ফেসবুক আইডি হ্যাকঃ কিভাবে করে এবং নিরাপদে থাকার উপায় কি?

ফেসবুক হ্যাকিং শব্দটি  কারো কারো কাছে একটি আতংকের নাম আবার কারো কারো কাছে বিকৃত একটি আনন্দদায়ক শব্দ। কারো ফেসবুক অন্যের দখলে গেলে বা হ্যাক হলে তার কাছে আতঙ্কজনক শব্দ হল ফেসবুক হ্যাকিং । আর হ্যাকারের কাছে এটি একটি আনন্দদায়ক শব্দ। মনে করুন, এখনকার সোস্যাল মিডিয়ার যুগে আপনি একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি।এ পর্যায়ে যেতে কিন্ত আপনাকে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে। চাইলেই কিন্ত আপনি নতুনভাবে শুরু করে আবার এই পর্যায়ে যেতে পারবেন না। এখন কিন্ত সোস্যাল মিডিয়াতে আপনার একটা ওজন আই মিন ওয়েট আছে। এই ওয়েট আবার সেই ওয়েট না।:P কথা হল আপনার কথা মূল্য অনেক। আপনি কোন স্ট্যাটাস দিলে হাজার হাজার লাইক আর কমপক্ষে শ’খানেক কমেন্ট তো পড়েই। বিশাল আপনার ফ্যান-ফলোয়ার লিস্ট!

কোন কারনে যদি আপনার বহু স্বাদের ফেসবুক একাউন্টটি হ্যাক হয় তাহলে সেটি আপনার কাছে আতংকজনক হবে বলেই আমার বিশ্বাস। আপনি হয়ত আপনার প্রিয়জনের সাথে প্রাইভেট চ্যাট করেছেন কিংবা কারো সাথে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান করেছেন। তথ্যগুলো হ্যাকারের কাছে চলে গেল। এখন তো আপনি আতংকিত হবেনই। যদি আপনার আইডি থেকেই আপনার এসব স্ক্রীনশট পোষ্ট হতে শুরু করে ! কিংবা আপনার ওয়ালে পাওয়া যাচ্ছে অশ্লীল কোন কিছুর প্রচার ! এক সময় আপনার গর্বের ফেসবুক আইডিটি আপনার নিজের কাছেই মূর্তিমান আতংকে পরিণত হবে। এত দিনের পরিশ্রম করে গড়ে তোলা ইমেজ অল্প সময়েই ধুলিস্যাত হতে গেল।

কিংবা হতে পারে আপনার আইডি’র দখল নিয়ে অন্য কোন উদ্দেশ্যে বা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর জলন্ত উদাহরণ হল, সম্প্রতি  কোটা সংস্কার আন্দোলন জন্যে একটি ফেসবুক গ্রুপ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছিল। সেই গ্রুপের এডমিনদের কথায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী কোটা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনে সারা দেশে রাস্তায় নেমে আসে। ঢাকা শহর সহ সারা দেশে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো অচল হয়ে পড়ে। হটাৎ করে ঐ গ্রুপের এডমিনদের আইডি দখলে নেয় কোন একটি মহল। সেই আইডিগুলো থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হতে থাকে। ছেলে-পেলে দ্বিধা-বিভক্ত হতে থাকে। যদিও এক সময় সবার কাছে ব্যাপারগুলো ক্লিয়ার হয়, তথাপি এর ফলাফল কিন্ত ভয়াবহ! খুব বাজে কিছু কিছু ঘটে যেতে পারত তাদের হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডি থেকে এসব প্রোপাগান্ডা প্রচারের পর। তাই স্বাভবিকভাবেই ফেসবুক আইডি হ্যাক একটি ভয়ংকর অপরাধ।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে আমাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। কারণ একাউন্ট হ্যাক হওয়া মানে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে গেছে।  অনেকেই ভাবেন হ্যাকারদের হাতে হয়ত জাদুর কাঠি আছে এবং তারা যা চান তাই পারেন। তাই হ্যাকার দেখলে অনেকেই মনে করেন আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক  করে ফেলবে এবং ভয় পান। ধারনাটি ভুল। হ্যাকার চাইলে কিন্ত আপনার আইডি হ্যাক করতে পারবে না।  তবে ভাল হ্যাকার রা ব্যক্তি স্বার্থের জন্য কারো আইডি হ্যাক করবেন না। ফেসবুক বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের একটি বিজনেস ।  ফেসবুক কর্তৃপক্ষ লাখ লাখ ডলার খরচ করে ফেসবুকের নিরাপত্তার জন্যে। কোন নিরাপত্তা খুত পেলে সাথে সাথে তারা সেই খুত সারিয়ে ফেলে।

জাগতিক দুনিয়াতে আমরা চারপাশে যা দেখি তার কোন কিছুই কিন্ত নিখুত না। কোথাও না কোথাও নিরাপত্তা ফাঁক থেকে যায়। হ্যাকাররা সেই দুর্বলতাগুলো খুজে বের করে এবং সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হামলা করে। ফেসবুকে সিকিউরিটি সিস্টেম খুব উন্নত হলেও থার্ড পার্টি কোন এপস বা সফটওয়্যার ব্যবহারের কারনে আপনি ফেসবুক আইডি হ্যাকের স্বীকার হতে পারেন। আসুন থাওলে জেনে নেওয়া যাক কি কি উপায়ে আপনাকে হ্যাকার ফাঁদে ফেলে আপনার ফেসবুক আইডি’র দখল নেয়।

ফেসবুক আইডি হ্যাক হয় যেভাবে

ফিশিং

ফিশিং হচ্ছে সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে কোন কিছু হ্যাক করার সব থেকে জনপ্রিয়  পদ্ধতি । ফেসবুক আইডি হ্যাক হবার ক্ষেত্রেও এটি হ্যাকাররা সব থেকে বেশি ব্যবহার করে থাকে। ফিশিং একটি অতিপরিচিত উপায় যা ব্যবহার করে হ্যাকাররা খুব সহজেই আপনাকে বোকা বানিয়ে আপনার ফেসবুক আইডি’র দখল নিতে পারে। হ্যাকাররা যে কাজ করে তা হল প্রথমে আপনার সাথে পরিচিত হবে। নানা বিষয়ে কথা বলবে, বিশেষ করে আপনার আগ্রহী বিষয় নিয়ে চ্যাট করে। এক সময় আপনাকে হয়ত একটি লিংক দিয়ে বলতে পারে এই লিঙ্কে প্রবেশ করে দেখতে পারেন। দেখা গেল আপনাকে ফেসবুক দিয়ে সাইন আপের অপশন দিল বা দেখতে ফেসবুকের মত সাইটে লগ ইন করতে বলল । আপনি সরল মনে আইডি আর পাস ওয়ার্ড দিয়ে সাইন আপ করে ফেললেন।হ্যাকার তার কাস্টম ডাটাবেজ থেকে ভিক্টিমের আইডির ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড পেয়ে যাবে। একটু পরই দেখলেন আপনার মোবাইল এপস থেকে ফেসবুকে লগিন এক্সপায়ার দেখাচ্ছেন। হ্যাঁ আপনি আপনার ফেসবুক আইডিটি হারিয়ে ফেলেছেন !

কিভাবে ?  এর আগেও তো আপনি নানা ওয়েবসাইটে ফেসবুক দিয়ে সাইন আপ করেছেন তখন তো আইডি হ্যাক হয় নি । এবার ফেসবুক আইডি কেন হ্যাক হবে ?  হুম আগের বার আপনি ফেসবুকেই লগিন করেছেন। এবার কিন্ত হুবহু ফেসবুকের মত দেখতে হলেও ফেসবুকে লগিন করেন নি। ইউআরএল চেক করে দেখুন facebook.com এর বদলে কোণ একটা বর্ণ ভিন্ন আছে ! লাইক হতে পারে facebok.com; এই ব্যাপারটিই হল ফিশিং । এভাবে আপনি নিজের অজান্তেই হ্যাকারের হাতে আপনার আইডি তুলে দিতে পারেন। নিচের লিঙ্কটা খেয়াল করুন। দেখুন দেখতে ফেসবুকের মত হলেও url হল faeebook.com.   :/

ফিশিং

ফিশিং

উপরে দেখুন দেখতে ফেসবুকের মত হলেও url হল faeebook.com। এভাবে ফিশিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার ফেসবুক আইডি হারাতে পারেন।

কী লগারঃ

কী লগার শব্দটি থেকেই বুঝা যায় কী লগার কি। প্রতিটি কী এর স্টোক সে লগ রাখে ! এটি একটি আদি আর সিম্পল প্রসেস। এভাবে আগে মেইলের পাসও হাতিয়ে নেওয়া হত।  কোন ভাবে আপনার পিসিতে হ্যাকার কী লগার ইমপ্লান্ট করতে পারে। হতে আপনাকে কোন লিঙ্ক দিল সে পূর্ব পরিচিত হিসেবে। ক্লিক করলেন তো অটোমেটিক আপনার পিসিতে কী লগার ইনস্টল হয়ে যাবে। এর পরে  আপনি যে সব কী চাপবেন আপনার কীবোর্ড থেকে তার প্রত্যেকটি স্ট্রোক অটোমেটিকলি চলে যাবে  যে কী লগার ইমপ্লান্ট করেছেন তার দেওয়া কাঙ্ক্ষিত মেইলে।

স্প্যাম লিঙ্ক

সবচেয়ে বেশি আইডি হ্যাক হয় সম্ভবত স্প্যামি লিংকে ক্লিক করে। হঠাৎ করে দেখা গেল আপনার ইনবক্সে বা হোম পেজে কিছু লোভনীয় অফার আসল। যেমন, খুব সহজেই টাকা ইনকাম,উদ্ভুট খবর, পর্ণ , বাজে খবর ইত্যাদি ইত্যাদি।  আর সহজাত প্রবৃত্তিতেই লিঙ্কে ক্লিক করলেন । কেল্লা ফতে ভাইয়া।

ইমেইল স্পুফিং

ইমেল স্পুফিং এর মাধ্যমে ফেসবুক হ্যাক হতে পারে। ইমেইল স্পুফিং হল, ফেইক ইমেইল পাঠানো, যেখানে হ্যাকার আপনার কাছে একটা ফেইক ইমেইল সেন্ড করবে ও আপনি যদি সেই ইমেইল টা বিশ্বাস করে তাদের দেয়া স্টেপ গুলো সম্পূর্ন করেন তাহলে আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হতে পারেন। এখানে তারা সব থেকে বেশি ব্যবহার ফিশিং লাইন সিস্টেম।

কুকিজ চুরি

কুকিজ চুরি হয়ত অনেকের কাছে নতুন লাগতে পারে, আবার অনেকে এটা অনেক আগেই শুনে থাকবেন। কোন ভাবে যদি আপনার ফেসবুক আইডি টার কুকিজ চুরি করা যেতে পারে সে ক্ষেত্রে আপনার ফেসবুক আইডি’টি হ্যাক হবার সম্ভাবনা অনেক  অনেক বেশি।কুকিজ কি তা নিয়ে যদি আইডিয়া না থাকে তাদের জন্যে তাহল সংক্ষিপ্ত আকারে কুকিজ নিয়ে বলছি বলছি। কুকিজ হল এমন কিছু টেম্পরারি ফাইল যা আপনার ব্রাউজার সেভ করে রাখে আপনি ঐ ব্রাউজার থেকে  যে সব সাইট ভিজিট করেছেন তার লগ।  যেমন আপনি যখন ফেসবুকে ভিসিট করেছেন তখন আপনার ফেসবুকের  পাসওয়ার্ড আর ইউজার নেম দিয়ে দিয়ে লগইন করতে হয়েছে। আপনার ব্রাউজার এটিকে কুকিজ হিসেবে আপনার ব্রাউজারে সাময়িক সেভ রাখে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে কুকিজ না হয় চুরি হয়েছে কিন্তু আমার আইডি তে লগইন করবে কিভাবে? আসলে এখানে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ টা করা হয়। কুকিজ চুরির পরে হ্যকাররা কুকিজ টাকে ইনজ়েক্ট করে দেয় । ফলে  আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে যায় । আর এটি সব থেকে বেশি হয়ে থাকে যারা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে।

সেশন হাইজ্যাকিং

সেশন হাইজ্যাকিং হল, আপনি অন্য কারো ডিভাইস থেকে যখন ফেসবুকে লগিন করবেন তখন আপনি লগ আউট করার পরও ব্রাউজারে এর saved password  এ গিয়ে আপনার পাসওয়ার্ড পাওয়া যাবে। আর হ্যাকার বা আপনার পরিচিত লোকজন সেই পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে। ফলে আপনার আইডি হ্যাক করা যাবে।

ম্যান ইন মিডল এটাক পদ্ধতি

ম্যান ইন মিডল এটাক পদ্ধতি হল আপনি যখন কোন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বা ল্যান ব্যবহার করবেন তখন একই ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে এমন কেউ আপনার পাসওয়ার্ড বের করে ফেলতে পারবে। বিভিন্ন সফটওয়্যার / মোবাইল এপস দিয়ে এই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে আক্রমণ চালিয়ে আপনার পাসওয়ার্ড বের করে ফেলা যেতে পারে ।

ইউএসবি হ্যাকিং

ইউএসবি হ্যাকিং হল আপনার কম্পিউটারে পেনড্রাইভ বা মেমরি কার্ড ইত্যাদি প্রবেশ করিয়ে কম্পিউটারের তথ্য চুরি করা । এ ক্ষেত্রে যে তথ্য চুরি করবে সে হয়ত একটি ব্যাচ ফাইল রাখবে পেনড্রাইভে । পিসিতে প্রবেশ করার পরে সে সেই ব্যাচ ফাইলে ক্লিক করবে ফলে আপনার কম্পিউটারের তথ্য তার পেনড্রাইভে  ওয়ার্ড ফাইল হিসেবে সেভ হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি নিজেও কারো পেনড্রাইভ এনে ব্যবহার করার সময় উতসাহী হয়ে সেই ব্যাচ ফাইলে ক্লিক করে তথ্য চুরিতে সাহায্য করতে পারেন।

ফেসবুক এপস ব্যবহারঃ

ফেসবুকে গেমস বা অন্য কাজে অনেক সময়ই এপস ব্যবহার করি। তখন কিন্ত এপস আপনার ফেসবুকের ডিটেইলস চায়। অপরিচিত বা বেনামী এপসের জন্যেও আপনি সরল মনে  ফেসবুক এক্সেস দিলেন। সে এপসগুলোর কারনে আপনি হ্যাক হতে পারেন।

ইমেইল আইডি হ্যাক

অনলাইন জগতে যারা ঘুরাফেরা করি সবারই হয়ত একটা ইমেইল রয়েছে। এই ইমেইলের মাধ্যমে আমরা যাবতীয় একাউন্ট বা কাজ কর্ম সেরে থাকি। কোন কারনে ইমেইল হ্যাক হলে আপনার ফেসবুক আইডি সহ এই ই মেইল দিয়ে খোলা যাবতীয় অনলাইন একাউন্ট হ্যাক হতে পারে।

অন্য সাইটে ফেসবুক দিয়ে লগ ইনঃ

অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন সাইটে সহজে লগ ইন অপশন হিসেবে ফেসবুক লগ ইন ব্যবহার করা হয়। অপরিচিত সাইট যাদের রেপুটেশন ভাল না বা বাজে উদ্দেশে লোভী অফার দিয়ে আপনাকে ওদের সাইটে লগ ইন করতে বলল আপনি তাই করে নিজের বিপদ ঢেকে আনলেন!

টোকেনঃ

অনেক সাইটে দেখা যায় ফেসবুক এর এক্সেস টোকেন কপি করে পোস্ট করতে বলে। ঐ টোকেন দিয়ে কিন্তু এ্যাকাউন্ট একসেস নেওয়া যায়! যারা একটু বুদ্ধিমান বলদ শ্রেণী তারা বেশী এই ফাঁদে পা দেয় । তাছাড়া বিভিন্ন এ্যাপের ভিতরেও এই টোকেন গ্রাব করার সিস্টেম থাকে! ওরা আসলে এ্যাপই বানায় এই কাজ করার জন্য  যেমনঃ  your secret crush,  who want to date with you এই টাইপের।

 ফেসবুক একাউন্ট নিরাপদ রাখার উপায়

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে আমাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। কারণ একাউন্ট হ্যাক হওয়া মানে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে গেছে। তাই হ্যাক হবার আগেই নিরাপদ থাকার উপায়গুলো জানা থাকলে সহজেই আপনি আপনার ফেসবুক আইডিটি হ্যাক হওয়া থেকে বাচাতে পারেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে নিরাপদে থাকা যাবেঃ

কি কি উপায়ে ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখতে পারবেন ?

১। ফেসবুক একাউন্ট  খোলার সময় অন্তত ৬ অক্ষরের পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ডটি শক্তিশালী করতে ক্যাপিটাল এবং স্মল লেটার/ অক্ষর ব্যবহার করুন এবং আরো নিরাপদ করতে সিম্ভল ( #%&*!<@ ইত্যাদি ) ব্যবহার করতে পারেন।

২। ফেসবুকে ব্যবহৃত ই-মেইল বা মোবাইল নাম্বার কারো সাথে শেয়ার করবেন না। ব্যবহৃত ইমেইল আর মোবাইল নাম্বার অনলি মি প্রাইভেসী দিয়ে রাখুন।

৩। ফিশিং থেকে বাচতে যে কোন পেজে লগিন করার আগের ইউআরএল ঠিকমত দেখে নিন। কেননা দেখা গেল আপনি ফেসবুক লগ ইন করতে চাইলেও সেটি ফেসবুকের মত দেখতে হলেও সেটি ফেসবুকের সাইট নাও হতে পারে। ফিশিং এর ব্যাপারে বিশেষ সাধদান হতে হবে।

৪। কী লগার একটি সিম্পল আদি পদ্ধতি । এটি থেকে বাচতে হালনাগাদ করা ইন্টারনেট সিকিউরিটি ব্যবহবার করুন।অন্য কারো ব্রাউজার থেকে ঢুকলে অবশ্যই অবশ্যই লগ আউট করে আসবেন আর ইন করার সময় কী লগারকে বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন। ধরুন pass হল Rakib আপনি লিখন DFRakff1ib লিখে এবার বাড়তি অংশগুলো মাউস দিয়ে সিলেক্ট করে ফেলে দিন।

৫। স্ম্যামি লিংক ক্লিক করা বিরত থাকুন। আপনাকে যতি লোভ দেখানো হোক না কেন যে কোন স্ম্যামি লিঙ্কে ক্লিক করার আগে ভাল করে চিন্তা করে নিবেন। দেখা যায় বলা হয় এই মেইলে প্রবেশ করে লিঙ্কে ক্লিক না করলে আপনার ইমেইল বা ফেসবুক একাউন্ট ডিসেবল বা চিরতরে ডিলিট করে দেওয়া হবে এই টাইপের ম্যাসেজ থেকে  লিঙ্কে ক্লিক করা তেহকে বিরত হোন।

৬। ইমেইল স্পুফিং থেকে বাচতে ইমেইলে মেইল  আসলেই সেই মেইলে ক্লিক করার আগে সাবধান হোন। যদি সন্ধে জনক মনে হয় তাহলে ইমেইল ওপেন করা থাকে বিরত হোন।

৭। সাধারণত  ইমেইল হ্যাকের কারনে অনেকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে থাকে। ইমেইল হিসেবে জি মেইল এর ব্যবহারকে আমি প্রাধান্য দিব।    সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা দিচ্ছে  গুগল।  মেইলে ডাবল ভেরিফিকেশন তথা মোবাইল ভেরিফিকেশন চালু করুন। তাহলে মোটামোটি নিশ্চিত থাকতে পারবেন।

৮। সেশন হাইজ্যাকিং রোধে অন্যের ডিভাইস থেকে লগ আউট করার পরে আপনার হিস্ট্রি আর লগ ইন ডাটা রিমুভ করে আসুন।

৯। কুকিজ চুরি রোধে  যথা সম্ভব পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা যাবে না। তবে যদি অগত্যা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করতেই হয় সে ক্ষেত্রে VPN ব্যবহার করা উচিত। অনলাইনে ফ্রিতেই অনেক vpn ব্যবহার করতে পারবেন। একটু গুগল করলেই পেয়ে যাবেন।

১০। ইউইএসবি কোন স্টোরেজ ডিভাইজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোন ইউএসবি ডিভাইজ আপনার মেশিনে কানেক্ট করার পরে অবশ্যই হালনাগাদ করা এন্টিভাইরাস দিয়ে উক্ত ইউএসবি ডিভাইজটি স্ক্যান করতে নিতে ভুলবেন না।

১১। কোন সাইট বা এপস আপনার ফেসবুকের এক্সেসেস টোকেন দাবি করলে অবশ্যই ফেসবুকের এক্সেসেস টোকেন দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

১২। অন্য সাইটে ফেসবুক দিয়ে সাইন আপ করা বা লগ ইন করার পূর্বে সেই  সাইট সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রয়োজনে গুগলের শরণাপন্ন হোন। এ ক্ষেত্রে কিছু ব্রাউজার এড অন আছে যেগুলো সাইটের রিপেটেশন বা কতটুকু সিকিউর তা দেখিয়ে দেয় সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

১৩। নানা প্রয়োজনে আমাদেরকে নানা সফটওয়্যার ও এপসের ব্যবহার করতে হবে। রেন্ডমলি সব এপস বা সফটওয়্যার ব্যবহার না করতে উৎসাহিত করব।

১৪।  যদি ইমেইল দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন তবে, আপনি আপনার মোবাইল নাম্বারটি এড করে নিন, যেন প্রয়োজনের সময় তা লগইন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আর হ্যাঁ এক্ষেত্রে অবশ্যই মোবাইল নাম্বার হাইড করতে ভুলবেন না ।

১৫। ফেসবুকে ডাবল ভেরিফিকেশন চালু করে দিন। আমরা হয়ত অনেকেই জানি না কিভাবে ফেসবুকে 2 step verification চালু বা এনাবল করতে হয়। হতে পারে আবার অনেকেই আছেন যারা হয়ত জানেনই না আসলে 2 Step Verification কি?  2 Step Verification বা ডাবল ভেরিফিকেসন হল এমন একটি পদ্ধতি,  যেখানে আপনি নতুন যেই ডিভাইস দিয়ে লগইন করবেন আপনার ফোন নাম্বারে একটা কোড (OTP) আসবে। যদি আপনি সেটা দিতে না পারেন তাহলে আপনার ফেসবুক পাসওয়্যাড দেওয়ার পরেও লগইন করতে পারবেন না। শুধুমাত্র ছয় সংখ্যার সেই OTP কোড দেওয়ার পরি আপনি ফেসবুকে লগিন করতে পারবেন।

আসুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে ডাবল ভেরিফিকেশন বা টু স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করা যায়। প্রথমে ফেসবুকের সেটিং অপশনে ক্লিক করুন। সেটিং অপশনের প্রথমেই আছে জেনারেল তার ঠিক নিচেই রয়েছে সিকিউরিটি এন্ড লগিন নামে একটি অপশন। সিকিউরিটি এন্ড লগিন অপশনে ক্লিক করি। স্ক্রল করে নীচের দিকে আসতে থাকি। Setting Up Extra Securityতে  Use two-factor authentication নামে একটি অপশন পেয়ে যাব। এত ক্লিক করে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন অন করে দিয়ে। মোবাইল নাম্বার এড করি। এবার মোবাইল নাম্বারটি ভেরিফাই করে নেই। ভেরিফাই করতে গেলে আপনার মোবাইলে ভেরিফিকেশন কোড আসবে। সেটি ফেসবুকে দিয়ে দিলেই আপনার মোবাইল ভেরিফাই হয়ে যাবে।

এবার প্রতিবার যখন কোন অপরিচিত ব্রাউজার থেকে সঠিক পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করার চেষ্টা করা হবে প্রতিবার মোবাইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড আসবে। শুধুমাত্র সেই কোড বসালেই আইডিতে এক্সসেস করতে পারবেন। দুইটি স্ক্রীন শটের মাধ্যমে পুরু পদ্ধতিটি দেখানো হয়েছে।

ডাবল ভেরিফিকেশন

উপরের পদ্ধতিটি আমরা পিসি থেকে করে দেখিয়েছি। এবার আমরা মোবাইলের ফেসবুক এপস থেকে কিভাবে ২ স্টেপ ভেরফিকেশন করব তা দেখে নেই। মোবাইল এপসের উপরের ডান কর্নার থেকে তিনটি দাগ দেওয়া অপশন আইকনে ক্লিক করি । স্ক্রল করে নীচের দিকে গেলে সেটিংস প্রাইভেসী ও একাউন্ট সেটিং নামে অপশন পাব।

একাউন্ট সেটিং এ ক্লিক করি। পিসির মত  জেনারেল, সিকিউরিটি এন্ড লগ ইন অপশন আসবে। সিকিউরিটি এন্ড লগ ইন অপশনে ক্লিক করে স্ক্রল করে নীচের দিকে সেটিং আপ এক্সট্রা সিকিউরিটিতে ইউজ টু ফেক্টর অথেনটিকেশন অপশন পাব। ক্লিক করলে পাসওয়ার্ড চাবে। পাসওয়ার্ড দিয়ে টু ফেক্টর সিকিউরিটি চালু করে দেই। নাম্বার এড করে ভেরিফাই করে নিলেই হবে।  মোবাইল থেকে কিভাবে ক্রমান্বয়ে করবেন তা নীচের স্ক্রীন শটে দেখানো হলঃ

সারকথা

ফেসবুক হ্যাক বা  তাদের সার্ভারে এট্যাক করে হ্যাক করা অনেক টা অসম্ভব হলেও কিছু অসাবধানতার কারনে আমাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক হতে পারে। আমরা যদি একটু সতর্কতা অবলম্বন করে ইন্টারেট জগতে ঘুরাফেরা করি তাহলে হয়ত আমাদের এই উদ্ভট সমস্যায় নাও পরতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে উপরে বর্ণিত সতর্কতামূলক পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে  ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া থেকে অনেকাংশে নিরাপদে থাকতে পারবেন। কোন কারনে ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে গেলে কিভাবে উদ্ধার করতে পারবেন এটি পাবেন এই আর্টিকেলে: ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে কিভাবে উদ্ধার করবেন?

নোটঃ তথ্য ও ফেসবুক ইন্টারফেস ও অপশনগুলোর স্ক্রীনশট ১৪/০৪/২০১৮ তারিখে নেওয়া। হালনাগাদ করা ইন্টারফেস ও ফেসবুকের অপশনগুলো পরবর্তিতে ভিন্ন হত পারে। তথ্য সহায়তা নেওয়া হয়ছে মনজু’র ভাবনার দেওয়াল থেকে।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক