ফেসবুক ব্যবহারের ১০টি প্রয়োজনীয় টিপস

ফেসবুক আমাদের নিত্য দিনের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন যেমন নিয়ম করে আমরা খাওয়া দাওয়া করি। তেমনি আজকাল আমাদের অনেকেই প্রতিদিন একবার হলেও ফেসবুকে উঁকি মেরে দেখি। আবার অনেকেই একে প্রফেশনের তাগিদে ব্যবহার করি। যাই হোক কেউ কাজে আর কেউ সারা দিনের ক্লান্তির পরে একটু স্বত্বি ফেলতে কিংবা কেউ আবার বিনোদনের জন্যে ফেসবুক ব্যবহার করি। যে যেই কাজেই ব্যবহার করি না কেন হয়ত ফেসবুকের পুরুপুরি সুবিধা অনেকেই ভোগ করতে পারি না। ফেসবুক চালাতে তেমনি কিছু প্রয়োজনীয় টিপস আজকে শেয়ার করার চেষ্টা করব।আসুন তাহলে শুরু করা যাক…

পোষ্ট প্রাইভেসী সেটিংস

ফেসবুক আসার আগে প্রাইভেসী নিয়ে এতটা শঙ্কিত থাকতে হত না এখন যতটা শঙ্কিত থাকতে হয়। পূর্বে আমদের সম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা ছিল অফলাইন কেন্দ্রীক, এখন সেটি ধীরে ধীরে অনলাইন কেন্দ্রীকে রূপান্তর হচ্ছে। ফলে আশঙ্কাজনকভাবেই আমাদের প্রাইভেসী বিঘ্নিত হচ্ছে। সেটি হোক নিজের জ্ঞাত বা অজ্ঞাতস্বরে । কোথাও গেলে হুট ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে দেই। আদৌ কি পাবলিক সেটিং রেখে সব ছবি আপলোড দিচ্ছি নাকি প্রাইভেসী পরিবর্তন করা আছে খেয়াল করি না। ছেলেদের ক্ষেত্রে হয়ত এই প্রাইভেসীর  ব্যাপারটা নিয়ে এতটা শঙ্কাবোধের কিছু নেই কিন্ত মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি স্পর্শকাতর।

মেয়েদের এ ক্ষেত্রে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। আপনি যখন আপনার ছবি পাবলিক করে ফেসবুকে পোষ্ট করলেন তখন দুনিয়ার সবাই আপনার ছবি দেখতে পাবে। হতে পারে কেউ কেউ সেই ছবি ডাউনলোড করে অন্য কোন কাজে ব্যবহার করতে পারে। একটি বিষয় লক্ষনীয় আপনি আপনার ছবি পাবলিক করে পোষ্ট দিয়েছেন এখন যদি ছবি কারো মোবাইলে আপনার ছবি পেয়ে জিজ্ঞেস করেন এই ছবি তোমার মোবাইলে আসব কিভাবে! হাস্যকর লাগে তখন এই ব্যাপারটি। আপনি কিন্ত দুনিয়ার সবাইকে জানান দিতেই আপনার ছবি পাবলিক পোস্ট করেছেন !

আবার, দেখা গেল একজন মেয়ে শালীনতা বজায় রাখতে হয়ত পর্দা করেন, আপনারা বান্ধবীরা হয়ত কোথাও ইনডোর মিট আপ করেছেন । সেখানে স্বাভাবিকভাবেই কেউ পর্দা রাখবে না।গল্প-আড্ডা মিলিয়ে অনেক মজা করলেন পরে সবাই ছবি তুললেন, সেই ছবি আপনি হয়ত ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন হোক সেটি পাবলিক বা ফ্রেন্ডস প্রাইভেসী সহ। আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা অন্য ছেলেরা কিন্ত আপনাদের সবার ছবি দেখবে।  ঐ পর্দা করা আপুর প্রতি কি আপনি যথেষ্ট সম্মান দেখাতে পেরেছেন? মনে রাখা উচিত ফ্রেন্ড লিস্টে শুধু মেয়েরাই থাকে না অন্যান্য ছেলেরাও থাকে।

পাবলিক পোষ্ট করা আপনার কোন সুন্দর ছবি হয়ত দেখা গেল কোন ইকমার্স সাইট বা অন্য কোন সাইট ব্যবহার করছে আপনার  অনুমতি ছাড়াই। এটি একটি বিব্রতকর অবস্থা। বেশ কিছু ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা অনলাইন পোর্টাল এই কাজে বেশ সিদ্ধহস্ত ।

অথবা আপনি হয়ত চান আপনার একটি পোষ্ট শুধুমাত্র আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ডরা দেখবে বা অন্য কোন প্যারা মিটার দেওয়া ফ্রেন্ডরা দেখবে বা আপনার পরিবারের লোকজন দেখবে দে ক্ষেত্রেও প্রাইভেসী সেটিং এর ব্যাপারটি আসে। তাই ফেসবুকের প্রত্যেকটি পোষ্টের প্রাইভেসী খুব গুরুত্বপূর্ণ। আসুন দেখি পোষ্টে কি কি প্রাইভেসী দেওয়া যেত পারে

পোষ্ট লিখার পরে পোষ্ট এর বাম পাশে ডাউন এরো চিহ্নিত আইকনে ক্লিক করলে পাবলিক, ফ্রেন্ডস, ফ্রেন্ডস এক্সেপ্ট, স্পেসিফিক ফ্রেন্ডস, অনলি মি, সি অল এই অপশনগুলো পাবেন। পাবলিক (Public) দিলে আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকুক আর না থাকুক যে কেউ আপনার পোষ্টটি  দেখতে পাবে । ফ্রেন্ডস যদি দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের সবাই দেখবে আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে  নেই এমন কেউ দেখতে পারবে না। উল্লেখ্য আপনি যদি কাউকে এই পোষ্টে ট্যাগ করেন তাহলে তার ফ্রেন্ডরাও দেখতে পাবে।

এর পর আসে ফ্রেন্ডস এক্সসেপ্ট, এর মানে আপনি যদি চান আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের নির্দিষ্ট চার-পাঁচ জন এই পোষ্ট দেখতে পাবে না সে ক্ষেত্রে এই অপশনে গিয়ে তাদের নাম উল্লেখ করে দিলেই তারা আর আপনার এই পোষ্ট দেখতে পাবে না। স্পেসিফিক ফ্রেন্ডস (specific friends) এর মানে হল আপনি  চাইলেন আপনার নির্দিষ্ট কিছু ফ্রেন্ড বা বন্ধু শুধু আপনার দেওয়া পোষ্টটি দেখতে পাবেন। এর বাইরে কেউ দেখতে পাবেন না। আর অনলি মি করা স্ট্যাটাস বা পোষ্টগুলো শুধুমাত্র আপনি দেখতে পাবেন।

জেনারেল প্রাইভেসী

উপরে আমরা ফেসবুকের পোষ্টের প্রাইভেসী নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন দেখব একটি ফেসবুক প্রোফাইলের সাধারন প্রাইভেসির বিষয়টি।  তার আগে সেটিংসে গিয়ে প্রাইভেসি এন্ড টুলস অপশনে গিয়ে সবগুলো প্যারামিটার দেখি

এই অংশটা জানা খুব জরুরি। Who can see your future post পোষ্টে আপনার ভবিষ্যতের জন্যে দেওয়া পোষ্টগুলো কে দেখতে পারবে তা নির্ধারন করবে। মেয়েদের একটি অযাচিত সমস্যায় পড়তে হয় । দেখা যায় চেনা নাই জানা নাই দিন রাত অনবরত ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসতেই থাকে। কেউ চাইলে এটি লিমিট করে দিতে পারেন। Who can send you friend requests? অপশনে নিয়ে ফ্রেন্ডস অফ ফ্রেন্ডস দিলে শুধুমাত্র আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের ফ্রেন্ডদের ফ্রেন্ডরা আপনাকে রিকুয়েস্ট দিতে পারবে।

আপনি চান না যে আপনার ইমেইল দিয়ে অপরিচিত কেউ আপনাকে খুঁজে পাক। এ জন্যে Who can look you up using the email address you provided? গিয়ে ফ্রেন্ডস অপশনে দিয়ে রাখলে শুধুমাত্র যারা আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে আছে তারাই আপনার ইমেইল দিয়ে আপনার ফেসবুক আইডি খুঁজে পাবে।

আবার আপনার মোবাইল নাম্বার কারো কাছে থাকলে তিনি হয়ত আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে আপনাকে খুঁজে বের করতে পারেন। যে কেউ যেন খুঁজে না পায় সে জন্যে Who can look you up using the phone number you provided? অপশনে গিয়ে সেটিং ফ্রেন্ডস করে দিলে শুধুমাত্র আপনার ফ্রেন্ডলিস্ট থাকা বন্ধুরা আপনার নাম্বার দিয়ে খুঁজে পাবে । অন্য কেউ পাবে না।

টাইম লাইন ও ট্যাগিং এর যথাযথ ব্যবহার

জন্মদিনে বা বিভিন্ন কারনে দেখা যায় অনেকে আপনার ওয়ালে পোষ্ট করে। অনেক সময় টাইমলাইন অফ করে রাখার প্রয়োজন পড়তে পারে সে ক্ষেত্রে টাইমলাইন অপশনে গিয়ে Who can post on your timeline? এ অনলি মি সিলেক্ট করে দিন। আর পোষ্ট এপ্রুভাল চালু রাখলে  কেউ যদি পোষ্ট করে সে ক্ষেত্রে কারা কারা পোষ্ট দেখতে পারবে এটি নির্ধারন করতে দিতে পারবেন।

ফেসবুক চালাতে গিয়ে অনেক বিব্রতকর অভিজ্ঞতায় পড়তে হয়ে আমার কাছে সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগে কেউ আমাকে যথা কোন পোষ্টে ট্যাগ করলে।ট্যাগিং এর গিয়ে Who can see posts you’re tagged in on your timeline? এর মাধ্যমে আপনি নির্ধারন করতে দিতে পারেন কারা কারা আপনি কোন পোষ্টে  ট্যাগড হলে সে পোষ্ট দেখতে পারবে। সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগে যখন আপনাকে অযাচিত কেউ অপ্রাসংগিক ট্যাগ করে।  আপনি চাইলেই অটো ট্যাগ অপশন অফ করে দিতে পারবেন মানে সে আপনাকে ট্যাগ করলেও যতক্ষণ না আপনি এই ট্যাগ এপ্রুভ করছেন ততক্ষন কেউ আপনাকে ট্যাগ দেখতে পারবে না বা আপনার টাইমলাইনে আসবে না। আপনি আপনার টাইমলাইনে অনুমোদন দিলেই শুধু টাইমলাইনে আসবে।

সিকিউরিটি ও লগ ইন টিপস

ফেসবুক সিকিউরিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই অপশনগুলো ব্যবহার করে আপনি সিকিউরিটি সংক্রান্ত কিছু কাজ করতে পারবেন। প্রথমেই আপনি দেখতে পাবেন আপনি কয়টি ডিভাইস থেকে ফেসবুকে লগ ইন করেন আছেন। আমাকে দেখাচ্ছে আমি একটি উইন্ডোস পিসি আর একটা মোবাইল থেকে ল্গ ইন করে আছি। যদি দেখেন আপনার অপরিচিত কোন ব্রাউজার বা ডিভাইসে লগ ইন করা সে ক্ষেত্রে এখান থেকেই আপনি লগ আউট করে ফেলতে পারবেন। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের অপশনটিও এখানে  পাবেন।

একটু স্ক্রল করে নীচের দিকে আসলে আপনি পাবেন টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা ডাবল ভেরিফিকেশন অপশন। এর মাধম্যে আপনি আপনার ফেসবুকের সিকিউরিটি বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলতে পারেন। আপনার পাসওয়ার্ড পেলেও কেউ আপনার ফেসবুকে লোগো ইন করতে পারবে না। কারন আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে  টু ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন চালু করার ফলে আপনার ফেসবুকের পাস দেওয়া হলে প্রতিবার আপনার ফোনে ছয় ডিজিটের একটি পিন কোড আসবে। এটি দিতে পারলেই আপনি ফেসবুকে লগ ইন করতে পারবেন।অন্যথায় লগ ইন হবে না তাই  এটি ফেসবুকের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সিকিউরিটি ফিচার।

কোন কারনে ফেসবুক একাউন্ট ডিজেবল বা এক্সেস হারিয়ে ফেললে আপনি আপনার ফেসবুক বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে আবার ফেসবুক আইডি ফেরত পেরে পারেন। এজন্যে আপনাকে তিন – পাঁচ জন ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড সিলেক্ট করার অপশন পাবেন Choose 3 to 5 friends to contact if you get locked out নামে অপশনে । কোন কারনে আপনি লকড হলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সহকারে লিঙ্ক পাঠিয়ে ফেসবুক কর্তপক্ষ আপনাকে আপনার আইডি ফেরত পেতে সাহায্য করবে।

মেইল ও মোবাইল নাম্বার লুকিয়ে রাখা

ফেসবুক খুলেছেন মেইল দিয়ে আর ফেসবুক আইডির সিকিউরিটি বাড়াতে গিয়ে টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করতে মোবাইল নাম্বার ব্যবহ্যার করেছেন । সে ক্ষেত্রে হয়ত ভুলে গিয়েছেন আপনার ইমেইল ও ফোন নাম্বার প্রাইভেসী দিয়ে রাখতে। সবাই আপনার ফোন নাম্বার আর মেইল পেয়ে যাবে। ব্যাপারটা যেমন বিব্রতকর আর আবার আপনার সিকিউরিটির জন্যেও রিক্স ইস্যু । তাই প্রয়োজন ছাড়া এই দু’টি দরকারী কনটাক্ট সবার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখাই শ্রেয়।

এক্ষেত্রে আপনাকে আপনার প্রোফাইলে ঢুকে এবাউটে যেতে যেতে হবে। সেখান থেকে কনটাক্ট এন্ড বেসিক ইনফো থেকে মোবাইল ও আপনার ইমেইলে প্রাইভেসী দিয়ে রাখতে পারেন।

ফেসবুক তথ্যের একটি কপি ডাউনলোড করে রাখা

ফেসবুক থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন? কিন্তু, আপসোস হচ্ছে এত দিনের সব তথ্যের জন্য, বিশেষ করে ছবিগুলোর জন্য? বা কোন কারনে আপনার এ বছরের ফেসবুকের তথ্যগুলো দরকার যেমন ফ্রেন্ড লিস্ট, ছবি ইত্যাদি ইত্যাদি। চিন্তার কিছুই নেই, ইচ্ছা করলে খুব সহজেই আপনার অ্যাকাউন্টের সকল তথ্যের একটি কপি ডাউনলোড করে রাখতে পারবেন। এজন্য, Settings থেকে General ট্যাবের অধীনে একদম নিচে ডাউনলোড এ কপি অফ ইউর ফেসবুক ডাটা নামে একটি অপশন আছে সেখানে ক্লিক করুন।  করার অপশন দেওয়া আছে।

এবার আপনাকে ডাউনলোড ইউর ইনফরমেশন নামে নতুন একটি পেজে নিয়ে যাবে । স্টার্ট মাই আর্কাইভে ক্লিক করুন। পাসওয়ার্ড চাইলে পাসওয়ার্ড দিন। ফেসবুক সময় নিবে আপনার সব তথ্য ডাউনলোড উপযোগী করতে । আপনাকে পরে নটিফিকেশন দিয়ে জানানো হবে যে এখন আপনি আপনার ডাটা ডাউনলোড করতে পারবেন। পাসওয়ার্ড দিয়ে ডাউনলোড করে নিন আপনার ফেসবুকের তথ্যের একটা ডিপু। 🙂

অন্যদের দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেই নিজের টাইমলাইন দেখা

আপনার টাইমলাইন অন্যদের দেখতে কেমন, আপনি যদি আপনার টাইমলাইনে কোন ছবি প্রাইভেসী দেওয়া আছে কিনা বা অন্য কেউ আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে না থাকা সত্ত্বেও আপনার কোন ছবি দেখতে পাচ্ছে কিনা দেখতে চান  তাহলে তা জানতে  নিচের ছবিতে দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করুন । তারপর, সেই অনুযায়ী আপনার সেটিংস্‌ বা প্রাইভেসী ঠিকঠাক করে নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য আপনি হয়ত এভাবে না করে নিজের টাইম লাইনে গিয়েও প্রত্যেকটি ছবি চেক করে প্রাইভেসী চেঞ্জ করে দিতে পারবেন তবে  সে ক্ষেত্রে অনেক অনেক ছবি থাকলে প্রত্যেকটি ছবি আলদাভাবে চেক করা কষ্টকর। এই ফিচারটি আপনার অনেক সময় বাচিয়ে দিবে।

আনফলো: পরিছন্ন রাখুন নিউজফিড

সবার ফ্রেন্ডলিস্টে এমন কিছু ফ্রেন্ড তাহকে, যারা দিনের মধ্যে দশ-পনেরো বার অপ্রয়োজনীয় স্ট্যাটাস আপডেট করে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় সেলফি পোস্ট করে, অথবা লাইকপ্রেমী বিভিন্ন পেজের গুজব এবং ভিত্তিহীন পোস্ট শেয়ার করে বা অযথা যৌক্তিক সব ব্যাপার নিয়ে হাঙ্গামা করে। দেখতে হয়ত আপনার বিরক্তই লাগে। অন্তত আমার বিরক্ত লাগে। ব্যক্তিগত জীবনে হয়ত এদের কেউ হয়ত আপনার বন্ধু বা ঘনিষ্ট কেউ, মুখ রক্ষার খাতিরে হলেও আনফ্রেন্ড করতে পারছেন না।

এ ক্ষেত্রে আনফলো ফিচারটি আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে। যাকে আনফলো করতে চান তার প্রোফাইলে ঢুকে ডানদিকের ফলোয়িং এর এরোতে ক্লিক করে আনফলো চালু করে দিন। তার পোষ্ট আপনার টাইমলাইনে আর আসবে না।

সরাসরি দেখুন কোথায় কী ঘটছে

ফেসবুকের লাইভ ফিচারটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। প্রতিটি মুহূর্তেই বিশ্বের কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ ফেসবুকে লাইভ আসছে। যদিও অধিকাংশ  লাইভ ভিডিওগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিনোদনমূলক হয়ে থাকে, কিন্তু প্রায় সময়ই শহর থেকে দূরবর্তী কোনো এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটলে সাংবাদিকরা পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত ফেসবুক লাইভই হতে পারে সংবাদ সরাসরি পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।

এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমরা পাই দেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের ক্ষেত্রেই।  একসময় দেশের সবগুলো সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ আর সম্প্রচার বন্ধ করে দিলে একেকজন আন্দোলনকারী হয়ে উঠে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যম। আন্দোলনকারীরা নিজেরাই লাইভে এসে তাদের অবস্থান আর অবস্থার কথা সারা দেশবাসীকে জানিয়েছে।

ধরুন, এই মূহুর্তে কোথাও কোন দূর্ঘটনা ঘটেছে কোন টিভি চ্যানেলে এখনো দেখাচ্ছে না বা কোন  নিউজ হয় নি। যে এলাকায় দূর্ঘটনা ঘটেছে ফেসবুকের লাইভ ম্যাপে ঐ এলাকার মানচিত্রে গিয়ে সহজেই খুঁজে দেখতে পারবেন, ঐ এলাকা থেকে কেউ সরাসরি কিছু সম্প্রচার করছে কিনা।

এই ওয়েব ঠিকানাতে গেলে আপনি সারা বিশ্বের মানচিত্রের উপর অনেক ছোট ছোট নীল রঙের বিন্দু অবস্থান দেখতে পাবেন। প্রতিটি নীল বিন্দুর অর্থ হল, ঠিক এ মুহূর্তে ঐ স্থান থেকে কেউ একজন ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করছে।  যে বিন্দুর আকার যত বড়, সেটি তত বেশি সংখ্যক মানুষ সরাসরি দেখছে।

ফেসবুক লাইভ

আপনি কোন স্থানের লাইভ দেখতে চাইলে ঐ এলাকার নীল বিন্দুর উপর ক্লিক করলেই লাইভ ভিডিও চালু হয়ে যাবে। তবে এ ফিচারটির একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শুধুমাত্র কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকেই লাইভ ফিচারটি ব্যবহার করা যাবে, মোবাইল অ্যাপের ক্ষেত্রে এখনও সুবিধাটি  চালু করা হয় নি।

 

পোষ্ট সেভ করা

একটি তথ্যবহুল পোষ্ট সামনে আসল কিন্ত এই মূহুর্তে আপনার হাতে তথ্যবহুল বড় পোষ্টটি পড়ার মত হাতে সময় নেই আবার হয়ত স্কিপ করলে পরে খেয়াল নাও থাকতে পারে । আপনি চাইলে পোষ্টটি পরে পড়ার জন্যে সেভ করে রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নীচের ছবিটি লক্ষ্য করুন।

কোন পোষ্ট সেভ করতে সে পোষ্টের ডানপাশে চারটা ডটে ক্লিক করুন তাহলে  সেভ পোষ্ট নামে অপশনটি পাবেন। পরবর্তীতে ঐ পোষ্টটি অবসর সময়ে পড়তে পারবেন। ফেসবুকে প্রবেশ করে বাম পাশে দেখতে পাবেন  saved নামে একটি অপশন আছে ক্লিক করলে আপনার সেভ করা পোষ্টগুলো পাবেন। ফোনে  জেনারেল সেটিংস এ যেতে অপশনে ক্লিক করে  নীচের দিকে যেতে থাকলে সেভড নামে অপশনটি পেয়ে যাবেন।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক