5

নোকিয়া এক্সথ্রি-০২

মোবাইল জগতে নোকিয়া বেশ ভরসার নাম। উপমহাদেশে প্রায় সকলেই ভালোমানের মোবাইল সেট কিনতে চাইলে নোকিয়াকেই সবচাইতে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন। সার্ভিস, সুবিধা, দীর্ঘায়ু সবদিক দিয়েই অনন্য সেট উপহার দিয়ে আসছে কোম্পানিটি। সেই ধারাকে অব্যাহত রেখেই ২০১০ এর অগাস্ট এ তারা নোকিয়ার একটি টাচ এন্ড টাইপ স্মার্ট ফোন বাজারে আনার ঘোষণা দেয় এবং ঐ একই সালের সেপ্টেম্বরে তারা বাজারে নিয়ে আসে নোকিয়া এক্স থ্রি-০২ সেটটি। এই পোস্টে মোবাইলটির রিভিউ দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

নোকিয়া এক্সথ্রি-০২


একই সাথে টাচ স্ক্রিন এবং টাইপপ্যাডের মজা পাওয়া যাবে মোবাইলটিতে। মাত্র ৭৭.৪ গ্রাম ওজনের এই সেটটিতে রয়েছে টিএফটি রেজিস্টিভ টাচস্ক্রিণ। মোবাইলটির ডিসপ্লে সাইজ ২৪০x৩২০ পিক্সেলস তথা ২.৪ ইঞ্চি। ৫টি ভিন্ন ভিন্ন রঙ্গে পাওয়া যায় সেটটি। তবে বাংলাদেশে সাধারণত তিনটি রঙ ই পাওয়া যায়। আমি সেটটি কেনার জন্যে নোকিয়ার অনেকগুলো শো-রুমে ঘুরেছি, তখন এমনটিই দেখলাম। রিংটোন হিসেবে এম্পিথ্রি ফাইল নির্বাচন করা যাবে, পাশাপাশি ভাইব্রেশন এলার্টও পাওয়া যাবে। লাউডস্পিকার এর অপশন রয়েছে এবং গান শোনার জন্যে স্ট্যান্ডার্ড ৩.৫এম এম স্পিকার জ্যাক সাপোর্ট করে তাছাড়া যেকোনো কাজ করার সময় ওই কাজে বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি না ঘটিয়ে গান শোনার জন্যে রয়েছে ডেডিকেটেড মিউজিক কি।

৩২জিবি পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড সমর্থন করে, ফোনবুকে নামের সাথে সাথে ছবি জুড়ে দেয়ার অপসন রয়েছে। আপনি কোন রকম সফটওয়্যার ব্যবহার করা ছাড়াই যেকোনো ফোনকল রেকর্ড করার সুবিধা রয়েছে এক্সথ্রি-০২ তে। ক্লাস টেন জিপিআরএস এবং এডিজিই সাপোর্ট করে, জিপিআরএস এ গড় স্পিড পাওয়া যাবে ৩২-৪৮ কেবিপিএস এবং এডিজিইতে ২৩৬.৮ কেবিপিএস। ওয়াইফাই স্পোর্ট করে এবং ব্লুটুথ ২.১ সাপোর্ট করে। একে ইউএসবি ড্রাইভ হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে, মাইক্রো ইউএসবি ২.১ সাপোর্ট করে।

৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা যুক্ত আছে মোবাইলটিতে, যদিও বিল্ট-ইন কোন ফ্ল্যাশ নেই। ৩০ ফ্রেম/সেকেন্ড এ ভিজিএ ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ড করার সুবিধা আছে। নেট ব্রাউজ করার জন্যে ওয়াপ ২.০ আছে। এফ এম শুনতে চাইলে তাও পারা যাবে এই সেটটি দিয়ে। জাভা সাপোর্ট করে তাই যেকোনো জাভা গেইমস এবং সফটওয়্যার আপনি এটাতে ব্যবহার করতে পারবেন। জিপিএস সুবিধা পাওয়া যাবেনা সেটটিতে, যদিও এটি থাকলে অলরাউন্ডার সেট বলা যেত একে। আমার মতো যারা ভবঘুরে তাদের জন্যে জিপিএস বেশ কার্যকরী একটা ফিচার।

টু-জি এবং থ্রি-জি দু’টোই সাপোর্ট করে। টু-জিতে টক-টাইম ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং থ্রিজিতে টক-টাইম ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। একটানা  ২৮ ঘণ্টা গান শোনা যাবে ফুল চার্জড থাকলে। যারা নোকিয়া এক্সথ্রি-০২ এর একটি ভিডিও রিভিউ দেখতে চান তারা নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন।

মোটামুটি ভালো বাজেটের মধ্যে অসাধারণ একটি সেট হতে পারে এক্সথ্রি-০২। আমি নিজে এর একজন ব্যবহারকারী হিসেবে সন্তুষ্ট বলা যেতে পারে। 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি