সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসঃ কিভাবে কাজ করে, খরচ কেমন, কি পার্সেল পাঠানো যায় ?

সাধারন মেইল সার্ভিস থেকে কুরিয়ার ব্যতিক্রম এই অর্থে যে কুরিয়ারে করে দ্রুত, সহজে, নিরাপদে এবং আপনার জ্ঞাত অবস্থায় কোন জিনিষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠাতে পারবেন।  কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত  আপনার প্রয়োজনীয়জ জিনিস পাঠাতে পারবেন যা সাধারন মেইল সার্ভিসে পাঠাতে বেশ সময় নিবে। আপনার খরচ কিছুটা বেশি হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেখানে চান সেখানে মালামাল পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব কুরিয়ারের।

কুরিয়ারের মাধ্যমে মধ্যে আপনি ট্র্যাকিং নাম্বার দিয়েও আপনার ডকুমেন্ট/মালামাল কোথায় আছে সেটা ট্র্যাক মানে ঐ মালামাল কোন অবস্থানে আছে তার জানতে পারবেন।

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ডকুমেন্ট পাঠাবেন এই ব্যাপারে অনেকেই কনফিউজড থাকেন. কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যাপারে আপনাকে প্রথমেই চিন্তা করতে হবে এটা কতটুকু নির্ভরযোগ্য এবং এই কুরিয়ার সার্ভিসের ট্র্যাকিং সুবিধা কেমন । এরপর আপনি নিজের সুবিধা অনুযায়ী খরচের কথা মাথায় রেখে কুরিয়ার সার্ভিস নির্বাচন করবেন ।

কুরিয়ার সার্ভিস কিভাবে কাজ করে

কুরিয়ারের খরচ মালামালের ধরন, ওজন হিসেবে হয়ে থাকে। সাধারন ডকুমেন্ট পাঠাতে হলে দেশে আর বিদেশে নির্দিষ্ট রেট আছে। দেশের ভিতরে সার্ভিস খরচের চেয়ে বিদেশে পাঠানোর খরচ বেশি। দেশের ভিতরে সার্ভিস দেয় চলে সুন্দরবন, এসআলম এইসব কুরিয়ার। বিদেশে DHL আছে। এখন ধরুন আপনি আমেরিকায় কিছু  প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে চান। তাহলে এর ওজন যদি ৫০০ গ্রামের কম হয় তাহলে DHL সার্ভিসে ২৪০০ টাকা নিবে। ৫০০ গ্রামের অধিক হলে খরচ বাড়বে।

আবার ডকুমেন্ট না হয়ে যদি অন্য কিছু হয়- যেমন কাপড়, মেশিন, ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস পত্র  তাহলে তার ওজনের উপর খরচের হিসাব একটু ভিন্ন হবে । এগুলো আবার ডকুমেন্টের সাথে মিলালে হবে না ।  কানাডায় আবার ৫০০ গ্রাম ডকুমেন্টের খরচ ৩০০০ এর মত বা উপরে। এভাবে এশিয়া, ইউরোপ বা অন্য কোথায় পাঠাচ্ছেন, কি পাঠাচ্ছেন, কত ওজনের জিনিষ পাঠাচ্ছেন  ইত্যাদির উপর খরচ নির্ভর করবে।

এখানে মূলত, ওজনটাই খরচের  আসল বিষয়। কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে অনেক কিছুই পাচার করা সম্ভব হয় বলে , চাইলেই কুরিয়ারে অনেক কিছুই আনা নেওয়া করা যায় না। এ কারনে বিদেশে কোন জিনিস পাঠানোর আগে মনিটরিং করা হয় ।

কিছু কিছু কুরিয়ার সার্ভিস আছে যারা ভায়া হয়ে কাজ চালায়। যেমন- বাংলাদেশে OCS , TNT এই সার্ভিসগুলো। এরা ডকুমেন্ট পাঠাতে DHL এর সার্ভিস ব্যবহার করে কিন্তু খরচ নেয় ডিএইচএলের অর্ধেকের মত। ওদের নিজেদের সার্ভিস নেয় কিন্তু ওরা  ভিন্ন কোন ভাবে তাদের লাভের অংশ রাখে । ওরা ৫০০ গ্রামের নিচে ডকুমেন্ট পাঠাতে ১৩০০ টাকা নেয়।

সময় হয়তো ডিএইচএল যে কয়দিনে পাঠাবে তার চেয়ে ২ দিন বেশি নেবে। খরচ কমাতে অনেকেই এদের ব্যবহার করে। কিন্তু যাদের বেশি আর্জেন্ট, তাদের ডিএইচএল-ই ব্যবহার করা লাগে। দেশের ভিতরে মালামাল ছাড়াও টাকাও পাঠাতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনি কোন একটা সার্ভিসে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিলে দেশের অন্য প্রান্তে তাদের কোন শাখা থেকে ঐ টাকা উঠানো যাবে।

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেড দেশ ও দেশের বাইরে পার্সেল পৌছানোর ব্যবস্থা করে থাকে। দেশের বাইরে ১৬৫ টি দেশে পার্সেল পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা

অবস্থান: মতিঝিলে এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের দক্ষিণ দিকের রাস্তা দিয়ে ১৫০ গজ এগিয়ে হাতের ডান পাশে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

ঠিকানা: ২৪-২৫, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা- ১০০০।

ফোন নম্বর: +৮৮-০২- ৯৫৫৯৬৩৫, ৯৫৫১৯৮৪, ৯৫৫১৬৫৬, ৯৫৬৪২১৮

ফ্যাক্স নম্বর: ৮৮-০২-৯৫৬৩৯৯৫

ই-মেইল:  scsl@citecho.net


কুরিয়ার করার প্রক্রিয়া

সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিবউশন পয়েন্ট থেকে চিঠি, পার্সেল এবং ডকুমেন্টসমূহ অন বোর্ড কুরিয়ার (OBC) এর মাধ্যমে  জোনাল অফিসে পৌছে দেওয়া হয়। জোনাল অফিস সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং এলাকা অনুসারে পার্সেল, ডকুমেন্ট পৃথকীকরন করে,সাব-জোনাল অফিস সেগুলো এলাকা অনুসারে সংগ্রহ করে। সাব-জোনাল অফিস তার কুরিয়ার কর্মীদের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চিঠি, পার্সেল এবং ডকুমেন্টসমহু প্রাপকের নিকট পৌছে দেয়।

কুরিয়ার সেবা প্রদানে সকল জোনাল অফিস এবং সাব-জোনাল অফিসের সাথে  কুরিয়ার হেড অফিসের লিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত থাকে। সকল জোনাল অফিস এবং সাব-জোনাল অফিস কুরিয়ার সেবা প্রদানে  কুরিয়ার সার্ভিসের নিকট দায়বদ্ধ থাকে। জোনাল অফিস এবং সাব-জোনাল অফিস কর্তৃক চিঠি, পার্সেল এবং ডকুমেন্টসমূহ বিতরণে কোন সমস্যা হলে  কুরিয়ার সার্ভিসের এলাকা ভিত্তিক রিপ্রেজেন্টেটিভ দ্বারা সমস্যার তনন্ত সাপেক্ষে সমাধান করা হয়।

মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি

এখানে মাল-পত্র বুকিংয়ের সময় এর বিল নগদ টাকায় পরিশোধ করতে হয়। ক্রেডিট কার্ডে বিল পরিশোধ করা যায় না।

সুন্দরবনের মাধ্যমে কি টাকা পাঠানো যায় ?

কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায় ,তবে তার জন্য টাকার পরিমানের সাথে এবং কোথায় পাঠাবেন সেটা জেনে সার্ভিস চার্জ ধার্য করা হয় . যাকে পাঠাবেন তার এলাকার কুরিয়ার অফিস থেকে সঠিক ফোন নম্বর বলে (চাইলে অন্যান্য তথ্য ) তাকে টাকা সংগ্রহ করতে হয়।

এদের আবার ২ ধরনের সার্ভিস আছে একটা ১ .দ্রুত ২. একটু সময় লাগে ।  তবে অবশ্যই দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চার্জ বেশি । ওদের অফিস এ গিয়ে টাকা পাঠাতে চাই বললেই ওরা প্রক্রিয়া বলে দেবে  তার পরেও নীচে কিভাবে টাকা পাঠানো যায় তা নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি।


টাকা পাঠানোর নিয়মঃ

আপনাকে গ্রাহকের নাম ও একটি মোবাইল নাম্বার দিতে হবে, গ্রাহক তার নিকটস্থ সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার সার্ভিসের শাখায় গিয়ে তার নাম্বার প্রমান সাপেক্ষ টাকা গ্রহন করতে পারবেন। আপনি টাকা দিলে আপনাকে একটি বুকিং রিসিট দেয়া হবে, রিসিট হচ্ছে আপনার দলিল।

যদি কোন কারনে টাকা না গিয়ে থাকে তবে রিসিটের সিরিয়াল নাম্বার বললে টাকার অবস্থান জানিয়ে দেয়া হবে বা কোন সমস্যা থাকলে জানতে পারবেন।রিসিট যদি হারিয়ে যায় আর কোন সমস্যার মুখোমুখি হন তবে অভিযোগ করেও লাভ হবে না।

বিকাশের ক্ষেত্রে ঘরে বসে টাকা নেবার কোন সুবিধা আছে, কুরিয়ার সার্ভিসে সেই সুযোগ নেই তাই বর্তমানে কুরিয়ার সার্ভিসের বাজার একটু কমতির দিকে। আপনাকে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে যে, গ্রাহকের মোবাইল নাম্বারটি সঠিকভাবে হতে হবে,যদি কোন কারনে ভুল হয় তবে শোধরানোর সুযোগ আছে তবে একদিন সময় বেশি লাগবে এবং দুইবার অফিসে যেতে হবে প্রেরক আর গ্রাহক উভয়কেই।

তবে, পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অর্থ স্থানান্তরের কাজও করছে কোম্পানিগুলো। অথচ দেশের কোনো আইন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিকে অর্থ স্থানান্তরের এখতিয়ার দেয়নি। ফলে আপনি যদি কুরিয়ার সার্ভিসে টাকা পাঠান এবং প্রাপক তা না পায়, তাহলে আপনি কোথাও অভিযোগ করতে পারবেন না।

দেশের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অর্থ স্থানান্তর সম্পর্কিত আইন রয়েছে দুটি। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং ডাকঘর আইন, ১৮৯৮। এই দুই আইনেই কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি অর্থ স্থানান্তর করতে পারে না। ডাকঘর আইনের আওতায় সর্বশেষ মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস বিধিমালা করা হয় ২০১৩ সালে। এতেও অর্থ স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিকে।

সরকার বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা বা বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহণ সম্পর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। মূলত এদেশে সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতার মধ্যেই বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস খাতটি বিকশিত হয়েছে। কিন্তু সরকার বর্তমানে এ খাতকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে

যেসব পার্সেল পাঠানো ব্যবস্থা রয়েছে

  • চিঠিপত্র
  • সংবাদপত্র
  • টাকা
  • হালকা পণ্য
  • ডকুমেন্ট
  • মোবাইল
  • মূল্যবান কাগজপত্র
  • কাপড়

দেশের ভেতর পার্সেল পাঠানোর খরচ

  • প্রতি কেজি দশ টাকা হারে পার্সেলের ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে।দেশের ভিতরে ১৬ ঘন্টার মধ্যে পৌছানো হয়ে থাকে।
  • সুন্দর বনের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। 
  • এখানে পণ্য প্যাকেজিংয়ের জন্য ছোট কার্টুন ৩০ টাকা এবং বড় কার্টুন ৮০ টাকা হারে প্রদান করতে হয়।

বিদেশে পার্সেল পাঠানোর খরচ

দেশে ছাড়াও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বাইরে মোট ১৫৫ টি দেশে পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা রয়েছে। পার্সেলের খরচ নিম্নরুপ- 

স্থান

পণ্যের ধরণ

ওজন

পণ্যের খরচ

পৌঁছানোর সময়

ভারত

যেকোন পণ্য

১ কেজি

৫০০ টাকা

৪৮ ঘন্টা

পাকিস্তান

যেকোন পণ্য

১কেজি

১৮০০ টাকা

৭২ ঘন্টা

সৌদি আরব

যেকোন পণ্য

১ কেজি

২০০০ টাকা

   ৭২ ঘন্টা

আমেরিকা

যেকোন পণ্য

১ কেজি

২৮০০ টাকা

৭২ ঘন্টা

অন্যান্য তথ্য

  • কোন রকম অবৈধ মালামাল সুন্দরবনের মাধ্যমে পৌঁছানো হয় না।
  • মূল্যবান দ্রব্যাদি পৌঁছানোর জন্য আলাদা প্যাকিং ব্যবস্থা রয়েছে।
  • পণ্য সময়মত না পৌঁছালে এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।
  • সময়মত পণ্য না পৌঁছালে এর জন্যে আর্থিক ক্ষতিপূরন দেয়া হয়।
  • পণ্য হারিয়ে গেলে প্রাপক/ প্রেরক যে শাখায় পণ্য পৌঁছানো হয়ে দিল সেখানে সরাসরি বা ফোনে বা মোবাইলে যোগাযোগ করতে হয়।
  • হারিয়ে যাওয়া পণ্যের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় বাজার মূল্য অনুযায়ী সমপরিমান অর্থ তিনদিনের মধ্যে দেয়া হয়। 

শেষ কথা

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ে চিঠিপত্র ও পণ্য আনা-নেওয়া শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। তবে প্রায়ই কোম্পানীর দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তা সহ কর্মচারীদের কর্তব্যে গাফিলতি,অনিয়মের ফলে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ মিলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে অতি জরুরী ডকুমেন্টস,ডাক ও পার্সেল ধ্যার্য কৃত অর্থ পরিশোধ এর বিনিময়ে দ্রুত গ্রাহকের দ্বার গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে নানা হয়রানী মূলক অভিযোগ রয়েছে। সুন্দরবনের উচিত এসব হয়রানী আমলে নিয়ে তাদের সার্ভিসের উন্নয়ন ঘটানো। 

সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে। কারণ কোনো আইন বা বিধি ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। কিন্তু নতুন আইনের ফলে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলোকে সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে একই সাথে বেসরকারি ডাকসেবাও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাচ্ছে। এজন্য এখন থেকে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই লাইসেন্স না নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা চালাতে পারবে না।

কুরিয়ার সম্পর্কিত বাংলাদেশ সরকারের বিধিমালা দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। 

তথ্য সূত্রঃ অনলাইন

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক