রেমাক্রি-নাফাকুম নিয়ে কিচিরিমিচির

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। দেশের নানা প্রান্তে অসংখ্য স্পট ছড়িয়ে ছিড়িয়ে আছে। একেকটি পর্যটন স্পটের একেক রকম সৌন্দর্য । একেক স্থানে একেক রকম অনুভূতি। পাহাড় আর নদীর সৌন্দর্য এক সাথে উপভোগ করতে হলে আপনাকে যেতে হবে বান্দরবান। পুরু বান্দরবানকেই ঘিরেই আঁকাবাঁকা সর্পিলাকার সাংগু বয়ে চলেছে। স্থানে স্থানে দেখা মিলবে ঝিরি আর ঝর্ণা। যারা পানি ঢেলে চলছে সাংগুতে।

চলতে গিয়ে পাবেন উপরে খোলা আকাশে রৌদ্র-মেঘের লুকোচুরি আর নিচে খরস্রোতা নদীর ধেয়ে আসা ছল ছল শব্দ। সব মিলিয়ে আপনার কাছে এক অপরুপ দৃশ্যের অবতারনা হবে। মারমা ভাষায় খুম মানে হল জলপ্রপাত। বান্দরবানের প্রাণ সাঙ্গু নদী পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে অজস্র ছোট খুম বা জলপ্রপাতের সৃষ্টি করেছে। রেমাক্রিখুম ও নাফাখুম এর মধ্যে অন্যতম।  আমরা রেমাক্রি-নাফাকুম নিয়ে টুকটাক আলোচনা করার চেষ্টা করব।

অবস্থান

বান্দরবান শহর থেকে ৭৯ কিমি. দুরে অবস্থিত থানচি উপজেলা। ধারণা করা হয় মারমা শব্দ ‘থাইন চৈ’ বা ‘বিশ্রামের স্থান’ থেকে থানচি নামটির উৎপত্তি। প্রচলিত আছে যে, ১৯৫০ সালে বা তার পূর্বে  নৌপথে চলাচল কালে যাত্রীগণ বিশ্রামের জন্য এ স্থানে থামতেন বলে থাইন চৈ নামে স্থানটি পরিচিত ছিল এবং পরে তা থানচি হিসেবে সবার কাছে পরিচতি অর্জন করে।

জাতিগত বৈশিষ্ট্য আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের থানচি উপজেলায়  বাঙ্গালীসহ ১১ টি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। থানচি উপজেলার অন্তর্গত সাকা হাফং, রেমাক্রি, নাফাখুম, তিন্দু, বড় পাথর ইত্যাদি স্থান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। থানচি যাওয়ার পথে পাহাড়ী রাস্তায় চলার সময় প্রচন্ড থ্রিল অনুভব করবেন।

বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে  নাফাকুম জলপ্রপাতটির অবস্থান। নাফাকুম যেতে পাবেন রেমাক্রি জলপ্রপাতটি। রেমাক্রি অঞ্চলটি একটি মারমা অধ্যুসিত এলাকা। যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে থানচি । থানচির কথা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। বান্দরবান থেকে যখন থানচি যাবেন তখন দেখতে পাবেন থানচি সাঙ্গু নদীর পাড়েই অবস্থিত।

রেমাক্রির পথে……

থানচি বাজার থেকে সাঙ্গু নদী ধরে  নৌকা বেঁয়ে রেমাক্রীর দিকে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে হয়। উপরে উঠা বলছি এই কারনে যে আসলেই নদীটা রেমাক্রী হতে থানচির দিকে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে এসেছে। আর এই কারনে এখানে এত স্রোত।

প্রকৃতি এখানে এত সুন্দর আর নির্মল হতে পারে ভাবাই যায় না। নদীর দুপাশে উচু উচু পাহাড়। সবুজে মোড়ানো প্রতিটি পাহাড় যেন মেঘের কোলে শুয়ে আছে অবলিলায়। কোন কোন পাহাড় এতই উচু যে তার চূড়া ঢেকে আছে মেঘের আস্তরে।

সব মিলিয়ে এ যেনো স্রষ্টার এক অনবদ্য সৃষ্টি। চারিদিকে পাহাড়-পর্বত, নদী ও পাথুরে খাল দেখে যে কারো মনে হতে পারে যেনো শিল্পীর আকা কোনো ছবি চোখের সামনে ভাসছে। বর্ষাকালে ঝর্না দিয়ে তীব্র গতীতে বড় হয়ে পানি নিচের দিকে পতিত হয় এবং গ্রীষ্মকালে তীব্রতা কমে যায় ও ঝরনার আকার ছোট হয়ে আসে।

নদীর কিছুদূর পর পর ১-২ ফুট এমন কি কোথাও কোথাও ৪/৫ ফুট পর্যন্ত ঢালু হয়ে নিচে নেমেছে। নদীর দুপাশে সবুজে মোড়ানো উচু উচু পাহাড় রয়েছে। সবুজে ঘেরা সে পাহাড়ে মাঝে মাঝে দু একটি উপজাতী বসতঘর দেখা যায়। পাহাড়ের ঢালুতে টিন আর বেড়ার ঘর গুলো মারমা ভাষায় বলে ‘খুম’ মানে হচ্ছে জলপ্রপাত।

নৌকা দিয়ে যেতে পারবে তিন্দু, বড় পাথর বা রাজা পাথর। পথে যেতে  অনেক আলোচনাই করতে থাকবেন । তবে সেসবের মধ্যে যে স্থানটি আপনার হৃদয়ে দাগ কেটে নেবে সেটি হলো তিন্দুর বড় পাথর বা রাজা পাথর ।

ঝর্ণার পানিতে বয়ে চলা নদীর মধ্যেই বিশাল বিশাল পাথর যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার মধ্য দিয়ে নৌকায় করে যাওয়ার সময় যে অনুভূতি জাগে তা ভোলার নয়।

বড় পাথর বা রাজা পাথর

বড় পাথর বা রাজা পাথর

এই রাজা পাথর হল তিন্দুর সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান। সাঙ্গু নদীর এখানে এসে পাথরের  আকার দেখে আপনি আশ্চর্য না হয়ে পারবেন না। পাথরের সামনে দাঁড়ালে নিচের ক্ষুদ্রতার প্রমাণ পাবেন।  নদীর বুকে নীল জলরাশি, বিশাল বিশাল পাথরের ফাঁকে ফাঁকে আপনার নৌকা ছুটে যাবে উজানের দিকে। দুইপাশে দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড় আর মেঘের আলিঙ্গন । সামনেই ভয়ংকর খরস্রোতা বাঁক আর সৃষ্টির রহস্যের বড় পাথরগুলো যেন আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলো।

তবে সাবধান নৌকা পাথরে একটু জোড়ে ধাক্কা লাগলেই ভেঙ্গে হবে খান খান। অসংখ্য ছোটবড় পাথরের মাঝে দেখবেন একটা বিশাল পাথর বেশ বড় অভয়ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেটাই রাজা পাথর। মাঝিরা তো বটেই, উপজাতিরাও এই পাথরকে সম্মান করে চলে, পুজা অর্চনা দেয়। কারন এখানে মৃত্যু হয়েছে অনেকের।

এ রাজা পাথর নিয়ে অসংখ্য মিথ প্রচলিত আছে ,

সাঙ্গুর এই পাথরের রাজ্য ছিল রক্ত মাংসের মানুষের রাজ্য। রাজা ও রানির প্রিয় পুত্র একদিন খরস্রোতা সাঙ্গুর পানিতে এক ভয়াল দিনে ডুবে যান । অনেক চেষ্টার পরও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না।  পুত্রশোকে রাজা পাথর হয়ে গেলেন, রানীও এই শোক সইতে না পেরে পাথর হয়ে যান।। রাজপুত্র হারানোর শোক নেমে এলো পুরো রাজ্যে। রাজকুমারের প্রতি সকলের ভালোবাসা আর তাকে হারানোর কষ্ট সমগ্র রাজ্যকে স্থবির করে দেয়। মন্ত্রী, সেনাপতি, সৈন্য-সামন্ত, রাজ্যের সব প্রজা সবাই শোকে পাথর হয়ে গেল। পাথর হয়ে তারা সাংগু নদীর বুকে দাঁড়িয়ে রইল। এই হলো ‘রাজা পাথর’ নিয়ে আদিবাসীদের মিথ।

আদিবাসীরা এই রাজা পাথর বা বড় পাথরকে খুব ক্ষমতাবান বলে ভাবে। তারা মনে করে, সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সব পাথর ডুবে গেলেও রাজা পাথর কখনো ডুববে না। তারা আরও মনে করে ,এই পাথরকে অসম্মান করলে বিপদ হতে পারে। খরস্রোতা সাংগু নদীতে প্রতিবছর কেউ না কেউ মারা যায়। তাই রাজা পাথরকে খুশি রাখতে আদিবাসীরা নিয়মিত পূজা দিয়ে থাকে।

আরো কথিত আছে, প্রাচীন কালে মগ রাজা কোন এক যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর তার রাণী ও সকল সৈন্যদের নিয়ে শংখ নদীতে ভূপাতিত হন। শংখ নদীর যে স্থানে রাজা পতিত হন সেখানেই রাজা ও তার সকল পরিষদরা এখনও দাঁড়িয়ে আছেন পাথর হয়ে।
এখানে একটু জানাশোনা নিয়ে গেলে আপনি সহজেই বের করতে পারবেন রাজা পাথর,রানী পাথর, রাণীর কলসি পাথর। স্থানীয় পাহাড়ী মানুষের কাছে ধর্মীয়ভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই বড় পাথর ।

চারপাশের নির্জনতা, পাহাড়ের বিশালতা, নদীর পানির মৃদু ছপছপ শব্দ আর আলুথালু বেশে পড়ে থাকা রাজ্যের সব দুঃখী পাথর—সবকিছু মিলে এমন এক রহস্যময় পরিবেশের সৃষ্টি হয় যে ভালো মতো কান পেতে শুনলে পাথরের কান্নাও শোনা যায়। রাজপুত্র হারানোর দুঃখ তখন আপনাকেও স্পর্শ করবে। এমন জাদুময় পরিবেশ মুহূর্তেই আপনাকে নিয়ে দাঁড় করাবে শত শত বছর পূর্বের এক অচেনা গল্পকারের সামনে, যিনি দুখী পাথরের এই মিথ তৈরি করেছিলেন।

ভৌগলিক কারনেই প্রায় প্রতি বছরই বর্ষায় ইঞ্জিন চালিত নৌকায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বড় পাথড় এলাকায়। ভ্রমনের সময় সাবধান থাকবেন এবং অবশ্যই স্থানীয়দের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখাবেন। এক সময় পৌছে যাবেন রেমাক্রিতে ।

বর্ষায় ইঞ্জিনবোটে থানচি থেকে তিন্দু যেতে সময় লাগবে আড়াই ঘন্টা। তিন্দু থেকে রেমাক্রি যেতে লাগবে আরও আড়াই ঘন্টা। এই পাঁচ ঘন্টার নৌ-পথে আপনি উজান ঠেলে উপরের দিকে উঠতে থাকবেন।

মারমা আদিবাসি পরিচালিত রেমাক্রী বাজারটি নাফাখুম যেতে পড়া একটি ছোট্ট বাজার। গ্রামদেশের বাড়ির মতো মাঝখানে বড় উঠোন ও চারপাশে মারমা বসতি। উল্লেখ্য এই বাজারে যাদের দোকান রয়েছে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে দোকানের পেছনে অবস্থিত ঘরগুলোয় বসবাস করেন। রেমাক্রী বাজারের পাশেই পর্যটকদের জন্য একটি রেষ্ট হাউজ রয়েছে। আর রেষ্ট হাউজের পাশে রয়েছে বিজিবি ক্যাম্প।

রেমাক্রী বাজারের ঠিক কয়েকশ গজ আগে ছোট একটা খুম (ঝর্না) আছে। নাম রেমাক্রীখুম। এক কথায় অসাধারন। নাফাখুমের পানি রেমাক্রী খাল দিয়ে এসে এখানে সাঙ্গু নদীতে পরেছে। দুচোখ জুড়িয়ে যাবার মত দৃশ্য। প্রচন্ড স্রোতে পানি গমগম শব্দ করে নিচে পরছে। দেখে মনে হবে যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি।  পাঁচ-ছয় ফুট উপর থেকে কয়েকটি ধাপে পানি পড়ছে এই জলপ্রপাতে। এ’টি অনেক চওড়া। এই জলপ্রপাতটিও আপনাকে মুগ্ধ করবে নিঃসন্দেহে।

রেমাক্রি

রেমাক্রি

নাফাকুমের পথে………

থানচি উপজেলার রেমাক্রি স্থানটি সাঙ্গু নদীর উজানে একটি মারমা বসতী। মারমা ভাষায় ‘খুম’ মানে হচ্ছে জলপ্রপাত। রেমাক্রি থেকে তিন ঘন্টার হাঁটা পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় এই নাফাখুম জলপ্রপাতে। রেমাক্রি খালের মুখে (যেখানে রেমাক্রি খাল সাঙ্গুতে পড়েছে, রেমাক্রিখুম)  সেখান থেকে খালের পাড় দিয়ে হাঁটা পথে নাফাখুম  চলে যেতে পারেন।

এই পথে আপনাকে চার বার খালটি ক্রস করতে হবে… এ পথে আপনার সময় ও এনার্জী দু’টোই ব্যয় হবে কম।  তবে সময় লাগবে তিন ঘন্টা। শীতকালে গেলে এক খাল ক্রস করার ঝামেলাতে যেতে হবে না।  গোটাটাই আপনি ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে যেতে পারবেন । এ কথা ঠিক যে শীতে গেলে আপনি নাফাকুমের আসল সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবেন কারন তখন পানির প্রবাহ অনেকাংশে কমে যাবে।

বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে এই যাত্রা পথের প্রতি মুহুর্তে। নদীর পাড় কখনো উচু নিচু পথ, পাহাড়ের কিনারা বেয়ে সামনে এগোনো, কখনো আবার টারজানের মত লতা ধরে ঝুলে ঝুলে নদী পার হওয়া, রিতিমত রোমাঞ্চরক ভ্রমন।

রেমাক্রি খালের পানি প্রবাহ এই নাফাখুম এ এসে বাঁক খেয়ে হঠাৎ করেই গুত্ত্বা দিয়ে নেমে গেছে প্রায় ২৫-৩০ ফুট, প্রকৃতির খেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে চমৎকার এক জলপ্রপাত! সূর্যের আলোয় যেখানে নিত্য খেলা করে বর্ণিল রংধনু! ভরা বর্ষায় রেমাক্রি খালের জলপ্রবাহ  দেখলে হয়তে পিলে চমকে উঠতে পারে ।  দীর্ঘ পথ হেটে ক্লান্ত শরীর বা পা সে পানিতে ভেজানোর সাথে সাথে সব ক্লান্তি দুর হয়ে যাবে নিমিষেই।

ঝর্নার প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতে চান তারা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে ভ্রমণ করলে তা দেখতে পারবেন। এই সময় উপর থেকে আছড়ে পড়া পানির প্রচন্ড আঘাতে ঝর্নার চারপাশে অনেকটা স্থান জুড়ে সৃষ্টি হয় ঘন কুয়াশার সেই সাথে উপর থেকে নিচে পানি পতিত হওয়ার আওয়াজ তো রয়েছেই।বাতাসের সাথে উড়ে যাওয়া পানির বিন্দু পর্যটকদের দেহ মন সব আনন্দে ভিজিয়ে দেয়। যা কিনা মুহুর্তের মধ্যে যে কারো মন ভালো করতে সক্ষম।

এই স্থানের কিছু কিছু পাহাড় বেশ উচু। দেখে মনে হবে সেই সেই পাহাড়গুলোর চুড়া মেঘের আবরণে ঢাকা পড়েছে। পাহাড়ের ঢালে মাঝে মাঝে রয়েছে টিনের ঘরবাড়ি। এই এলাকার নদীগুলোর গভীরতা খুব কম। কোনো কোনো স্থানে পানির নিচের মাটি দেখা যায়। তবে নদীগুলো সবসময় প্রচন্ড স্রোত থাকে। তাই পথ চলতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

ডিসকভারী চ্যানেলে বিয়ার গিলসের অভিযান কিংবা অন্যান্য ওয়াল্ড লাইফ আর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে নিজের কাছে হয়ত মনে হয় আমি কি আমাজনে চলে আসলাম ?  চার দিক শুন শান নিরবতা। প্রকৃতি থমকে আছে। কৃত্রিমতা কোন ছাপ নেই ! 

যেভাবে যেতে হবে

আপনি দেশের যেখানেই থাকেন না কেন আপনাকে প্রথমে বান্দরবান আসতে হবে। যদি ঢাকা থেকে আসতে চান সে ক্ষেত্রে ঢাকার নানা জায়গা থেকে এস. আলম, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ইউনিক, হানিফ, শ্যামলি, ডলফিন ইত্যাদি পরিবহনের বাস বান্দারবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জনপ্রতি এসব বাসের ভাড়া  যথাক্রমে নন এসি ৫৫০ টাকা ও এসি ৯৫০-১৫০০ টাকা। সাধারণত ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘন্টা।

আর কেউ যদি মনে করেন ট্রেনে যাবেন সে ক্ষেত্রে পুরু পথ ট্রেনে চাইলেও যেতে পারবেন না । সে ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম গামী সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা, মহানগর গোধূলি এইসব ট্রেনে করে চট্রগ্রাম যেতে পারবেন। শ্রেনীভেদে ভাড়া ৩৫০ থেকে ১২০০টাকার মত। কেউ চাইলে অবশ্য বিমান পথেও আসতে পারেন।

ট্রেনে বা বিমান পথে চট্টগ্রাম পৌঁছার পর চট্টগ্রামের বদ্দারহাট থেকে পূবালী ও পূর্বানী নামের দুটি বাসের একটি উঠে পারতে পারেন। এ বাস দুটি বান্দারবান- চট্টগ্রাম আসা যাওয়া করে।  এ দুটি বাসে জনপ্রতি ২২০ টাকা ভাড়া লাগে। চট্রগ্রামের ধামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ২০০-৩০০ টাকা ভাড়ায় বাসে করে বান্দরবান আসতে পারবেন।

বান্দরবান আসার পরে আপনাকে যেতে হবে থানচি। এ ক্ষেত্রে দুই ভাবে থানচি যেতে পারেন। বান্দরবন হতে চান্দের গাড়ী অথবা জীপ গাড়ী ভাড়া করে যেতে পারেন থানচি কিংবা বান্দরবন হতে সরাসরি পাবলিক বাসে করেও যেতে পারেন। পাবলিক বাসের ভাড়া কম কিন্তু বিরক্তকর ভ্রমন উপরন্তু আশে পাশের দৃশ্যাবলী খুব একটা উপভোগ করা যায় না। কিন্তু চান্দেরগাড়ী বা জীপ ভাড়া করে গেলে সে সমস্যা আর থাকবে না।

রিজার্ভ চাঁদের গাড়ীতে বান্দরবান থেকে থানচি যেতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা, ভাড়া নেবে ৪ হাজার টাকা। আর পাবলিক পরিবহনে পড়বে ১৯০ টাকার মত।

থানচি হতে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে রেমাক্রী। রেমাক্রিতে যাবার জন্য একমাত্র উপায় সাঙ্গু নদী হয়ে নৌকা দিয়ে যাওয়া। এখানে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া পাওয়া যায় যা আপনাকে সরাসরি রেমাক্রী নিয়ে যাবে ও নিয়ে আসবে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে থানচি ঘাটে নৌকাচালক সমিতি হতে নৌকা ভাড়া নিতে হবে।  থানচি থেকে রেমাক্রি নৌকায় যাওয়া-আসা, ভাড়া চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।  শুধু তাই নয় সাথে নিতে হবে গাইড। গাইডে নেওয়া বাধ্যতামূলক। 

নিবন্ধিত গাইড হতে একজন গাইড নিতে হবে। সাথে কাগজে থানায় আপনাদের সব টুরিষ্টদের নাম, ঠিকানা, পিতার নাম, ফোন নাম্বার, মাঝির নাম ইত্যাদি জমা দিয়ে নাফাখুম যাবার অনুমতি নিতে হবে। থানচি থেকে রেমাক্রিতে নৌকাতে যেতে পারলেও রেমাক্রি থেকে নাফাকুম পর্যন্ত আপনাকে হেটে যেতে হবে।

রেমাক্রি হতে নাফাকুম যেতে আপনাকে আবার লোকাল গাইড নিতে হবে। পূর্বের গাইড ও নৌকা মাঝি আপনার জন্য অপেক্ষা করবে এখানে।  থানচি হতে রেমাক্রী গাইড প্রতিদিন ৫০০ টাকার আর রেমাক্রি থেকে নাফাকুম ৬০০ টাকা।

থাকা-খাবার ব্যবস্থা

চাইলে আপনি  রেমাক্রীতে রাত্রি যাপন  করতে পারেন। কেউ কেউ আবার দিনে দিনে নাফাকুম দেখে থানচি ফিরে যান । সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ভোর ছয়টার দিকে থানচি থেকে রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। তবে  রেমাক্রীতে  রাত্রিযাপন করে পরের দিন ভোরে নাফাখুমের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়াই উত্তম। তাতে পরিশ্রমটা অনেক কম হয়। দিনে দিনে ফিরে আসাটা রিতিমত কষ্টকর ও চ্যালেঞ্জিং। রেমাক্রীতে কটেজ পাবেন। আর থানচিতেও থাকতে পারেন। সাধারনত মাথাপিছু ৬০ টাকার মত ভাড়া।

আর খেতে হবে স্থানীয় হোটেলে।  খাবার খরচ জনপ্রতি প্রতিবেলা সাধারনত ১০০ টাকায় হয়ে যাবে।  আর যদি রেমাক্রিতে রাতে বারবিকিউ করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনাকে থানচি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিপত্র নিয়ে যেতে হবে।

অনুরোধঃ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনার/আপনাদের কারনে যেন প্রকৃতির কোনরুপ ক্ষতি সাধন না হয় সে দিকে খেয়াল রাখুন। চিপস-পানীয় বা অন্যান্য খাবারের প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না বরং জড়ো করে পুড়িয়ে ফেলুন। স্থানীয়দের ধর্মীয় বা সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু করবেন না।  

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক