2

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ !

পবিত্র রমজান মাস চলছে, এই মাসে প্রায় সকল মুসলিম ই মহান আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্যে সাওম পালন করে থাকে। সাওম একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ করলে দাঁড়ায় “বিরত থাকা”, আর সাওম কে ফারসী ভাষাতে রোজা বলা হয়। অভিধানিক অর্থ বাদ দিয়ে মূল অর্থে সূর্যোদয়ের পূর্বে তথা সুবহি সাদিক থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে সকল প্রকার পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নামই হচ্ছে সাওম। আমরা এখানে সাওমের পরিবর্তে রোজা শব্দটিকেই ব্যবহার করছি, যেহেতু এটি আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত। রোজা পালনের মৌলিক উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া তথা আল্লাহ্‌ ভীতি অর্জন করা, আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেয়া আর আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া। এই লেখায় রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ তুলে ধরা ধরার চেষ্টা করা হবে।

ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে ও ধূমপান করলে

রোজার রাখার অর্থ সুবহি সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহারই নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ যদি রোজা থাকা অবস্থায় কোন প্রকার পানাহার বা ধূমপান করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা রোজা ভঙ্গের একটি কারণ হবে। ডুবে ডুবে জল খাওয়ার মতো করে যদি কেউ সবার অজান্তে লুকিয়ে পানাহার করে সেক্ষেত্রেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ আর কেউ না দেখুক, আল্লাহ্‌ ঠিকই দেখছেন। তবে কেউ যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে পানি খেয়ে ফেলে বা অন্য কোন খাবার খেয়ে ফেলে তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। খাওয়ার সময় যদি মনে পরে যে ব্যক্তি রোজা ছিলো, তাহলে মুখের খাবার ফেলে দিতে হবে। এছাড়া যতটুকু অজান্তে খেয়ে ফেলেছে ততটুকুর জন্যে রোজা ভাঙ্গবে না। নবী করিম (সা) বলেন –

যদি কেউ ভুলক্রমে পানাহার করে তবে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়, কেননা, আল্লাহ তায়ালাই তাকে এ পানাহার করিয়েছেন।” (অর্থাৎ এতে তার রোযা ভাঙ্গেনি)। (বুখারী শরীফ – ১৯৩৩ ও মুসলিম শরীফ – ১১৫৫)

অনেকেই মনে করতে পারে যে ধূমপান তো পানাহারের মধ্যে পড়েনা, তাছাড়া ধূমপান করলে পেট ভরারও কিছু নেই তাই ধূমপান করা যাবে। এটা ভুল, ধূমপান করলেও রোজা সম্পুর্ণরূপে ভেঙ্গে যাবে। ধোয়াময় এইসব হাবিজাবি ছেড়ে দেয়ার জন্যে রমজান মাস উপযুক্ত সময়। দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার দরূণ প্রায় সারাদিনই মানুষ সিগারেট ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকে। যা কিনা আসক্তি দূর করতে সক্ষম।

ওযু করার সময় গড়গড়া করা যাবেনা আর নাকে পানি দেয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে যেন পানি ভেতরে চলে না যায়। ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি ঢুকালে রোজা ভেঙ্গে যাবে, অনিচ্ছাকৃত হলে সেটা আলাদা।

স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে

রোজা রাখা পানে শুধু পানাহার না, ইন্দ্রীয় তৃপ্তি থেকেও নিজেকে বিরত রাখা। সেই অর্থে রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ সহবাস করলে সেটা রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ এর মধ্যে একটি হতে পারে ! যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তি রোজা আছে অর্থাৎ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সহবাস করা যাবেনা। তবে তার মানে এই না যে আপনি আপনার স্ত্রীকে আদর-যত্ন করতে পারবেন না। তাকে ছুতে পারবেন, তবে রোজা অবস্থায় কামভাবে না ছোয়াটাই ভালো। তাছাড়া অন্যান্য স্বাভাবিক বিষয়াদিতে কোন সমস্যা নেই।

ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে

ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করাটা খাচরামি ছাড়া আর কিছু হতে পারে বলে আমার মনে হয়না। রোজা রাখলে এমনটি কখনোই করা যাবেনা। এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে থাকে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। অনিচ্ছাকৃত বমি হলে, বমি করার পর সমস্ত মুখ ভালো করে পানি দিয়ে কুলি করে ধুয়ে নিতে হবে যেন মুখের কোথাও বিন্দুমাত্র খাবারের কণা জমে না থাকে। নবী  (সা) বলেন –

যে ব্যক্তি অনিচ্ছা বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম কাযা করতে হবেনা। কিন্তু যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম অবশ্যই কাযা করতে হবে (আবূ দাউদ – ২৩৮০)

ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটালে

হস্তমৈথুন বা অন্য কোনভাবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত ঘটায় তাহলে তা রোজা ভঙ্গের কারণ হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ কামভাবে স্ত্রীকে স্পর্শ করার মাধ্যমেও বীর্যপাত ঘটায় তাহলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাংবেনা। তবে স্বপ্নদোষ হয়েছে এমনটা বোঝামাত্রই ফরয গোসল করে নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে।

মহিলাদের ঋতুস্রাব হলে

মহিলাদের ঋতুস্রাব হলে কিংবা বাচ্চা প্রসবোত্তর সময়ে স্রাব হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে

ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে কিছু প্রবেশ  করালে

যদি ইনজেকশনের মাধ্যমে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করার জন্যে কিংবা অন্য কোন কারণে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করানো হয় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদি অবস্থা এমন হয় যে ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ নিতেই হবে নয়তো বড়সড় কোন সমস্যা হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে কথা ভিন্ন। এ ব্যাপারে একাধিক মতামত রয়েছে। ইনজেকশন যদি এমন হয় যে তাহলে শরীরের বল বৃদ্ধি করবে (যেমন গ্লুকোজ) তাহলে সে জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহারে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ খাবার যেই কাজ করে এক্ষেত্রে অনেকটা একই কাজ করছে এটি। তবে শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যে যদি ইনিজেকশন দেয়া হয় (যেমন ইনসুলিন, পেনিসিলিন) তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না।

শেষ কথা

আমি ধর্ম বিষয়ে খুবই কম জানি, তবুও যেহেতু রমজান মাস চলছে তাই পিপীলিকার পাঠকদের জন্যে সময়োপযোগী রোযা ভঙ্গের কারণ সমূহ জানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম। কেমন হয়েছে সেটা জানাতে পারেন কমেন্টে। সামহোয়্যাইন ব্লগের তুষার ভাইয়ের দুটি চমৎকার পোস্ট আছে শরীয়তের দৃষ্টিতে  রোজা ভঙ্গের কারণ এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তার ব্যাখ্যা নিয়ে।

রমজান মাসে যে ১২টি জিনিস এড়িয়ে চলতে হবে তা নিয়ে জাকির নায়েকের একটি ভিডিও দেখে নিতে পারেন –

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি