14

ডিস্ক ব্রেইক আলাপন – মেকানিকাল আর হাইড্রোলিক এর পার্থক্য

ডিস্ক ব্রেইক

আরোহীকে সর্বোচ্চ ব্রেইকিং এক্সপেরিয়েন্স দিতে আমেরিকার হাই এন্ড মাউন্টেন বাইকগুলোতে প্রথম আবির্ভাব ঘটে ডিস্ক ব্রেইকের। সেই থেকে সাইকেলে ডিস্ক ব্রেইকের যাত্রা শুরু। আর সব সিস্টেম থেকে সাইক্লিস্টদের কাছে ডিস্ক ব্রেইকের গ্রহণযোগ্যতা দিনকে দিন বাড়তে থাকে। চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানী বাণিজ্যিকভাবে ডিস্ক ব্রেইক তৈরী শুরু করে।

বর্তমানে বাজারে যেসকল সাইকেল কিনতে পাওয়া যাচ্ছে তাদের মধ্যে একটা বিরাট অংশের সাইকেলই ডিস্ক ব্রেইক সংবলিত। ক্রেতার চাহিদা এবং মানের উপর ভিত্তি করে বিক্রেতারাও ডিস্ক ব্রেইকসহ সাইকেলগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ডিস্ক ব্রেইকের প্রকারভেদ নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকাটা একজন সাইক্লিস্ট হিসেবে নিতান্তই দরকারি বিষয়। এ পর্বে ডিস্ক ব্রেইকের প্রকারভেদ এবং কেনার সময় কোন ধরণের ডিস্ক ব্রেইক কেনা উচিৎ তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ডিস্ক ব্রেইক এর প্রকারভেদ

ডিস্ক ব্রেইক সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থেকে থাকলে আপনি হয়তো ইতোমধ্যেই জানেন ডিস্ক ব্রেইক মোট দুই ধরণের। মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইক আর হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক। আদতে এগুলো দেখতে অনেকটা একই রকম হলেও কাজে এবং মানের দিক দিয়ে এদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

যাদের এই প্রকারভেদ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই তারা প্রথম দেখাতে মেকানিকাল এবং হাইড্রোলিক এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন না। চেষ্টা করবো যাতে দুই ধরণের ব্রেইক সম্পর্কে জটিলতা এড়িয়ে সাধারণ ধারনা দেয়ার।

মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইক

মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইক

সাধারণ ভি ব্রেইকগুলোতে যে ক্যাবল ব্যবহার করা হয় মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইকেও সেই একই ধরণের ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইকগুলোত ব্রেইক চাপার কারণে ক্যাবল শক্ত হয়ে টান টান হয়ে যায়, ফলে ক্যাবলের সাথে সংযুক্ত প্যাডসগুলো দুই পাশে থেকে রোটর* কে চেপে ধরে। যেহেতু রোটর চাকার সাথে সংযুক্ত থাকে তাই রোটরকে থামানোর সাথে সাথে বাইকের চাকাও থেমে যায়।

*সাধারণত যাকে ডিস্ক বলা হয় সেটাই রোটর

হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক

হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক

সাধারণ ভি ব্রেইক এবং মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইক থেকে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক সিস্টেম সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন ব্রেইক লিভার চেপে ধরা হয় তখন প্রেশারের কারণে তেল প্রবাহিত হয়ে ক্যালিপারে চলে যায় এবং প্রবল চাপ সৃষ্টি করে প্যাডসগুলোকে বাধ্য করে রোটরকে প্রচণ্ডভাবে চেপে ধরতে। মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইকের তুলনায় হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক যথেষ্ট শক্তিশালী এবং কার্যক্ষমতা অনেক বেশি।

মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইক এবং হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইকের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য:

১.মেকানিকাল সিস্টেমে ক্যাবল ব্যবহার করা হয় ব্রেইক করার জন্যে কিন্তু হাইড্রোলিক সিস্টেমে তেল কিংবা একই জাতীয় তরল পদার্থ ব্যবহার করা হয়।

২.মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইকের রক্ষণাবেক্ষণ করা তুলনামূলক সহজ হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক থেকে।

৩.কোন কারণে সমস্যা হলে সহজেই ঠিক করে নেওয়া যাবে, ক্যাবল সবখানেই পাওয়া যায় মেকানিকাল ব্রেইকের। কিন্তু ডিস্ক ব্রেইকের কোন সমস্যা হলে ভালো জানাশোনা না থাকলে বংশাল কিংবা গ্রীনরোডেই দৌড়াতে হতে পারে। Unhappy

৪.যারা অল্প দামের মধ্যে ডিস্ক ব্রেইকের স্বাদ নিতে চান তারা খুব কম দামেই পেয়ে যাবে মেকানিকালটা। কিন্তু যদি হাইড্রোলিক নিতে চান তাহলে বেশ ভালো পরিমাণের টাকা গুণতে হবে ভালো মানের হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক নিতে। Money Mouth

৫.মেকানিকাল ব্রেইক ফিটিং করা তূলনামূলক সহজ হাইড্রোলিক ব্রেইক থেকে। হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক সবাই ফিটিং করতে পারেনা, তাই অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে লাগিয়ে নেয়াটাই ভালো। ঠিকমতো ফিটিং না হলে মারাত্মক দূর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই ফিটিং করার পর চেক করে নিতে হবে।

৬.মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইক কিছুদিন পরপরই টিউন করতে হবে। হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইকের ক্ষেত্রে তেমন কিছুর প্রয়োজনীয়তা পড়বেনা হরহামেশাই।

৭.ক্ষমতার দিক থেকে যাচাই করলে মেকানিকাল থেকে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক ওগিয়ে থাকবে। হাইড্রোলিক ব্রেইক খুবই শক্তিশালী, পিচ্ছিল মাটি কিংবা কাঁদার মধ্যেও অনায়াসে চাকা থামিয়ে দিতে সক্ষম Big Smile

৮.হাইড্রোলিক ব্রেইকে বছরে অন্তত একবার তেল বস লিকুইড রিফিল করতে হয়, কিন্তু মেকানিকাল ব্রেইক যেহেতু ক্যাবলে কাজ করে তাই এর জন্যে এমন কোন ঝামেলা নেই।

৯. হাইড্রোলিক ব্রেইকে টিউব লিক করে তেল বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইকে তেমন কোন সম্ভাবনা নেই।

১০.মেকানিকাল ডিস্ক ব্রেইক থেকে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইকের লিভার পুল করা যথেষ্ট আরামদায়ক।

এই ছিলো মেকানিকাল আর হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেইক সম্পর্কে আমার কিছু সীমিত জ্ঞান। আমার লেখায় ভুল থাকা অস্বভাবিক নয়। কোন অংশে ভুল থাকলে কিংবা ভ্রান্ত তথ্য থাকলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আপনার মতামত স্বাদরে গৃহীত হবে। 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি