নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড, তথ্য যাচাই ও সংশোধন

ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন , এখনো ভোটার আইডি কার্ড হাতে পান নি। এমন সময় কোন কারনে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন পড়ল যে কাজটি জন্ম নিবন্ধন দিয়ে করা সম্ভব নয়।ভোটার আইডি কার্ড না পেলেও অন্তত NID নাম্বার হলেও চলত।  যেমন   সিম রেজিস্ট্রেশনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যেখানে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্র এবং আংগুলের ছাপ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। দেশের সব সিম ইউজারদের জন্য এটি প্রযোজ্য, অনেকেই হয়ত ভোটার হয়েছেন কিন্ত এখনো আইডি কার্ড হাতে পান নি । তাই রেজিস্ট্রেশন করতে সমস্যা  হচ্ছে। অথবা অন্য কোন বিশেষ প্রয়োজনে আপনার আইডি কার্ড খুব প্রয়োজন পড়ল কিন্ত আইডি কার্ড হাতে পান নি।    খুব বাজে একটি অবস্থা তাই না ? আসলেই তাই। জরুরি প্রয়োজনে যখন দরকার হবে অবশ্যই এটি একটি বাজে অবস্থা।  ভাবছেন কি করবেন কিভাবে করবেন তাই না। সমস্যাটির সমাধান খুব সহজেই আপনিই করে ফেলতে পারেন !

 জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড (সংগ্রহ) ও তথ্য যাচাই

আপনি যখন ভোটার লিস্টে প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন যেখানে NID কার্ডের তথ্য হালনাগাদ করার জন্যে আপনাকে একটি ফর্ম পূরন করতে হয়েছিল।

ফর্মে নিজের ছবি ও নাম-ঠিকানা দিয়েছিলেন। তখন তথ্য সংগ্রহকারী আপনাকে ঐ ফর্মের নিচের অংশটি কেটে দিয়ে সংরক্ষন করতে বলেছিল। যা দিয়ে পরবর্তিতে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

বুঝার সুবিধার্থে  নিবন্ধন স্লীপ নামে ঐ অংশটি নিচের ইমেজে লাল মার্ক করে দেখানো হয়েছে।  যখন অনলাইন থেকে NID কার্ডের সফট কপি সংগ্রহ করবেন তখন নীচের  xxxxxxx চিহ্নিত স্থানে যে ৮ সংখ্যার নম্বর রয়েছে সেটি লাগবে।

জাতীয় পরিচয় পত্র ফর্ম

জাতীয় পরিচয় পত্রের সফট কপি ডাউনলোড করার জন্যে প্রথমেই নির্বাচন কমিশনের সাইটে প্রবেশ করতে হবে।নির্বাচন কমিশনের সাইটে প্রবেশ করলে দেখা যাবে মেনুবারে অন্যান্য তথ্য নামে একটি লিঙ্ক আছে । অন্যান্য তথ্যে মাউস হোবার করলে মানে মাউস এর উপরে নিলেই ভোটার তথ্য নামে একটি লিঙ্ক আসবে এত ক্লিক করতে হবে।

যেহেতু আমরা ফর্ম নাম্বার দিয়ে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করব তাই  বুলেট  থেকে ফর্ম নম্বর  সিলেক্ট করে দিব। এবার লাল তারকাযুক্ত ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর নামের ঘরে  নিবন্ধন স্লীপের ৮ সংখ্যার নম্বর দিয়ে জন্ম তারিখ ও সঠিক ক্যাপচা পূরন করে  ভোটার তথ্য দেখুন এ ক্লিক করলে  ভোটার তথা জাতীয় পরিচয় পত্র সম্পর্কিত তথ্য দেখতে পারবেন।  পেয়ে গেলেন আপনার পরিচয় পত্র নম্বর । সংরক্ষন করে ফেলুন আপনার পরিচয় পত্রের নম্বর ।

 

 

রেজিস্ট্রেশন করা ও তথ্য যাচাই 

NID নম্বর তো জানা আছে।  এবার লক্ষ করে দেখুন  ঐ পেজে উপরের অংশের মেনুবারে “রেজিস্টার” লেখা আছে। রেজিস্টারে  ক্লিক করুন।  এবার সব কিছু ঠিকঠাক পূরণ করে রেজিস্টার করুন।

রেজিস্টার সফল হয়ে যাবার পর এখন লগিন করার পালা। লগিন করতে এখানে ক্লিক করুন। তাহলে নিচের মত পেইজ আসবে  । এখানে সব তথ্য ঠিকঠাক দিন এবং ভেরিফিকেশনের জন্য মোবাইল সিলেক্ট  করুন। তারপর সামনে বাটনে ক্লিক করলে মোবাইলে ভেরিফিকেশন কোড যাবে  ।

মোবাইলে প্রাপ্ত কোড সাবমিট করুন। এবার  পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত  NID কার্ডের তথ্য।  এবার  আপনার NID কার্ডের সফট-কপি ডাউনলোড করতে নিচের তীর চিহ্নিত স্থানে অর্থ্যাৎ “পরিচয় বিবরণীতে” ক্লিক করুন। তাহলেই আপনার NID কার্ডের সফট-কপি ডাউনলোড হয়ে যাবে। এখন সেটা প্রিন্ট আউট করে আপনার সিম রি-রেজিস্ট্রেশন কিংবা NID সংশ্লিস্ট যে কোন কাজে লাগাতে পারেন। একই সাথে আপনার দেওয়া সব তথ্য সঠিক আছে কিনা সেটিও জানা হয়ে গেল।

 

পরিচয়পত্র সংশোধন

জাতীয় পরিচয়পত্রে যদি ভুল তথ্য থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে তথ্য সংশোধনী ফর্ম ডাউনলোড করে নিন।  জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন, তথ্য যাচাই এবং হারানো কার্ড উত্তোলনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ধার্য টাকা জমা দিতে হবে সোনালী ব্যংকে। যার কোড নং-১-০৬০১-০০০১-১৮৪৭। নির্দিষ্ট এই কোডে সমপরিমাণ টাকা জমা দিলে গ্রাহককে কর্তৃপক্ষ দেবে একটি প্রাপ্ত রসিদ। সংশোধিত পরিচয়পত্রের সঙ্গে সেটা সংযোজন সাপেক্ষে মিলবে নতুন পরিচয়পত্র।

সংশোধনী সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য প্রস্ন ও উত্তর অংশে আপনি আপনার সকল জিজ্ঞাসার তথ্য পেয়ে যাবেন আশা করি। যদি না পান সেক্ষেত্রে আপনার সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলেই তথ্য  পেয়ে যাবেন । সকলের জানার সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্ন উত্তর পর্ব হুবহু তুলে ধরছি।

১। প্রশ্নঃ কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?
উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

২। প্রশ্নঃ কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?
উত্তরঃ সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।

৩। প্রশ্নঃ ভুলক্রমে পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশোধনের জন্য কি কি সনদ দাখিল করতে হবে?
উত্তরঃ জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করার কারণে পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।

৪। প্রশ্নঃ আমি অবিবাহিত। আমার কার্ডে পিতা না লিখে স্বামী লেখা হয়েছে। কিভাবে তা সংশোধন করা যাবে?
উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আপনি বিবাহিত নন মর্মে প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

৫। প্রশ্নঃ বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি?
উত্তরঃ নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে NID Registration Wing/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে।

৬। প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন ID Card থেকে স্বামীর নাম বিভাবে বাদ দিতে হবে?
উত্তরঃ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

৭। প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কিভাবে সংযুক্ত করতে পারি?
উত্তরঃ প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ে কাবিননামাসহ সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

৮। প্রশ্নঃ আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি?
উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। উলেখ্য, আইডি কার্ডে এ তথ্য মুদ্রণ করা হয় না।

৯। প্রশ্নঃ আমার ID Card এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?
উত্তরঃ এক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

১০। প্রশ্নঃ নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?
উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সদন, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্‌নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।

১১। প্রশ্নঃ নিজের ডাক নাম বা অন্য নামে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?
উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/ স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি,ওয়ারিশ সনদ,ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।

১২। প্রশ্নঃ পিতা/মাতাকে ‘মৃত’ উল্লেখ করতে চাইলে কি কি সনদ দাখিল করতে হয়?
উত্তরঃ পিতা/মাতা/স্বামী মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত সনদ দাখিল করতে হবে।

১৩। প্রশ্নঃ ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন/ সংশোধন করা যায়?
উত্তরঃ শুধুমাত্র আবাসস্থল পরিবর্তনের কারনেই ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা/ থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদন ফরমে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে।

১৪। প্রশ্নঃ আমি বৃদ্ধ ও অত্যন্ত দরিদ্র ফলে বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোন ভাতা খুব প্রয়োজন। কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স না হওয়ার ফলে কোন সরকারী সুবিধা পাচ্ছি না। লোকে বলে ID Card –এ বয়সটা বাড়ালে ঐ সকল ভাতা পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ ID Card এ প্রদত্ত বয়স প্রামাণিক দলিল ব্যতিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, প্রামানিক দলিল তদন্ত ও পরীক্ষা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

১৫। প্রশ্নঃ একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কার্ডে পিতা/মাতার নাম বিভিন্নভাবে লেখা হয়েছে কিভাবে তা সংশোধন করা যায়?
উত্তরঃ সকলের কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে NID Registration Wing/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রামাণিক দলিলসহ আবেদন করতে হবে।

১৬। প্রশ্নঃ আমি পাশ না করেও অজ্ঞতাবশতঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যাদি সংশোধনের উপায় কি?
উত্তরঃ আপনি ম্যাজিট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে হলফনামা করে এর কপিসহ সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন করা যাবে।

১৭। প্রশ্নঃ ID Card এ অন্য ব্যক্তির তথ্য চলে এসেছে। এ ভুল কিভাবে সংশোধন করা যাবে?
উত্তরঃ ভুল তথ্যের সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল উপস্থাপন করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।এক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক যাচাই করার পর সঠিক পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রক্রিয়া করা হবে।

১৮। প্রশ্নঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা সংশোধনের জন্য কি করতে হয়?
উত্তরঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনোসটিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।

১৯। প্রশ্নঃ বয়স/ জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া কি?
উত্তরঃ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এসএসসি বা সমমানের সনদ প্রাপ্ত না হয়ে থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল দলিল উপস্থাপনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ডাক্তারী পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

২০। প্রশ্নঃ স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চাই, কিভাবে করতে পারি?
উত্তরঃ নতুন স্বাক্ষর এর নমুনাসহ গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে। তবে স্বাক্ষর একবারই পরিবর্তন করা যাবে।

২১। প্রশ্নঃ আমার জন্ম তারিখ যথাযথভাবে লেখা হয়নি, আমার কাছে প্রামাণিক কোন দলিল নেই, কিভাবে সংশোধন করা যাবে?
উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক