4

[সাইক্লিং] লং রাইডে যাওয়ার আগে যা যা খেয়াল রাখতে হবে

সাইকেলে লং রাইড বর্তমানে তেমন আশ্চর্যজনক কিছুনা। কয়েকবছর আগেও এটা অনেকটা অকল্পনীয় ছিলো, কিন্তু এখন হরহামেশাই হচ্ছে এমন। ১০০ কি.মি রাইড তো নিতান্তই সাধারণ হয়ে গেছে 😛 ২০০, ৩০০ এমনকি বিডিসাইক্লিস্ট এর বেশ কিছু মেম্বার সিলেট থেকে ৪০০ কি.মি. লম্বা রাইড দিয়ে এসেছে। অতি সম্প্রতি আমি ও দুইজন বড় ভাইসহ ১১০মাইল + রাইড দিয়ে আসলাম। এই পোস্টে লং রাইডে যাওয়ার আগে একটি চেক লিস্ট তৈরী করার চেষ্টা করেছি।
the lonely bicycle

লং রাইডে যাওয়ার আগে যা যা খেয়াল রাখতে হবে

১.হেলমেট: লং রাইডের জন্যে হেলমেট অত্যাবশ্যক। রাইডের রাস্তা যেমনই হোক অবশ্যই হেলমেট সাথে নিতে হবে। যেকোনো সময় যেকোনো দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, হেলমেট আরোহীকে মাথায় আঘাত পাওয়া থেকে বিরত রাখবে।

২.গ্লভসঃ নিরাপত্তার জন্যে গ্লভও অত্যাবশ্যকীয়। যেকোনো রকম সাইকেল দূর্ঘটনায় সাধারণ, হাতের তালু আর হাটু আগে মাটিতে পড়ে, যার ফলাফল হিসেবে আপনি পেতে পারেন ছড়ে যাওয়া হাত, যা সারতেও অনেক লম্বা সময়ের ব্যাপার আর জ্বালা-পোড়া তো আছেই। সাময়িক পঙ্গু হয়ে পড়বেন। হাতের তালুর সুরক্ষার জন্যে আর ভালো গ্রিপ পাওয়ার জন্যে ভালো ব্র্যান্ডের গ্লভস ব্যবহার করা উচিৎ।

৩.টিউবঃ আপনার সাইকেল টি যদি একদম নতুন ও হয় তারপরে সাথে এক্সট্রা টিউব নিয়ে নিতে হবে। মিনিমাম এক জোড়া টিউব সাথে নিয়ে নেওয়া উচিৎ

৪.পাম্পারঃ বড় পাম্পার বয়ে নিতে সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক সেক্ষেত্রে ছোট হ্যান্ড পাম্প সাথে নিতে পারেন।

৫.প্যাচ কিটঃ বাইকের টিউব কোনভাবে লিক হয়ে গেলে সেটা সাড়ানোর জন্যে সাথে একটা প্যাচ কিট রাখতে হবে।

৬.পানীয়ঃ প্রচুর পরিমাণে পানি রাখতে হবে সাথে, পানি বিকল্প কেবল মাত্র পানিই, অর্থাৎ পানির স্থলে অন্য কিছু নেয়া যাবেনা। চাইলে পানির সাথে গ্লুকোজ মিশিয়ে নেয়া যেতে পারে। এনার্জী ড্রিংক্স সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে।

৭.খাবারঃ বাংলাদেশে লং রাইডে গেলে খাবার নিয়ে চিন্তা তেমন একটা করতে হয়না, কিছুদূর পর পরি দোকান-পাট আছে। তারপরও ইমার্জেন্সি হিসেবে কিছু হালকা খাবার নেয়া যেতে পারে।

৮.যন্ত্রপাতিঃ সব জায়গায় যে বাইকের যেকোনো সমস্যায় একজন মেকানিক পাবেন এমনটা নয়, তাই নিজে থেকেই সাধারণ কিছু কাজ শিখে নিতে হবে আর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সাথে নিতে হবে যাতে ছোট খাট সমস্যা নিজেই সমাধান করতে পারেন

৯.টাকাঃ সাথে অবশ্যই প্রয়োজনীয় টাকা রাখতে হবে যাতে যেকোনো ছোট খাট মেডিক্যাল ইমার্জেন্সীতে কাছে দেয় অথবা কোন সমস্যায় পড়লে সেটা থেকে বেচে উঠতে পারেন। আপনি যদি নিজেকে আনফিট মনে করেন বা অসুস্থবোধ করেন তাহলে যাতে গাড়ি তে বাড়ি ফিরতে পারেন। সাথে মোটামোটি অংকের টাকা নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

১০.লাইটঃ রাতের বেলায় যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারেন এবং রাস্তায় অন্য ড্রাইভার দের গোচরে আসতে পারেন যে জন্যে ফ্রন্ট আর ব্যাক লাইট সাথে নিতে হবে।

১১.এক্সট্রা ব্যাটারিঃ মোবাইলের জন্যে একটা এক্সট্রা ব্যাটারি অবশ্যই সাথে নিতে হবে।

১২.প্যাডেড শর্টসঃ ১০০-১৫০ কি.মি. রাইডের জন্যে এটা না হলেও চলে কিন্তু এর বেশি দূরত্বের রাইডের জন্যে অবশ্যই প্যাডেড শর্টস পড়ে নিতে হবে তা না হলে জায়গামতো 😉 ব্যাথা করার সম্ভাবনাই বেশি। তাই প্যাডেড শর্টস সাথে নেওয়া উচিৎ।

১৩.বাইক চেক-আপঃ রাইডে যাওয়ার আগে সম্পূর্ণ বাইক একবার চেক করে নিতে হবে কোথাও কোন সমস্যা আছে কিনা দেখার জন্যে যাতে রাইডে কোন সমস্যা না হয়। নিজে সম্ভব না হলে ভালো কোন মেকানিক কে দেখানো যেতে পারে। ক্যাফে সাইক্লিস্ট রিকমেন্ডেড।

১৪.ম্যাপঃ গন্তব্য স্থল পুরোপুরি চেনা না থাকলে অবশ্যই সাথে ম্যাপ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে জিপিএস সহ ভালো মানের মোবাইল ফোন বেশ কাজে দিবে।

১৫.রেইন-কোটঃ এট আবশ্যক না হলেও বর্ষার সময় সাথে রাখা উচিৎ, বৃষ্টিতে ভিজে শরীর খারাপ করার কোন মানে হয়না।

১৬.পেইন রিলিফ স্প্রেঃ এটা আবশ্যক। ব্যাথায় পেইনকিলার না খেয়ে যেখানে ব্যাথা সেখানে খানিকটা স্প্রে করে নিলে দ্রুত কাজ করবে।

১৭.সঙ্গীঃ কখনৈ লং রাইডে একা যাওয়া উচিৎ নয়, সাথে আরো বেশ কয়েকজন কে নিয়ে নেওয়া উচিৎ। যাতে করে যেকোনো সমস্যায় কাউকে সাথে পাওয়া যায়, আর তাছাড়া গ্রুপ রাইডে আনন্দও আছে। :mrgreen:

লং রাইডের চেক লিস্ট এতটুকুই। নিরাপদে সাইকেল চালান আর অন্যকেও সাইক্লিং এ উৎসাহিত করুন।

সাইক্লিং এর সময় নিরাপদ থাকার জন্যে যা মেনে চলতে হবে

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি