হাইটেক পার্ক – কি, কাকে বলে, বাংলাদেশে হাইটেক পার্ক সম্পর্কিত তথ্য

বাংলাদেশে গত এক দশকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে৷ মোবাইল ফোন এবং তার পরে ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ সরাসরি তথ্য প্রযুক্তি সাথে জড়িত।   কিন্তু এত বিশাল সংখ্যক মানুষ এই প্রযুক্তির আওতায় এলেও  এই খাতে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি৷  এছাড়া বাণিজ্যিকভাবেও নিজস্ব প্রযুক্তি বাজারজাতকরণের তেমন সুযোগ হয়ে ওঠেনি৷ আধুনিক বিশ্বে অনেক দেশই তাদের অর্থনীতিকে প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলেছে । বাংলাদেশেও এই উদ্দেশ্যে  বেশ কয়েকটি  হাইটেক পার্ক স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। এখন প্রশ্ন হলো  হাইটেক পার্ক কি, কাকে বলে, পার্কগুলো থেকে আমরা কি কি সেবা পেতে পারি ?

হাইটেক পার্ক কি বা কাকে বলে ?

হাইটেক পার্ক কি এটি এক কথা বলা সম্ভব নয় । সংক্ষিপ্তভাবে যদি বলা হয় তবে বলা যেতে পারে  তথ্য প্রযুক্তি তথা আইটি সংক্রান্ত  সকল ধরনের কাজ সম্পাদন করা,  আইটিকে  ব্যবসা  হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা, আইটি সেক্টরে সকল সুযোগ-সুবিধা তৈরী, তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত সকল আমদানী, রপ্তানীর সুবিধা সম্বলিত যে পার্ক  গড়ে তুলা হয়  তাকেই হাইটেক পার্ক বলে।

হাইটেক পার্ক এর কাজ  

যেহেতু হাইটেক পার্ক মূলত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর একটি  বিশেষ স্থান তাই  দেশ বিদেশের নাম করা বড় বড় তথ্য প্রযক্তি নির্ভর  ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান,  সফটওয়্যার কোম্পানীগুলো এই পার্কে কোম্পানী খুলে তাদের কাজ করতে পারবে। প্রযুক্তিনির্ভর এসব হাইটেক পার্ক প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার শিল্পের উত্তরণ ও বিকাশে সুযোগে সৃষ্টি করবে।

আমাদের দেশে আইটি  ইন্ডাট্রিজ স্থাপন করলে দেশের কর্মসংস্থান বেড়ে যাবে। অপর দিকে হাইটেক পার্কগুলো দেশের যুব সমাজকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশ্বমানের কোম্পানীতে কাজ করার মত উপযোগী করে তুলবে। এধরনের পরিস্থিতিতে দেশের মধ্যে নতুন নতুন উদ্যোগতাও সৃষ্টি হবে। অত্যাধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা ও হাইটেক ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির কাজ  হবে।এসব কোম্পানির সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে এ দেশের তরুণরা দ্রুত আধুনিক নানা প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হবে, নানা কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে নতুন কিছু শিখতে পারবে ,রিসার্চ করতে পারবে। আবার কেউ কেউ নিজের কোম্পানি খোলার সুযোগ পাবে ।

সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ইপিজেডগুলোতে  যেমন বিদেশী কোম্পানীগুলো কোম্পানী খুলে  উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে যার ফলে  আমাদের দেশীয় বেকার শ্রমিকরা কাজ করতে পারছে ও বেকারত্ব দূর হচ্ছে। ঠিক তেমনি হাইটেক পার্ক মূলত ইপিজেড এর মত একটি তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ইন্ডাস্ট্রিস এরিয়াতে রুপান্তরিত হবে।

এখানেই তৈরি হবে বিশ্বমানের পণ্য। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। কমবে মেধা পাচার। এই স্বপ্ন নিয়েই হাইটেক পার্কে ধারনার সৃষ্টি।

বাংলাদেশে হাইটেক পার্ক

দেশেই তৈরি হবে আমাদের নিত্যব্যবহার্য প্রযুক্তিপণ্য।  এদেশে নির্মিত সফটওয়্যার দিয়েই চলবে আমাদের ব্যাংক, বীমা, কলকারখানা, অফিস-আদালতসহ অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান এই স্বপ্ন নিয়েই হাইটেক পার্ক ধারনার যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৯৯ সালে।  তবে  অনেক আগে থেকেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ও ইন্টারনেট সুবিধা নিয়ে দেশে বিশেষ একটি জায়গার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীরা। যেখানে গড়ে উঠবে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারী সব প্রতিষ্ঠান। গড়ে উঠবে কলসেন্টার, টেলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।
হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার কথা দেশবাসী প্রথম শুনছে সেই ১৯৯৯ সালে। এর পরে দেড় যুগ পেড়িয়ে গেছে। ১৯৯৯ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রথম হাইটেক পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়।  তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র সংলগ্ন ২৩১ দশমিক ৬৮৫ একর জমি হাইটেক পার্কের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। বর্তমানে সেখানে একটি প্রশাসনিক ভবন, সৌর বিদ্যুত ও জেনারেটর বসানো হয়েছে।  এর বাইরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার খরিতাজুড়ি বিলে দেশের দ্বিতীয় হাইটেক পার্ক স্থাপনের জন্য ১৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।  এর পাশাপাশি কাওরান বাজারের জনতা টাওয়ার, যশোর, রাজশাহীসহ দেশের ৭টি বিভাগে ১২ জেলায় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তথা হাইটেক পার্ক নির্মানের কাজ দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
হাইটেক পার্ক উন্নয়ন ও বিনোয়োগে বিদেশী নানা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্য ও সিংগাপুরের চারটি কোম্পানি হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের চুক্তি করে। এর পরে জাপানও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। অপর দিকে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিয়োগে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চায়না বেটার বিজনেস ব্যুরো ।  তারা হাইটেক পার্কে চীনা ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট তৈরি, হাইটেক পার্কগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সফটওয়্যার পার্ক ও টেকনোলজি পার্কে চীনা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে উদ্যোগ  নেওয়া কথা জানিয়েছিল ।
অপর দিকে হাইটেক পার্কে দেশি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। প্রণোদনা অনুয়ায়ী বিনিয়োগকারীদের কয়েক ধাপে কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন (এসআরও) অনুসারে যেসব কোম্পানি হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করবে  সে কোম্পানিগুলো প্রথম তিন বছরের আয়ের ওপর সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি পাবে।  চতুর্থ বছরের জন্য কর অব্যাহতির হার হবে ৮০ শতাংশ। পঞ্চম বছরে কর অব্যাহতির হার হবে ৭০ শতাংশ, ষষ্ঠ বছরে ৬০ শতাংশ, সপ্তম বছরে ৫০ শতাংশ, অষ্টম বছরে ৪০ শতাংশ, নবম বছরে ৩০ শতাংশ এবং দশম বছরে এ হার হবে ২০ শতাংশ। এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হবে।অন্য দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর এক প্রজ্ঞাপনে পার্কের ডেভেলপারদের আয়ের ওপর ১০ বছরের সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিকভাবে নামকরা কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা প্রসারের জন্য পৃথিবীর নানা দেশে তাদের  প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করার উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা প্রযুক্তি নির্ভর হাইটেক পার্কে  শিল্পস্থাপনের জন্য উপযুক্ত শিল্পাঞ্চল খুঁজছে। ওইসব কোম্পানিকে টার্গেট করে বাংলাদেশের হাইটেক পার্ক তৈরি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অত্যাধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা ও হাইটেক ম্যানুফ্যাচারিংয়ে  দেশি বিদেশী  বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হাইটেক পার্কগুলোতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত  সুযোগ সুবিধা রাখা হচ্ছে। এক কথায় অ্যাপল, স্যামসাং, ইন্টেল, এসার, এলজি, শাওমি ইত্যাদি  আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স কোম্পনির মত নানা কোম্পানির শিল্প কারখানা স্থাপনের মত সার্বিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে এই পার্কগুলো তৈরি করা হচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে  এই হাইটেক  পার্কে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ করে আস্থা অর্জন করতে পারবে।
 বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ) সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের মাধ্যমে স্থাপিত হচ্ছে ল্যাব ও প্রশিক্ষণ একাডেমি।এই ল্যাব ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  ডিজাইন করা হচ্ছ দেশের স্থানীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারের কথা মাথায় রেখে । ল্যাবগুলোতে গবেষণাসহ ইলেকট্রনিক্স চিপ ডিজাইনের উপর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ল্যাবে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী যেমন- টিভি, এলইডি কন্ট্রোলার, রিমোটসহ যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের চিপ  তৈরির করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্য দিকে বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রয়েছে আউটসোর্সিংয়ের বিপুল সম্ভাবনা। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বে সুনাম অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সরকার সমীক্ষা করে দেখেছে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৬৫ ভাগ জনসংখ্যার বয়স পঁচিশ বছরের নিচে। হয়ত এই সম্ভাবনাময় তরুণরা ভালোভাবে প্রশিক্ষণ পেলে আউটসোর্সিং করে ভাল আয় নিয়ে আসবে। যার সুফল পাবে সারা দেশ।  সে লক্ষ্যে হাইটেক পার্টগুলো সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের আওতায় আউট সোর্সিং এর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কালিয়াকৈরে দেশে সবচেয়ে বড় হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ২৩২ একর জমির উপর এর ডিজাইন হলেও  পর্যায়ক্রমে পার্কের আয়তন ৫০০ একরে উন্নীত করা হবে ।  এখানে তৈরি হয়েছে মূল প্রশাসনিক ভবন, গেটওয়ে, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র, টেলিফোন সাব এক্সচেঞ্জ, গভীর নলকূপসহ নানা অবকাঠামো। বিটিসিএলের  মাধ্যমে  দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পানি, গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই রয়েছে সেখানে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুেসবা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই পার্কের অদূরে একটি ৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুত্ বিভাগ। কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের সঙ্গে ৯৭ একর জমিতে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া এখানে আন্তর্জাতিকমানের ডাটা সেন্টার স্থাপন করার জন্য চীনা সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।  যেটি হবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ডাটা সেন্টার ।
রাজধানীর কাওরান বাজারে জনতা টাওয়ারে  প্রায় ৭২ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে দেশের প্রথম ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ তৈরি করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে যশোরের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক চালু করা হয়েছে।  শহরের নাজিরশংকরপুর এলাকায় ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলিকন ভ্যালির আদলে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক।এই সফটওয়্যার পার্কে ৫৫টি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানকে স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।   এই পার্কের মাধ্যমে  ৫ হাজার আইটি  প্রফেশনালের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি ১৫ তলা। এর পাশাপাশি তিন তারকা মানের একটি ১২ তলা ডরমেটরি ভবন রয়েছে। জাপানি উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী ডরমেটরি ভবনের ১১তলায় আন্তর্জাতিক মানের একটি জিম তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আধুনিক কনভেনশন সেন্টার ও আন্ডারগ্রাউন্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে করা হয়েছে ৩৩ কেভিএ পাওয়ার সাব- স্টেশন। এছাড়াও দুই হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে।
সিলেটে গড়ে তোলা হচ্ছে আর একটি  হাইটেক পার্ক। এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ১৬৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই হাইটেক পার্কটি  ২০২১ সালের মধ্যে  চালু হবার কথা রয়েছে।
নাটোরে তৈরি হচ্ছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। এর মধ্যে এই সেন্টারের  ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।  নাটোরের পরিত্যক্ত জেলখানায় ব্যবহারযোগ্য পুরনো ভবনগুলো মেরামত ও আধুনিকায়ন করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে সেন্টারটি।
রাজশাহীর  নবীনগরে গড়ে উঠছে বরেন্দ্র সিলিকন সিটি। ৩১ একর জমিতে একটি আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৮ দশমিক ৭০ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়ন করা হবে ২০১৯ সালের মধ্যে।

হাইটেক পার্ক জাতীয় রাজস্ব আয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বলে আশা করছে সরকার। হাইটেক পার্ক আমাদের অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত গতি আনবে, এটা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায়। কেননা এ পার্কগুলোতে  দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ হবে এবং রফতানিও বৃদ্ধি পাবে। হাইটেক পার্কগুলোতে যেসব পণ্য উৎপাদন হবে সেগুলোর চাহিদা দেশেও রয়েছে। দেশের হাইটেক পার্কগুলোতে প্রায় দশ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং এ খাত থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীও দেশের এই সম্পূর্ণ নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে কৌতূহলী ও আশাবাদী।

 

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক