এত সব বিষ্ময়কর লেবুর উপকারিতা কি আমাদের জানা আছে ?

লেবু বহু গুণসম্পন্ন একটি ভেষজ। লেবু হল সাইট্রাস লিমন (Citrus limon) এর সাধারণ নাম। লেবু রান্না করে বা রান্না না করে - উভয়ভাবেই খাওয়া হয়। ফল এর কদর মূলত রসের জন্যেই , যদিও এর শাঁস ও খোসাও ব্যবহৃত হয়, প্রধানত রান্না ও বেকারির কাজে। আমাদের দেশে বেশ কয়েক ধরনের লেবু পাওয়া যায়। এর মধ্যে পাতিলেবু, বাতাবিলেবু, কাগজিলেবু উল্লেখযোগ্য। লেবুতে থাকা ভিটামিনের মধ্যে অন্যতম হলো সি। আমাদের নাগালে পাওয়া সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত একটি ফল হল লেবু।  সি ছাড়াও লেবুতে রয়েছে ফ্ল্যাভনয়েডস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-বি, ফলিক এসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফসফরাস। খাদ্য হিসেবে ছাড়াও রূপচর্চায় লেবুর ব্যবহার জগতজুড়ে।

আমরা সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং গরমের দিনে শরবত তৈরি করতে লেবু ব্যবহার করি। কিন্তু এর উপকারিতা এখানেই শেষ না। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি এবং খনিজ উপাদান যা আমাদের হৃদযন্ত্রের ধড়ফড়ানি কমানো থেকে ফুসফুসকে ঠিকভাবে কাজ করতে পর্যন্ত সাহায্য করে লেবু। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও লেবুর অবদান অনস্বীকার্য।

লেবুতে কি কি উপাদান রয়েছে ?

দুর্বল জৈব এসিড হিসেবে কিছু কিছু কাজে রসায়ন ল্যাবে লেবুর রস ব্যবহার করা হয়। আসলে লেবুর ভিতরে কি আছে যে এটি এত কাজ করতে পারে? চলুন জেনে নেয়া যাক লেবুতে থাকা বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম লেবুতে যা থাকে 

শক্তি ১২১ কিলোজুল ( ২৯ কিলক্যালরি)
শর্করা ৯.৩২ গ্রাম
চিনি ২.৫ গ্রাম
আশ ২.৮ গ্রাম
ফ্যাট বা চর্বি ০.৩ গ্রাম
আমিষ ১.১ গ্রাম
ভিটামিন বি-১ ( থায়মিন) ০.০৪ মি. গ্রাম ( ৩ %)
ভিটামিন বি-২ ( রাইবোফ্ল্যাভিন) ০.০২ মি. গ্রাম ( ২ %)

ভিটামিন বি-৩( নিয়াচিন) ০.১ মি. গ্রাম ( ১ %)
ভিটামিন বি-৫ ( পেন্থথেনিক এসিড) ০.১৯ মি. গ্রাম ( ৪ %)
ভিটামিন বি-৬ ০.০৮ মি. গ্রাম ( ৬ %)
ভিটামিন বি-৯ ১১ মাইক্রো গ্রাম ( ৩ %)
ক্লোরিন ৫.১ মি. গ্রাম ( ১ %)
ভিটামিন সি ৫৩ মি. গ্রাম ( ৬৪ %)
ক্যালসিয়াম ২৬ মি. গ্রাম ( ৩ %)
আয়রন ০.৬ মি. গ্রাম ( ৫ %)
ম্যাগনেসিয়াম ৮ মি. গ্রাম ( ২ %)
ম্যাংগানিজ ০.০৩ মি. গ্রাম ( ১ %)
ফসফরাস ১৬ মি. গ্রাম ( ২ %)
পটাশিয়াম ১৩৮ মি. গ্রাম ( ৩ %)
জিঙ্ক ০.০৬ মি. গ্রাম ( ১ %)

লেবুর  উপকারিতা যা আমাদের জানা প্রয়োজন

লেবুর রয়েছে অনেক উপকারি দিক । খুব অল্প লোকের ই লেবুর প্রতি এলারজি আছে। লেবুর প্রতি বিরক্ত থাকলে এর উপকারিতা গুলো থেকে আপনাকে বঞ্চিত হতে হবে । চলুন জেনে নেই লেবু উপকারীতা

শরীরে পানির  মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে

ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞদের মতে,  আমাদের প্রতিদিন প্রায় ৪ লিটার মতো পানি পান করা উচিত। যার মধ্যে অন্যান্য খাদ্য থেকে নির্গত জলের পরিমাণও রয়েছে। তবে সমস্যা হল অনেকেই আছেন,  যারা পানি পান করতে চান না । ফলে তাদের দেহে  পানির ঘাটিত দেখা দেওয়ার কারণে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সুস্থ থাকার কোনও উপায় আছে কি? অবশ্যই আছে! এরা পানির মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। এতে পানির স্বাদও বাড়বে। আবার শরীরে পানির ঘাটতিও দেখা দেবে না।

পাকা লেবুতে থাকে ইলেকট্রোলাইটস (যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি)। সকাল সকাল লেবু পানি আপনাকে হাইড্রেট করে, শরীরে যোগান দেয় এইসব প্রয়োজনীয় উপাদানের যা দেহের পানিশূন্যতা দূর করে।

হজম শক্তি বাড়ায়

লেবুর রস শরীর থেকে টক্সিন দূর করে। বদহজম, বুক জ্বালার সমস্যাও সমাধান করে লেবু পানি। আমাদের চারপাশে এমন অনেক লোক আছেন যারা কোষ্ঠকাঠিন্যে কষ্ট পান।  তারা কিন্ত সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।  গরম বা ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে পরিপাক তন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করা শুরু করে। ফলে বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বেড়িয়ে যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, লেবুর রস এবং স্বাদ আমাদের শরীরের ভিতরে ‘অগ্নি'-কে উদ্দীপিত করে। যার ফলে আমাদের খাদ্য হজম হয় এবং কোনওরকম সমস্যার সৃষ্টি হতে দেয় না। আশ্চর্যজনক তাই না ?

পেট পরিষ্কার রাখে

অন্য যে কোন খাবারের চেয়ে লেবু পানির ব্যবহারে লিভার অনেক বেশি দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে পারে।  শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকারক পদার্থ বের করতে সাহায্য করে লেবু পানি। লেবুতে বিদ্যমান সাইট্রিক অ্যাসিড কোলন, পিত্তথলি ও লিভার থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। ফলে ইউরিনেশন ভাল হয়। লিভার ভাল থাকে।

ভিটামিন সি-এর উৎস

লেবুর মধ্যে রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড ,  যা এটি শরীর থেকে ভিটামিন সি-এর অভাব দূর করতেও সাহায্য করে। ফলে শরীরের কোষ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। এখানেই শেষ নয়, ভিটামিন সি হৃদরোগ সংক্রান্ত নানাবিধ সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে থাকে এবং হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও দূর করে।

অন্যদিকে রক্তচাপজনিত কমাতেও ভিটামিন সি-এর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, ‘স্ট্রোক' নামক একটি গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে সাধারণত যাদের শারীরিক ওজন বেশির দিকে থাকে, তাঁদের শরীরে ভিটামিন সি-এর অভাব দেখা দেয়। এক্ষেত্রে লেবু যেমন শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে, তেমনিই ভিটামিন সি-এর ঘাটতিও কমায়।

ভিটামিন সি এর ঘাটতি হলে মুখ গহ্বর সংক্রান্ত একাধিক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই তো নিয়মিত লেবু খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, জিঞ্জিভাইটিস সহ একাধিক রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মাত্র একটি মাঝারি আকৃতির লেবু থেকে চল্লিশ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড পাওয়া যা একজন মানুষের দৈনিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট। ভিটামিন ‘সি’ দেহের রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা ক্ষত হলে দ্রুতগতিতে কোলাজেন কোষ উপাদান তৈরি করে ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে এই ভিটামিন ‘সি’। লেবুতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাইট্রিক এসিড বিদ্যমান যা ক্যালসিয়াম নির্গমন হ্রাস করে পাথুরী রোগ প্রতিহত করতে পারে।

অন্যদিকে, ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার'- এর পক্ষ থেকে জানা যায়, সাইট্রাস জাতীয় ফলের মধ্যে লেবু সর্বশ্রেষ্ঠ না হলেও শরীরে ভিটামিন সি-এর অভাব কমাতে লেবু দারুন কাজে আসে। কারণ ১/৪ কাপ লেবুর রস আমাদের শরীরে ২৩.৬ গ্রাম ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে, যা প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী ৩০% ভিটামিন সি-এর ঘাটতি কমায়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রে দেখানো হয়েছে যে, লেবুর মধ্যে যে পলিফেনল নামে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে, তা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই যারা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন, তারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মধু মিশ্রিত লেবু জল খেতে পারেন। দেখবেন উপকার মিলবে।

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ রয়েছে। যা ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খালি পেটে লেবুর রস খান, তাদের ওজন দ্রুত হ্রাস পায়।

শরীরের ওজন কমাতে চাইলে প্রথমেই শরীরের ভেতরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে হবে, যাতে বাড়তি ওজন সহজে কমতে পারে৷ তবে লেবু চিকিৎসা শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকেই খাবারের পরিমাণ একটু কমিয়ে দিন৷ তারপর দুই থেকে তিন সপ্তাহ প্রতিদিন কয়েক গ্লাস পানির সাথে গ্লাস তাজা লেবুর রস মিশিয়ে খাবেন৷

আবার অনেকে ওজন কমাতে ওষধ খাওয়া নিয়ে চিন্তিত থাকেন, এ দিক থেকে,  লেবুর শরবত সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক। এখানে বাড়তি কোনো প্রিজারভেটিভ কিংবা প্রক্রিয়াজাতকৃত উপাদানের ব্যবহার হয় না। ফলে ফ্রুট জুস কিংবা অস্বাস্থ্যকর কোমল পানীয়র চেয়ে এ পানীয় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এ পানীয় শরীরে বাড়তি কোনো ক্যালরি যোগ হয় না।

এ জন্যে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটি লেবু রস করে মিশিয়ে পান করুন ৷ সারাদিনে কমপক্ষে দশ গ্লাস পানি পান করবেন আর প্রথম গ্লাস ছাড়া অন্যান্যবার একগ্লাস পানিতে আধখানা তাজা লেবুর রস দিন ৷ অবশ্যই আগে থেকে করে রাখা রস নয়! অন্তত দুই সপ্তাহ এভাবে লেবুপানি পান করুন ৷ প্রথম গ্লাসে মধু দিতে পারেন, মধুতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে তা সাধারণ চিনির মত ওজন না বাড়িয়ে বরং কমায়৷

তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলে দেখবেন ওজন কমেছে, শরীর অনেক হালকা লাগছে ৷ ফ্যাট জাতীয় খাবারের পর কুসুম গরম পানিতে ছোট একটি লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন ৷ এতে লেবুর রসের কারনে বাড়তি ফ্যাটটুকু কেটে নেবে যাবে ৷

লেবু ক্যানসারের কোষ গঠন দমন করে

লেবু ক্যানসার কোষ গঠন দমন করতে সহায়তা করে৷  আর এই তথ্যটি খুঁজে পেয়েছেন জার্মানির বোখুম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৷ লেবু অনেক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে এর জুড়ি মেলা ভার।

লেবু কোলন, প্রোস্টেট এবং ব্রেস্ত ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্যাপক ভুমিকা পালন করে। কোষের উল্টাপাল্টা পরিপাকে বাধা দেয়, যেটি মূলত ক্যান্সার এর জন্যে দায়ী। এটি কোষের নাইট্রোসো এমিন প্রস্তুতিতে বাধা দেয়।

কিডনির পাথর

অনেকেই আছেন, যারা কিডনি স্টোনের সমস্যায় ভুগছেন। গবেষণায়ও দেখা গেছে লেবুর রস কিডনিতে পাথর না জমতে সাহায্য করে৷ আর তাই ইউরোলজিস্টদের পরামর্শ, পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ার জন্য, এতে পাথর তৈরি হতে বাধাগ্রস্ত হয়৷
লেবুতে উপস্থিত লবণ বা সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ নামক পাথর গঠনে বাধা দেয়। সবচেয়ে সাধারণ কিডনি পাথরগুলোর মধ্যে এটি একটি। ইউ ডব্লিউ হেলথ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবুর মধ্যে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড এই ধরণের পাথরের চিকিৎসায় দারুন কাজে আসে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করে

আমাদের হাতে দুর্গন্ধ জাতীয় কোনও কিছু লাগলেই হাতে লেবু মেখে থাকি। ঠিক এরকমভাবেই আমরা যখন পেঁয়াজ বা রসুন খাই, আমাদের শ্বাস প্রক্রিয়ায় তা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। এই সময় লেবু জল খেলে এই ধরণের গন্ধ শ্বাস প্রক্রিয়া থেকে দূর হয়। এমনকি সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে লেবু জল পান করলে আমাদের মুখে জীবাণু সৃষ্টি হতে পারে না। যে কারণেও দুর্গন্ধ দূর হয়।

মূত্রনালীর সংক্রমণ দূর

যদি মূত্রনালীতে সংক্রমণ ঘটে। তাহলে প্রচুর পরিমাণে লেবুর রস পান করুন। এটি আরোগ্য লাভে সাহায্য করবে।

তারুণ্য ধরে রাখতে 

অনেক লোক ই দেখেন প্রতিদিন,  এদের মধ্যে অনেকের বয়েস বুঝার উপায় থাকে না। মনে হয় বাচ্চা। কিন্তু আলোচনা করতে করতে বুঝবেন যে তারা বাচ্চা নয় বরং  বুড়ো, কিন্তু চেহারা দেখে বুঝা না। আবার অনেক বাচ্চা গুলো দেখা যায় বুড়োর মত।  এ বয়সের ছাপ লুকাতে লেবু খাওয়া শুরু করতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

লেবুর মধ্যে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি সর্দি-কাশির সমস্যা খুব দ্রুত দূর করতে সহায়তা করে। । স্নায়ু ও মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়। ফুসফুস পরিষ্কার করে হাঁপানি সমস্যার উপশম করে।

সংক্রমনের বিরুদ্ধে লেবু কার্যকর ভুমিকা পালন করে। এটি রক্তের শ্বেতকনিকা বৃদ্ধি করে যা জীবাণু ধ্বংস করে। এছাড়া এন্টিবডি উৎপাদনে সহায়তা করে।

ক্ষারের সমন্বয়

শরীরে হাইড্রোজেনের পরিমাণের উপর অনেকাংশে সুস্থতা নির্ভর করে। সর্বমোট পিএইচ বা পাওয়ার অফ হাইড্রোজেন স্কেল হল ১ থেকে ১৪। মানবদেহে ৭ মাত্রার পিএইচ থাকা স্বাভাবিক। এর থেকে কম বা বেশি হলে শরীরে রোগের বিস্তার হতে পারে। অ্যাসিডিক বা ক্ষারীয় ফল হলেও লেবু মানবদেহে পিএইচ’য়ের মাত্রা সমন্বয় করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা বেশি মাংস, পনির বা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন তাদের জন্য লেবু সবচেয়ে বেশি উপকারী।

ক্ষত সারায়

লেবুর মধ্যে থাকা অ্যাবসরবিক অ্যাসিড ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। হাড়, তরুনাস্থি ও টিস্যুর স্বাস্থ্যা ভাল রাখে।

শক্তি বৃদ্ধি

লেবুর রস পরিপাক নালীতে প্রবেশ করে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে। এটি মানসিক চাপ কমাতে ও মেজাজ ফুরফুরা করতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সকাল সকাল চা বা কফি পান করে দিন শুরু না করে লেবু পানি পান করে দেখুন। নিজের এনার্জিতে নিজেই বিস্মিত হবেন! আপনার নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকাল সকাল লেবুর পটাশিয়াম আপনার বিষণ্ণতা ও উৎকণ্ঠা দূর করতে সহায়ক।

লিম্ফ সিস্টেম

গরম পানিতে লেবু দিয়ে খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে। শরীরে ফ্লুইডের সঠিক মাত্রা বজায় রেখে কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, রক্তচাপজনিত সমস্যা দূরে রাখে। ঘুম ভাল হয়।

শুধু স্বাস্থ্যগুণ নয় রূপচর্চার ক্ষেত্রেও লেবুর ব্যবহার   বেশ এগিয়ে । ত্বক টানটান করে ত্বকে উজ্জ্বলতা আনতে জুরি নেই লেবুর।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে

লেবুপানি দেহের ত্বকের জন্য খুবই ভাল। লেবুর ভিটামিন সি উপাদান দেহের ত্বক ও টিস্যুর জন্য খুব জরুরি। তাই ত্বকের যে কোন সমস্যা রোধ করতে প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন। আপনার ত্বককে করে তোলে সুন্দর ও পরিষ্কার।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে ভাঁজ পড়তে শুরু করে। আমেরিকান সোসাইটি ফর ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন'- এর বক্তব্য অনুযায়ী, ত্বকের এই ধরণের সমস্যা দূর করতে পারে একমাত্র লেবু। 

একটি বড় লেবুর অর্ধেক অংশ কেটে রস বের করে নিন। তাতে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। ত্বকে টান টান ভাব হলে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বক উজ্জ্বল করবে। লেবুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং ত্বককে আরো ফর্সা করবে।

ত্বকের রোদে পোড়াভাব দূর করতে শসার রসের সাথে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত লাগালে রোদে পোড়া ভাব দূর হবে। ত্বকে লেবুর ব্যবহার বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়।

ব্রণের সমস্যা দূর করতে

ব্রণের সমস্যা দূর করতে লেবু বেশ উপকারী। সমস্যায় আক্রান্ত ত্বকের উপর এক টুকরা লেবু ঘষে নিলে তা ব্রণ শুকিয়ে যেতে সাহায্য করে। লেবুর ভিটামিন সি’তে রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবাইয়াল এবং হিলিং প্রোপার্টিজ। যা ত্বক সুস্থ করতে সাহায্য করে। তবে এ ক্ষেত্রে,  ত্বকে লেবুর রস লাগানোর  পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পরে  ত্বক ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

আগে ব্রণ হয়েছিল , নিজের খুঁচানোর অভ্যাসের কারনে মুখে বেশ দাগ হয়ে আছে ? ত্বকে ব্রণের দাগের উপর লেবুর রস লাগিয়ে রাখুন। রাতে ঘুমানোর আগে ব্রণের কাল দাগের উপর লেবুর রস লাগান। সারারাত রেখে দিন। কিছু দিন পরে দেখবেন ব্রণের দাগ হালকা হয়ে গেছে।  লেবুতে রয়েছে সিট্রিক অ্যাসিড যা ত্বক ব্লিচ করতে সাহায্য করে। তাই লেবুর রস ত্বকের অবাঞ্ছিত দাগ দূর হতে সাহায্য করে।

তৈলাক্ত ত্বকে লেবু ব্যবহার

অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও লেবু উপকারী। ঘুমাতে যাওয়ার আগে তুলায় লেবুর রসে লাগিয়ে ত্বকে ঘষে নিতে হবে। সারা রাত লেবুর রস ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করতে সাহায্য করবে। সকালে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সমপরিমাণ শসার রস ও লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে তুলার সাহায্যে মুখে লাগান। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়ে ত্বক সতেজ হবে। মিশ্রণটি মুখে লাগানোর সাথে সাথে যদি জ্বলে, তবে দ্রুত ধুয়ে ফেলুন। সেক্ষেত্রে লেবু ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে।

আবার একটি ডিমের সাদা অংশের সাথে অর্ধেকটা লেবুর রস ও এক টেবিল চামচ কমলালেবুর রস কুসুম গরম পানি দিয়ে পেস্টের মতো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন । ২০ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার পাশাপাশি উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

ঠোঁটের যত্নে 

তাজা লেবুর রস ঠোঁটে হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে ঠোঁটের মৃত কোষ দূর হবে এবং ঠোঁট সুন্দর হবে।

দাঁতের হলদে ভাব দূর করতে

অনেকের দাত কিছু দিন পর পর হলুদ হয়ে পড়ে। অস্বস্তিকর একটি বিষয় সবার সামনে ঠিক মত হাসা যায় না। দাঁত ঝকঝকে করতে খানিকটা বেকিং সোডার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারে। এই মিশ্রণ পরিষ্কার তুলার সাহায্যে দাঁতে লাগাতে হবে। এক মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেললেই দেখবেন দাঁতের হলদে ভাব কমে এসেছে।

ভঙ্গুর নখের চিকিৎসায়

আপনার নখ কি ভঙ্গুর ? একটি বিরক্তিকর সমস্যা তাই না।  ভঙ্গুর নখের জন্যও দারুণ উপকারী লেবু। অলিভ অয়েলের সঙ্গে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে নখে দিয়ে রাখুন । এই মিশ্রণ নখ মজবুত করে এবং নখ হলদে হওয়া থেকে বাঁচায়।

চুলের সমস্যায় 

অলিভ অয়েল, লেবুর রস, মধু এবং নারিকেল তেলের মিশ্রণ মাথার ত্বকে মালিশ করলে খুশকি দূর হয় এবং রুক্ষ চুলের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

অমলকির রসের সঙ্গে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করে নিন।

গোসলের আগে নারকেল তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে লাগান। তারপর শ্যাম্পু করুন। সপ্তাহে একদিন করে এটি ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহারে এটি আপনার চুল পড়া বন্ধ করবে।

একদিকে চুল হাইলাইট করতেও লেবু কার্যকর। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। কন্ডিশনারের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলের যে অংশ হাইলাইট করতে চান সেখানে লাগাতে হবে। এরপর কিছুক্ষণ রোদে বসে অপেক্ষা করতে হবে। কয়েক মিনিট অপেক্ষার পর ধুয়ে ফেলতে হবে। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে এক দিন নিয়ম করে এই মিশ্রণ ব্যবহার করতে হবে। 

লেবুর খোসার উপকারিতাঃ

এতক্ষণ আমরা শুধু লেবু রসের গুনগান গেয়ে চলেছি।   বিশেষজ্ঞদের মতে লেবুর খোসায় লেবুর রসের তুলনায় বেশি ভিটামিন, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী উপাদান রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী লেবুর রসের চেয়ে এর খোসায় প্রায় ৫ গুণ বেশি ভিটামিন রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক এবং তাজা লেবুর খোসা আপনার জন্যে বেশি উপকারী, রাসায়নিক ঔষধ কিংবা কীটনাশক প্রয়োগকৃত লেবুর খোসা না খাওয়াই ভালো। চলুন লেবুর খোসার উপকারিতা দেখা যাকঃ 

লেবুর খোসায় থাকে  সাইট্রাস বায়ো-ফ্লেভোনয়েড যা  শরীরের ভেতরে যাওয়ার পরপরই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে শুরু করে। ফলে সার্বিকভাবে মন, মস্তিষ্ক ও শরীর একদম চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তো যখনই দেখবেন শরীর আর চলছে না, তখন অল্প করে লেবুর খোসা চটজলদি খেয়ে ফেলবেন। দেখবেন উপকার পাবেন দ্রুত।

‘পেকটিন’ নামক একটি উপাদান প্রচুর মাত্রায় থাকায় ওজন কমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। কারণ এই উপাদানটি শরীরে উপস্থিত অতিরিক্ত চর্বিকে ঝরিয়ে ফেলতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে।

লেবুর খোসায় উপস্থিত ‘স্য়ালভেসস্ট্রল কিউ ৪০’ ও ‘লিমোনেন্স’ নামে দুইটি উপাদান ক্যান্সার সেলের ধ্বংসে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে নিয়মিত লেবুর খোসা খেলে শরীরের ভেতরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। এখানেই শেষ নয়। লেবুর খোসা খাওয়া মাত্র ব্যাকটেরিয়াল এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

ভিটামিন সি এর ঘাটতি হলে মুখ গহ্বর সংক্রান্ত একাধিক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই তো নিয়মিত লেবুর খোসা খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, জিঞ্জিভাইটিস সহ একাধিক রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম থাকায় লেবুর খোসা খেলে ধীরে ধীরে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইনফ্লেমেটরি পলিআর্থ্রাইটিস, অস্টিওপরোসিস এবং রিউমাটয়েড আথ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

লেবুর খোসায় আছে ‘পলিফেনল’ নামে একটি উপাদান। যা শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়। অন্যদিকে লেবুর পটাশিয়াম ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই তো যাদের পরিবারে কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে তাদের ডায়েটে লেবুর খোসা রাখা যেত পারে। 

কিভাবে খাবেন লেবুর খোসাঃ

  • তিন থেকে চারটি লেবু কিছুক্ষনের জন্যে ফ্রিজে রেখে দিন এরপর বের করে সালাদ এর মতো কুচিকুচি করে নিন। যে কোন সালাদের সাথে অথবা সরাসরি খাবারের সাথে খেতে পারেন।
  • আপনি চাইলে শসা কিংবা গাজরের মতো সরাসরি কামড়িয়ে খেতে পারেন খাবারের সাথে।
  • লেবুর খোসা কুচি করে যে কোন খাবার কিংবা শরবতে ব্যবহার করলে আলাদা সুঘ্রাণ ছড়ায়।

লেবুর খোসার অন্যান্য প্রয়োগ ও ব্যবহারঃ

পোকামাকড় থেকে সুরক্ষাঃ  ঘরের বিভিন্ন কোনায় যেখানে ছোট ছোট ছিদ্র কিংবা ফাটা আছে যেখানে পিপড়া ও পোকামাকড় ঢুকতে পারে বা এদের বাসস্থান আছে ঐ জায়গায় লেবুর খোসা ব্যবহার করলে পিপড়া ও অন্যান্য পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাবেন। বেশীরভাগ পোকামাকড় লেবুতে থাকা এসিড সহ্য করতে পারেনা।

ত্বকের সুরক্ষায়ঃ মুখের ত্বকের সুরক্ষায় লেবুর খোসা ভালো করে ত্বকের মধ্যে ঘষে নিন এটা টনিক হিসেবে কাজ করবে। তবে অবশ্যই চোখে লাগাবেন না।

ঝকঝকে নখের জন্যেঃ প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার পূর্বে নখে লেবুর খোসা দিয়ে ঘষলে আপনার নখ সাদা ঝকঝকে আর শক্তিশালী হবে।

সিঙ্ক বা বেসিন পরিষ্কারেঃ যে কোন স্টেইনলেস সিঙ্ক, সসপেন ও রান্নার সামগ্রী যেখানে তৈল লেগে থাকে সেখানে লেবুর খোসা ব্যবহার করলে সহঝেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

শেষ কথাঃ

লেবু আমাদের সকলেই কাছেই খুবই প্রিয় এবং স্বাস্থ্যগুণ সমৃদ্ধ  একটি ফল যা আমাদের খাবারের স্বাদ যেমন বারিড়ে দেয় ঠিক তেমনি আমাদের শরীর করে ফ্রেশ এবং চাঙ্গা।  আমরা লেবুর কিছু জাদুকরী উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছি যা লেবুর প্রতি আপনার আগ্রহ আগের চেয়ে আরও অনেকগুণ বারিয়ে দিবে।

লেবু এবং লেবুর শরবতের উপকারিতার কথা বলে শেষ করা যাবে না। সারাদিন গরমের ক্লান্তির পড়ে একগ্লাস লেবুর সরবত আমাদের মাঝে প্রশান্তি এনে দেয়। প্রতিদিন গরম খাবারের সাথে এক টুকরো লেবুর রস আমাদের খাবারকে করে আরও সুস্বাদু এবং মজাদার। লেবুর সব জাদুকরী শক্তি আমাদের শরীরের অনেক জৈবিক ক্রিয়া করে আরও বেশি ত্বরান্বিত যা আমাদের মেদ ও ওজন কমাতে সাহায্য করে আমাদেরকে রাখে স্মার্ট ও স্লিম। লেবু আমাদের দেহের মেদ কমাতেও সাহায্য করে এবং শরীরের শক্তি বারাতে ভূমিকা পালন করে। 

 সূত্রঃ নানা ওয়েব পোর্টাল থেকে সংগ্রহীত

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক