নারিকেল তেল- ব্যবহারবিধি ও উপকারিতা

আদিকাল থেকে রূপচর্চা ও সৌন্দর্য রক্ষায় বিভিন্ন রকমের তেলের ব্যবহারের প্রচলন চলে আসছে । নানা রকমের তেলের রয়েছে একেক রকমের গুণাগুণ। তেল ত্বকের কোষের ভিতরে খুব দ্রুত মিশে গিয়ে ভেতর থেকে রুক্ষতা দূর করতে সহায়তা করে । ত্বক হয়ে ওঠে নরম ও মসৃণ। চুলের যত্নে, চামড়ার খসখসে ভাব দূর করতে ও ওজন কমানো সহ নারিকেল তেলের নানাবিধ উপকারিতার কথা  কম বেশি সবারই জানা।

নারিকেল তেল হচ্ছে এক ধরণের তেল যা নারিকেল গাছ থেকে সংগৃহীত নারিকেলের শাঁস থেকে নিষ্কাশন করা হয়। আবহমান কাল ধরে চুলের যত্নে নারিকেল তেলের ভূমিকা বাংলার ঘরে ঘরে প্রচলিত কিন্তু এছাড়াও যে নারিকেল তেল নানাবিধ কাজে ব্যবহার করা যায় ।

নারিকেল তেল বানানোর  নিয়ম

শুকনো বা কাঁচা উভয় অবস্থা থেকে নারিকেল তেল নিষ্কাশন করা হয়।

শুষ্ক প্রক্রিয়া

শুকনো প্রক্রিয়ায় নারিকেল তেলে বানানোর ক্ষেত্রে, নারিকেল থেকে শাঁস প্রথমে তুলে কেটে টুকরো করে সূর্যের আলোতে বা  আগুনের তাপে শুকানো হয়। এই শুকনো শাঁসকে ঘানিতে পিষে বা দ্রাবকে ডুবিয়ে তেল বের করা হয়। এ সময় তেলের সংগে উপজাত হিসেবে উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খৈল পাওয়া যায়। খৈল পশু, মৎস্য খাদ্য, সার ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ভেজা প্রক্রিয়া

এ প্রক্রিয়ায় শুকনো নারিকেলের শাঁসের বদলে কাঁচা নারিকেল ব্যবহার করা হয়। নারিকেলের প্রোটিন তেল ও পানি দ্বারা একটা ইমালশান তৈরি করে। এই ইমালশান ভেঙে তেল সংগ্রহ করতে হয় যা কিছুটা ঝামেলাপূর্ণ। দীর্ঘ ফুটানোর মাধ্যমে এটা করা হয়। কিন্তু এর ফলে তেলের রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে । এটা লাভজনক প্রক্রিয়া নয়। ভালোমানের নারিকেল থেকে ভালো তেল পাওয়া যায়।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে নারিকেল তেল উৎপাদন

মাঝারি আকৃতির ৪ টি নারিকেল নিয়ে এগুলোর শাঁস কুড়িয়ে নিতে হবে।  এ কুড়ানো শাঁসগুলো গরম পানি দিয়ে ভাল মত বেন্ড করতে হবে । খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি খুব বেশি গরম না হয়। বেল্ড করার পরে পানি ছেকে নারিকেলের শাঁস সংগ্রহ করে হাতের চাপে সবটুকু পানি বের করে দিতে দিন। এবার আবার অল্প পানি দিয়ে এই শাঁস বেন্ড করুন একইভাবে আবার ছেঁকে নারকেলের অবশিষ্ট অংশ ফেলে দিন।

কার বাসায় যদি ব্লেন্ডার না থাকে   সে ক্ষেত্রে পাটায় বেটে নিতে পারে। পাটায় বাটার পরে গরম পানিতে বাট শাঁস মেশাবেন। বেন্ড করার মত দ্বিতীয় বার বেটে পানি সংগ্রহ করে নারিকেলের শাঁস ফেলে দিন।

এবার নির্যাসিত পানি একটি বাটিতে রেখে সারারাত ফ্রিজে রেখে দিন। পরের দিন যখন ফ্রিজ থেকে পানির পাত্র বের করা হবে তখন দেখবেন দুধের মত একটা অংশ উপরে শক্ত হয়ে জমে গেছে। নিচে পানির অংশ বাদ দিয়ে চামচের সাহায্যে সাবধানে দুধের ,মত সাদা অংশটুকু তুলে একটি প্যানে নিন। প্যান চুলায় দিয়ে মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন। গলে গেলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। ১০ মিনিট নাড়ার পর দেখবেন ধীরে ধীরে তেল ছাড়তে শুরু করেছে দুধ।

নাড়তে নাড়তে দেখবেন তেল এক সময় বাদামী হয়ে এসেছে। চুলায় দেবার প্রায় এক ঘন্টা পর ফেনা উঠে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। এ সময় দুধের সলিড অংশ গুঁড়ার মতো হয়ে নিচে জমে গেলে ছেঁকে বোতলে নিয়ে নিন তেল।

নারিকেল তেল ব্যবহারবিধি

নারিকেল তেল খুব পরিচিত একটি তেল। এটি দু’ভাবে ব্যবহার করা হয়। যেটি রিফাইন্ড হয়ে আসে, সেটি বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। আর যেটি আনরিফাইন্ড বা ভার্জিন তেল হিসেবে থাকে সেটি খাবার তেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে সাধারণত বাহ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয় নারিকেল তেল মানে যেটি রিফাইন্ড হয়ে আসে। তবে বাহ্যিকভাবে আনরিফাইন্ড বা ভার্জিন তেলের ব্যবহার ইদানিং বেশ লক্ষ করা যাচ্ছে।

নারিকেল তেল কিনা পরীক্ষা

আমরা সবাই-ই জানি যে, নারিকেল তেল ঠান্ডায় জমে যায়। বিশুদ্ধ নারিকেল তেল চেনার এটা সবচেয়ে বড় একটি উপায়। এ জন্য  নারিকেল তেল ৩০-৬০ মিনিটের জন্যে ফ্রিজে রেখে দেখতে পারেন যে এটি পুরো জমে গেছে কিনা। পুরোপুরি জমে গেলে বুঝবেন তেলটি খাঁটি।

আসল নারকেল তেল একদম প্রায় পানির মত পরিষ্কার কালার হয়। যদি আপনি তেলের রঙ এ হালকা হলুদ / গ্রে কালার দেখতে পান তাহলে বুঝবেন এটি কেমিক্যালযুক্ত।

আসল নারকেল তেলে কোনো ধরনের কড়া গন্ধ থাকবে না। এতে হালকা ধরনের নারিকেলের স্মেল থাকবে।

নারকেল তেলের উপকারিতা

আমাদের দেশে নারিকেল তেল বলতে চুলের পথ্য হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ত্বকের যত্নে এই তেলের জাদুকরী গুণের কথা অনেকেই জানেন না। চুল ছাড়াও যে নারিকেল তেল বহুবিধ কাজে ব্যবহার করা যায় । ত্বকের শুষ্কতা, চুলকানি আর ক্ষত সারাতে এই তেল খুবই উপকারী। বিশ্বের বিখ্যাত বিউটি এক্সপার্টরা তাই চুলের পাশাপাশি অন্যান্য কাজেও নারিকেল তেল বেছে নিতে পরামর্শ দেন। নারিকেল তেলের তেমনি কিছু জাদুকরী ব্যবহার নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

চুলের যত্নে

চুলের যত্নে বহু পরিচিত একটি প্রসাধনী হচ্ছে নারিকেল তেল। চুলের যত্নে নারকেল তেলের কোন বিকল্প নেই। চুলের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নারকেলে তেলের জুড়ি নেই। এটি চুলের পুষ্টি যোগাতে ও চুল মজবুত করতে কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। সবচেয়ে কম দামে ও সহজলভ্য হেয়ার কন্ডিশনার হচ্ছে নারিকেল তেল।

নারিকেল তেল একমাত্র প্রাকৃতিক উপাদান যা চুলের যত্নে ব্যবহার করা হয়। নারিকেল তেল মাথার তালুতে তেল হালকা গরম করে ম্যাসেজ করলে খুকশি দূর হয়।। এই তেল প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিয়ে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চুলকে রক্ষা করে। নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহারে চুল তাড়াতাড়ি বড় হয়। এছাড়া কিছু কিছু ময়লা আছে যা সহজে পরিস্কার হয় না। কিন্তু মাথার ত্বক ও চুলে নারিকেল তেল দিলে তা সহজে দ্রবীভূত হয়ে পরিস্কার করতে সাহায্য করে।

ব্যবহারের আগে নারিকেল তেল হালকা গরম করে নিন। তারপর আঙুলের ডগা দিয়ে ঘষে ঘষে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন।চুলের যত্নে নারিকেল তেল

মেকআপ তোলা

কোথাও থেকে ফিরে রাতে মেকআপ তুলে না ঘুমালে ত্বকে ব্রণ উঠে তা সকলেই জানেন। ঘরে মেকআপ রিমুভার না থাকলে ব্যবহার  করতে পারেন নারিকেল তেল। বাড়িতে ফিরে মেকআপ তোলার কাজটা অনায়াসে নারিকেল তেলের ওপর ছেড়ে দিতে পারেন। এমনকি পানি প্রতিরোধী মেকআপ ব্যবহার করলেও এই তেলে ভরসা করা যায়।

অন্য দিকে অনেকে রাসায়নিক রিমোভার ব্যবহার করেন। রাসায়নিক রিমোভার অনেকের ত্বকে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে। তাই নারিকেল তেল প্রাকৃতিক মেকআপ রিমোভার হিসেবে ব্যবহার করা ভাল।

নেল পলিশ উঠাতে

মেয়েদের একটি প্রিয় প্রসাধনী হলে নেইল পলিশ। নেলপলিশ নখের পাশে চামড়ায় লেগে গেলে তুলতে বেশ যন্ত্রণায় পড়তে হয় । এই সমস্যা সমাধানে নেলপলিশ লাগানোর আগে নখের পাশে নারকেল তেল লাগিয়ে নিন। ব্যাস যন্তণায় পড়তে হবে না।

আবার নেলপলিশের বোতলের মুখ আটকে যায় বারবার ? নেলপলিশ ব্যবহারের পর বোতলের মুখে নারিকেল তেল লাগিয়ে মুখ লাগান, আর আটকে যাবে না।

শুষ্ক ত্বকে  ময়েশ্চারাইজার  হিসেবে

শুষ্ক ত্বকের জন্য নারিকেল তেলের বিকল্প নেই। অনেকের ত্বক অল্প শুষ্ক আবহাওয়াতেই শুষ্ক হয়ে খসখসে হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে  সামান্য তেল হাতের তালুতে নিয়ে ত্বকে ধীরে ধীরে ঘষে নিন।  ময়েশ্চারাইজার হিসেবে নারিকেল তেল অনন্য। মুখ সহ সারা দেহেই আপনি চাইলে নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। পায়ের গোড়ালিতে ফাটা থাকলে নির্দ্বিধায় নারিকেল তেলে  লাগাতে থাকুন । কয়েক দিন ব্যবহার করলেই যন্ত্রণা কমে আসবে। এর সঙ্গে লবণ বা চিনি মিশিয়ে মৃত ত্বক পরিষ্কারের কাজটিও করতে পারেন।

ত্বকের ময়েশ্চারাইজার বাড়াতে বাজারে যেসব পণ্য মেলে তার সবই পানি ও পেট্রোলিয়াম নির্ভর। অথচ নারিকেল তেল একেবারে প্রাকৃতিক এবং পেট্রোলিয়ামের চেয়ে অনেক ভালো মানের ময়েশ্চারাইজিং উপাদান। ত্বকে ওঠা লালচে র‌্যাশ দূর করা থেকে শুরু করে চুলকানি বা একনি সামলাতেও বেশ কাজের।

স্ক্রাবার হিসেবে

গোসলের আগে সমপরিমাণ নারিকেল তেল ও চিনি মিশিয়ে শরীরে ঘষা যায়। এটি একটি স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে শীতকালে এটি খুবই উপকার করে ।

ঠোঁটের যত্নে

শীতে ঠোঁট ফাটা আমাদের অনেকের সাধারণ সমস্যা।  শুধু যে শীতেই যে ঠোঁট ফাটে  এমন নয়,  অনেকে সারা বছর এই যন্ত্রণা ভোগ করেন। এ ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত বাজারে পাওয়া নানা রাসায়নিক লিপ কেয়ার ব্যবহার করি। এটি অনেক সময়ই মুখের ভেতরে চলে যায়, যা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে  লিপ কেয়ারের বিকল্প হতে পারে নারিকেল তেল। এটা  ঠোঁট ফাটা সহ ঠোঁটের বিভিন্ন সমস্যা উপশম করে।

দুর্গন্ধমুক্ত ত্বক

আমাদের অনেকেরই শরীরে প্রচুর গন্ধ হয়। এই গন্ধের কারনে নানা অস্বস্তিকর অবস্থাতে পড়তে হয়।  নারিকেল তেলের সাথে বেকিং সোডা ও কর্ন স্টার্চ মিশিয়ে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন প্রাকৃতিক ডিওডরেন্ট। আপনার দেহকে রাখবে একেবারেই দুর্গন্ধমুক্ত।

কফের দূর করতে

বুকে জমে যাওয়া কফ দূর করতে ঘরে বানিয়ে নিতে পারেন কনজেশন রিলিফ ক্রিম। আধা কাপ নারিকেল তেল, রোজমেরি, দারুচিনি এবং ইউক্যালিপটাস এসেনশিয়াল তেল একসাথে মিশিয়ে নিন এবং বুকে মালিশ করুন।

উকুন দূর করতে

নারিকেল তেল প্রাকৃতিকভাবে উকুন দূর করতে ব্যবহার করা যায়। এজন্য যা লাগবে তা হল , আপেল সিডর ভিনেগার ও নারিকেল তেল। প্রথমে ভিনেগার পুরো মাথায় ঢেলে মাথাটি ভিজিয়ে নিতে নিন ।  না ধুয়ে রেখে দিন যতক্ষণ ভিনেগার না শুকায়। এরপর শুকালে নারিকেল তেল লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ বা একটি পাতলা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মাথা মুড়ে রাখুন। কয়েক ঘন্টা পর একটি চিকন চিরুনী দিয়ে মাথা আঁচড়ান। যতটা পারেন। এতে করে উকুন ও ডিম বের হয়ে আসবে। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কাটা ঘা ও পোড়া স্থানে

ক্ষত, কাটা ও পোড়া স্থানে নারকেলের তেল লাগালে আরাম পাওয়া যায়। কেননা এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস রোধ করে এবং টিস্যু গঠন করতে সহায়ক।

 রান্নায় নারকেল তেল

দক্ষিণ ভারতীয় রান্নায় নারিকেল তেলের ব্যবহার হচ্ছে শত শত বছর ধরে। ইদানীং আমাদের দেশেও স্বাস্থ্যসচেতন কেউ কেউ রান্নায় নারিকেল তেল ব্যবহার করছেন। কারণ অনেকের ধারণা, উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলেও নারকেল তেল কখনও পুড়ে যায় না, এছাড়া খাবারের নানা বিষাক্ত উপাদানও বের করে ফেলে।

রান্নায় নারকেলের তেল ছাড়া সব ধরনের তেল (অলিভ অয়েল, সোয়াবিন, সানফ্লাওয়ার অয়েল এবং ক্যানলা অয়েল) উচ্চ তাপমাত্রায় অধিক পরিমাণ টক্সিন তৈরি করে। এ টক্সিন হজমের জন্য খুব ভালো নয়। কেবলমাত্র নারকেল তেল উচ্চ তাপমাত্রা ও খাদ্য উপাদান অটুট রাখতে পারে।

হৃদরোগে 

 অনেকেই মনে করেন নারিকেল তেল হার্টের জন্য ভালো নয়। এর কারণ হলো এর মধ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। তবে গবেষকরা বলছেন, নারিকেল তেল হার্টের জন্য ক্ষতিকারক নয়। এর মধ্যে  থাকা ৫০ শতাংশ লিউরিক এসিড হৃদরোগ হওয়ার অনেক কারণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। যেমন- উচ্চ কোলেস্টেরল , উচ্চ রক্তচাপ। নারিকেল তেল সবজির তেলের মতোই। নারিকেল তেল ক্ষতিকর কোলেস্টেলের মাত্রা বাড়ায় না। এটা অ্যাথেরোসক্লেরোসিস প্রতিরোধ করে।

ওজন কমাতে

ওজনাধিক্য পৃথিবীর একটি বড় সমস্যা। নারিকেল তেল ওজন ঝরাতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে ছোট এবং মধ্যম চেইনের ফ্যাটি এসিড যা, বাড়তি ওজন দূর করতে সাহায্য করে। এটা হজমে সাহায্য করে এবং থাইরয়েড ও এন্ডোক্রাইন পদ্ধতির কার্যক্রম ভালো রাখে। মোটা মানুষদের ক্ষেত্রে ওজন কমাতে সাহায্য করে এটি। বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকার লোকেরা রান্নায় নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহার করেন।

চোখের কালো দাগ দূর করতে

চোখের নিচের কালো দাগ  দূর করতে একটি ছোট কন্টেইনারে নারিকেল তেল নিয়ে তাতে ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিয়ে ফ্রীজে রেখে দিয়ে জমিয়ে প্রতিদিন রাতে শোবার আগে চোখের নীচে লাগালে দাগ দূর হয়ে যায়।

চোখের ফোলা ভাব দূর করতে

অনেক সময় আমাদের চোখের নীচে ফোলা ফোলা দেখা যায়। চোখের নিচের ফোলা ভাব দূর করতে একটি কটনপ্যাডে নারিকেল তেল লাগিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর চোখের নিচে লাগিয়ে রাখুন। ব্যস সমস্যার সমাধান।

ত্বকের সমস্যায়

একনিম সোরিয়াসিস ও একজিমার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নারিকেল তেল বেশ উপকারী বলে মত দিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলছে। ত্বকের রোগে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক কোষ মরে যায়। এদের সরিয়ে দিয়ে নতুন কোষ গজাতে সহায়তা করে নারিকেল তেলের প্রোটিন। পাশাপাশি দৃশ্যমান ক্ষতও দূর করে।

দাঁতের যত্নে

আমরা দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য কত কিছুই না ব্যবহার করি। তারপরও কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না বলে আমাদের অভিযোগ। দাঁত ভেঙে যাচ্ছে, অবাঞ্ছিত দাগ দূর হচ্ছে না, পোকার আক্রমণ ঘটছেই।  সমস্যা নেই ,  প্রতিদিন তিন থেকে চার মিনিট ধরে নারিকেল তেল ও লবণ দিয়ে দাঁত মাজুন।

দাঁতের হলদে দাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? প্রাকৃতিকভাবে দাঁত সুস্থ রাখতে নারিকেল তেলের (coconut oil) বিকল্প নেই। ১ চা চামচ নারিকেল তেল (coconut oil) মুখের মধ্যে নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। এতে দাঁত সাদা হবে ও ক্ষতিকারক জীবাণু দূর হবে।

নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহারে দেখবেন দাঁত উজ্জ্বল, ঝকঝকে,তকতকে ও আরও বলবান হয়ে উঠছে ।

নারিকেল তেলের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, যা দাঁতের জন্যও ভালো। এটি ক্ষয় রোধ করে দাঁতকে মজবুত রাখে। তবে যে কোনো খাবার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখার আগে আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

ত্বকের যত্নে

নারকেল তেলে থাকা ফ্যাটি এসিড অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে। ত্বকের ব্রণ-এর সমস্যা কমানোর সাথে সাথে পোরগুলোতে ময়লা জমতে দেয় না। এবং এতে থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন ই পাওয়ারফুল অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করে যার ফলে ত্বকের বলি রেখা পড়তে দেয় না।

বয়স ধরে রাখতে

বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, নারিকেল তেল চেহারায় বলি রেখা পড়তে দেয় না। ফলে বয়স ধরে রাখতে এই তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটা অ্যান্টি-এজিং ক্রিম হিসেবে খুবই জনপ্রিয়।

আংটি বা চেইন আটকে গেলে

আঙুলে আংটি আটকে গেলে টানাটানি করে ব্যথা পাওয়া ছাড়া লাভ হয় না ।এ ক্ষেতে,  আঙুলে লাগিয়ে নিন নারিকেল তেল খুব সহজেই আংটি খুলে আসবে।

আবার অনেক সময় কাপড় বা ব্যাগের চেইন আটকে যায় । টানাটানি করে চেইন নষ্ট হয়ে যায় । এ ক্ষেত্রে চেইনে অল্প একটু নারিকেল তেল লাগিয়ে নিলে সহজেই চেইন খুলে আসে।

শেষ কথা

সময়ের পরিবর্তনের সাথে  আর নানান ভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর  ব্যবহারে দিন দিন নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ নারিকেল তেলের নানা প্রসাধন জনিত ব্যবহার অনেকের কাছেই অজানা রয়ে গেছে।   কিন্তু ক্যামিকেল যুক্ত সে সকল প্রসাধনীর বদলে প্রাকৃতিক এই অনন্য উপাদানটি ব্যবহার করা অনেক বেশী উপকারী।

তথ্যঃ অনলাইন।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক