10

স্কাউটিং

আনন্দের অপর এক নাম স্কাউটিং। যে কোন কাজে চিন্তিত না হয়ে বরং ধীরে সুস্থে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় এনে দেয় এই স্কাউটিং। এটি এমন এক শিক্ষা যা জীবনে আনে অসাধারণ পরিবর্তন যা সকল কাজে উপলব্ধি করা যায়। দৃঢ়তার সাথে সকল কাজকে এগিয়ে নিতে পারে একজন স্কাউট।

boy-scout-sign

স্কাউটিং হল একটি আন্দোলন যার কাজ আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা দান। এর মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। স্কাউটিং এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে অপার আনন্দ যার স্বাদ নিতে হলে যোগদান করতে হবে এই আন্দোলনে।

রবার্ট স্টিফেন্সন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অফ গিলওয়েল সংক্ষেপে বি.পি এই আন্দোলনের শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭২সালের ৯ই এপ্রিল “বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি” গঠিত হয়। একই বছর ১১ই সেপ্টেম্বর গনপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার এর স্বীকৃতি দেয় এবং এর প্রধান জাতীয় কমিশনার হন জনাব পিয়ার আলী নাজির। ১৯৭৪সালে WOSM  “বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি” কে তাদের ১০৫তম সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ১৯৭৮সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “বাংলাদেশ স্কাউটস”।

বর্তমানে যার চীফ স্কাউট মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃজিল্লুর রহমান, সভাপতি জনাব মোঃআব্দুল করিম এবং প্রধান জাতীয় কমিশনার  জনাব মোঃআবুল কালাম আজাদ।

বাংলাদেশ স্কাউটসকে ১২টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম, দিনাজপুর, রোভার, রেলওয়ে, নৌ ও এয়ার।
বয়সের পরিসীমা অনুযায়ী স্কাউটিংকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়।
কাব স্কাউটিং – ৬ থেকে ১১ বছর
বয় স্কাউটিং – ১১ থেকে ১৭ বছর
রোভার স্কাউটিং – ১৭ থেকে ২৫ বছর

প্রতিটি স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কাউটিং এর সুযোগ রয়েছে। চাইলেই যে কেউ যোগাযোগ করে দেখতে পারেন। না থাকলেও যোগাযোগ করতে পারেন বাংলাদেশ স্কাউটস এ। কেননা রয়েছে অনেক মুক্ত দল। বয়স অনুযায়ী যোগদান করা যায় উপরোক্ত স্তরগুলোর একটিতে।

যোগদান করেই একজন স্কাউট হয়ে ওঠা যায় না। এর জন্য থাকতে হবে একাত্মতা। তাহলেই খুঁজে পাওয়া যাবে এর আনন্দ। কিছুদিন এর শিক্ষার পর শপথ পাঠের মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে হয়ে ওঠে স্কাউট সদস্য, পরতে পারে স্কাউট পোশাক, লাগাতে পারে সদস্য ব্যাজ এবং গলায় নিজ দলের স্কার্ফ। এরপর সে পার করে প্রতিটি স্তর এবং খুঁজে পায় নানান বিষয়।

স্কাউটিং এ রয়েছে অনেক দিক। কিছু দিক যেমনঃ ক্যাম্পিং, হাইকিং, ট্র্যাকিং, ফার্স্ট এইড, দড়ির কাজ, পাইওনিয়ারিং, রান্না, অনুমান, খেলা এবং আরও কত কি। মজার মজার এসব বিষয় শিখে ফেলা যায় নিজের অজান্তেই। এমনকি কিছু বিষয়ে হয়ে ওঠা যায় পারদর্শী। তখন সে অনুযায়ী পোশাকে লাগানো যায় নিত্য-নুতুন ব্যাজ। এই অর্জনকে ব্যাজ নয় স্কাউট পোশাকের অলংকার বলেছেন বি.পি।

পাত্র ছাড়া রান্না কিংবা দড়ি দিয়ে কিছু তৈরি করতে পারার মজা আর কোথাও নেই। এমনকি কোন কম্পাস ছাড়াই দিক নির্ণয় অথবা অনুমান করে বলে দিতে পারা যায় কোন কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ কিংবা উচ্চতা। তাঁবুতে থাকার অভিজ্ঞতা আর হেঁটে হেঁটে প্রকৃতির সাথে চলা – এক নুতুন জীবন এর স্বাদ এনে দেয় স্কাউটিং। যান্ত্রিক জীবনের আড়ালে হারিয়ে যায় সকল ইচ্ছা, চলে যায় নতুন এর স্বাদ। স্কাউটিং ফিরিয়ে আনে সেই ইচ্ছাগুলো। আর সকল কাজে এনে দেয় উৎসাহ।

scout camping

একজন স্কাউট এগিয়ে যায় সকলের সাহায্যে। কোন কিছু প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে নয়, মানবতার টানে। কাউকে রাস্তা পার করে দেয়া থেকে দুর্ঘটনায় কবলিত কোন বাক্তিকে সর্বচ্চ সহায়তা করতে দ্বিধাবোধ করে না সে। যে কোন বিপদে বিচলিত না হয়ে ধীরে-সুস্থে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা যে সে আগেই পেয়ে থাকে স্কাউটিং থেকে।

স্কাউটিং নেতৃত্বদানে করে তোলে পারদর্শী। ছোটবেলা থেকেই একটি দলে থাকার মজা এবং কাজগুলো ভাগ করে নেয়ার শিক্ষা দিয়ে দেয় স্কাউটিং। ফলে কাজটা কিভাবে শেষ করা যাবে কিংবা কাকে দিয়ে করালে ভাল হবে, সেই নেতৃত্ব গুণ থাকে একজন স্কাউট এর। সকলকে বুঝিয়ে এক সাথে কাজ করার আনন্দ স্কাউটিং এ থাকে। ফলে নুতুন করে কোনো কিছুই বুঝে নিতে হয় না, জীবনে সকল কাজেই সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে সে। আবার কারো সাথে থেকেও শেষ করতে পারে যে কোন কাজ।

এসকল গুণের স্বীকৃতি স্বরূপ স্কাউটদের দেয়া হয় এ্যাওয়ার্ড। কাবদের শাপলা কাব এ্যাওয়ার্ড, স্কাউটদের প্রেসিডেন্টস স্কাউট এ্যাওয়ার্ড, রোভারদের প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট এ্যাওয়ার্ড। এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত স্কাউটদের নাম লিখে রাখা হয় সযত্নে।

স্কাউটিং সকলকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। সকল মানবিক গুনাবলি কমবেশি দেখা যায় স্কাউটদের মধ্যে। নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং সকলের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার মন-মানসিকতা থাকে তাদের মধ্যে।

বাংলাদেশে স্কাউটিং এগিয়ে যাচ্ছে নিজ গতিতে। ছেলে-মেয়েরা স্কাউটিং এর মধ্য দিয়ে হয়ে উঠছে আত্মনির্ভরশীল। নানান শিক্ষার মধ্য দিয়ে বাড়ছে তাদের দক্ষতা তাও এক নির্মল আনন্দের মধ্য দিয়ে।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

অচ্যুত সাহা জয়
 

"কখনো কোনো পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর কথা বলতে হয় না। আমরা বলি না। আপনি বলেছেন। এর দায়দায়িত্ব কিন্তু আর আমার না - আপনার!"