ইতিহাসের সাক্ষী ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ

উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ঢাকা কলেজ’ সকলের কাছে সুপরিচিত। ঢাকা কলেজই এক সময় ঢাকাকে পূর্ব বাংলার ইংরেজী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করে। বর্তমনানেও এটি ঢাকার অন্যতম সেরা সরকারি কলেজ। 

ভারতীয় উপমহাদেশের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার শুরু ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। দেশ বিভাগ পূর্ববর্তী কিংবা স্বাধীনতা পরবর্তী উভয় সময়েই রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্বর্ণালী অতীত।

ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

১৭৫৭ সালে মির্জা মুহাম্মাদ সিরাজ-উদ-দৌলা পলাশীর যুদ্ধে পরাজয় লাভ করলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ সালে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে। প্রথমে ইংরেজরা নিজেদের শাসক হিসেবে পরিচয় না দিলেও ১৭৭২ সালে গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস নির্লজ্জ কোম্পানির ভন্ডামির মুখোশ খুলে সরাসরি   এ দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। পলাশীর যুদ্ধে তাঁর পরাজয় ও মৃত্যুর পরই ভারতবর্ষে প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ-শাসনের সূচনা হয়। 

সিরাজ উদ দৌলার পরাজয়ের পরে ৬২ বছর পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের অধিবাসীদের জন্যে কোন শিক্ষা নীতি প্রনয়ণ বা কোন প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারী শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। আগে থেকে চলে আসা শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। 

ঢাকাতে নতুন ইংরেজি শিক্ষার প্রবর্তনে সর্বপ্রথম যারা এগিয়ে আসে তার হল শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশনারিরা। ১৮১৫ সালে তারা মূলত গরিব ইউরোপিয়ান এবং ইউরোশিয়ান সন্তানদের শিক্ষার জন্য ক্যালকাটা বেনেভোলেন্ট ইনস্টিটিউশন-এর একটি শাখা খোলার জন্যে ঢাকাতে  রেভারেন্ড ওয়েন লিওনার্দ নামে একজন আয়ারল্যান্ডবাসীকে পাঠান। 

লিওনার্দ ১৮১৬ সালের এপ্রিল মাসে চকবাজারের কাছে ছোট কাটরা ভবনে ঢাকার প্রথম ইংরেজি স্কুল খোলেন। এ বছরই গ্রিক ও আর্মেনিয়ানসহ ৩৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এই স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, ব্যাকরণ, গণিত, বাইবেল ওয়াট্সের হিম অর্থাৎ ধর্ম সংগীত আর ক্যাটেসিজমের (প্রশ্নোত্তর) মাধ্যমে ধর্ম শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়।

এ স্কুল প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয়দের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করা। ১৮১৭ সালে মুসলমান ছাত্রদের আকর্ষণ করার জন্য লিওনার্দ ৭টি বাংলা স্কুল খোলেন। এ সময় ইংরেজি স্কুলটিকেও অখ্রিস্টান ছাত্রছাত্রীদের জন্য খুলে দেন। উজ্জ্বল সম্ভাবনা নিয়ে এ স্কুলটি যাত্রা শুরু করলেও লিওনার্দের মৃত্যুর পর স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত ১৮৩০ দশকে ইংরেজ শাসকেরা একটি শিক্ষানীতি গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। সে নীতিমালায় যে শিক্ষানীতির প্রচলন হয়েছিলো, তা মূলত পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষা নামে পরিচিতি লাভ করে। 

তাদের প্রচলিত এ আধুনিক ধারার শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের জন্য সেসময়ে ঢাকাতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে  উঠে। তবে সে সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রসারের চেয়ে ধর্ম প্রচার প্রাধান্য পায়। ফলে উল্লেখ করার মতো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেখানে গড়ে ওঠেনি। 

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই কলেজটি ইতিহাসের দীর্ঘ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৩৫ সালের ২০ এপ্রিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন (General Committee of Public Instruction) লর্ড বেন্টিকের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে,

সরকারের তত্ত্বাবধানে বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রধান প্রধান জনবহুল শহরে ইংরেজি সাহিত্য এবং বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য যতগুলো সম্ভব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক।

পরবর্তিতে, সরকারের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার জন্যে ঢাকায় কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়। তৎকালীন ঢাকার সিভিল সার্জন ডাঃ জেমস টেইলার উত্তর পাঠান, 

এ ধরণের স্কুলের জন্য ঢাকা শুধু উপযুক্ত জায়গাই নয় বরং এটিকে ঢাকার জনগণ দারুণভাবে স্বাগত জানাবে এবং প্রয়োজনে অর্থ সহায়তাও দিবে।

এই উৎসাহব্যঞ্জক সংবাদ প্রাপ্তির পর জেনারেল কমিটি ভারত সরকারকে অবিলম্বে ঢাকায় একটি সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন এবং ব্যয় বাবদ বার্ষিক ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। ১৮৩৫ সালের ২৪ জুন ভারত সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করে। এ উদ্দেশ্যে কমিটি কলকাতা থেকে দু’জন শিক্ষক জে. রিজ  এবং পার্বতী চরণ সরকারকে স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ঢাকায় প্রেরণ করেন।

ঢাকা কলেজ পুকুর

অবশেষে,  জেমস টেইলারের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি, যা বর্তমানে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিত।

সদরঘাটের কাছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুরানো দোতলা বাণিজ্য কুঠিতে স্কুলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এবং নাম দেওয়া হয় ‘ঢাকা গভর্নমেন্ট স্কুল’। স্কুলটির প্রশাসনিক ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করার জন্য একটি লোকাল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন বা স্থানীয় কমিটি গঠন করা হয়।

ঢাকা গভর্নমেন্ট স্কুল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে এক নবযুগের সূচনা হয়। এ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের আধুনিক কলাবিদ্যা, বিজ্ঞান এবং দর্শনের সঙ্গে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রথম পরিচয় ঘটে। এই নতুন শিক্ষার আলোকে শিক্ষার্থীরা দেশ ও সমাজকে নবরূপে গড়তে প্রয়াসী হয়। ইংরেজি শিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে ছাত্রসংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।

জানা যায় ১৮৩৮-১৮৩৯ শিক্ষাবর্ষে এ স্কুলে ৮ টি ক্লাস ছিল । আর তখন ছাত্র সংখ্যা চিল ৩৮০ জন। স্কুলে শিক্ষক ছিলেন ১১ জন যার মধ্যে ৭ জন ইংরেজ এবং ৪ জন বাঙালি ছিল। 

শিক্ষা এবং সমাজব্যবস্থার এ ইতিবাচক পরিবর্তনে সেসময়ের গভর্নর জেনারেল লর্ড অকল্যান্ড এবং জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন (General Committee of Public Instruction) কতগুলো কেন্দ্রীয় কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ব্যয়ের কথা উল্লেখ এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা তার যথাযথ অনুমোদনসাপেক্ষে ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী স্কুলকে একটি কলেজে বা একটি আঞ্চলিক উচ্চতর ইংরেজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা হয়, এবং নাম প্রদান করা হয় ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ বা সংক্ষেপে ঢাকা কলেজ । অন্য দিকে ঢাকা ইংলিশ সেমিনারী স্কুলের নাম দেওয়া ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল।

এ সময় ঢাকা হয়ে ওঠে সমগ্র পূর্ববাংলার ইংরেজি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তৎকালীন হিন্দু কলেজের শিক্ষক জে. আয়ারল্যান্ডকে ঢাকা কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়। উল্লেখ করা প্রয়োজন ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠার পর পরই ঢাকার আর্থ সামাজিক অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। সে অর্থে আয়ারল্যান্ডই ঢাকা কলেজের সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। তিনি কলেজের শিক্ষাদান ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। 

দুঃখজনক ব্যাপার হল এতিহ্যবাহী কলেজের তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ১৮ জুলাইকে ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে জমকালো আয়োজনে পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গত দু’তিন বছর ১৮ জুলাইয়ের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে ২০ নভেম্বর। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রশাসন বলছে আগের অধ্যক্ষ কোনো ধরনের গবেষণা ছাড়াই ১৮ জুলাইকে ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘোষণা করছেন। তবে ২০ নভেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের পক্ষেও তাদের কাছে নেই শক্ত কোনো তথ্যপ্রমাণ।

এতে কলেজের ইতিহাস বিকৃতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কলেজটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা কলেজের ইতিহাসের সঙ্গে এ অঞ্চলের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর ইতিহাস জড়িত। অথচ দুই অধ্যক্ষের দ্বন্দে কলেজের ইতিহাস বিকৃতি শুরু হয়েছে। তাই যথাযথ গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত এর প্রতিষ্ঠার সঠিক দিনটি অনুসন্ধান করা একান্ত প্রয়োজনীয়। নয়লে ঐতিহাসিক এ প্রতিষ্ঠানটির জন্মের ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে যাবে।

 ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠার তারিখ জানা শুধু ঢাকা কলেজের জন্য নয়, দেশের জন্যও দরকার। কারণ ঢাকা কলেজ দিয়েই আমাদের এ অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষার আগমন ঘটেছে। তাই এই কলেজের তারিখ জানা এবং উদযাপন করা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও দেশের শিক্ষা পরিবারের একান্ত দায়িত্ব। তাই আমরা চাই দ্রুত এ দ্বন্দ্বের অবসান হোক। সঠিক দিনে পালিত হোক ঢাকা কলেজ ও দেশের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্মদিন। 

১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর কলকাতার বিশপ রেভারেন্ড ড্যানিয়েল সদরঘাটে কলেজের মূল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৮৪৪ সালে। প্রথম ব্যাচের ছাত্রদের মধ্যে ছিল প্রধানত মুসলমান, হিন্দু, আর্মেনীয় এবং পর্তুগিজ। ব্যবসায়িক কারণে তখন ঢাকায় অনেক আর্মেনীয় ও পর্তুগিজ বাস করতেন। ১৮৭৩ সালে স্থান সঙ্কুলানের অভাবে ভিক্টোরিয়া পার্কের পূর্বে একটি প্রশস্ত দালানে কলেজটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আবার ১৯০৮ সালে বর্তমান কার্জন হলে স্থানান্তরিত করা হয়।

প্রথম ঢাকা কলেজ ভবন (১৯০৪)

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা কলেজ চলে যায় পুরাতন হাই কোর্ট ভবনে। ওই ভবনেই বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলে। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঢাকা কলেজের ঠিকানা হয় সিদ্দিক বাজারে। সবশেষে এ প্রতিষ্ঠান পৌঁছায় ঢাকা নিউ মার্কেটের পাশে বর্তমান স্থায়ী ঠিকানায়।

ঢাকা কলেজ ও শিক্ষাব্যবস্থার ক্রম-বিকাশ

উপমহাদেশের ইতিহাসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি উপমহাদেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত। ১৮৫৭ সালে ২৪ জানুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর পরই ঢাকা কলেজকে এর অধিভুক্ত করা হয়। 

তখন থেকেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত কোর্সগুলোতে অংশগ্রহণ করতে থাকেন ঢাকা কলেজের ছাত্ররা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলেও এর কাঠামোগত বা অন্য পরিবর্তনসমূহের কথা ভাবা হয়নি গুরুত্বের সঙ্গে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্ করা দরকার যে, সে সময়ের সরকার মূলত কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজেকে গুরুত্ব দিলেও ঢাকা কলেজের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে। এমনকি ঢাকা কলেজে কোনো নতুন অধ্যাপকও নিয়োগ দেয়া হয়নি !  ১৮৫৬ সালে গণিতশাস্ত্রের পণ্ডিত অধ্যাপক ব্রেনান্ডকে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক ব্রেনান্ড ঢাকা কলেজের আমুল পরিবর্তন করেন। ঘুরে দাঁড়ায় ঢাকা কলেজ।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পরে ঢাকা কলেজ আবার হোচট খায়। এ সময় ঢাকার নামদামি সব পরিবার, ইউরোপিয়ান এমন কি ঢাকা কলেজের ইউরোপিয়ান শিক্ষকেরা এ আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের স্বাধীনতা। এ সশস্ত্র বিপ্লব কোম্পানীর অর্থনৈতিক ভিত্তিকে একেবারে ভেঙ্গে ফেলে এবং ভারত সরকারকে  অনেক বছর ধরে আর্থিক সংকটে ফেলে দেয় । ফলে সরকারের তরফ থেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষাথাতে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থব্যয়ের ইচ্ছা বা সাধ্য কোনোটাই ছিলো না। 

সিপাহী বিদ্রোহের অবসান হলেও দেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে বা অর্থনৈতিক অবস্থা সচ্ছল হতে বেশ সময় লেগে যায় । এত দিন যে দুটি বাড়িতেে কলেজের কার্যাবলী সাময়িকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সে দু'টি বাড়ি ছিল বেশ অনুপযোগী। এরপরও ১৮৫৯-৬০ সালে কলেজের ছাত্রসংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়ায়।

পূর্ববঙ্গের স্কুল-কলেজ পরিদর্শক তাঁর ১৮৫৯-৬০ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, ঢাকা কলেজে যে কোর্স পড়ানো হয়, তা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এ. পরীক্ষার কোর্সের সমতুল্য এবং কোর্স শেষে ছাত্রদের জ্ঞানের পাঁচটি শাখায় পরীক্ষা দিতে হয়। এ পাঁচটি বিষয় ছিল- ইংরজিসহ দুটি ভাষা, ইতিহাস এবং ভূগোল, অঙ্ক, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (পদার্থবিদ্যা) এবং মানসিক নৈতিক বিজ্ঞান।

মজার ব্যাপার হল কলেজের পাঠ ছিল খুব উচু মানের। কোন ছাত্র যদি এই বিশয়গুলোর যে কোন একটা বিষয়ে অকৃত কার্য হত অন্য বিষয়ে খুব ভাল ফলাফল করলেও তাকে কৃতকার্য করা হয়ত না। বরং তাকে সবগুলো বিষয়ে পাশ করতে হত। 

পরবর্তীকালে ঢাকা কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যে সরকার বেশ কছি সিদ্ধান্ত নেয়। ১৮৬০ সালে জুনিয়র স্কলারশিপের নিয়ম কানুনে পরিবর্তন আনলে স্কলারশিপ বা বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। অন্য দিকে দেশে নতুন করে জেলা স্কুল ও ইংগ-বাংলা স্কুল থেকে অনেক ছাত্র এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশে করে বৃত্তি নিয়ে ঢাকা কলেজে পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠে। 

১৮৭৫ সালের পূর্বে এ দেশে বিজ্ঞান বিষয়ে জানার তেমন ব্যবস্থা ছিল না। ১৮৭৫ সালে ঢাকা কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ স্থাপন করা হয়। এ দেশের জন্যে এটি ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ কেননা এর মাধ্যমে তরুণদের বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান লাভ করার সুযোগ হয়ে উঠে। বিজ্ঞান বিভাগ চালুর পরে ঢাকা কলেজে ছাত্র ভর্তির হিড়িক পড়ে যায়।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব ঢাকা কলেজের উপরও এসে পড়ে। শিক্ষা-দীক্ষার কাজে এবং অন্যান্য নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকান্ডে তাই ভাটা পড়ে এমনকি কলেজ ভবনগুলি সামরিক বাহিনীর দখলে চলে যাওয়ারও নানা রকম সম্ভাবনা দেখা দেয়। কৌশলগত কারণে ১৯২০ সালের জুলাই মাস থেকে ঢাকা কলেজের ইন্টারমিডিয়েট অর্থাৎ এফ.এ ক্লাসকে কলেজের বি.এ, বি.এস.সি এবং এম.এ, এম.এস.সি ক্লাস থেকে পৃথক করে নতুন একটি ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ গঠন করা হয়। এই নব গঠিত ইন্টারমিডিয়েট কলেজকে ২০ আগস্ট কার্জন হল থেকে সরিয়ে তদানীন্তন ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে প্রতিষ্ঠা করা হয়। 

নানা ঘাতপ্রতিঘাত থাকলেও, ঢাকা কলেজ শিক্ষাক্ষেত্রে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছিল, যার সোনালী ফসল ছিলো ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টি। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ উদ্বোধনকে নির্ঝঞ্ঝাট করার উদ্দেশ্যে কলেজের অপর অংশটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একীভূত করে নেয়া হয়। একই সাথে প্রাক্তন ঢাকা কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বহু পুস্তক, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ঢাকা কলেজ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়কে সরবরাহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাকে সহজ করে দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে, ১৯২১ সালের ৩১ মার্চ ঢাকা কলেজের মোট ছাত্র সংখ্যা ছিল ৭২৯। এদের মধ্যে ৫৫০ জন হিন্দু এবং ১৭৯ জন ছিল মুসলমান। ১৯২১ সাল থেকে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম আরম্ভ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা কলেজটিকে অন্য ভবনে অর্থাৎ সে সময়কার প্রকৌশল বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

জানা যায়, “নাথান কমিটি রমনা অঞ্চলে ৪৫০ একর জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এই জায়গায় তখন ছিল ঢাকা কলেজ, গভর্নমেন্ট হাউস, সেক্রেটারিয়েট ও গভর্নমেন্ট প্রেসসমূহ।”

১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ঢাকা কলেজকে ছোটলাটের  বাস ভবনে (বর্তমান ল’কমিশন এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) স্থানান্তর করা হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলকে কলেজের হোস্টেলে রূপান্তরিত করা হয় এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলটি সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে স্থানান্তর করা হয়।

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা কলেজের জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্মিত প্রথম ছাত্রাবাস। এটিই বাংলাদেশের কোনো সরকারি কলেজের জন্য নির্মিত প্রথম ছাত্রাবাস। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল। ছবিটি ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে তোলা। (ছবিঃ উইকি)

এছাড়া কলেজের অন্যান্য অবকাঠামোও সদ্য প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ভাগাভাগি করতে হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আহত সৈন্যদের পুনর্বাসনের জন্য ভবনটি ছেড়ে দিতে হয় এবং আবার ঢাকা কলেজ লক্ষ্মীবাজারে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৫৫ সালে কলেজটি বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। তবে এরশাদ সরকারের সময় ৬ একরর জমি ছেড়ে দিতে হয়। বর্তমানে কলেজটি ১৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। 

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা

সেই ১৮৪১ সাল থেকে এই ২০১৮ সালের এই সময় পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও উপমহাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠানের এই দীর্ঘ পথচলায় মেধাবী তরুণের স্বপ্নের ক্যাম্পাসের নাম ঢাকা কলেজ। তারা এখানে স্বপ্ন নিয়ে আসেন মেধার বিচ্ছুরণ ঘটাতে যে আলোক বর্তিকায় আজও আলোকিত ঢাকা কলেজ। উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২২টি বিষয়ে শিক্ষাদান কার্যক্রম চালু রয়েছে।

১। বাংলা
২। ইংরেজি
৩। প্রাণীবিজ্ঞান
৪। রসায়ন
৫। গণিত
৬। পদার্থবিজ্ঞান
৭। ইতিহাস
৮। রাষ্ট্রবিজ্ঞান
৯। ইসলামের ইতিহাস
১০ সমাজবিজ্ঞান
১১। মনোবিজ্ঞান

১২। ভূগোল
১৩। ব্যবস্থাপনা 
১৪। পরিসংখ্যান
১৫। হিসাববিজ্ঞান
১৬। উদ্ভিদবিজ্ঞান 
১৭। গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান
১৮। অর্থনীতি
১৯। ইসলামিক স্টাডিজ 
২০। ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান
২১। দর্শন
২২। ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি

প্রথমে ঢাকা কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল । এর পর বাংলাদেশ গঠনের পরে ১৯৯২ সালের আগ পর্যন্ত ঢাকা কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা কলেজ তার উচ্চ শিক্ষা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে চালিয়ে আসছিল। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পুনরায় ঢাকা কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন নিয়ে আসা হয়। বর্তমান ঢাকা কলেজ তার কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চালিয়ে যাচ্ছে। 

শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাবি অধীন নেওয়া হলেও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা কলেজের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করে যাচ্ছে । ফলে ঐতিহ্যবাহী এ কলেজে শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে এক ধরনের স্থবিরতা চলে আসছে। 

অবকাঠামো  সুযোগ সুবিধা 

বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসটি ১৮ একর জমির ওপর কলেজ ক্যাম্পাসটি অবস্থিত। একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবন মিলিয়ে মোট তিনটি ভবন রয়েছে; মূল ভবন, সমাজবিজ্ঞান ভবন এবং ইসলামিক স্টাডিজ ভবন। মূল ভবনেই ঢাকা কলেজ অডিটোরিয়ামের অবস্থান। এছাড়া সাতটি ছাত্রাবাস রয়েছে, এর মধ্যে একটি হিন্দু ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য এবং একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষকবৃন্দের জন্য তিনটি আবাসিক ভবন রয়েছে এব্ং কর্মচারীদের জন্য রয়েছে টিনশেড আবাসন ব্যবস্থা। কলেজের পেছনদিকে একটি বিশাল খেলার মাঠ রয়েছে, মাঠের পাশে একটি মসজিদও রয়েছে। কলেজের সামনের দিকে একটি বাগান এবং শহীদ মিনার রয়েছে । ভেতরে একটি ঘাট বাঁধানো বিশাল একটি পুকুর রয়েছে, পুকুরের পাশেই রয়েছে ক্যান্টিন এবং জিমনেসিয়াম।

ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণ (ছবিঃ ফ্লিকার)

প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ঢাকা কলেজে লাইব্রেরী রয়েছে। মূল ভবনে মনোবিজ্ঞান বিভাগের পাশেই লাইব্রেরীটির অবস্থান। বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার বই রয়েছে লাইব্রেরীটিতে। সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত লাইব্রেরী খোলা থাকে। লাইব্রেরী থেকে বই ধার নেয়া যায় না।  তবে বিভিন্ন বিভাগের আলাদা আলাদা যে সেমিনার লাইব্রেরী রয়েছে সেখান থেকে বই ধার নেয়া যায়।

শিক্ষর্থীদের যাতায়াতের জন্য বর্তমানে চারটি বাস রয়েছে ; বাসগুলো যাত্রাবাড়ি, মিরপুর এবং উত্তরা রুটে যাতায়াত করে।

আবাসন ব্যবস্থা

ঢাকা কলেজে স্থাপন করা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ঢাকায় শুরু হয় নতুন সংস্কৃতি। ঢাকার বাইরে থেকে আসা ছাত্রদের কাছে ঢাকা কলেজ ছিল এক ধরনের বিস্ময়। 

ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকা কলেজে পড়তে আসা ছাত্রদের তথ্য প্রথম পাওয়া যায় ১৮৪৩ সালে। সে বছর কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ১৫জন ছাত্র বিভিন্ন জেলা থেকে এসে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়। এদের মধ্যে ৭জন ফরিদপুর, ২জন বরিশাল, ২জন যশোহর, ২জন ময়মনসিংহ এবং এমনকি ২জন ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকেও এসেছে। 

ঢাকার বাইরে থেকে ছাত্র ভর্তি হলে ছাত্রাবাস নির্মানে কর্তৃপক্ষের তেমন আগ্রহ দেখা যায় নি। ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাস নির্মানে নানা সময়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। কখনো বা সরকারী বিধি-নিষধে আবদ্ধ আবার কখনো সামাজিন কারনে ছাত্রবাস নির্মান হয়ে উঠে নি। তবে সব ছাপিয়ে অবশেষ সরকারের অনুমতিতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে বাংলাবাজারের শ্রীদাস লেনে রাজচন্দ্র হিন্দু ছাত্র হোস্টেল নামে প্রথম ছাত্রাবাস গড়ে উঠে। ছাত্রবাস নির্মান ঢাকা কলেজকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। 

ছাত্রাবাস নির্মানের ফলে দ্রুত ছাত্র সংখ্যা বৃদ্দি পেতে থাকে। ১৮৮৩-৮৪ সালে ছাত্রাবাসে ছাত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০ জনে। ছাত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে এ ভবনটি ছাত্রদের জন্যে পর্যাপ্ত ছিল না।  অবশেষে ১৯০৪ সালের ২৭ মে সরকারী সভায় ঢাকা কলেজের জন্যে একটি সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পি ডব্লিউ ডি একটি আধুনিক ছাত্রাবাসের নকশা করেন। ৪ জন করে থাকার জন্যে ২০*১৪ ফুট আয়াতাকার ঘরের নকশা হয়। 

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা কলেজের জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্মিত প্রথম ছাত্রাবাস। এটিই বাংলাদেশের কোনো সরকারি কলেজের জন্য নির্মিত প্রথম ছাত্রাবাস। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল।

উইকিপিডিয়া  থেকে জানা যায়  “সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং-এ নতুন দুটি ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এতে বহু ছাত্র উপকৃত হয়। হোস্টেলের নামকরণ করা হয় সেক্রেটারিয়েট মুসলিম হোস্টেল। এ ছাত্রাবাসের খাবার কক্ষটি (ডাইনিং রুম) ছিলো বিরাটাকার। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে এখানেই বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের একাদশ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ঢাকা কলেজের হিন্দু হোস্টেল রূপান্তরিত হয়ে হয় ঢাকা হল, যা বর্তমান শহীদুল্লাহ হল, এবং সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের মুসলিম হোস্টেলটি হয়ে যায় মুসলিম হল, যা বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল।”

ঢাকা কলেজ এ বর্তমানে রয়েছে ৮টি ছাত্রাবাস। ছাত্রাবাস গুলো হলঃ

১. উত্তর ছাত্রাবাস

২. দক্ষিণ ছাত্রাবাস

৩. পশ্চিম ছাত্রাবাস

৪. আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস

৫. ইলিয়াস ছাত্রাবাস

৬. শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাস

৭. দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস

৮. শেখ কামাল ছাত্রাবাস।

সংগঠনঃ 

সাংস্কৃতিক সংগঠনঃ  চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র,  ঢাকা কলেজ বিতর্ক ক্লাব

বিজ্ঞান সংগঠনঃ বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, বাংলাদেশ ওপেন সায়েন্স অর্গানাইজেশন,  ঢাকা কলেজ বিজ্ঞান ক্লাব,  ঢাকা কলেজ নেচার স্টাডি ক্লাব। 

যোগাযোগ 

মিরপুর রোড, ঢাকা নিউমার্কেট, ডানমন্ডি। ঢাকা- ১২০৫

ফোনঃ ০২-৮৬১৮৩৫০ (02-8618350)

ইমেইলঃ info@dhakacollege.edu.bd

ওয়েবসাইটঃ https://dhakacollege.edu.bd/

শেষ কথা

বর্তমানে ঢাকা কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এবং শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাঙ্গন। এর ছাত্রসংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। এখানে এখন উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১৯টি বিষয়ে শিক্ষাদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। অনেক মেধাবী তরুণের স্বপ্নের ক্যাম্পাসের নাম ঢাকা কলেজ। কিন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হল সম্প্রতি সময়ে শাসক গোষ্টি ঢাকা কলেজকে লেজুরবৃত্তি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নষ্ট হচ্ছে হাজারও শিক্ষার্থীর স্বপ্ন আর স্বাভাবিক জীবন। প্রত্যাশা করব সব সমস্যা কাটিয়ে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীর কাছে স্বপ্নসারথী হয়ে উঠবে। 

তথ্য সূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ঢাক কলেজ ওয়েব সাইট, নিউজ সাইটসহ নানা ওয়েব পোর্টাল 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক