ায়। ডাবের পানি এতটাই এনার্জি দেয় যে একে স্পোর্টস ড্রিঙ্কস হিসাবে ব্যবহার করা যায়। শরীর থেকে যেসব লবণ গরমের কারণে বের হয়ে যায় তা পূরণ করার জন্য আমাদের খাদ্য তালিকায় নানা ধরনের ফলের সরবত, কোমল পানীয়র পাশাপাশি ডাবের পানি রাখা যায়।

ডায়রিয়া বা কলেরা রোগীদের ঘনঘন পাতলা পায়খানা ও বমি হলে দেহে প্রচুর পানি ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি দেখা যায়। ডাবের পানি এই ঘাটতি অনেকাংশেই পূরণ করতে পারে। নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কিডনি সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ হয়৷।

ব্যায়ামের পর যখন শরীর ঘেমে ক্লান্ত হয়ে যায় তখন ডাবের পানি পান করলে শরীরের ফ্লুইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।

আয়রনও রয়েছে ডাবের পানিতে যথেষ্ট পরিমাণে। রক্ত তৈরি করার জন্য আয়রন হলো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত তৈরি হলে প্রতিটি অঙ্গ হবে বেশি শক্তিশালী, ফলে কর্মশক্তিও বাড়বে। দেহে আয়রনের পরিমাণ ঠিক থাকলে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও মসৃণ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ডাবের পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। রিবোফ্লেবিন, নিয়াসিন, থায়ামিন এবং পেরিডক্সিন সমৃদ্ধ ডাবের পানি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে। এছাড়া ডাবের পানির অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যকটেরিয়াল উপাদান বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ থেকেও রক্ষা করতে সহায়তা করে।
মূত্রনালি-সংক্রান্ত ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া নিয়মিত এই পানি পান করলে দাঁতের মাড়ির সমস্যা দূর হয়। কিডনির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেসব ভাইরাসের কারণে ঠান্ডা লাগে, সেই ভাইরাস প্রতিরোধে সাহায্য করে। শরীরের টক্সিন (বিষাক্ত উপাদান) দূর করতে সাহায্য করে।

ব্লাড প্রেশার  

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে ডাবের পানি বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।  কারণ, ডাবের আছে ম্যাগনেসিয়াম , পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা জানি যে, পটাশিয়াম যেটা ব্লাড প্রেসারকে বাড়তে দেয় না। তাই ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ডাবের পানি খেতে পারেন । তবে মনে রাখতে হবে যে ডাবের পানি একটু মিষ্টি মানে সুগার থাকায় ডায়াবেটিসের সমস্যায় অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো। তবে দিনে এক থেকে দু চাপ ডাবের পানি কোন সমস্যা হবে না।

হার্টের সমস্যা  

ডাবের পানি হার্টকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। হার্টকে ভালো রাখার জন্য দরকার উপযুক্ত খাবার আর একটু শরীর চর্চা। এখন হার্টকে ভালো রাখতে খাবারের তালিকায় একটু করে ডাবের পানি যোগ করতে পারেন। এটা প্রমাণিত, ডাবের পানি হার্ট অ্যাটার্কের সম্ভবনা অনেকটা কমিয়ে দেয় ।

ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য বজায় রাখে

ডাবের পানি শরীরের ইলেকট্রোলাইটসের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। আর  ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্যহীনতা উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে। যে কারনে ডাবের পানি গুরুত্বপূর্ণ।  বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে গর্ভকালীন বেশ কিছু জটিলতা কমে যায়।

কিডনির পাথর

কিডনিতে  জটিলতা রোধে খাবারের তালিকায় ডাবের পানি রাখতে পারেন। ডাবের পানি কিডনির সমস্যা প্রতিরোধ করে।

ওজন কমাতে

ডাবের পানির মধ্যে অল্প পরিমাণে চর্বি রয়েছে, তাই বেশি করে এটা খাওয়া যায়। শরীরের ওজন কমাতে চাইলে ডাবের পানি হতে পারে মহৌষধ। এতে ফ্যাটের মাত্রা খুব কম থাকে এবং পেট ভরিয়ে রাখে অনেকক্ষণ। ডাবের পানিতে রয়েছে অনেক ধরনের নিউট্রিয়েন্টস এবং ভিটামিন। অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিও রয়েছে এতে।

মজবুত হাড়

হাড়কে মজবুত রাখার জন্য দরকার ক্যালসিয়াম ও আরও অনেক পুষ্টিগুণ। বিভিন্ন  গভেষণা থেকে দেখা গেছে, ডাবের পানিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। এবং ম্যাগনেসিয়াম যেটা হাড়কে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পরিপাকে সাহায্য করে

ডাবের পানিতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার, যা পরিপাকের জন্য ভালো। নিয়মিত পানে গ্যাস্ট্রিক এসিড থেকে পরিত্রাণ পাবেন।

দাঁতের জন্যে উপকারী

ডাবের পানিতে খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের উপস্থিতিও উচ্চমাত্রায়। এসব খনিজ লবণ দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। দাঁতের মাড়িকে করে মজবুত। অনেকের দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। মাড়ি কালচে লাল হয়ে যায়। হাসি বা কথা বলার সময় তা দেখা যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেবে খনিজ লবণ। পাশাপাশি হাড় মজবুত থাকলে হাঁটাচলাও হয় আত্মবিশ্বাসী ধরনের।

তীব্র শারীরিক অস্বস্তি কাটাতে

তীব্র শারীরিক অস্বস্তি কাটাতে এক গ্লাস ডাবের পানি হতে পারে সেরা দাওয়াই। অ্যালকোহল পানের পর আপনার শরীরে পানিশূণ্যতা দেখা দিতে পারে, যা পরের দিন সকালে মাথাব্যথা ও ঝিম ঝিম ভাব তৈরি করতে পারে। ডাবের পানি এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করে আপনাকে সুস্থতা দিতে পারে।

ত্বকের জন্য ভালো

ডাবের পানি শুধু পানীয় হিসেবেই উপকারী তা নয়। মুখে জলবসনন্তের দাগসহ বিভিন্ন ছোট ছোট দাগের জন্য সকাল বেলা ডাবের পানি দিলে দাগ মুছে এবং মুখের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা বাড়ে। ডাবের পানিতে তুলা ভিজিয়ে নরম করে ব্রণের মধ্যে লাগালে এটি দ্রুত দূর হয়ে যায়। তৈলাক্ত বা শুষ্ক উভয় ত্বকের জন্য এটি কার্যকর। আপনি যদি ত্বকের ব্যাপারে যত্নশীল হন এবং ত্বক আর্দ্র রাখতে চান, নিয়মিত এক কাপ ডাবের পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে বা দাগ দূর করতেও ব্যবহার করা যাবে ডাবের পানি। প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে ডাবের পানির সঙ্গে চন্দনগুড়ার পেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

রোদে পোড়া ভাব দূর করতে এক চিমটি কর্পূর, মসুর ডাল, শসার রস ও ডাবের পানি মিশিয়ে স্ক্রাবিং করা যেতে পারে। এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করলে রোদে পোড়া কালো দাগ কমবে।

স্বাভাবিক ত্বকের প্যাক তৈরি করতে তাজা ডাবের পানিতে চন্দন কাঠ ভিজিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। তারপর চন্দন কাঠ ঘসে যে পেস্ট তৈরি হবে, তা পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই পেস্ট ন্যাচারাল স্কিন ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে এবং ত্বক থেকে মৃত কোষ সরিয়ে ফেলে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ডাবের পানির সঙ্গে মুলতানি মাটি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে রাখুন। ভালোভাবে মুখের ত্বকে লাগান। আধঘণ্টা পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর হবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্যও ব্যবহার করা যাবে ডাবের পানি। ১০টি কাঠবাদাম ডাবের পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে আধঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের রুক্ষতা কেটে যাবে।

চুলের যত্নে

ত্বকের সাথে চুলের সমস্যা ও চুলকে ভালো রাখতেও ডাবের পানি বেশ উপকারি ভূমিকা পালন করে ।  ডাবের পানি স্কালে মানে মাথার তালুতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে ফলে চুল পড়া কমে । এছাড়াও ডাবের পানি প্রাকৃতিক কন্ডিশানারের কাজ করে। চুলকে রুক্ষ হয়ে যাবার হাত থেকে বাঁচায়। চুলকে চকচকে ও নরম রাখতে সাহায্য করে। খুসকির সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

ডাবের পানির অপকারিতা 

ডাবের পানির শুধু উপকারী নয় পাশাপাশি বেশ কিছু ক্ষেত্রে যথা সম্ভব ডাবের পানি এড়িয়ে চলা  উচিত। চলুন দেখে নেই কোন কোন ক্ষেত্রে ডাবের পানি এড়িয়ে চলা উচিত।

# উপকারী দিক হিসেবে আমরা দেখেছি  ডাব নিয়মিত খেলে কিডনি রোগ হয় না । কিন্ত কোন কারনে যদি আপনার কিডনিতে কোন রোগ হয় তখন আবার ডাবের পানি খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। কারন হল ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম   আর  কিডনি অকার্যকর হলে শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম দেহ থেকে বের হয় না । ফলে ডাবের পানির পটাশিয়াম ও দেহে বিদ্যমান পটাশিয়াম একত্রে কিডনি ও হৃদপিণ্ড দুটোকেই অকেজো করে দেয়।  এ অবস্থায় রোগীর মুত্যু অনিবার্য ।  তাই যাদের দেহে প্রচুর পটাশিয়াম আছে এবং বের হয় না তাদের ডাবের পানি পান করা ডাবের উচিত নয়। পানি রোগীকে পান করানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

#  ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি ফলে যারা ওজন কমাতে চান তারা খুব বেশি ডাবের পানি বেশি না খাওয়াই  উত্তম। কারণ, ডাবের জল শরীরে ক্যালরির মাত্রা বাড়ায়। অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয় বা ফলের রসের তুলনায় ডাবের জলে চিনির পরিমান কম থাকা সত্ত্বেও ডাবের পানি পান করার ফলে শরীরে প্রচুর ক্যালরি ঢুকে যায়।

# রক্তাচাপ বাড়িয়ে দেয় ডাবের জল-শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ডাবের জলে প্রচুর পরিমানে থাকা সোডিয়াম রক্তাচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক ভাবেই বেশি তাদের ডাবের  পানি প্রতিদিন খাওয়া একদমই উচিত নয়।

কখন ডাবের পানি খাওয়া উচিত ?

অন্যসব পানীয়ের মতো ডাবের পানি পান করার সুনির্দিষ্ট কোন সময় নেই। আপনার ইচ্ছামত যে কোন সময় আপনি ডাবের পানি পান করতে পারেন। তবে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে এ পানি পান করলে স্বাস্থ্যের জন্য দ্বিগুণ ফল বয়ে আনবে। আসুন ডাবের পানি পানের উৎকৃষ্ট সময় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাকঃ

সকালে খালি পেটে: সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই আমরা পানি খাই। তবে যদি আপনি পানির পরিবর্তে  সকালে খালি পেটে ডাবের পানি পান করতে পারেন তাহলে খুব ভাল হয়।

ডাবের পানিতে  রয়েছে লোরিক অ্যাসিড যেটি হজমে সাহায্য করে এবং ওজন কমায়। গর্ভবতী নারীদের ডিহাইড্রেশন ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে ডাবের পানি পানের পরামর্শ দেওয়া হয়। এটা গর্ভবতীদের সকালের অসুস্থতা ও অম্বল থেকে মুক্তি দেয়। কমিয়ে ফেলে বুক জ্বালাপোড়া। নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভালো থাকবে হৃৎপিণ্ড।

কাজের আগে ও পরে: ডাবের পানি সর্বোৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক পানীয়। ডাবের পানি স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় তাই কাজের আগে পরে ডাবের পানি খেলে  এটি শরীরের পানিশূণ্যতা পূরণ করে ও কাজের শক্তি যোগায়। এ পানি কাজের সময় শরীর থেকে হারানো ইলেক্ট্রলাইট আবার পূর্ণ করে দেয় এবং ক্লান্তি ও অবসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

ঘুমানো আগে:  ডাবের পানিতে রয়েছে আলাদা একটি গন্ধ ।  ডাবের পানির এই  মিষ্টি ঘ্রাণের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আছে, যা হতাশা দূর করতে সাহায্য করে ও হৃদস্পন্দনকে  স্বাভাবিক রাখতে পারে । ঘুমানোর আগে ডাবের পানি পান শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্র বের করে দেয়, প্রসাবের সংক্রমণ ও কিডনি সম্যা দূর করে এবং প্রসাব স্বাভাবিক রাখে।

শেষ কথা

ডাব বা এর সর খেতে পছন্দ করেনা এমন লোক নেই বল্লেই চলে। ডাবের ভেতরের স্বচ্ছ ও সুপেয় পানি নিয়ে আমাদের কৌতুহলের শেষে নেই। তারুণ্য ধরে রাখতে এর অবদান অপরিহার্য। ডাবের পানি যেকোনো কোমল পানীয় থেকে অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ।  কারণ, এটি সৌন্দর্যচর্চার প্রাকৃতিক মাধ্যম ও চর্বিবিহীন পানীয়।  এড়িয়ে চলার বিষয়গুলো মাথায় রাখলে ডাবের পানি হতে পারে একটি সেরা টনিক পানীয়।

তথ্য সূত্রঃ অনলাইন

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক