ফেসবুক হ্যাকিং সফটওয়্যারঃ আসলেই কাজ করে নাকি ভাঁওতা ?

ফেসবুক হ্যাকিং এর অনেক টিউটোরিয়াল দেখেছেন। কোনোটা কাজ করলেও সেটা পারফেক্ট উপায় না।আর অধিকাংশই কাজ করে না। আজকে আমি যেই ভিডীও টিউটোরিয়াল টি আপনাদের সেগুলো ১০০% কাজ করবে। এটি টেস্টেড একটি ভিডিও টিউটোরিয়াল। এখানে এমন কিছু এডভান্সড মেথড নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যার মাধ্যমে আপনি চাইলে যেকারো একাউন্ট ই হয়ত হ্যাক করে ফেলতে পারবেন। তবে যারা সচেতন তাদের একাউন্ট হ্যাক করতে পারবেন না।

তবে আমি যেই টিউটোরিয়াল টা আপনাদের সাথে শেয়ার করতেছি এটা ৯০% লোকই জানে না। তবে যেই ১০% লোক জানে তাদের একাউন্ট আপনি হ্যাক করতে পারবেন না। মানে বাকি ৯০% ফেসবুক আইডিই এখন আপনার হাতের মুঠোয়। আমি বাংলাদেশের পরিসংক্ষান বলেছি। এগুলো আমার ব্যাক্তিগত অনুমান।

কারণ সবাই ফেসবুক ব্যবহার করে। কিন্তু হ্যাকিং বিষয় নিয়ে কতজন মাথা ঘামায় আমাদের দেশে?? আপনাদের মত হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া হ্যাকিং কি এটাই তো অনেকেই জানে না। অধিকাংশ মানুষই তার একাউন্টের পাসওয়ার্ড তার মোবাইল নাম্বার শেষের ৬ডিজিট ব্যবহার করে ভুলে যাওয়ার ভয়ে। তাহলে বুঝুন আমাদের দেশের মানুষের অবস্থা।

অবশ্য এই টিউটোরিয়ালে এই রকম কোনো থিওরি দেয়া হয় নাই। সেখানে দেয়া হয়েছে ফেসবুক হ্যাকিং এর এডভান্সড মেথড

আরো দেখি

এক মিনিটেই হ্যাক করুন ফেসবুক আইডি ! ফ্রি তে ডাউনলোড করে নিন ফেসবুক হ্যাকিং সফটওয়্যার !!

 বি:দ্র : ফেসবুক অনেক সিকিউরিটি সম্পন্ন । তাই এর জন্য যত‌ই কিছু বের হােক না কেন তা কিছুদিন পরেই ফেসবুক সিকিউরিটি বাড়িয়ে ফেলে । তাই এই সফটওয়্যার এখন কাজ করলেও হয়তো বেশি দিন কাজ করতে নাও পারে । পরে এটি কাজ না করলে আমাকে গালাগালি দিয়েন না্ ।

উপরের লেখাগুলো কয়েকটা সাইট থেকে কোট করে দিয়েছে। ফেসবুক হ্যাক শব্দটি খুব ট্রেন্ডি একটা শব্দ। “সফটওয়ারের সাহায্যে এক মিনিটেই হ্যাক করে নিন ফেসবুক আইডি”,  “আপনি কি ফেসবুক হ্যাক করতে গিয়ে ক্লান্ত”, “ফেসবুক আইডি হ্যাক হবেই” “আর নয় হতাশা আজই হ্যাক করুন  যে কোন ফেসবুক আইডি” এমন অসংখ্য চটকাদার হেডলাইনের নানা আর্টিকেল আমরা পাই। এসব ক্লিক বেইট আর্টিকেলে আমরা আগ্রহ নিয়েই ক্লিক করি। ক্লিক করে হয়ত তেমন কিছু পাই না।

আবার দেখা যায় কিছু সফটওয়্যারের নাম ও ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয় আছে। কোথাও আবার ফেসবুক হ্যাকের জন্যে সফটওয়ারের ব্যবহারবিধি স্ক্রীনশট সহ বর্ণনা করা আছে। আপনি কি খেয়াল করেছেন যে অনেক সাইটগুলোতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই বর্ণনা আর স্ক্রীন শট গুলো একই ! প্রায় সবাই একজনের আর্টিকেল নকল করে বা অন্য কোন সফটওয়্যারের নাম বলে কিন্ত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই টাইপের জিনিস। একটি ছবি দিচ্ছি এমন যারা ক্লিক বেইট ছবি বানিয়ে ভিজিটর আকৃষ্ট করছে

কখনো কি ট্রাই করে দেখেছেন এই পদ্ধতিগুলো?  কোথাও হয়ত ডাউনলোড লিঙ্ক কাজ করে না, আবার কোথাও ডাউনলোড হয় কিন্ত পাসওয়ার্ড দেওয়া , পাসওয়ার্ডের জন্যে জরিপে অংশগ্রহণ করতে বলে বা  কোন সাইটে প্রবেশ করে কিছু করতে বলে তাহলে আপনি পাসওয়ার্ড পাবেন। ইত্যাদি ইত্যাদি এবার কোন কারনে আপনি সফটওয়ারটি রান করতে পারলেও ইমেইল আইডি বা অন্যান্য তথ্য দেওয়ার পরে হয়ত কোথা না কোথাও আপনি আটকে যাবেন !

আপনার গার্ল ফ্রেন্ড কার সাথে চ্যাট করে বা আপনার কোন বন্ধুর সাথে আপনার ঝামেলা , আইডি দখল নিতে হবে ! তখন হন্যে হয়ে খুজে বেড়াচ্ছেন ফেসবুক হ্যাক সফটওয়্যার। গুগলে বাংলা ইংরেজী দুইভাবেই খুঁজে বেড়াচ্ছেন কিভাবে ফেসবুক হ্যাক করা যায়। পেজের পর পেজ স্ক্রল করে ওয়েব সাইটের পর ওয়েবসাইট ঘুরে অনেক সফটওয়্যার নামিয়েছেন কোন কাজ হয় নি। আপনি হয়ত কিছুটা ধারনা রাখেন এভাবে কাজ হবে না এর পরেও মন থেকে ভাবেন একটা না একটাতে তো কাজ হতে পারে । তা না হলে এত এত ওয়েবসাইট এটা নিয়ে কেন আর্টিকেল লিখছে।

এখানে চলে আসে সাইকোলজির ব্যাপার । যারা আর্টিকেল লিখে তারা নিজেরা’ই কোন দিন হয়ত ট্রাইও করে দেখে নি। এরপরেও কিন্ত আর্টিকেল লিখছে। এখন প্রশ্ন হল, যদি কাজই না করে তাহলে কেন তারা আর্টিকেল লিখছে ? অনলাইনে নানা ধরনের আয়ের উৎস বা পদ্ধতি রয়েছে। কোনটা ইথিক্যাল আর কোনটা আনইথিক্যাল।

একজন লোক একটি ওয়েবসাইট কেন বানায়? এখানে তো সে প্রচুর সময় আর টাকা খরচ করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওয়েব সাইট বানানো হয় একটি আয়ের উৎস হিসেবে। নানা উপায়ে আয় করার চেষ্টা করেন। দেখা গেল আপনি ফেসবুক ওয়েব সাইট হ্যাক  লিখে সার্চ করলেন বা  ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোষ্ট লিঙ্ক দেখলেন ।

চটকারদার টাইটেল দেখে আপনি ঐ সাইটে ক্লিক করে প্রবেশ করলেন এতে তার ভিজিটর বাড়বে। একটা পেজ থেকে অন্য পেজে ভিজিট করবেন। ঐ ওয়েবসাইটে হয়ত নানা বিজ্ঞাপন দেওয়া আছে সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে কোন পণ্য ক্রয় করলে ওয়েব ওনার কিছু সম্মানি পাবে। বা হতে পারে উনি সাইটে গুগল এডসেন্স ব্যবহার করছেন । এডসেন্স ব্যানারে ক্লিক করলেই তিনি কমিশন পাবেন। তা তিনি হয়ত অন্য কোন পেজে রিডিরেক্ট করে কোন সুবিধা পাবেন।  এমন হতে পারে আপনি সফটওয়্যার ডাউনলোড করার ফলে তিনি তিনি কমিশন পাবেন । মোট কথা ক্লিক বেইট টাইটেল যুক্ত আর্টিকেলগুলো রাখা হয় মানুষকে বোকা বানিয়ে ফয়দা লোটার জন্যে।

এমন হতে পারে আপনি অন্যের আইডি হ্যাক করতে গিয়ে আপনার ফোনে আনঅথরাইজড এপস ইন্সটল করার ফলে আপনার ফোনের সব পাসওয়ার্ড ও আইডি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবার আপনাকে তাদের নির্ধারিত ফর্মে একাউন্ট খুলতে বলতে পারে। আপনার ইমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করতে বলতে পারে । হতে পারে তাদের সফটওয়ারে আইডি আর  পাসওয়ার্ড গ্রেভার থাকতে পারে। আপনার মেইল আর পাস পেয়ে গেল। উলটা আপনি নিজেই আপনার ইমেইল হারিয়ে বসেছেন। আর ইমেইল হারনো মানে অনলাইনে সম্পূর্ণ ইনসিকিউর বা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়া।

আবার দেখা যায় আপনার মত এমন শত শত মানুষের মেইল কালেকশন করে সেই মেইলগুলো বিক্রি করে দেয়। মোট কথা মোটেও ফেসবুক হ্যাক করার মত এমন সফটওয়্যার পাওয়া যায় না ! যে সফটওয়ারগুলো ফেসবুক হ্যাক হয় বলে প্রচারিত গুলো সত্যি নয় রবং পুরুপুরি ভাঁওতা।

ফেসবুক লাখ লাখ ডলার খরচ করছে তার সিকিউরিটি বা নিরাপত্তার পিছনে। একটি মাত্র সফটওয়্যার দিয়েই যদি ফেসবুক হ্যাক করে ফেলা যায় কি দরকার ছিল ফেসবুকের লাখ লাখ ডলার খরচ করার ? একদম সাধারণ বাচ্চা ছেলেও এটি সহজে বুঝার কথা। ফেসবুকের সার্ভার হ্যাক করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার । তবে চাইলে ফেসবুকের আইডি হয়ত চালাক হ্যাকার হাতিয়ে নিতে পারে।

আপনাকে ফাঁদে ফেলে সে আপনার ফেসবুক আইডি হাতিয়ে নিতে পারে, কোন ফেসবুক হ্যাকিং সফটওয়্যার দিয়ে নয়। ফিশিং, কী লগার, সেশন হাইজ্যাকিং, ইমেইল দখল করে, ইমেইল স্পুফিং, টোকেনের মাধ্যমে বা কুকিজ চুরি ইত্যাদির মাধ্যমে । কিভাবে ফেসবুক আইডি হ্যাক হতে পারে এবং কিভাবে ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন এ নিয়ে একটি আর্টিকেল হল ফেসবুক আইডি হ্যাকঃ কিভাবে করে এবং নিরাপদে থাকার উপায় কি?

কোন কারনে ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে গেলে কিভাবে উদ্ধার করতে পারবেন এটি পাবেন এই আর্টিকেলে: ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে কিভাবে উদ্ধার করবেন?

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক