4

নাক দিয়ে রক্ত পড়া (Epistaxis)

নাক দিয়ে রক্ত পড়া আমাদের একটি সাধারণ বা সচরাচর ঘটে থাকা ঘটনার মধ্যে একটা। আসুন জেনে নেই নাক দিয়ে রক্ত পড়া নিয়ে…..

কি?
ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রায়ই নাক দিয়ে রক্ত পড়া দেখা যায়। অনেক সময় বড়দেরও পড়তে দেখা যায়। এটা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। রক্ত পড়া অল্প সময়ের জন্য ৩-৪ বার পড়তে থাকে। যদি ১-২ দিন অনবরত পড়তে থাকে তবে উপযুক্ত কারণ খুঁজে চিকিৎসা করা দরকার।

কারণ
*জন্মগত কারণে রক্তের জমাট বাঁধার ক্ষমতা কম থাকলে।
*রক্তে অণুচক্রিকা কম থাকলে।
*বুকে, মাথায় বা নাকে আঘাত পেলে।
*নাকে প্রদাহজনিত কারণে।
*সাইনোসাইটিস, হে ফিভার ও গ্রন্থি জ্বরে হঠাৎ দেখা যায়।
*নাকের ভিতর টিউমার বা ক্যান্সার জনিত কারণে।
*রক্ত সঞ্চালন বা অধিক রক্তচাপ থাকলে।
*রক্তের উপাদানে গোলযোগ দেখা দিলে বা জটিল রোগে।
*অনেক সময় বেশি রোদে চলাচল বেশি করলে।
*নাকের ভিতর কোনো ঘা বা ইনফেকশন হলে।
*মস্তিষ্কের রক্তচাপ চোখের রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে কোনো শিরা(Artery) ছিঁড়ে যায়।

লক্ষণ/চিহ্ন
সাধারণ বলে মনে হলেও রোগটি কিন্তু মোটেই সাধারণ রোগ নয়; বড় বিপজ্জনক রোগ। একে অবহেলা করা উচিত নয়। এই রোগে হঠাৎ হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। কখনো ফোঁটা ফোঁটা, কখনো বেশ গড়গড় করে পড়ে। কখনো জমাট বাঁধা খয়েরি রঙের রক্তও বের হয়। নাকে ঘা বা ফোঁড়া না হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার পিছনে নাক ছাড়াও অন্য কারণও থাকে। এটি উপসর্গ মাত্র।

পরীক্ষা
X-Ray of PNS and Nasopharynx করতে হবে।

চিকিৎসা/ব্যবস্থাপনা
১) রোগীর পূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।
২) ভালো টর্চ দ্বারা নাকের ছিদ্রপথে দেখতে হবে রক্তপাতের স্থানীয় কারণ।
৩) হাতের আঙ্গুল দ্বারা নাক চেপে ধরে রাখলে রক্ত বন্ধ হবে।

৪) নাকের ভিতর ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিলেও রক্ত বন্ধ হবে।
৫) নাড়ী, রক্তের চাপ এবং সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে।
৬) নাকের ভিতর তুলায় করে অ্যান্ড্রোনালিন(Andronaline) ভিজিয়ে যতদূর সম্ভব ঢোকাতে হবে। এতে বন্ধ না হলে ভেজলিনে(Vaseline) মাখানো গজের টুকরা নাকের ভিতর প্রবেশ করাতে হবে।
৭) রক্ত বন্ধের জন্য ->
Inj. Caprolysin; মাত্রাঃ ১টি অ্যাম্পুল ভেঙ্গে ২-৩ বার মুখে খাওয়ানো হয় অথবা শিরায় ইনজেকশন দেয়া হয়।
৮) প্রশান্তি ও স্নায়ুর কাজের জন্য ডাইজিপাম(Dizepam) জাতীয় ঔষধ
Tab. Sedil 5mg.; মাত্রাঃ ১টা করে দিনে ২ বার।
৯) রক্তের যে অসুবিধা থাকুক না কেন শীঘ্র বন্ধ না করলে শরীরে মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা যেতে পারে।
১০) রক্তক্ষরণরোধী ঔষধ ->
Tab. Anorexyl; মাত্রাঃ ১টা করে দিনে ৩ বার।
Inj. Anorexyl; মাত্রাঃ তীব্র অবস্থায় ইনজেকশনের ১টি অ্যাম্পুল মাংসপেশীতে ১-২ বার দেয়া হয়।
১১) যদি রোগীর রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কম থাকে তবে ভিটামিন-কে(Vitamin-K) জাতীয় ঔষধ
Tab. Vitamin-K 100mg.; মাত্রাঃ প্রয়োজন অনুযায়ী ১টা করে দিনে ১-২ বার সেব্য, তীব্র অবস্থায় ইনজেকশনের ১টা অ্যাম্পুল মাংসপেশীতে দিতে হয়।
১২) নাকে ইনফেকশন বা ক্ষত থাকলে
এমক্সিসিলিন(Amoxycillin) জাতীয় ঔষধ।
Tab. Dispersible Moxacil 250mg; মাত্রাঃ ১টা দিনে ৩ বার।
Cap. Moxacil 250mg.; মাত্রাঃ ১টা করে ৮ ঘন্টা পরপর ৫-৭ দিন অথবা দিনে ৩ বার।
Syp. Moxacil; মাত্রাঃ ১-২ চামচ দিনে ৩ বার।
(যে কোনো একটি সেব্য)
অথবা, সিফালেক্সিন(Cephalexin) জাতীয় ঔষধ
Tab. Dispersible Ceprorin 250mg.; মাত্রাঃ ১টা ৬ ঘন্টা পরপর ৫-৭ দিন বা দিনে ৪ বার।
Cap. Ceproin 250mg.; মাত্রাঃ ১টা ৬ ঘন্টা পরপর ৫-৭ দিন বা দিনে ৪ বার।
Cap. Ceproin 500mg.; মাত্রাঃ ১টা দিনে ২ বার করে ৫-৭ দিন।
Syp. Ceproin; মাত্রাঃ ১-২ চামচ দিনে ৪ বার করে ৫-৭ দিন।
(যে কোনো একটি সেব্য)
১৪) ক্ষত শুকাবার জন্য ভিটামিন-সি(Vitamin-C) জাতীয় ঔষধ
Tab. Cevit (বা সিভিট জাতীয় ঔষধ); মাত্রাঃ ১টা করে দিনে ৩ বার চুষে খেতে হয়।
১৫) শরীর দূর্বলতার জন্য মাল্টিভিটামিন জাতীয় ঔষধ
Tab. Multivit-Plus; মাত্রাঃ ১টা করে দিনে ১বার।
Tab. Bextrum Gold; মাত্রাঃ ১টা করে দিনে ১বার।
(যে কোনো একটি সেব্য)
১৬) শিরায় প্রয়োগের স্যালাইন দরকার হলে দিতে হবে।
১৭) রোগের জটিলতা বাড়তে থাকলে হাসপাতালে প্রেরণ কর্তব্য।

হার্বাল চিকিৎসা
*মাঝেমাঝেই যাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা আছে, তাদের প্রতিদিন দু’ফোঁটা করে আঞ্জিরের দুধ ৪-৫ দিন খেলে নাকের রক্তপড়া বন্ধ হবে।
*৫০০ মিলিগ্রাম পরিমাণ শিমের বিচির চূর্ণ সকালে ও বিকালে দু’বার ঠান্ডা পানিসহ খেলে রক্তপড়া বন্ধ হবে।

উপদেশঃ খাদ্য ও পথ্য
#পথ্য খাবার কোনো অসুবিধা নেই, খেতে পারলে সব খাবারই খাওয়া যাবে।
#রোগের সঠিক কারণ খুঁজে বের করা গেলে সেভাবেই চিকিৎসা করতে হবে।
#উচ্চ রক্তচাপ বা বেশি রক্তশুন্যতার সৃষ্টি হলে হাসপাতালে পাঠাতে হবে।
#সঠিক রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসা করা উচিত না।

তবে এ পোস্ট পড়ে কেউ নিজেকে ডাক্তার মনে করবেন না, কোনো সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াটাই সমীচীন, কারণ নাক দিয়ে রক্ত পড়া বড় কোনো রোগের উপসর্গও হতে পারে। কোনো ভুল-ত্রুটি হলে আপনাদের ক্ষমাপ্রার্থী।

আসাদুজ্জামান নূর অন্তর
 

"আসাদুজ্জামান নূর" শব্দ দু'টোর আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় "কালের সিংহ মানে সময়ের বীর, আলো/ আলোপ্রাপ্ত/ আলোকিত বা আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াতের আলোয় আলোকিত"... জানি না আমি তেমন কিনা.. আশায় আছি, এক প্রানবন্ত ভবিষ্যতের.. ফেসবুকে, টুইটারে, গুগল প্লাসে আমি