নেপোলিয়ান বোনোপার্ট কে? তার সম্পর্কে কিছু কথা ও বিখ্যাত উক্তিসমূহ !

একজন মহান মানুষকে হত্যা করা সম্ভব কিন্তু তাকে ভয় দেখানো সম্ভব না

উপরের এই অসাধারণ উক্তিটি নেপোলিয়ান বোনোপার্ট এর। তার সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা না থাকলেও ইতোপূর্বে এই নামটি বহুবার হয়তো শুনে ফেলেছেন। যেখানে আছে সাহসের কথা, যেখানে আছে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার কথা সেখানেই উঠে এসেছে নেপোলিয়ানের নাম। তিনি ৫’ ৪” সাইজের খুব ছোট মানুষের ছিলেন উচ্চতায় কিন্তু তার অবস্থান কত উঁচুতে সেটা টের পেয়েছেন যারাই তার সান্নিধ্যে এসেছিলেন। পিপীলিকার এবারের এই পোস্ট সাজানো হয়েছে তাকে নিয়েই।

 

জন্ম

১৭৬৯ সালের ১৫ই আগস্ট ফ্রান্সের কর্সিকা দ্বীপের অ্যাজাক্সিউ অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ান বোনোপার্ট। কর্সিকা দ্বীপটি পূর্বে জেনোয়া প্রজাতন্ত্রের অধীনে ছিল। পরবর্তীতে দ্বীপটি ফ্রান্সের অধিনস্থ হয়। নেপোলিয়ানের পুর্বপুরুষরা ছিলো ইতালিয়ান তুসকান গোত্রের। সেই থেকে তাকে ইতালিয়ান বংশোদ্ভূত বললেও ভুল বলা হবে না। নেপোলিয়ানের বাবা কার্লো বোনোপার্ট ছিলেন পেশায় একজন উকিল। 

সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাত্র ১৬ বছর বয়েসে নেপোলিয়ান সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৭৯৩ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়েসেই নেপোলিয়ান ফরাসী বিপ্লব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রণক্ষেত্রে দারূণ শৌর্যবীর্য প্রদর্শনের ফলে তাকে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পদ দেয়া হয়। অবশ্য তিনি এর যথেষ্ট যোগ্যতাও রাখতেন সেই বয়েসেই। পরবর্তীতে প্রায় দুই বছর পরে ১৭৯৫ সালে বিদ্রোহের আশঙ্কা দেখা দিলে সমগ্র সেনাবাহিনী পরিচালনার ভার তিনি একাই বহন করেন। এখানেও নেপোলিয়ান যথেষ্ট পারদর্শিতার পরিচয় দেন। তাকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামরিক নেতা হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। ১৭৯৯ সালে নেপোলিয়ান বোনোপার্ট একটি অভ্যন্তরীণ বিপ্লবের মাধ্যমে প্রথম কনসালরূপে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। এরপরই তিনি একটি সামরিক একনায়ক তন্ত্রের সূত্রপাত ঘটান। তিনি অনেকগুলো যুদ্ধ করেন কিন্তু অল্প কিছু যুদ্ধে হেরে গিয়ে তিনি সিংহাসন ত্যাগে বাধ্য হন। তাকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনমতে সেখান থেকে পালিয়ে ফ্রান্সে চলে আসেন। এর মধ্যে ১৮ই মে ১৮০৪ থেকে ১১ই এপ্রিল ১৮১৪ পর্যন্ত তিনি ফরাসির সম্রাট ছিলেন  এবং ১৭ই মার্চ ১৮০৪ থেকে তিনি ইতালির অধিপতিও ছিলেন। ১৮১৫ সালের ১৫ই জুলাই তিনি ব্রিটিশদের সাথে বিখ্যাত ওয়ার্টলুর যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন এবং আত্মসমর্পনের পর সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত হন। আর এখানেই ১৮২১সালের ৫ই মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নেপোলিয়ানের চিকিৎসক ফ্রানসোয়া কার্লো ময়নাতদন্তে বলেন নেপোলিয়ানের বাবার মতই তার  মৃত্যুর কারণ ছিলো পাকস্থলির ক্যান্সার। এভাবেই করুণ মৃত্যু হয় মহান এই কল্যাণকামী নায়কের।

নেপোলিয়ান ছিলেন ফ্রান্সের ত্রানকর্তা। তার জন্যেই বিশ্বের দরবারে বর্তমানে ফ্রান্সের এই অবস্থান। তিনি ফ্রান্সের ত্রানকর্তা হিসেবে চিহ্নিত হলেও তার মধ্যে ছিলো সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব। আর সেটাই অন্য রাজ্যগুলোর হাড় কাপিয়ে দিতে সক্ষম ছিলো। তার অসীম বুদ্ধিমত্তা আর যুদ্ধকৌশল বড় বড় বীরদেরও ভয়ের কারণ ছিল।

নেপোলিয়ান বোনোপার্ট সম্পর্কে কিছু তথ্য

  • নেপোলিয়ান জন্মেছিলেন কর্সিকা দ্বীপে আর মৃত্যুবরণ করেছিলেন সেন্ট হেলেনা দ্বীপে। অর্থাৎ তার জন্ম ও মৃত্যু দু’টোই হয়েছে দ্বীপে।
  • তিনি মোট দু’বার বিয়ে করেছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন জোসেফাইন আর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন ম্যারি লুইস।
  • নেপোলিয়ানের প্রথম স্ত্রী জোসেফাইন বিধবা ছিলেন এবং ্তিনি নেপোলিয়ানের থেকে ৬ বছরের বড় ছিলেন।
  • নেপোলিয়ান স্রষ্টায় বিশ্বাসী ছিলেন না।
  • ইতালি যখন তার শাসনাধীনে ছিলো তখন তিনি এর জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করেছিলেন।
  • তার জারজ সন্তান্তও ছিলো।
  • Clisson et Eugenie নামে তিনি একটি রোম্যান্স উপন্যাসও রচনা করেছিলেন।
  • তিনি মোট দু”বার নির্বাসিত হয়েছিলেন। প্রথমবার এলবা দ্বীপে, দ্বিতীয়বার সেন্ট হেলেনা দ্বীপে।
  • তার স্ত্রীকে লেখা তার চিঠিগুলো আজ অবধিও অক্ষত অবস্থায় আছে।

নেপোলিয়ান বোনোপার্টের কিছু উক্তি

  • ধর্মই গরীবদেরকে বিরত রাখে ধনীদের হত্যা করা থেকে।
  • অসম্ভব এমন একটি শব্দ যা কেবল বোকাদের অভিধানেই পাওয়া যায়।
  • অসম্ভব বলে কোন শব্দ আমার অভিধানে নেই। (“অসম্ভব বলে কোন শব্দ আমার ডিকশনারিতে নেই” টাইপের ডায়ালগের উৎপত্তি এটা থেকেই)
  • একটি ছবি হাজার শব্দের সমান। (লেখায় ছবি ব্যবহারের উপকারিতা উল্লেখ করে প্রায়ই ব্লগাররা এই উক্তিটি ব্যবহার করেন)
  • সত্যিকারের মানুষ কাউকে ঘৃণা করেনা।
  • ইতিহাস হচ্ছে মিথ্যার সমষ্টি যাতে একমত পোষণ করা হয়েছে।
  • কল্পনাশক্তিই পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করে।
  • তুমি যদি চাও কোন কিছু ভালোভাবে হোক, তবে তা নিজে কর।
  • পুরুষ দু’টি লিভার দ্বারা চলে: ভয় এবং আগ্রহ।
  • সর্বদা গরীব থাকার নিশ্চিত উপায় হচ্ছে সৎ থাকা।
  • মৃত্যুর কারণই মানুষকে শহীদ বানায়, মৃত্যু না।
  • আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব।

ইতিহাস পাতিহাস বিশাল জিনিস। নেপোলিয়ানকে নিয়ে এই ছোট্ট লেখা লিখতে গিয়েই বুঝেছি এসব আমাকে দিয়ে হবেনা। লেখা ভালো হয়নি খুব সম্ভবত। ভুল বললাম?

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি