তিন গোয়েন্দা সিরিজঃ ভালবাসার এক অপর নাম !

হাল্লো, কিশোর বন্ধুরা-
আমি কিশোর পাশা বলছি, আমেরিকার রকি বীচ থেকে।
জায়গাটা লস অ্যাঞ্জেলেসে, প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে, 
হলিউড থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে।
যারা এখনও আমাদের পরিচয় জানো না, তাদের বলছি, 
আমরা তিন বন্ধু একটা গোয়েন্দা সংস্থা খুলেছি, নাম
তিন গোয়েন্দা।
আমি বাঙালী। থাকি চাচা-চাচীর কাছে।
দুই বন্ধুর একজনের নাম মুসা আমান, ব্যায়ামবীর, 
আমেরিকান নিগ্রো; অন্যজন আইরিশ আমেরিকান, 
রবিন মিলফোর্ড, বইয়ের পোকা।
একই ক্লাসে পড়ি আমরা।
পাশা স্যালভিজ ইয়ার্ডে লোহা-লক্কড়ের জঞ্জালের নিচে 
পুরানো এক মোবাইল হোম-এ আমাদের হেডকোয়ার্টার।

তিনটি রহস্যের সমাধান করতে চলেছি-
এসো না, চলে এসো আমাদের দলে।

কি পরিচিত লাগছে বাক্যগুলো ? হুম তাহলে ধরে নেওয়া যায় সম্ভবত আপনি নব্বই দশকে জন্মানো একজন !  নব্বইয়ের দশকে জন্মানো বই পড়ুয়া আমাদের প্রায় সবার বিরাট বড় আবেগের একটা জায়গা "তিন গোয়েন্দা"। 

তিন গোয়েন্দা পড়তে গিয়ে কিশোর পাশা হতে চাননি এমন কেউ আছেন? কিংবা মুসা-রবিন? বই পড়তে ভালোবাসে অথচ তিন গোয়েন্দা সিরিজের নাম শোনেনি, এমন মানুষ এই দেশে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। নব্বই দশকের বাংলাদেশের সিংহভাগ বইপ্রেমীর শৈশব-কৈশোর কেটেছে তিন গোয়েন্দার কিশোর-মুসা-রবিনের সাথে কোন না কোন রহস্য সমাধানে। 

সত্যি বলতে বর্তমান জেনারেশনের জন্য খুব মায়া ও করুনা জন্মায় আমার ৷  তাদের বেশি ভাগের সাথেই কখনো পরিচয় হয় নি এসব রোমাঞ্চের সাথে ৷ কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট এসব প্রযুক্তির ছোয়া শৈশবের মৃত্যু ঘটিয়েছে ৷ তারা কখনো বুঝতে পারবে না সস্তা কাগজের ছোট অক্ষরের ছাপায় একটা পেপারব্যাক বই কীভাবে একটা বাচ্চার স্বপ্নকে চোখের সামনে মেলে ধরতে পারে ৷ তারা কখনও জানবে না আমাদের  শৈশব কি ছিল , কতটা রঙ্গিন ছিল  !  কত যে বকা খেয়েছি বা কত যে পিটুনি খেয়েছি তার হয়ত ইয়াত্তা নেই। 

অগণিত মানুষের ছোটবেলার প্রেম-ভালোবাসা,ধ্যানজ্ঞান সব ছিলো এই সিরিজের বইগুলো। তিন গোয়েন্দার সাথে আমাদের বেশিভাগ পাঠকের পরিচয় নিয়ে নিশ্চয় মজার সব ঘটনা স্মৃতির দরজায় ঘুরাফেরা করছে। কারো হয়ত বন্ধুর মাধ্যমে বা কারো হয়ত বড় ভাইয়ের বই দেখে লুকিয়ে পড়া দিয়ে শুরু বা কারো মা-বাবা হাতে তুলে দিয়েছিল। 

সম্ভবত তখন ক্লাস ৭ এ পড়ি, আমি গ্রামে বড় হয়েছি, বড় ভাই, আব্বা ঢাকায় থাকতেন। একবার ঢাকায় আসলাম ঘুরতে। ভাইয়রা তখন ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। সারা দিন বাইরেই থাকেন। বাসায় আমি একা একাই থাকতে হত। টিভি দেখাই ছিল সারা দিনের রুটিন। বুক সেলফে কিছু বই দেখেছিলাম । ঢাকা যাবার ২ দিন পরে সম্ভবত বড় ভাই একটা বই দিয়ে বলেছিল পড়তে পারিস। কিশোর, মুসা , রবিন নামের তিনটি ছেলের সাথে কাকাতুয়া রহস্য সমাধান করতে চলে গেলাম! সেই থেকে তিন গোয়েন্দার সাথে আমার পথ চলা শুরু।  কাকাতুয়া রহস্যের একটু স্মৃতি চারন করতে মনে চাচ্ছে 

এক সময়ের বিখ্যাত অভিনেতা মিস্টার মরিসন ফোর্ডের বাড়ি, চিত্রপরিচালক ডেভিস ক্রিস্টোফারের বন্ধু। তিন হপ্তা আগে ফেরিওয়ালা থেকে কেনা প্রিয় কাকাতুয়াটা হারিয়ে খুব মনোকষ্টে আছেন অভিনেতা, বন্ধুকে জানিয়েছেন। পরিচালকই তিন গোয়েন্দাকে অনুরোধ করেছেন ব্যাপারটা একটু তদন্ত করে দেখতে।

ইংল্যান্ড থেকে বেআইনি পথে ঢুকা ক্যাপ্টেন লঙ জন সিলভার সাতটি কাকাতুয়া, ( সাতটিই কোনো না
কোনো বিখ্যাত বুলি আওড়ায়) কাকাতুয়ার এই বুলির মাধ্যমে একটি সাংকেতিক ম্যাসেজ রেখে সেই ম্যাসেজের সমাধান একটি মুল্যবান ছবির খোঁজ দিবে ।  এরই একটি কাকাতুয়া কিনেছিলেন ডেভিস ক্রিস্টোফারের বন্ধু মরিসন ফোর্ড।  কাহিনী থেকে কাকাতুয়া গুলোর নাম আর তাদের বলা বিখ্যাত বুলি
যেগুলো ম্যাসেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো হল,

1. লিটল বো-পীনপতন : লিটল বো-পীপ হ্যাজাক লস্ট হার শীপা এন্ড ডাজনট নো হোয়্যার টু ফাইন্ড ইট | কল অন শার্লক হোমস |
2. বিলি শেক্সপিয়ার : টু বি অর নট টু বি, দ্যাট ইজ দা কোয়েশচেন|
3. ব্ল্যাকবিয়াড : আ ' য়্যাম দা পাইরেট, এন্ড আই' হ্যাভ বারিড মাই ট্রেজার হোয়্যার ডেড ম্যান গাঢ ইট এভার | ইয়ো - হো - হো এন্ড আ বটল অফ রাম |
4.রবিন হুড : আ' য়্যাম রবিন হুড, আই শট  অ্যান অ্যারো অ্যাজ এ টেস্ট, আ হান্ড্রেড পেসেনসের শট ইট ওয়েস্ট। 
5. শার্লক হোমস : ইউ নো মাই মেথডস, ওয়াটসন | থ্রি সেভেন্স লীড টু থার্টিন, '
6. ক্যাপ্টেন কিড : ' আ য়্যাম ক্যাপ্টেন কিড, ' লুক আন্ডার দ্য স্টোনস বিয়ন্ডস দ্য বোনাস ফর দ্যা বক্স দ্যাট হ্যাজ নো লকস |
7.স্কারফেস: আই নেভার গিভ আ সাকার এন ইভেন ব্রেক |

ভাইয়ার বেশ কিছু বই ছিল। ঢাকা থাকা অবস্থায় বেশ কিছু বই পড়ে ফেলি। এর পরে যখনই ঢাকায় যেতাম তখনই তিন গোয়েন্দা নিয়ে পড়ে থাকতাম। এক সময় নীলক্ষেতের ফুটপাত  থেকে পুরাতন বই কিনতাম। 

বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে পড়তাম কত দিন মা'র হাতে ধরা খেয়েছি আর বকা ছকা খেয়েছি। আমার মনে হয় আমার মত অনেকেই বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে.. ক্লাসে টিচার এর চোখ এড়িয়ে.. মাঝ রাতে টর্চলাইট এমনকি ডিমলাইট এর আলোতে... মায়ের বকুনি কিংবা মাইর খাওয়ার ভয়ে ওয়াশরুমে বসে ইত্যাদি আরো অনেক ভাবে "তিন গোয়েন্দা " রুদ্ধশ্বাস এ পড়েছেন ..... পড়তে পড়তে গোসল খাওয়া দাওয়া ভুলে যেতাম।  এগুলো নতুন কিছু না।

তিন গোয়েন্দা পড়াকালীন সময়েই আমার অন্যান্য গোয়েন্দা গল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এর পরে অনেকগুলো গোয়েন্দা সিরিজ পড়েছি মাসুদ রানা, সাইমুম, শার্লক হোমস রচনাসমগ্র, জেমস বন্ড ইত্যাদি । কিন্ত তিন গোয়েন্দার জন্যে এখনো আলাদা একটা টান রয়েছে । যার হাত ধরে আমার বইয়ের জগতে প্রবেশ। এইচ এস সি পর্যন্ত তিন গোয়েন্দার নিয়মিত পাঠক ছিলাম।  তিন গোয়েন্দা নিয়ে আরো একজনের মতামত তুলে ধরছি। 

আমি তখন ক্লাস টু তে পড়ি. আমার বড় ভাই(কাজিন) এর সংগ্রহে তখন ছিল অনেক তিন গোয়েন্দা। বইগুলা আমি অনেক বার উলটে পালটে দেখেছি কিন্তু একটাও পড়ি নি।কারণ টা হল বইগুলোর চেহারা।
কেমন যেন পুরোনো পুরোনো... মলিন । পড়ার ইচ্ছাই জাগে না। ভাইয়া আমাকে অনেকবার বইগুলা পড়ে দেখতে বলেছে.. অনেক নাকি মজা!!  কিন্তু চেহারারর কারণে আর পড়ি না।শেষে একদিন কিছুই পড়ার না পেয়ে নিলাম একটা বই হাতে।
সিঙেল বই... বইয়ের নাম "ভয়ঙ্কর অসহায়"!!  বিকালবেলা শুরু করলাম,কখন যে রাত হয়ে গেল বুঝলাম ই না!! একবসায় শেষ করলাম!(থুক্কু মাঝখানে একবার উঠে পড়ার বইয়ের নিচে লুকিয়ে নিয়েছি তারপর পড়েছি!! 😜)
পড়া শেষ করে নিজেকে বললাম এত্ত গাধা আমি?! এই অমুল্য জিনিশগুলা শুধু চেহারার কারণে অবহেলা করেছি! যত্তগুলো তিন গোয়েন্দা ছিল সব শেষ করলাম।তাও শান্তি হল না। এখান থেকে ওখান থেকে। যেভাবে পারলাম তিন গোয়েন্দা ধার করে পড়া শুরু করলাম। (ফাবিহা )

তিন গোয়েন্দার জন্ম ও রাকিব হাসান

আমাদের ছোট বেলাটাকে স্বপ্নিল করে তুলে দেয়া জনপ্রিয় তিন গোয়েন্দা সিরিজটির যিনি জন্ম দিয়েছেন, তার নাম রকিব হাসান। ১৯৫০ সালে কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া বিখ্যাত লেখক বিএস সি পাস করার পরে  বিভিন্ন ধরনের চাকরিতে ঢুকলেও কোনটাতেই মন বসেনি স্বাধীনচেতা রকিব হাসানের। বই পড়ার এই নেশা তার ছোটকাল থেকেই।  ছোটবেলাতেই নীহাররঞ্জন, শিবরাম চক্রবর্তী, শরৎচন্দ্রের লেখা গুলো পড়ে ফেলেছেন।  পড়েছেন দস্যু বাহারাম, টারজান।

জিম করবেট ও জেমস হেডলি চেজ এর বইয়ের মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি প্রবল আগ্রহ জন্মায় ।  নিয়মিত পড়া শুরু করেন ইংরেজি বই। পাঠ্যবইয়ের এক ঘেয়েমির চেয়ে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যেতেই যে মানুষটির বেশি ভালো লাগে, তাকে তো আর চাকুরির  বেঁধে রাখতে পারে না । বইয়ের প্রতি সেই আকুন্ঠ ভালবাসাই তাকে পরিচয় করিয়ে দিলো সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় লেখক শেখ আব্দুল হাকিম ও তার মাধ্যমে সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার, বাংলাদেশের আরেক কিংবদন্তী লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের সাথে।

নিজের আত্মবিশ্বাস ও কাজী আনোয়ার হোসেনের উৎসাহে লিখে ফেললেন তার প্রথম বই 'কুউউ', যেটি কিনা মাসুদ রানা সিরিজের ৫৫ নম্বর বইয়ে কাজী আনোয়ার হোসেনের নামে ১৯৭৭ সালে প্রকাশ হয়।   রাকিব হাসানের স্বনামে প্রকাশিত প্রথম বইটি ছিল ক্যানেথ অ্যান্ডারসনের শিকার কাহিনী, 'জঙ্গল'। কোথাও কোথাও প্রথম বই হিসেবে ড্রাকুলা বইটির নাম উল্লেখ আছে।  এরপর তিনি অনুবাদ করেন ব্রাম স্ট্রোকারের বিখ্যাত 'ড্রাকুলা' বইটি। অনুবাদ করেছেন এরিক ফন দানিকেন, ফার্লে মোয়াট, জেরাল্ড ডুরেল-এর মত বিখ্যাত লেখকদের অনেক ক্লাসিক বই । অনুবাদ করেছেন মহাক্লাসিক অ্যারাবিয়ান নাইটস ও এডগার রাইস বারোজ এর টারজান সিরিজ ।  এরপর একে একে শামসুদ্দিন নওয়াব নামে অনুবাদ করলেন 'জুলভার্ণ সিরিজ', 'বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল' সহ আরও অনেক বই।

অ্যারাবিয়ান নাইটস অনুবাদ করার সময় একদিন একঘেয়েমি কাটানোর জন্য তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন 'দি থ্রি ইনভেস্টিগেটরস' সিরিজের 'দ্যা মিস্ট্রি অফ দি স্টাটারিং প্যারট' বইটি। বইটি এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলেন তিনি। মুগ্ধ হয়ে যান। তখনই তার মাথায় আসে এই সিরিজ অবলম্বনে একটি কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ রচনার আইডিয়া।

রকিব হাসানই সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনকে প্রস্তাব করেন কিশোরদের উপযোগী একটি কাহিনী শুরু করার। সেবা প্রকাশনী থেকে তখন কুয়াশা সিরিজ শেষ হয়ে যাওয়ায় আনোয়ার হোসেনও সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। অবশেষে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তিন গোয়েন্দার প্রথম বই "তিন গোয়েন্দা"। কাজীদা দিলেন কিশোর নামটি, রকিব হাসান দিলেন মুসা ও রবিন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এদেশের বইপ্রেমীদের ছেলেবেলার বড় একটা অংশ জুড়ে আছে তিন গোয়েন্দা।  ১৯৮৫ সালের আগস্টে তিন গোয়েন্দা বের হওয়ার পর এতো জনপ্রিয় হয় যে, তিন গোয়েন্দার লেখক রকিব হাসান একটানা ১৬০টি বই লেখেন।

রকিব হাসান ছবিঃ প্রিয় টেক

তিন গোয়েন্দা হলো কিশোর পাশা, রবিন মিলফোর্ড ও মুসা আমান। তাদের বাস প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসের রকি বীচে। একমাত্র বাঙালি কিশোর পাশা। ছোটবেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মাকে হারায়। বড় হয় চাচী মেরি ও চাচা রাশেদ পাশার কাছে। বই পাগল আমেরিকান রবিন মিলফোর্ড। দলের পেশীশক্তিওয়ালা মুসা আমান আমেরিকান-আফ্রিকান। স্যালভেজ ইয়ার্ডে পুরনো এক মোবাইল হোমে তাদের হেডকোয়ার্টার। এখান থেকেই তাদের সকল অপারেশন পরিচালিত হয়। তিন গোয়েন্দা পড়তে পড়তে আমরা একে একে পরিচিত হতে থাকি- ওমর শেরিফ, ক্যাপ্টেন ইয়ান ফ্লেচার, রাঁধুনি নিসানজা কিম, গোয়েন্দা ভিক্টর সাইমন, হলিউড মুভি পরিচালক ডেভিড ক্রিস্টোফার, চিরশত্রু শুঁটকি টেরি, কুকুর রাফি ও জর্জিনা পার্কারের সঙ্গে। 

তিন গোয়েন্দা পুরোপুরি মৌলিক কাহিনী নয়। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন গোয়েন্দা কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে রচিত। বিশেষ করে প্রথম দিককার বইগুলো রবার্ট আর্থারের ইংরেজি সিরিজ "থ্রি ইনভেস্টিগেটরস" অবলম্বনে রচিত। আবার কিছু বই এনিড ব্লাইটনের "ফেমাস ফাইভ" অবলম্বনে রচিত। 

তিন গোয়েন্দার পথ চলা

 ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টানা লিখে যান রকিব হাসান। রকিব হাসান ১৬০ টি বই লিখেন তারপর এই সিরিজের হাল ধরেন শামসুদ্দিন নওয়াব। এদিকে কাজী শাহনূর হোসেনের পরামর্শে তিন গোয়েন্দার পুরনো বইগুলো প্রকাশিত হতে থাকে ভলিউম আকারে, কয়েকটি বই একসাথে। পুরনো বইগুলো আর আলাদাভাবে বের হয় না। এদিকে শামসুদ্দিন নওয়াব মূল চরিত্রগুলোর পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত করলেন নতুন চরিত্র কাকাতুয়া কিকো । শামসুদ্দিন নওয়াবের রচনায় কাহিনীগুলোতে ক্রিস্টোফার পাইকের কিছু বই অবলম্বনে লেখা হয়েছে। ক্রিস্টোফার পাইকের আসল নাম কেভিন ক্রিস্টোফার ম্যাকফাডেন এবং তিনি ১৯৮৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৭৫টি ‘অ্যাডাল্ট ফিকশন’, ভৌতিক এবং ‘ভ্যাম্প্যায়ার’ কাহিনী লেখেন।

এখন পর্যন্ত তিন গোয়েন্দা সিরিজের ৩০০'রও অধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত বইগুলোর মাত্র তিনটি উপন্যাস আর বাকি সবগুলোই বড় গল্প। উপন্যাসগুলো আলাদা আলাদা বইতে দুই খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত প্রতিটা বইই পেপারব্যাক, এবং দাম কম। তবে প্রজাপতি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বইগুলো শোভন এবং হার্ডকভারে, আর এগুলোর দামও তুলনামূলক বেশি।

সিরিজের প্রধান চরিত্রসমূহ

তিন গোয়েন্দা নামেই বুঝা যায় তিন লোকের একটি কাহিনী।  তিনজন কিশোর, যারা রহস্য সমাধানে প্রচন্ড আগ্রহী, তবে রহস্য সমাধানের পাশাপাশি এডভেঞ্চারও তাদের অন্যতম আকর্ষণ।  তিন গোয়েন্দার কাহিনী গড়ে উঠেছে কিশোর পাশা, মুসা আমান এবং রবিন মিলফোর্ড এই তিনজন কিশোরকে ঘিরেই । 

কিশোর পাশা

তিন গোয়েন্দা সিরিজের প্রধান  চরিত্র হল বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত কিশোর পাশা। কিশোর পাশা পরিচিয় হিসেবে রাখিব হাসান আমাদের জানিয়েছেন, কিশোরের বাবা জাহেদ পাশা। মাত্র ৭ বছর বয়সে এক ঝড়ের রাতে গাড়ি দুর্ঘটনায় তার মা-বাবা দুজনেই মারা যান। সেই থেকে চাচী মেরি  ও চাচা রাশেদ পাশার কাছেই কিশোরের অবস্থান। চাচা রাশেদ পাশার একটি স্যালভিজ ইয়ার্ড আছে, নাম "পাশা স্যালভিজ ইয়ার্ড"। 

কিশোর পাশার কোঁকড়া চুল, গভীর কালো দু'টি চোখ। একদেখা জিনিস দীর্ঘ দিন মনে রাখতে পারে। ছোট বেলা কিশোর পাশা চমৎকার অভিনেতা ছিল। পাগল সংঘ  নামে একটা কমেডিয়ান সিরিজে মোটুরাম চরিত্রে অভিনয় করেছিল বলে এখন খুব লজ্জাবোধ করে। ইলেকট্রোনিক্সের কাজে সে বেশ পটু, তাই তাকে "ইলেক্ট্রোনিক্সের যাদুকর"ও বলা হয়। তার মুদ্রাদোষ হলো: গভীর চিন্তামগ্ন অবস্থায় সে ক্রমাগত নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটতে থাকে।  সে সাধারণত মেয়েদের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। 

"থ্রি ইনভেস্টিগেটরস" -এ কিশোর পাশার প্রতিসঙ্গী চরিত্র হলো জুপিটার জোনস। যুপ নামেই সে পরিচিত যার বয়স  ১৩-১৪ বছর বয়েসি কাল চুলের শেতাঙ্গ আমেরিকান কিশোর।

রবিন মিলফোর্ড

রবিন মিলফোর্ড আয়ারল্যান্ডের বংশোদ্ভূত। বাবা মিস্টার মিলফোর্ড একজন সাংবাদিক এবং মা মিসেস মিলফোর্ড গৃহিনী। রবিনের কাজ হচ্ছে তিন গোয়েন্দার সকল কেসের রেকর্ড রাখা বা নথি সংরক্ষণ করা। তাই তিন গোয়েন্দার নথি গবেষক হিসেবে পরিচিত। 

রবিন পাহাড়ে চড়াতে খুব পটু, পাহাড় চড়তে গিয়ে বেশ কয়েকবার পা ভেংগেছে। বই পড়তে খুব ভালোবাসে আর বই় থেকে দ্রুত উদ্ধৃতি দিতে পারে বলে সে "চলমান জ্ঞানকোষ" হিসেবে পরিচিত। তিন জনের মধ্যে রবিন দেখতে সুন্দর ও সাইজে ছোট । অবসরে রকি বীচ লাইব্রেরীতে খন্ডকালীন চাকরী করে। রবিন বিমান চালাতে জানে। আবার টুকটাক কারাতেও জানে। কিছু কাল একটি ব্যান্ড দলের সাথে যুক্ত ছিল। 

"থ্রি ইনভেস্টিগেটরস"-এ রবিন মিলফোর্ডের প্রতিসঙ্গী চরিত্র হলো রবার্ট বব এন্ড্রুজ  যেখানে বব ১৩-১৪ বছর বয়েসী সোনালী চুলের শেতাঙ্গ আমেরিকান কিশোর, চোখে চশমা পরিধান করে।

মুসা আমান

গোয়ান্দা সহকারী মুসা আমান আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। বাবা রাফাত আমান হলিউডের বড় টেকনিশিয়ান এবং মা মিসেস আমান গৃহিনী। মুসাকে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করা, লনের ঘাস ছাটা এসব কাজ প্রায়ই করতে হয়। নিয়মিত ব্যায়াম করে আর পেশিশক্তিতে সবল। প্রয়োজনে প্রচন্ড শক্ত মাথা দিয়ে শত্রুর পেটে আঘাত করতে তার জুড়ি নেই ( কাকাতুয়া রহস্য 😛 ) । 

কিছু দিন পর পর তার নানা ধরনের বাতিক জাগে। অল্প কিছু দিন পরে মিটে গেলে নতুন শখ দেখা দেয়।  তার মুদ্রাদোষ হলো: কথায় কথায় "খাইছে", “সেরেছে ” কিংবা "ইয়াল্লা" বলা। সে একটু ভোজনরসিকও বটে। কিছুটা ভীতু প্রকৃতির, ভূতে তার যত ভয়। তবে বিপদের মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি সাহসী হয়ে উঠে মুসা। মুসা মোটামুটির দক্ষতার সাথে বিমান চালাতেও পারে। বই পড়া মুসার অপছন্দের কাজ। 

"থ্রি ইনভেস্টিগেটরস" এ মুসা আমানের প্রতিসঙ্গী চরিত্র হলো পীট ক্রেনশো। পীট ১৩-১৪ বছর বয়েসি বাদামী চুলের শেতাঙ্গ আমেরিকান কিশোর।

সহায়ক চরিত্রসমূহ

জিনা পার্কার

জিনা নামে পরিচিত মেয়েটির আসল নাম জর্জিনা পারকার। বিজ্ঞানী হ্যারিসন জোনাথন পারকারের একমাত্র মেয়ে জিনা। প্রথম দিকে জিনা রকি বীচে থাকত না, একবার ছুটি কাটাতে এসে তিন গোয়েন্দার সাথে রহস্যোদঘাটনে জড়িয়ে পড়ে। ছুতি গল্প অনুসারে সে পরবর্তীতে রকি বীচের একটা স্কুলের ভর্তি হয় । রাফিয়ান নামে তার একটি পোষা কুকুর রয়েছে আদরে তাকে রাফি নামে ডাকে। 

জিনা নিজেকে ছেলেদের সমকক্ষ ভাবতে পছন্দ করে আর তখন নিজের নাম বলে 'জর্জ গোবেল'। মায়ের থেকে জিনা 'জর্জ গোবেল' নামে একটি দ্বীপের মালিক। এটির মালিক ছিল মূলত তার নানা।

ধারণা করা হয় যে, জিনা চরিত্রটি এনিড ব্লাইটনের "ফ্যামাস ফাইভ" সিরিজের 'জর্জিনা জর্জ কিরিন' চরিত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। জর্জিনা চরিত্রটি লেখিকা তার  নিজের স্বভাবের ছায়া অবলম্বনে রচনা করেন। যেখানে এখা যায় জর্জিনা ছেলেমি স্বভাবের, দুঃসাহসী, বদমেজাজি এবং বিশ্বস্ত।

ডেভিস ক্রিস্টোফার

তিন গোয়েন্দার যার কাছে গোয়েন্দাগিরিতে হাতেখড়ি তিনি আর কেউ নন ডেভিস ক্রিস্টোফার। তিনি হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক। প্রথম গল্পে তিন গোয়েন্দা তাকে একটি ভূতুড়ে বাড়ি খুঁজতে সহায়তা করে, সেই থেকে পরিচয়। সেই থেকে তিন তিন গোয়েন্দার হাতে নানা সময়ে অনেক কেস ধরিয়ে দেন এবং তাদের রহস্য উতঘাটনে সহায়তা করেন। 

ক্যাপ্টেন ইয়ান ফ্লেচার

ক্যাপ্টেন ইয়ান ফ্লেচার হলেন রকি বীচ পুলিশ চীফ  যিনি মূল চরিত্র- স্যামুয়েল রেনল্ডস নামে পরিচিত , সবাই ‘চীফ রেনল্ডস’ বলে ডাকে। তিনি ভারি, বিশালদেহী এবং মাথায় হালকা টাক রয়েছে। ইয়ান ফ্লেচার তিন গোয়েন্দাদের বিভিন্ন সময় নানা কেস সমাধান করতে দেন। 

তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন,  "নকশার মর্ম উদ্ধার করার জন্য কিশোর পাশার মতো এমন যোগ্য লোক আর তাঁর জানামতে কেউ নেই।" তার সাহায্যেই তিন গোয়েন্দা ড্রাইভিং লাইসেন্স পায়। 

তিনি তিন গোয়েন্দা কে যেকোনো জায়গায় তদন্ত করবার অনুমতি দিয়ে তার নিজের স্বাক্ষর সংবলিত একটি সবুজ কার্ড দিয়েছিলেন। এই কার্ডের মাধ্যমে পরবর্তীতে তিন গোয়েন্দা অনেক সুবিধা পায়। এই সবুজ কার্ডে লেখা আছে- “প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, এই কার্ডের বাহক রকি বীচ পুলিশকে সহায়তাকারী একজন স্বেচ্ছাসেবক জুনিয়র সহকারী ডেপুটি। তাকে যেকোনো সহযোগিতা প্রদান করলে প্রশংসিত করা হবে।”

ওমর শরীফ

ওমর শরীফ মিশরীয় বংশোদ্ভুত একজন লোক। তিনি রোমাঞ্চপ্রিয় একজন দক্ষ বৈমানিক। গায়ে তাঁর বেদুইনের রক্ত, তাই সাহসের কমতি নেই। ওমরের সাথে তিন গোয়েন্দার বেশ কিছু অভিযান রয়েছে, যেমন: জলদস্যুর দ্বীপ ১ ও ২, গোপন ফর্মুলা, দক্ষিণের দ্বীপ, ওকিমুরো কর্পোরেশন ইত্যদি। 'ওকিমুরো কর্পোরেশন' হলো তিন গোয়েন্দা আর ওমর শরীফের সম্মিলিতভাবে খোলা একটি ফ্লাইং ক্লাব, যার 'ও' দ্বারা বোঝায় ওমর, 'কি' দ্বারা কিশোর, 'মু' দ্বারা মুসা আর 'রো' দ্বারা রবিনকে। 

হ্যানসন

হ্যানসন "রোলস রয়েস"-এর ব্রিটিশ শোফার। মধ্যপ্রাচ্যের এক শেখের জন্য প্রস্তুত করা হয় এই রোলস রয়েস। তিনি গাড়িটি না নিলে গাড়ির প্রতিষ্ঠান "রেন্ট-এ-কার অটোরেন্টাল কোম্পানী" গাড়িটিকে বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কিশোর পাশা সেই প্রতিযোগিতায় বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দিয়ে ৩০ দিনের জন্যে গাড়িটি ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যায় । তবে মূল্যবান "রক্তচক্ষু" পাথর খুঁজে দিবার পরে এর মালিক অগাস্ট তিন গোয়েন্দাকে গাড়িটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। 

পুরোনো প্রায় সব বইগুলোতেই হ্যানসনকে  দেখা যায়; অনেক সময় অনেক কেসে সহায়তাও করে থাকেন তিন গোয়েন্দাকে।

হ্যারিসন ওয়াগনার ফগর‌্যাম্পারকট

হ্যারিসন ওয়াগনার ফগর‌্যাম্পারকট একজন পুলিশ কনস্টেবল। তিন গোয়েন্দা তাকে একবাক্যে "ঝামেলা" বলে সম্বোধন করে থাকে, কেননা তিনি কথা কথায় নাক সিঁটকিয়ে 'ঝামেলা' শব্দটি উচ্চারণ করেন। 

তিন গোয়েন্দাতে আরো বেশ কিছু পার্শ্ব চরিত্রের দেখা মিলবে।  

তিন গোয়েন্দা নিয়ে স্মৃতি চারণ

বেশ অনেক দিন আগে তিন গোয়েন্দার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেউ একজন লিখেছিলেন 

"ওমর ভাইয়ের সাথে দেখা হয় না আজ অনেকদিন..ডেভিস ক্রিস্টোফার স্যারের ও কোন খবর নেই..গোয়েন্দা ভিক্টর সাইমন যে কোথায় আছেন কে জানে...ল্যারি কংকলিন তার বিমান চালনা ছেড়ে দিয়েছে...কিম ও এখন আর উদ্ভট খাবার টেষ্ট করতে ডাকে না...হ্যানসন কে ও আজকাল রোলস রয়েসের সাথে দেখা যায় না...জিনা ও রাগ করে কথা বলে না অনেকদিন...রাফিয়ান আর কিকো কে খুব মিস করি...হ্যারিসন আঙ্কেল ও আর সম্মেলন এ নিয়ে যায় না..বোরিস আর রোভার সেই যে জার্মানী গেল আর এলো না কাজে...অঙ্কেল ডিক সেই যে সিক্রেট মিশনে আত্মগোপন করলো,এখন কোথায় আছে কে জানে...টেরি ও আজকাল হোস্টেল থেকে আর রকি বীচে আসে না...ডানা,ফারিহা,শ্যারনরা ও সেই যে পড়তে গেলো আর যোগাযোগ রাখলো না...ডক্টর মুন আর রোডা ও এখন আর ডেড সিটিতে থাকে না...ক্যাপ্টেন রবার্টসন,চীফ ইয়ান ফ্লেচার ও বদলী হয়ে গেছে...মিস্টার ফগ ও চাকরী থেকে অবসরে গেছে...আগের মত আর কেস ও আসে না...অথৈ সাগর,দক্ষিণের দ্বীপ,ভীষণ অরণ্যের মত এডভেঞ্চার ও আর হয় না...
সোনালী দিনগুলো সব অতীত আজ..গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে দেওয়ার সময় মনে হয় এসে গেছে...এবার নিজের জীবনে আর কাজে মন দেওয়ার পালা..গোয়েন্দাগিরির সময় নাহয় চলেই গেছে,স্মৃতি আর নেশাটা কি যাবে কখনো...?"

শেষ কথা

তিন গোয়েন্দা সিরিজ অসংখ্য মানুষের ছোটবেলার প্রেম-ভালোবাসা। অনেকের বিনোদন,  ধ্যানজ্ঞান সব ছিলো এই সিরিজের বইগুলো..এখনো হয়ত অনেকে এর নেশা ছেড়ে উঠতে পারেনা..

তিন গোয়ন্দার কথা মনে হলে তাদের একটি কৌশল খুব মনে পড়ে যায়, সেটি হল "ভূত-থেকে-ভূতে"। এই পদ্ধতিতে কোনো সন্দেহজনক চরিত্র কিংবা কোনো কিছুর খোঁজ পেতে শহরের ছেলে-মেয়েদের সহায়তা নিয়ে থাকে তিন গোয়েন্দা। এজন্য প্রথমে তিন গোয়েন্দার প্রত্যেক সদস্য তাদের ৫ জন বন্ধুকে ফোন করে কিসের খোঁজ করছে তা জানিয়ে দেয়। যাদেরকে ফোন করেছে তাদের প্রত্যেকে আবার ৫ জন বন্ধুকে ফোন করে এটা জানায়। এই বন্ধুরা ফোন করে তাদের ৫ জন বন্ধুকে। এভাবে শহরের তাবৎ ছেলে-মেয়েরা জেনে যায় খবরটি।  অদ্ভুত তাই না  ?  

নব্বইয়ের দশকে জন্মানো আমাদের প্রায় সবার বিরাট বড় আবেগের একটা জায়গা "তিন গোয়েন্দা"। রকিব হাসানের চলে যাওয়া, তারপর পাঠকদের কাছে আগের মুগ্ধতাটা ধরে রাখতে পারে নি।  তাই তো সব মিলিয়ে তিন গোয়েন্দার ক্রেজটা এখনকার স্কুলপড়ুয়াদের কাছে হয়তো আস্তে আস্তে কমে আসছে। কারো ভালবাসা গড়ে উঠুক আর না উঠুক আমরা যারা তিন গোয়েন্দার সাথে রহস্য উতঘাটন করেছি তাদের কাছে তিন গোয়েন্দা একটি হিরার টুকরা। বেঁচে থাকা অবধি আমাদের কাছে তিন গোয়েন্দার স্মৃতি জ্বলজ্বল করবে বলে আমার বিশ্বাস। 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক