1

সাইক্লিস্ট হিসেবে যে সকল কারণে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে…

সম্ভবত ঈদের দিনই একমাত্র দিন যেদিন ঢাকা শহরে কোন জ্যাম থাকেনা। হরতালের যা অবস্থা, ইদানিং হরতালেও দেদারসে গাড়ি নামে রাস্তায় আর জ্যাম থাকে। ঢাকা শহরে জ্যাম নিরসনের অন্যতম বাহন সাইকেল। একদিকে যেমন শারিরীক ও মানসিক উন্নতি, আরেকদিকে জ্যাম নিরসনে সহায়তা করে দেশেরও উন্নতি হচ্ছে। তবে আমাদের মধ্যে অনেককেই পাওয়া যাবে যারা ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা করেন না। হোণ্ডাচালকদের ট্রাফিক আইন অমান্য করার রীতি অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। ইদানিং সাইক্লিস্টদের মধ্যেও ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা বেড়ে চলেছে। লাল বাতি থাকার পরেও দেখা যায় অনেকে দেদারসে সাইকেল টানছেন… সাইক্লিং বিষয়ক লেখার এ পর্বে তুলে ধরা হবে সাইক্লিস্ট হিসেবে যে সকল কারণে ট্রাফিক্ল আইন মেনে চলতে হবে।

দূর্ঘটনা ঘটতে পারে

লাল বাতি দিয়ে যখন কোন রাস্তায় সব গাড়ি থামানো হয় তখন অপর রাস্তায় সবুজ বাতি দিয়ে গাড়ি সচল করা হয়। এ অবস্থায় যদি আপনি আপনার সাইকেল নিয়ে যাওয়া শুরু করেন তাহলে দূর্ঘটনা ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আর এক্ষেত্রে কোনরূপ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সমস্ত দোষ কিন্তু আপনার ঘাড়েই বর্তাবে। কারণ অপর পাশে সচল গাড়িগুলো অনুমতি প্রাপ্ত চলার জন্যে, কিন্তু আপনি না। হয়তো দেখা যাবে আপনি কোন গাড়ির সাথে লাগিয়ে দিলেন কিংবা অন্য কোন গাড়ি সজোড়ে আপনার সাইকেলকে ধাক্কা দিলো। এতে করে একেতো আপনি নিজের ক্ষতি করছেন, হাত পা ভাঙ্গা থেকে শুরু করে এর চেয়েও বড় কিছু ঘটে যেতে পারে। আর আপনার শখের সাইকেলেরও বারোটা বেজে তেরোটা ঝুলে যেতে পারে। মোট কথা ট্রাফিক আইন অমান্য করে সাইকেল চালালো আমও যাবে সাথে ছালাও যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়।

সাইকেল দূর্ঘটনা

শুধু লাল বাতিকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সাইক্লিস্টদের ট্রাফিক আইন অমান্য করা সীমাবদ্ধ নেই এখন। মোটরসাইকেল চালকদের অনুসরণে অনেককেই দেখা যায় উল্টোপথে সাইকেল চালিয়ে যেতে। এটা খুবই ভয়ংকর দূর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। হয়তো ৫-১০মিনিট সময় বাঁচাতে উল্টোপথে সাইকেল ঢুকিয়ে চালালেন কিন্তু যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটে তাহলে এই অল্প সময় বাঁচাতে পারলে যে উপকার হতো তারচেয়েও বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।

তাই যেকোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে চলতে আপনার অবশ্যই ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ভবলীলা সাঙ্গ হলেও হতে পারে 😉

বদনাম

এখানে বদনাম বলতে আপনার আমার বদনাম না, পুরো সাইক্লিস্ট কমিউনিটির বদনাম তথা বিডিসাইক্লিস্ট এর বদনাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ঢাকা শহরের বেশিরভাগ মানুষই জানে যে সিরিয়াস রকম সাইকেল যারা চালায় তাদের একটা দলমতন কিছু আছে। তাই কারো একার দোষ এখন শুধু তার একার উপরেই বর্তাবে না বরং পুরো গ্রুপের উপরেই বর্তাবে। তাই অনুগ্রহপূর্বক ট্রাফিক আইন অমান্য করে পুলিশ ও সাধারণ জনগণের চোখে আমাদের গ্রুপটাকে খারাপ করবেন না।

ট্রাফিক পুলিশের চোখে সাইক্লিস্টরা এখনো যথেষ্ট উচুস্থানে আছে। আমাদের উচিৎ হবেনা নিজের এই অবস্থান খুইয়ে নেয়া। একবার কাটাবনে এক সিগন্যালে আটকে আছি, পাশ থেকেই এক মোটরসাইকেল শো করে চলে গেলো। ট্রাফিক পুলিশ ডেকেও থামাতে পারলেন না। তখন আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, উনাদের অনেক কিছু শিখার আছে আপনাদের কাছ থেকে। আপনার কি সুন্দর হেলমেট মাথায় দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছেন, আবার আইনও মেনে চলছেন। শোনার পর নিঃসন্দেহে গর্বে বুক ভরে উঠছিল। কোনদিন যেন এমন না হয় যে ট্রাফিক পুলিশও আমাদের খারাপ চোখে দেখতে শুরু করে। তাই ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, কমিউনিটিকে বদনাম হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। 🙂

ভোগান্তি

ট্রাফিক আইন অমান্য করে আপনি হয়তো শান্তিতেই থাকলেন কিন্তু অন্যান্য চালকদের আর মানুষদের হয়তো অনেকবড় ভোগান্তিতে ফেলে দিলেন। যেমন আপনি যদি উল্টোপথে সাইকেল চালানো শুরু করেন তাহলে সে পথে আসা রিকশা, গাড়িসবগুলোকেই আপনাকে সাইড করে দেয়ার জন্যে আলাদা জায়গা করে দিতে হবে। এটা যথেষ্ট ভোগাবে তাদের, তাছাড়া রাস্তা পার হওয়ার সময় সাধারণত চালকরা বা সাধারণ মানুষ উলটোপথ থেকে কোন যানবাহনের চলে আসাটা আশা করে না। তাই ট্রাফিক আইন মেনে চলে মানুষকে অযথা ভোগান্তির হাত থেকে বাঁচান।

অনেকেই সাইকেল চালানোর সময় বার বার লেন পরিবর্তন করেন। এটা কখনোই ঠিক না, নিতান্তই প্রয়োজন না থাকলে বার বার এমনটা করা উচিৎ না। যদি লেন পরিবর্তন করতেই হয় তাহলে অবশ্যই হালকা পেছনে ফিরে দেখে নিবেন কোন গাড়ি আছে কিনা। না থাকলে সাবধানে লেন পরিবর্তন করে ফেলুন। অযথা না দেখে লেন পরিবর্তন করার মাধ্যমে অন্য গাড়িগুলোকে আপনার গতিপথ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে তুলছেন আপনি। এতে করে মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি এমন ঘটনার শিকার। তাই নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি নিজের দোষে ভুল করবেন না।

শেষ কথা

ট্রাফিক আইন কেন মেনে চলতে হয় তা সকলেরই জানা, তবুও আরেকটিবার মনে করিয়ে দেয়ার জন্যে ছোট্ট এই পোস্ট। অন্তুত একজন মানুষকে ট্রাফিক আইন মানতে শিখাতে পারলেও আমার লেখা সার্থক বলে ধরে নিবো। আপনার যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করে কোন দূর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে থাকলে কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন।

Be Safe !

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

আরিফুল ইসলাম পলাশ
 

বর্তমানে ঢাকার এক স্বনামধন্য কলেজে অধ্যয়নরত। লেখালেখির ঝোক ছোটবেলা থেকেই। ব্লগিং এ হাতেখড়ি সেই সপ্তম শ্রেণীতে। তখন ঠিকমতো টাইপ করতে পারতাম না, খুব কষ্ট হতো লিখতে। ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কিবোর্ড চলে বুলেটের মতো। তাই ইচ্ছা আছে বাংলায় তথ্যসমৃদ্ধ ইন্টারনেট দেখার। সেই ভেবেই পিপীলিকাতে লেখা। :) ফেসবুকে আমি