1

ফটোগ্রাফি – এক্সপোজার সম্পর্কে সাধারণ ধারণা

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ের ক্রেইজ সৃষ্টি হয়। ফটোগ্রাফিও তার মধ্যে একটি। তবে এই ক্রেইজের মধ্যেও আমরা অসম্ভব প্রতিভাবান অনেক ফটোগ্রাফার পেয়েছি যাদের তোলা ছবি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও খ্যাতি অর্জনে সক্ষম। ফেসবুকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ফটোগ্রাফি বিষয়ক গ্রুপগুলোতে চোখ বুলালেই সেই প্রতিভাগুলোর দেখা মিলবে। সেই সাথে পাওয়া যাবে সম্ভাবনাময় অনেক উদীয়মান ফটোগ্রাফারের দেখাও। যারা খানিকটা পরিচর্যার অপেক্ষায়, একটু সাহায্য, একটু গাইডলাইন, একটু সময় পেলে তারাও হয়ে উঠবে বাঘা ফটোগ্রাফার 😀 ।

বেশ কিছু ব্লগার ফটোগ্রাফার ভাইয়ের ছবি দেখে নিজেরও ছবি তোলার আগ্রহ জন্মেছিলো। প্রথমে আগ্রহ খুব বেশি না থাকলেও ধীরে ধীরে তা পরিণত হতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রবল আগ্রহের দরুণ কিনেই ফেলেছিলাম ক্যামেরা; ক্যানন ৬০০ডি। তখন নেটের মাধ্যমে ফটোগ্রাফির অ-আ-ক-খ শেখার চেষ্টা করেছিলাম। সেই সময়ে শেখা সীমিত জ্ঞান থেকেই ফটোগ্রাফির বেসিক কিছু বিষয়ে লেখার চেষ্টা করবো। যাতে করে ক্যামেরার অটো ফাংশন থেকে বের হয়ে ম্যানুয়াল ব্যবহার করতে পারেন। ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক, যেহেতু আমি নিজেকে এখনো ফটোগ্রাফার বলার মতো যোগ্যতা রাখিনা। ভুল হলে তা শুধরে দিলে খুশি হবো।

এক্সপোজার কি?

ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলার সময় ছবিতে কতটুকু আলো বা অন্ধকার আসবে তা যে বিষয়ের উপর নির্ভর করে তাকেই ফটোগ্রাফির ভাষায় এক্সপোজার বলা হয়ে থাকে। এক্সপোজার কোন একক বিষয় নয়।

এক্সপোজার ট্রায়াংগেল

  • আইএসও
  • শাটার স্পিড
  • অ্যাপারচার

এই মোট তিনটি বিষয় একসাথে ক্যামেরার এক্সপোজার নির্ধারণ করে। ফটোগ্রাফির ভাষায় একে “দ্য এক্সপোজার ট্রায়াংগেল“-ও বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এই তিনটি বিষয়ও আলাদাভাবে আলোচনা করা হবে। এই পর্বে শুধু এক্সপোজার কি এবং কিভাবে কাজ করে তার বেসিক ধারণাটাই দিবো।

এক্সপোজার বোঝার জন্যে রূপক উদাহরণ

এমনিতে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা হলে অনেকেই কনফিউজড হয়ে যেতে পারে। তাই রূপক উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টাকে পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি –

বৃষ্টিতে বালতিতে পানি সংগ্রহ করা – বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। কাজ হলো বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে হবে। বাসায় আছে একটা বালতি আর একটা গামলা। দু’টোতেই মনে করি ৫ লিটার পানি ধরে। বালতি আর গামলা দু’টো বৃষ্টিতে পাশাপাশি রেখে দিলে কোনটা আগে পূর্ণ হবে এবং কেন ?

উত্তর – গামলা আগে পূর্ণ হবে কারণ এর খোলা মূখের ব্যাস বালতির খোলা মূখের ব্যাসের চাইতে বড়। তাই অধিক সংখ্যক বৃষ্টির ফোটা এই খোলা মূখ দিয়ে গামলায় জমবে। বালতির খোলা মূখের ব্যাস কম বলে কম বৃষ্টির ফোটা এটাতে য়ুকতে পারবে।

ক্যামেরার এপারচার হলো এই গামলা বা বালতির খোলা মূখের মতো। যদো বড় হবে বৃষ্টির ফোটার মতো ততো বেশী আলো সেন্সরে পৌছাবে। আর বৃষ্টির পানি যতক্ষণে গামলা বা বালতি পূর্ণ করবে সেটা আমরা তুলনা করতে পারি শাটার স্পিডের সাথে। বড় এপারচার = বেশী আলো = ফার্ষ্ট শাটার স্পিড অথবা ছোট এপারচার = কম আলো = স্লো শাটার স্পিড।

আইএসও কে আমরা পাত্রের ক্যাপাসিটির সাথে তুলনা করতে পারি। বড় পাত্র = বেশী পানি / ছোট পাত্র = কম পানি। এখন যদি আপনাকে বলা হয় ৫ লিটারের বালতি দিয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ১০ লিটার পানি কালেক্ট করতে হবে আপনি কি করবেন ? আপনি কি ১০ লিটারের একটা বালতি আনবেন ? সেটা দিয়ে সম্ভব যদি ১০ লিটারের বালতির খোলা মূখের ব্যাস ৫ লিটারের বালতির খোলা মূখের ব্যাসের চাইতে দ্বিগুন হয়। ক্যামেরার সাথে তুলনা করলে আপনি এক্ষেত্রে এপারচার বড় করছেন। কিন্তু এপারচার বড়/ছোট করার সীমাবদ্ধতা আছে। সর্বোচ্চ/সর্বনিম্ন সীমার পর তো আপনি এটা পরিবর্তন করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে কি করবেন ? খূব সিম্পল – আমরা যদি বালতির উদাহরণে ফিরে যাই – আপনাকে শুধূ আরেকটা ৫ লিটারের বালতি জোগাড় করতে হবে। মানে নির্দিষ্ট সময়ে আপনি দ্বিগুণ পরিমাণ পানি কালেক্ট করতে পারবেন। আইএসও ব্যাপারটি হচ্ছে এই রকম। এটা সেন্সরের ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে দেয়।

জানালা – ধরা যাক আপনার ঘরের জানালাটা কিছুক্ষণ পর পর বাতাসে খুলছে আবার বন্ধ হচ্ছে। এক্ষেত্রে অ্যাপারচার হচ্ছে আপনার জানালার আকার। অর্থাৎ জানালার আকার যতো বড় হবে ততো বেশি আলো পড়তে পারবে। ক্যামেরার ক্ষেত্রেও তাই। অ্যাাপারচার বাড়িয়ে কমিয়ে কতটুকু আলো ঢুকবে তা নির্ধারণ করা যায়। আর কিছুক্ষণ পর পর যেহেতু আপনার জানালা বন্ধ হচ্ছে আর খুলছে, সেহেতু যত বেশি সময় জানালা খোলা থাকবে ততো বেশি আলো আসবে। একে শাটার স্পিডের সাথে তুলনা করা যায়। যতো বেশি সময় শাটার খোলা থাকবে ততো বেশি পরিমাণ আলো আসার সুযোগ পাবে। ক্যামেরার শাটার স্পিডকেও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আপনি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন, এখন সমগ্র আলো জানালা থেকে যেমনভাবে ভেতরে আসছে তা আপনি দেখতে পাচ্ছেন তেমনভাবেই। কিন্তু যদি আপনি একটি সানগ্লাস চোখে দেন তাহলে আলো যে পরিমাণ আর যেভাবে আসছে আপনি তার চেয়ে অনেক কম দেখতে পাবেন। অর্থাৎ এখন আপনার চোখ আলোতে আগের তুলনায় কম সেনসিটিভ। আপনার চোখকে ক্যামেরা সেন্সরের সাথে তুলনা করলে সানগ্লাস পড়া অবস্থাকে লো আইএসওর সাথে তুলনা করা যায়। অর্থাৎ আইএসও হচ্ছে আলোর উপর ক্যামেরার সেন্সর কতটুকু সেন্সিটিভ সেটা। একেও চাইলে অ্যাাপারচার আর শাটার স্পিডের মতোই বাড়ানো কমানো যাবে।

সঠিক এক্সপোজার কিভাবে পাওয়া যায় এবং কেন জরুরী?

আইএসও, শাটার স্পিড, আপ্যারচার এই তিন এর সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল সঠিক এক্সপোজার পাওয়া সম্ভব। নয়তো ছবি আন্ডার এক্সপোজড (অন্ধকারাচ্ছন্ন ছবি), ওভারএক্সপোজড ( বেশি উজ্জ্বল ছবি) হয়ে যাবে। যা ভালো ছবিতে কখনোই কাম্য নয়। ভালো মানের ছবি তুলতে হলে অবশ্যই এই তিনের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।

আশা করি আপনি আপনাকে কনফিউজ করে দেইনি। লেখা সম্পূর্ণ পড়ার পরেও সমস্যা থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আর লেখা সম্পর্কে যেকোনো মতামতও সাদরে গৃহীত হবে 🙂

কৃতজ্ঞতা

লেখার মানউন্নয়নে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি রিফাত জামিল ইউসুফজাই ভাইয়ের প্রতি। 🙂

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি