3

বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী

বিশ্বের সকল দেশের স্কাউটদের নিয়ে বি.পি প্রথম স্কাউট ক্যাম্প (১৯০৭) এর দশম বর্ষপূর্তি উৎযাপন করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ১ম বিশ্ব যুদ্ধ চলায় তা সম্ভব হয় না। অনেক স্কাউট প্রাণও হারায় তাতে।

1.1পরবর্তীতে ১৯২০সালে স্কাউটদের মিলন-মেলার আয়োজন করা হয়। নাম দেয়া হয় জাম্বুরী। এটাই ছিল ১ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী (৩০ জুলাই – ৮ আগস্ট)।

1.2

লন্ডনের অলিম্পিয়ায় অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ৩৪টি দেশ থেকে ৮০০০ হাজার স্কাউট অংশগ্রহণ করে। এখানেই বি.পি কে বিশ্বের চীফ স্কাউট বলে আখ্যায়িত করা হয়।

2.1

এর ৪বছর পর ১৯২৪সালে (৯-১৭ আগস্ট) ডেনমার্কের এরমিলান্দেনে ৪,৫৪৯জন স্কাউট এর উপস্থিতিতে ২য় বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। ১০ই অগাস্ট প্যারেড এর মাধ্যমে বি.পি কে স্বাগত জানানো হয়।

3
১৯২৯সালে (২৯জুলাই-১২আগস্ট) ইংল্যান্ড এর বারকেনহেডের এরো পার্ক এ ৩য় বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। ৬৯টি দেশ থেকে ৫০,০০০ স্কাউট এর আগমন ঘটে। স্কাউটিং এর ২১তম বার্ষিকী পালিত হয়। বি.পি নিজেই উপস্থিত ছিলেন। এই জাম্বুরীতে ৩,২০,০০০ দর্শনার্থী দেখা যায়।

4
হাঙ্গেরির গোদোলোতে ১৯৩৩সালে (২-১৩ আগস্ট) ২৫,৭৯২জন স্কাউট নিয়ে ৪র্থ বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। বহিরাগত দেশগুলোর দলের সাথে একজন করে হাঙ্গেরির স্কাউট থাকতো সর্বদা যাতে ভাষা বুঝতে কোনো অসুবিধা না হয়। প্রথম বারের মত এয়ার স্কাউটরা এতে অংশগ্রহণ করে। শত বাঁধা বিপত্তির পেরিয়ে নতুনের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে বলেন বি.পি।

5
১৯৩৭সালে (৩১জুলাই-৯আগস্ট) নেদারল্যান্ড এর ভোগেলেন্সাংগ-ব্লোয়েমেদাল এ অনুষ্ঠিত হয় ৫ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৫৪টি দেশ থেকে সর্বমোট ২৮,৭৫০জন স্কাউট দেখা যায় এ জাম্বুরীতে। এটি সবচেয়ে পরিছন্ন জাম্বুরী ছিল তখনকার মধ্যে। গার্ল গাইড থেকে লেডি ব্যাডেন পাওয়েলকে (বিশ্বের চীফ গাইড) স্বাগত জানানো হয়। পরে বি.পি সেখানে যান। তার বয়স ছিল তখন ৮০বছর। তিনি বলেন “এখন সময় এসেছে আমার বিদায় নেয়ার। আমি চাই তোমরা সুখী জীবনযাপন কর। তোমরা জান যে আমাদের অনেকেরই আর কখনো দেখা হবে না এই পৃথিবীতে।”

6
এরই মধ্যে ১৯৪১সালে বি.পি মৃত্যু বরণ করেন। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের পর শান্তির প্রতীক নিয়ে ১৯৪৭সালে অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১০বছর পর অনুষ্ঠিত হয় এই জাম্বুরী। ভারত থেকে আগত স্কাউটেরা তাদের স্বাধীনতা উৎযাপন করে।

7
১৯৫১সালে (৩-১২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয় ৭ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। অস্ট্রিয়ায় অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ১২,৮৮৪জন স্কাউট অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি জাম্বুরীর স্মৃতিতে ৭টি টাওয়ার বানানো হয়। প্রথমবারের মত জার্মান স্কাউটরা অংশগ্রহণ করে। এমনকি জাপান থেকেও একজন স্কাউট আসে। সে তার ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানত না। শুধু জাম্বুরী শব্দটা জানা ছিল তার। কোন অসুবিধা ছাড়াই উপভোগ করে পুরো জাম্বুরী।

8.2
8.1
১৯৫৫সালে প্রথমবারের মত ইউরোপ এর বাইরে কানাডায় অনুষ্ঠিত হয় ৮ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৭১টি দেশ থেকে ১১,১৩৯জন স্কাউট এর আগমন ঘটে।

9
এবার ইংল্যান্ড এ। ১৯৫৭সালে (১-১২ আগস্ট) সুতন পার্কে অনুষ্ঠিত হয় ৯ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। স্কাউটিং এর ৫০বছর পূর্তি হয়। ৮০টি দেশ থেকে ৩০,০০০ হাজারেরও বেশি স্কাউট উপস্থিত হয়।

10কাল গড়ব আজ এর প্রত্যয় নিয়ে ১৯৫৯সালে ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত হয় ১০ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১২,২০৩জন স্কাউট এর আগমন ঘটে ৪৪টি দেশ থেকে। সকলের মনে স্থান করে নেয় জাম্বুরীর বিষয়বস্তু।

11.2

গ্রিসে অনুষ্ঠিত হয় ১১তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৬৩সালের এ জাম্বুরীতে ১৪,০০০হাজার স্কাউট এর আগমন ঘটে। জাম্বুরীতে আসতে গিয়ে বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয় ফিলিপাইন স্কাউটরা। তাদের স্মরণে জাম্বুরীতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

12
“বন্ধুত্তের জন্য স্কাউটিং” এই প্রত্যয় নিয়ে ১৯৬৭সালে (৩১জুলাই -৯আগস্ট) আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হয় ১২তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১০৫টি দেশ থেকে ১২,০১১জন স্কাউট উপস্থিত হয়।

13
একে অপরকে বোঝার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৭১সালে (২-১০ আগস্ট) জাপানে শুরু হয় ১৩তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৮৭টি দেশ থেকে আসা ২৩,৭৫৮জন স্কাউট বন্যার কারণে মাঝপথে কিছুটা ব্যাঘাতগ্রস্থ হলে জাপানিস স্কাউটরা তা দক্ষতার সাথে সামলে নেয়।

14
১৯৭৫সালে (২৯জুলাই-৭আগস্ট) নরওয়েতে অনুষ্ঠিত হয় ১৪তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৯১টি দেশ থেকে ১৭,২৫৯জন স্কাউট এর আগমন ঘটে সেখানে। “পাঁচটি আঙুল, এক হাত” এই প্রত্যয় নিয়ে নরওয়ের ৫টি স্কাউট অঞ্চল আয়োজন করে এই জাম্বুরী। জাম্বুরী উদ্বোধন করেন নরওয়ের রাজা।

15th_World_Scout_Jamboree_Iran
১৯৭৯সাল পুরোটাই ছিল বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। কার্যক্রম চলে পুরো বিশ্বে। সবাই মিশে যায় একে অপরের সাথে স্কাউট ভ্রাতৃতে। ১৫তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী যা ইরানে হওয়ার কথা ছিল, স্থগিত করা হয়।

15
অবশেষে ১৯৮৩সালে  কানাডায় অনুষ্ঠিত হয় ১৫তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৪,৭৫২জন স্কাউট আসে এই জাম্বুরীতে। “স্পৃহা বেঁচে থাকে” এই প্রত্যয় নিয়ে উৎযাপন করা হয় স্কাউটিং এর ৭৫তম বার্ষিকী এবং একই সাথে বি.পি এর ১২৫তম জন্মদিন।

16
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ১৬তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৮৭সালের ৩০শে ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ১৯৮৮সালের ৭ই জানুয়ারী শেষ হওয়া এই জাম্বুরীতে ৮৪টি দেশ থেকে অংশগ্রহণ করে ১৪,৪৩৪জন স্কাউট। পুরো বিশ্বকে একসাথে আনার প্রত্যয় নিয়ে ও দারুণ সব কার্যক্রম এর মাধ্যমে ইতি টানে এই জাম্বুরী। এই জাম্বুরীতে সার্ফ কার্নিভাল দেখার সুযোগ পায় স্কাউটরা।

17
১৯৯১সালে (৮-১৬আগস্ট) ১৩৫টি দেশ ও বিভিন্ন অংশ থেকে ২০,০০০ স্কাউট এর উপস্থিতে কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ১৭তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। প্রথমবারের মত এত দেশের উপস্থিতি দেখা যায় জাম্বুরীতে। “অনেক মাটি, একটি বিশ্ব” এই ছিল সেবারের প্রত্যয়।

18
নেদারল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত হয় ১৮তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৯৫সালের (১-১১আগস্ট) এই জাম্বুরীতে ১৬৬টি দেশ থেকে ২৮,৯৬০জন স্কাউট ও কর্মকর্তা আসে। দেশের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। “ভবিষ্যৎ এখনই” এই প্রত্যয় নিয়ে চলতে থাকে ১৮তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী।

19
১৯৯৮সালের ২৭শে ডিসেম্বর এ শুরু হয়ে ১৯৯৯সালের ৬ই জানুয়ারী চিলিতে শেষ হয় ১৯তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। “গড়ব শান্তি একসাথে” এই প্রত্যয় নিয়ে প্রথম বারের মত ল্যাটিন আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ১৫৭টি দেশ থেকে ৩১,০০০হাজার স্কাউট, দলনেতা ও কর্মকর্তা আসেন।

20
থাইল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত হয় ২০তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ২০০২সালের ২৮শে ডিসেম্বর এ শুরু হয়ে এ জাম্বুরী শেষ হয় ২০০৩সালের ৮ই জানুয়ারী। ১৪৭টি দেশ থেকে ২৪,০০০হাজার স্কাউট আসে এই জাম্বুরীতে। নিজেদের বিশ্ব,নিজেদের সংস্কৃতি ভাগ করে নেয়ার প্রত্যয় নিয়ে চলতে থাকে ২০তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী।

21
“একটি বিশ্ব, একটি প্রতিজ্ঞা” এই প্রত্যয় নিয়ে স্কাউটিং এর ১০০তম বার্ষিকী উৎযাপিত হয় ২০০৭সালের (২৭জুলাই-৮আগস্ট) ২১তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরীতে। ইংল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ৪০,০০০হাজার এরও বেশি স্কাউট অংশগ্রহণ করে।

22


সুইডেন এ অনুষ্ঠিত হয় ২২তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ২০১১সালের (২৭জুলাই-৭আগস্ট) এই ৪০,০০০হাজার স্কাউট অংশগ্রহণ করে। “সহজ-সরল স্কাউটিং”-ই ছিল সেবারের প্রত্যয়।

23২০১৫সালে (২৮জুলাই-৮আগস্ট) জাপানে অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী

jamboree1r

একজন স্কাউট এর স্কাউটিং পরিপূর্ণ হয় এতে অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে – বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী।।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

অচ্যুত সাহা জয়
 

"কখনো কোনো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা বলতে হয় না। আমরা বলি না। আপনি বলেছেন। এর দায়দায়িত্ব কিন্তু আর আমার না - আপনার!"