লেনিন: রুশ বিপ্লবের মহানায়ক

রুশ বিপ্লবের সাথে যে নামটি সবার আগে উঠে আসে সেটি হল লেনিন। তার পুরো নাম ভ্লাদিমির ইলিচ উইলিয়ানভ। লেনিনকে বিংশ শতকের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লেনিন  একজন মার্কসবাদী রুশ (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) বিপ্লবী এবং কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ । সোভিয়েত ইউনিয়ন সৃষ্টির পর লেনিন সে রাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্র প্রধান ছিলেন।

লেনিন বিশ্বব্যাপি প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয়। লেনিনের সমর্থকরা তাকে মানুষের অধিকার আদায়ের আপোষহীন একজন নেতা হিসেবে গণ্য করে। অন্য দিকে তাঁর বিরুদ্ধবাদীরা তাকে স্বৈরাচার শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তনকারী এবং গৃহযুদ্ধের প্রশ্রয়দাতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী হিসেবে বিবেচনা করে। এত কিছু ছাপিয়ে তাকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জনক হিসেবে ধরা হয়। মুক্তিকামী সব মানুষের প্রিয় এই নেতা ছিলেন অক্টোবর এবং মহান নভেম্বর বিপ্লবে বলশেভিকদের প্রধান নেতা।

লেনিন: জন্ম, শৈশব ও কৈশোর ও শিক্ষা জীবন

লেনিন ভলগা নদীর তীরে ছোট্ট শহর সিমবার্স্কে ১৮৭০ সালের ২২ এপ্রিল জন্ম গ্রহণ করেন। ভলগা নদীর তীরবর্তী সিমবির্স্ক নামক ছোট শহরটি রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ১,৫০০ মাইল দুরত্বে অবস্থিত ছিল।  ছয় ভাই বোনের মধ্যে লেনিন ছিল চতুর্থ।  তার ভাইকে তৎকালীন রাশিয়ার জারকে (সর্বোচ্চ শাসক) হত্যার অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।লেনিনের বড় ভাই আলেকজান্ডার ইলিচ উলিনভের ফাঁসি হয়েছিল ১৮৮৭ সালের ২০ মার্চ। উল্লেখ্য ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আলেকজান্ডার উচ্চকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘বিপ্লব অনিবার্য। আমি মৃত্যু আলিঙ্গনে ভীত নই।’

লেনিনের বাবা  ল্যা নিকোলয়েভিচ্ উলিয়ানভ ছিলেন একজন গরীব দর্জির ছেলে। পেশা হিসেবে প্রথমে ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। পরবর্তিতে ভলগা নদীর আশেপাশে বিশাল এলাকা জুড়ে ৪৫০টি সরকারি স্কুলের পরিচালকের দায়িত্ব পান। একই সাথে ছিলেন রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের একজন বিশ্বস্ত অনুসারী ও গণতন্ত্রবাদের কট্টর সমর্থক । একজন স্কুল কর্মকর্তা হিসেবে ইলইয়ার পেশাগত পদ তাঁকে জাতিগত উচ্চপদমর্যাদার শামিল করলেও আর্থিক দিক থেকে উলিয়ানোভ পরিবার ছিলো মধ্যবিত্ত পর্যায়ের।

লেনিনের মা মারিয়া আলেক্সান্ড্রাভনা উলিয়ানভা পূর্বপুরুষ এসেছিলো জার্মানি থেকে। মারিয়া ছিলেন একজন ডাক্তারের মেয়ে। পেশাগত জীবনে মারিয়া ছিলেন একজন শিক্ষিকা।  ইতিহাস, সাহিত্য ও সঙ্গীতে তাঁর ভীষণ আগ্রহ ছিলো। তাছাড়া চারটি ভাষায় কথা বলতে পারতেন তিনি। বুদ্ধিমতী, শান্ত, সৌজন্যশীলা ও স্নেহশীলা এই মহিলা ছেলেমেয়ে মানুষ করার জন্য নিজেকে সম্পূর্ন সঁপে দিয়েছিলেন।

ইলিয়া ও মারিয়া উইলিয়ানভ পরিবারে ছেলেমেয়ে ছিল মোট ছয়জন আন্না, আলেক্সান্দর, ভ্লাদিমির, ওলগা, দিমিত্রি এবং মারায়া। পাচ বছর বয়সেই ভ্লাদিমির পড়তে শেখে, নয় বছর বয়সে ভর্তি হয় সিমবির্স্ক জিমনেসিয়মের প্রথম শ্রেণীতে। বড় হওয়ার সাথে সাথে ভ্লাদিমির তাঁর পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পড়াশোনায় ভ্লাদিমির ছিলেন খুবই মনোযোগী। মেধা আর পাঠের প্রতি গুরুত্ববোধে তাকে আলাদা করে চেনা যেত, কঠিন পাঠের বেলায় সে আগ্রহেই সঙ্গীদের বুঝিয়ে দিয়ে সাহায্য করত। ক্লাসের পর ক্লাস উত্তীর্ন হয়ে এল ভ্লাদিমির প্রথম শ্র্রেণীর পুরস্কার পেয়ে।

চার বছর বয়সে লেনিন
সোর্সঃ pinterest.com

পারিবারিক ভাবে লেলিন পরিবার ছিল অত্যন্ত উচ্চ শিক্ষিত ও বিপ্লবী চেতনার অধিকারী। একই সাথে বিশ্ব-সাহিত্য, ইতিহাস আর অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে পড়া হচ্ছিলো তাঁর। পাশাপাশি বক্তৃতা ও লেখালেখির দক্ষতা বাড়াতেও সচেষ্ট হয়ে ওঠেন ভ্লাদিমির। কিশোর লেলিনের চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে উঠে রুশ সাহিত্য ও পরিবেশের জীবন পর্যবেক্ষনের প্রভাবে।  মহান রুশ লেখকদের রচনা তার পাঠ্য সম্ভারে  যোগ হয় । এদের মধ্যে লেরমন্তভ, পুশকিন, তুর্গেনিভ, নেক্রাসভ, তলস্তয়, সালতিকভ, শ্যেদ্রিন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। তার অধিত সাহিত্যের মধ্যে একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল বিপ্লবী গনতন্ত্রী লেখকরা। এরা ছিলেন  ভ.গ. বেলিনস্কি, আ.ই. হেতসের্ন, চেনিশেভস্কি, দব্রলিউবভ ও পিসারেভের রচনা। এদের অনেকের লেখা তখন নিষিদ্ধ ছিল তবু ভ্লাদিমির তা বাদ দেননি। লেলিনকে খুবই আকৃষ্ট করত ন.গ. চেনিশের্ভস্কির “What’s the Duty” উপন্যাস।

ষোল বছর বয়সে নিজের ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করে হাই স্কুল থেকে পাশ করেন তিনি। অসাধারণ ফলাফলের জন্য পান স্বর্ণপদক।

ভ্লাদিমিরের হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশনের কিছুদিন আগে দুইটি ঘটনা উলিয়ানোভ পরিবারের সুখের জীবনকে  । প্রথমটি ছিলো বাবা ইলইয়ার মৃত্যু। বাবার মৃত্যুর পর সদ্য কৈশোর পার হওয়া বড় ভাই আলেকজান্ডার পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়। ভ্লাদিমিরকে আরো আলোরিত করে ১৮৮৭ সালে যখন তার ভাই আলেক্সান্দর উইলিয়ানভ জার তৃতীয় আলেক্সজ্নডরকে হত্যা করার অভিযোগে সেই বছরের মার্চ মাসে পিটার্সবার্গে গ্রেপ্তার হন এবং মে মাসে তিনি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হন।

ইউনিভার্সিটি অফ সেইন্ট পিটার্সবার্গের ছাত্র থাকা অবস্থায় আলেকজান্ডার কয়েকজন তরুণ বিদ্রোহীর সাথে মিলে তখনকার জারকে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। ফলে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। খবর পাবার পরে মা মারিয়া ছেলে আলেকজান্ডারকে বাঁচাতে রাজধানী অভিমুখে যাত্রা করেন। জারের কাছে ছেলে জন্যে ক্ষমাপ্রার্থণা করে চিঠি লিখেন। জার সে চিঠি আমলে নেয় নি। মে মাসে আলেকজান্ডারকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। এ ঘটনা তরুণ লেনিনকে আন্দোলিত করে।

ভাইয়ের মৃত্যুর বছরই লেনিন কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ার জন্যে ভর্তি হন। প্রথম দিকে রাজনীতিতে লেনিনের তেমন কোন আগ্রহ ছিলো না। ক্লাসিকস (Classics – Study of ancient Greek and Latin literature, philosophy, and history) ও মানবিক বিষয়ের একজন কলেজ শিক্ষক হবার ইচ্ছা ছিলো তাঁর। কিন্তু প্রাণপ্রিয় বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে সেই ইচ্ছে বিসর্জন দেন। ভাইয়ের  মৃত্যুর পর লেনিন বিপ্লবী সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে ওঠেন লেনিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিবাদ সভায় উপস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার মাত্র তিন মাসের মাথায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

ছড়াই উৎরাই পেরিয়ে লেনিন ১৮৯১ সালে  ইউনিভার্সিটি অফ সেইন্ট পিটার্সবার্গ এ পুনরায় আইন বিষয়ে ভর্তি হন। আশ্চর্য্যের ব্যাপার হল মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি চার বছরের ল প্রোগ্রামের বিষয়বস্তু আয়ত্ত্ব করেন ও পরীক্ষার প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে খুব ভালো করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সম্মান ডিগ্রি দিতে বাধ্য হয়।

বিপ্লবী জীবনে প্রবেশ

লেনিনের বড় ভাই আলেকজান্ডারের মৃত্যুই লেনিনকে বিপ্লবের পথে ঠেলে দেয়। দৃঢ় প্রতিজ্ঞ লেনিন কাজান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পরই নানা প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ শুরু করেন। তেমনি একটি প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণের অপরাধে লেনিনকে ১৮৮৭ সালে কাজান বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বহিস্কার করে।

লেনিন কার্ল মার্ক্সের অনুসারী ছিল। তিনি ১৮৮৯ সালে নিজেকে মার্ক্সবাদী বলে আখ্যায়িত করে। কিন্তু পরবর্তীতে তার জীবনে বড় প্রভাব ফেলে অর্থনীতিবিদ নিকোলাই চেরিস্কেভি।

ঐ সময়ের দিকে রাশিয়ায় শিল্প বিপ্লব ঘটে। হাজার হাজার শ্রমিক সহ নানা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। ধনি গরিবের বৈষম্য বাড়তে থাকায়  সে সময় জারের স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে ‘নারোদবাদী’রা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে । নারোদবাদ হচ্ছে মেহনতিদের শ্রমমূল্য প্রতিষ্ঠার জন্য জার পুঁজিপতিদের হত্যা করা। জারের বিরুদ্ধে হলেও লেনিন নারোদবাদীদের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোষহীন। তিনি নারোদবাদীদের এ হত্যাযজ্ঞ এবং সন্ত্রাসকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি।

এ সময় নারোদবাদীরা লেনিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে  প্রচারণা শুরু করে এবং তার নীতিকে ভিত্তিহীন বলে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নানা প্রচারণা ও অপ ব্যাখ্যা  চালিয়ে যেতে থাকে।  শুধু নারোদবাদীরাই নয়, তথাকথিত ‘বৈধ মার্কসবাদীরা’ও একই সাথে লেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামে। এই বৈধ মার্কসবাদীরা ছিল বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী।

তারা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত পত্র পত্রিকায় লিখত এবং মার্কসবাদকে বুর্জোয়াদের স্বার্থের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করত। লেনিন এই নারোদবাদী ও বৈধ মার্কসবাদীদের বিরুদ্ধে মেহনতি মানুষকে বোঝাতে থাকেন এবং বড় বড় কল-কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘বিপ্লবী মার্কসবাদী পার্টি’ গড়ে তোলার জন্য।

১৮৮৯ সালে তিনি সামারায় যান এবং স্থানীয় মার্কসবাদীদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৮৯১ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয় নিয়ে পাশ করে বের হন। তখন সামারাতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। এরপর তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গ চলে যান এবং শিগগিরই সেখানকার মার্কসবাদীদের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।

সোর্সঃ time

১৮৯৬ সালে গ্রীষ্মে ‘সংগ্রাম সংঘ’এর নেতৃত্বে পিটার্সবুর্গে সুতাকল শ্রমিকদের একটি বিখ্যাত ধর্মঘট সংঘটিত হয়, তাতে যোগ দেয় ত্রিশ হাজারেরও বেশী নরনারী শ্রমিক। এ ক্রিয়াকলাপের ফলে জার সরকার ডিসেম্বরের গোড়ায় লেলিন সহ দলের অধিকাংশ নেতা কর্মীদের গ্রপ্তার করেন। ভ্লাদিমিরকে রাখা হয়েছিল পিটার্সবুর্গ জেলে। একটি মাত্র কক্ষে উনি কাটান ১৪ মাসেরও বেশী সময়। লেনিনকে তিন বছরের জন্য সাইবেরিয়াতে নির্বাসন করা হয়। এসময় তার হবু স্ত্রী নেসদা    স্ক্রুপকায়া তাকে সমর্থন ও অনুপ্রেরণা দেয়। পরবর্তীতে ২২ জুলাই, ১৮৯৮ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তার স্ত্রীও একজন বিপ্লবী ছিল। লেলিন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘রাশিয়ায় পুঁজিবাদের বিকাশ’ শীর্ষক বইখানি এই নির্বাসিত জীবনেই লেখে শেষ করেন। ১৮৯৯ সালে তা প্রকাশিত হয়। বইটি মূলত কার্ল মার্কসের ‘পুঁজি’ বইটির সরাসরি পূর্বানুসরণ।পুঁজিবাদের অত্যাচারে জর্জরিত সমাজের জনসাধারণ তথা শ্রমিক শ্রেণীর মানুষদের মুক্তির উদ্দেশ্যে ১৮৯৮ সালে তিনি রাশিয়ান সোশালিস্টডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি (RSDLP) গঠন করেন।

১৯০০ সালের ২৯ জানুয়ারি নির্বাসনের মেয়াদ শেষ হয়। ১৯০০ সালে নির্বাসন থেকে মুক্তি লাভ করে একটি সংবাদপত্র (বিপ্লবী প্রচারপত্র) প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে লেনিন বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় শহর (মিউনিখ ১৯০০-০২, লন্ডন ১৯০২-০৩, জেনেভা ১৯০৩-০৫ ) সফর করেন।

১৯০১ সালে লেনিন তার নিজের নাম হিসেবে লেনিন কে ব্যবহার শুরু করেন। সাইবেরিয়াতে নির্বাসনের পরে সাইবেরিয়ার লেনা নদীর নামানুসারে তিনি নিজের নাম রাখেন লেনিন ।

সোশালিস্টডেমোক্রেটিক লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠার কিছু দিনে পরেই দলে কোন্দল দেখা দেয়। কোন্দলের কারন ছিল এই যে দলের কিছু নেতা  আগ্রাসী আন্দোলন আর কিছু নেতা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিল। লেনিন তাদের মধ্যে সমঝতা করার চেষ্টা করতে থাকেন। সে সময় পত্রিকা ছিল আন্দোলনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।   সোশালিস্টডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি থেকে পত্রিকা প্রকাশ শুরু হয়। দুঃখজনক,  এখানেও দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় বিপ্লবীরা। একদল প্রকাশ করে  Skra (The Spark), লেনিন ছিল skra প্রকাশের মুল দায়িত্বে। অপর দল প্রকাশ করে  Zarya (The Dwan)।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত সোশালিস্টডেমোক্রেটিক লেবার পার্টির একতা বজায় রাখা সম্ভব হয়ে উঠে নি। মূলত লেনিন আর মার্টবের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণেই  পার্টি ভাগ হয়ে যায়। মেনশেভিক আর বলশেভিক দু গ্রুপে ভাগ হয়ে যায় সোশালিস্টডেমোক্রেটিক  লেবার পার্টি। বলশেভিক অংশের নেতৃত্বে থাকে লেলিন।

এবার লেনিন লন্ডন অভিমুখে যাত্রা করেন। ১৯০২ সালে লেনিন লন্ডনে গমন করেন। সেখানে তার সাথে দেখা হয় লেভ দাভিদোভিচ ব্রনস্টেইন নামে এক রাশিয়ান ইহুদি যুবকের সাথে।  লেভ দাভিদোভিচ ব্রনস্টেইন  ইতিহাসে  চিনে লিওন ট্রটস্কি নামে । এই  লিওন ট্রটস্কি পরবর্তিতে লেনিনের খুব কাছের সহচর হয়ে উঠে। লন্ডনে অবস্থান কালে লেলিন পার্টির উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান। এ সময়  তার প্রকাশিত পত্রিকা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। সরকার চিন্তায় পড়ে যায় কিভাবে লেনিনকে দমন করা যায়।

স্ট্যালিন, লেনিন এবং লিয়ন ট্রটস্কি ; Source: Getty Images

লেনিন ১৯০২ সালে তার বিখ্যাত গ্রন্থ “What is to be Done” প্রকাশ করে। এই গ্রন্থের মাধ্যমেআন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সর্ব সাধারণকে অবগত করার চেষ্টা করেন। একই সাথে তিনি মেনশেভিকদের বিরোধিতা করে প্রকাশ করেন “ One step forward, two step back” এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি মেনশেভিকদের আন্দোলনের ভুল ত্রুটি গুলো বিশ্লেষণ করেন এবং বিপ্লব কিভাবে সংগঠিত হয় তার ধারনা প্রকাশ করেন।  কিছু দিন পরে লেনিন নতুন পত্রিকা Vpered (forward) প্রকাশনা শুরু করে। এতে করে আন্দোলনের গতি আরও বেশি ত্বরান্বিত হয়।

নির্বাসনে থাকাকালীন লেনিন ৩০টি বই রচনা করেছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘রাশিয়ায় পুঁজিবাদের বিকাশ’, যা মার্কসবাদী দর্শনের ওপর ভিত্তি করে রাশিয়ার অর্থনীতি সম্বন্ধে বিচার-বিশ্লেষণ করেছিল।

অক্টোবর বিপ্লবের পথে

কোরিয়া বিভাজন নিয়ে ১৯০৪ সালে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ১৯০৫ সালে জাপানের আক্রমণে রাশিয়া বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পরাজয় বরণ করে, যে কারনে সে সময়ের জার নিকোলাস ২ এর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ১৯০৫ সালে রাশিয়াতে একটি বিদ্রোহ হয়।  রুশ বিপ্লবের প্রথম সূচনা হয় মূলত ১৯০৫ সালের ২২ জানুয়ারি’র সেই বিদ্রোহের মাধ্যেমেই ।  লেনিন বিদ্রোহের খবর পেয়ে রাশিয়াতে ফিরে আসেন। ইতিহাসে একে ব্লাডি সানডে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জার দ্বিতীয় নিকোলাসের শাসনের বিরুদ্ধে সেদিন তরুণ ফাদার গাপনের নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ-মিছিল  বের  হয় । এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন ফাদার জর্জি গেপন। এ সময় জারের পেটোয়া বাহিনী জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।  শত শত মানুষ গুলিতে নিহত হন। আতঙ্কে প্রাণ হারান আরও কয়েকশ মানুষ।

১৯১৪ সালের প্রথম দিকে রাশিয়ায় বিপ্লবী আন্দোলন ক্রমেই ব্যাপক হয়ে উঠল । এ আন্দোলনে প্রায় পনেরো লাখ শ্রমিক  অংশ নেয়। অর্থনৈতিক ধর্মঘটের সঙ্গে রাজনৈতিক ধর্মঘট জড়িয়ে পড়েছিল। সাম্রাজ্যবাদকে কেন্দ্র করে ১৯ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপের নানা দেশ যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হতে থাকে। এ বছরই ইউরোপে দুই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মধ্যে শুরু হয় লড়াই। যা বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেয়। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং রাশিয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। লেনিন চিন্তিত হয়ে পড়ে। লেনিনের মত যুদ্ধ হল মেহনতি মানুষের রক্ত চুষে পুঁজিবাদীদের   সম্পদ বাড়ানোর কৌশল মাত্র। শিয়া এসময় সৈন্যদের পাশাপাশি জোর করে সাধারণ কৃষকদের যুদ্ধ করতে বাধ্য করে।  তাদের ছিল না কোন প্রশিক্ষণ, ছিল তাদের প্রয়োজনীয় রসদ। এমন কি তাদের অনেককে তখন জুতা, খাবার ও অস্ত্র ছাড়াই যুদ্ধে প্রেরণ করা হয়। এ কারনে তিন বছরে প্রায় ২০ লাখ রাশিয়ান নিহত হয় আর ৫০ লাখের বেশি সৈন্য আহত হয়।  এ ভয়ানক ক্ষয় ক্ষতির জন্য রাশিয়ানরা তখন জারদের দায়ী করে।

যুদ্ধের সময় অস্ট্রিয়ার সরকার জার সরকারের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে লেনিনকে গ্রেফতার করে। তবে বিভিন্ন দেশে সমাজ কর্মী ও লেনিনের সমর্থকদের বিক্ষোভের কারণে দুই সপ্তাহ পর অস্ট্রিয়ার তাকে ছেড়ে দেয়।   তিনি ছাড়া পেয়ে সুইজারল্যান্ড চলে যান।

১৯১৬ সালে লেনিনের মা মারা যায় কিন্তু নিষিদ্ধ থাকার কারনে লেনিন দেশে আসতে পারেন নি।  এ ঘটনা লেনিনকে খুব পীড়া দেয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়াতে গণ অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় খাদ্যাভাব রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসাবে দেখা দেয়। কারন হিসেবে দায়ী করা হয়,  সরকার যুদ্ধের ব্যয় বহন করার জন্য প্রচুর কাগুজে নোট (রুবল) বাজারে ছাড়ে। এর ফলে বাজারে ১৯১৪ সালের তুলনায় ১৯১৭ সালে মুদ্রাস্ফীতি চার গুন বৃদ্ধি পায়। কৃষকদেরকে অতি উচ্চমূল্যে কৃষি সামগ্রী ক্রয় করতে হত। কিন্তু মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরত্যের কারণে উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য কৃষকরা পেত না। ফলে তারা  তাদের উৎপাদিত পণ্য মজুদ করতে শুরু কের এবং শুধুমাত্র নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য উৎপাদন করতে শুরু করল। এভাবে শহরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত খাদ্যের সংকট বাড়তে করতে থাকল। এ কারনে কলকারখানায় মজুরী বৃদ্ধির দাবীতে আন্দোলন দানা বাঁধল।   যা ঘটে ১৯১৭ সালের শুরুতে। বিপ্লবের শুরু হয় শ্রমিকদের হাত ধরে। পরবর্তিতে এ বিদ্রোহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সকল স্তরের জনগণ এ আন্দোলনে অংশগ্রহন করে। বিপ্লবী শক্তিগুলো বিশেষত বলশেভিক পার্টি জার রাজত্বের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান সংঘটিত করে। এ গণঅভ্যুত্থানই পরবর্তিতে বিপ্লবের রুপ ধারন করে। এক সময় সবার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীও জার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

অবস্থা এমনই খারাপ হয় যে, ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার দ্বিতীয় নিকোলাস তার জেনারেলদের প্রভাবে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। সেই ঘটনার পর রাশিয়া প্রথমবারের মতো প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। অস্থায়ী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। অস্থায়ী সরকারের প্রধান করা হয় প্রিন্স লভোভকে। পরবর্তীতে অস্থায়ী সরকারের প্রধান করা হয় সমাজতন্ত্রী আইনজীবী আলেকজান্ডার কেরেনস্কিকে। রাশিয়ার এ ক্রান্তিকালে এসময় সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। জার রাজ বংশের পতনের খবর পেয়ে তিনি রাশিয়ায় ফেরত আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। র প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি, রাশিয়ার প্রতিপক্ষ ছিল তাই চতুর জার্মানি তাকে জার্মানির ভিতর দিয়ে রাশিয়ায় ফিরতে অনুমতি প্রদান করে।  জার্মানির ধারনা ছিল লেনিনের আন্দোলন সফল হবে।

লেনিন তার সহযোগীদের সাথে নিয়ে ১৯১৭ সালের ১৬ জুলাই, সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে। তারা যুদ্ধ করার বিরোধীতা শুরু করে।    এ সময় তারা দাবি তুলে যুদ্ধ থেকে সৈন্যদের মুক্তি দিতে হবে। সাধারণ শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। লেনিনের এরুপ আচরণে কেরেনস্কি খুব বিরক্ত হয়। কেরেনস্কি লেনিনকে গ্রেফতারের আদেশ প্রদান করে। লেনিন খুঁজ পেয়ে ফিনিস রেলওয়ের কর্মীর ছদ্মবেশ ধরে ফিনল্যান্ডে পালিয়ে যায়।

ধীরে ধীরে রাশিয়ার অভ্যন্তরীন অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠে। জনগণ বিদ্রোহী হয়ে উঠে। সৈন্যরা যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালানো শুরু করে। এর মাঝে জেনারেল কর্নিলভের নেতৃত্বে ক্যু সংঘটিত হয়। এই ঘটনার পর যুদ্ধরত অনেক সৈনিক বলশেভিকদের পক্ষে অবস্থান নেয়।  লেনিন অক্টোবরে আবার রাশিয়া ফিরে আসেন।  লেনিন ঠিক করলেন রাশিয়ার পুরোনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অক্টোবরের ২৫ তারিখ অভ্যুত্থান হবে। যা ইউরোপিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ই নভেম্বর। তাই এটি অক্টোবর বিপ্লব নামেও পরিচিত।

এসময় বলশেভিক পার্টি “Red Guard” নামক সশস্ত্র বাহিনী যোগ দেয় বিদ্রোহে। লেনিন ও বলশেভিক পার্টির নেতৃত্ব শ্রমিক, লালরক্ষী, সৈন্য ও নাবিকদের আত্মোৎসর্গী সংগ্রাম ও বীরত্বের ফলে বিশ্ব ইতিহাসে এক মহাসাফল্যের ঘটনা ঘটে— জমিদার ও পুঁজিবাদ ধ্বংস হয়। ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় পেত্রগ্রাদ সোভিয়েতের অধীনস্থ সামরিক বিপ্লব কমিটি লেনিনের বিবৃতি প্রকাশ করে ঘোষণা দিল— ‘যে আদর্শের জন্য জনগণ লড়ছিল তা সফল হয়েছে।’

পেত্রোগ্রাদে মোতায়েন সামরিক বাহিনীর লোকদের মধ্যে যে বলশেভিক সমর্থকরা ছিল – তাদের দিয়ে রাজধানীতে সশস্ত্র পাহারা বসানো হলো।  শুরু হয় ইতিহাস বিখ্যাত  অক্টোবর বিপ্লব। সেই বিপ্লবে লেনিন সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে। সর্ব শ্রেনীর লোক বিদ্রোহে অংশ গ্রহণ করে।  বিপ্লবী বলশেভিকরা ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর পেত্রোগাত দখল করে। একেই বলা হয় বলশেভিক বিপ্লব। রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভবন তখন বিপ্লবীদের দখলে চলে যায়।  এবার বিপ্লবীরা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক, রেলস্টেশন, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো দখলে নিয়ে নিলো । বলশেভিক পার্টির নেতা ভ্লাদিমির লেনিন অস্থায়ী সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান ঘটালেন।  সফল হয় বিপ্লব, যা ইতিহাসে অক্টোবর বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।  ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন কাউন্সিল অফ পিপলস কমিসার্সের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।

শীঘ্রই লেনিনকে প্রধান করে নতুন সোভিয়েত সরকার শপথ নিলো। লেনিন হলেন বিশ্বের সর্বপ্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অধিনায়ক। নতুন যুগের সূচনা ঘটে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত রাশিয়ায়। এভাবেই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।  লেনিনের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও সে অত্যন্ত দক্ষতার সাথেই রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে। সব ক্ষেত্রে জাতীয়করণের মাধ্যমের শুরু হয় তার শাসক জীবন। ব্রেস্ট-লিটভস্কি যুক্তির মাধ্যমে জার্মানী সহ বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি গুলোর সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সময় লেনিন বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তও  গ্রহণ করেন। তিনি ঘোষণা করেন জার সরকারের কোন বিদেশী ঋণ পরিশোধ করা হবে না। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়া বিদেশে তাদের সম্পত্তি হারায়।

জাতীয়করণের কারনে  ধনী শ্রেনীরা বিদ্রোহের দিকে আসে। এ সময় তারা হোয়াইট নামে বিদ্রোহ শুরু করে। বিশ্ব আর একটি গৃহযুদ্ধের সাক্ষীহয়।  লেনিন এই যুদ্ধে শ্রমিক প্রজা শ্রেণীদের পাশে পেয়েছিল । ১৯২১ সালে শেষ হয় গৃহযুদ্ধ, যা লেনিনকে তিক্ত অভিজ্ঞতা দান করে। এই গৃহযুদ্ধে প্রায় এক লক্ষের উপর মানুষ নিহত হয়।

এ সময় রাশিয়ান আমলাদের মাঝেও মতভেদ দেখা যায়। জোসেফ স্টার্লিন আর ট্রটস্কী ক্ষমতার দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়ে। লেনিন কঠোর হস্তে এ বিভাজনরোধ করার চেষ্টা করেন। লেনিন স্টার্লিনের মধ্যে ক্ষমতার লোভ দেখতে পেয়েছিলেন। তার এই অনুমান পরবর্তীতে সত্যি প্রমানিত হয়ে ছিল। স্টালিন হয়েছিল ইতিহাসের কুখ্যাত একজন শাসক।

মার্কস- লেনিন বাদ

মার্কসীয় মতবাদকে নানাভাবে বিকশিত করলেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। সে জন্যই লেনিনের মৃত্যুর পর বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, এই মতবাদকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হিসাবে অভিহিত করার সিদ্ধান্ত নেয় । তারপর থেকেই সমগ্র বিশ্বে এই মতবাদকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ হিসাবে অভিহিত করা হয়। লেনিন মার্কসবাদী  মতাদর্শকেও সমৃদ্ধ করলেন এবং সারা জীবন ধরেই বিপ্লবী সংগ্রামের মধ্যে নিয়োজিত ছিলেন।  লেনিনের মধ্যে মার্কসবাদী হিসাবে তত্ত্ব ও কর্মের অসাধারণ সমন্বয় ঘটেছিল ।

লেনিনের মৃত্যুঃ

লেনিনের সমাধি সৌধ, source: pinterest.com

লেনিন ১৯২২ সালের ডিসেম্বরে স্ট্রোক করে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার তিনি স্টোকের শিকার হয়ে বাকরুদ্ধ হয় পড়েন। তার শরীর এই অসুস্থতা’র দকল সহ্য করতে পারে নি। ১৯২৩ সালের মার্চের গোড়ায় লেলিনের শাররীক অবস্থা খুবই খরাপ হয়ে আসে। মে মাসে উনি গোর্কিতে ফিরে যান। অবশেষে ১৯২৪ সালের ২১শে জানুয়ারী সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের ফলে মারা যান লেলিন। তবে রাশিয়ায় সাম্যবাদের প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে।

উত্তরসূরি জোসেফ স্ট্যালিনের দেওয়া বিষ পানে লেনিনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাশিয়ার খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ লেভ লুরি।
লেভ লুরি বলেছেন, মৃত্যুর আগে এমনিতেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন লেনিন। সামান্য শত্রুতা করে স্ট্যালিন তাঁকে শেষ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছেন মাত্র। (প্রথম আলো)

শেষ কথাঃ

দুনিয়ার প্রত্যেকটি মানুষের পক্ষে এবং বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা হয়। আর যদি শাসক শ্রেনী হয় তাহলে সেই আলোচনা আর সমালোচনা পরিমাণ অনেক বেশি হয়। একই ভাবে লেনিনকে নিয়েও নানাভাবে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে আর হবে। দুনিয়ার অন্যদের কাছে লেনিন  বা তার মতাদর্শ যেমনই হোক তৎকালীন রাশিয়া তথা সোভিয়েন ইউনিয়নের জন্যে রাশিয়ানদের উচিত লেনিনকে স্মরণ রাখা।

নোটঃ রাশিয়ার ইতিহাস লিখতে গিয়ে মনে  হল লেনিনকে নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখা যায়। ব্যক্তিগতভাবে মার্কস-লেনিন বাদ, কমিউনিজম ইত্যাদি নিয়ে আমারে তেমন কোন ধারনাই নেই। তাই সে দিকে আলোকপাতের কোন চেষ্টাই করি নি। বাম পন্থী – ডান পন্থী , কিংবা তার ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়েও আমার কোন ধারনা নেই।  নানা জায়গা থেক তথ্য জড়ো করে এই আর্টিকেলটি লিখার চেষ্টা করেছি। 

তথ্য সূত্রঃ

১। https://en.wikipedia.org/wiki/Vladimir_Lenin

২। http://itibritto.com

৩। https://bn.wikipedia.org/wiki/ভ্লাদিমির_লেনিন

৪। https://www.quizards.co

৫। https://www.biography.com/people/vladimir-lenin-9379007

৬। ফিচার ইমেজঃ Sputnik International

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক