হাকালুকি হাওর কোথায়?- ভ্রমণ সংক্রান্ত বিস্তারিত

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর হল হাকালুকি। এই হাওরটি এশিয়ার মহাদেশেরও অন্যতম মিঠাপানির হাওর । জীব বৈচিত্রের সমাহার আর মিষ্টি পানির মৎস্য প্রাপ্তির এক অভূতপূর্ব স্থান হাকালুকি হাওর। অতিথি পাখির কলরবে হাওর এলাকায় নৈশব্দের সৃষ্টি করে। বর্ষাকালে একে হাওর  না বলে এক আনায়াসে  সমূদ্র বলা যেতে পারে। জীব বৈচিত্রে ভরপুর এ হাওরে রয়েছে  নানা প্রজাতির মাছ ।  বর্ষা এবং শীত উভয় ঋতুতেই  প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এশিয়া মহাদেশ তথা বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ হাকালুকি থেকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপূর্ব লীলাভূমি হাওরটি বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রুপ  ধারণ করে ।

হাকালুকি হাওর কোথায়?

হাওরটি  দু’টি পাতা একটি কুড়ির এলাকা সিলেট বিভাগে  অবস্থিত। পূর্বে পাথারিয়া ও মাধব পাহাড় এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড় পরিবেষ্টিত হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার পাঁচটি উপজেলা জুড়ে এর অবস্থান। এ হাওরটি মৌলভীবাজার জেলার় বড়লেখা (৪০%), কুলাউড়া (৩০%), এবং সিলেট জেলার় ফেঞ্চুগঞ্জ(১৫%), গোলাপগঞ্জ (১০%) এবং বিয়ানীবাজার (৫%) জুড়ে বিস্তৃত।  ছোট-বড় ২৪০ টি বিল ও ছোট-বড় ১০ টি নদী নিয়ে গঠিত হাকালুকি হাওর বর্ষাকালে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিণত হয় এর মধ্যে  শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪,৪০০ হেক্টর।

হাকালুকি হাওরের নামকরণ

হাকালুকি হাওরের নামকরণ নিয়ে অনেক মজার মজার সব কাহিনী শোনা যায়। সংস্কৃত  সাগর শব্দটি থেকে “হাওর” শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধরা হয়।  সাগর থেকে পর্যায়ক্রমে সাগর>সাওর>হাওর শব্দে রুপান্তরিত  হয়েছে। প্রচলিত একটা তথ্য আছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজা ওমর মানিক্যের সৈন্যদের ভয়ে বড়লেখা এলাকার কুকি প্রধান হাঙ্গর সিং তখনকার এই হাওড় এলাকায় জঙ্গলপূর্ণ ও কর্দমাক্ত এলাকায় “লুকি দেয়” অর্থাৎ লুকিয়ে থাকে।  সময় পরিক্রমায় এই এলাকার নাম হয় “হাঙ্গর লুকি  যা পরে  হাকালুকি নামে পরিবর্তিত হয়। আরেক কাহিনীতে জানা যায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে প্রচন্ড এক ভূমিকম্পে “আকা” নামে এক নৃপতি ও তাঁর রাজত্ব মাটির নিচে সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। একালক্রমে এই তলিয়ে যাওয়া নিম্নভূমির নাম হয় “আকালুকি” বা হাকালুকি।  আরেকটি জনশ্রুতি অনুযায়ী এক সময় বড়লেখা থানার পশ্চিমাংশে “হেংকেল” নামে একটি উপজাতি বাস করত।  পরবর্তিতে এই “হেংকেলুকি” হাকালুকি নামে পরিনত হয়।  অপর একটি জনশ্রুতি মতে, একসময় এই হাওড়ের কাছাকাছি বসবাসকারী কুকি ও নাগা উপজাতি তাদের ভাষায় এই হাওড়ের নামকরণ করে “হাকালুকি”- যার পূর্ণ অর্থ লুকানো সম্পদ।

হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র

হাকালুকি হাওরের স্থায়ী জলাশয়গুলোতে নানা প্রজাতির উদ্ভিদের দেখা মিলে । এক সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয়, ভাসমান বড় বড় গাছপালা  যা সোয়াম্প ফরেস্টে (swamp forest) হিসেবে পরিচিত  তা  এখন আর নেই। তবে  চাতলা বিল-এ ছোট আকারের এরকম একটি ভাসমান বন আছে । হাকালুকি হাওরে ৫২৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪১৭ প্রজাতির পাখি রয়েছে।  এর মধ্যে ১১২ প্রজাতির অতিথি পাখি ও ৩০৫ প্রজাতির দেশীয় পাখি। এছাড়াও  ১৪১ প্রজাতির অনান্য বন্যপ্রাণী, ১০৭ প্রজাতির মাছ আছে , এর মধ্যে ৩২ প্রজাতি বিভিন্ন পর্যায়ে বিপন্নপ্রায়। এছাড়াও আছে নানা ধরনের কীট-পতঙ্গ, জলজ ও স্থলজ ক্ষুদ্র অনুজীব।

শীতকালে এ হাওরকে ঘিরে পাখিদের বিচরণে মুখরিত হয়ে উঠে পুরু এলাকা। শীতকালে বিস্তৃত এই হাওর ধু-ধু সবুজপ্রান্তর, কোথাও বা ধান ক্ষেত এবং খানাখন্দ নিচু ভূমি। হাকালুকি হাওর মাছের জন্য প্রসিদ্ধ। হাকালুকি হাওরটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত জলাভূমি। শীত মৌসুমে এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে প্রায় ২৫ প্রজাতির হাঁস এবং জলচর নানা অতিথি পাখি আসে। তাছাড়া স্থানীয় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি সারা বছর এখানে বসবাস করে।

বিলগুলিতে প্রায় সারাবছর পানি থাকে। হাওরের জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী ও পানাই নদী। এই বিলগুলি মৎস্য সম্পদের আধার হিসেবে পরিচিত। হাকালুকি হাওরে অনেক প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। চিতল, আইড়, বাউশ, পাবদা, মাগুর, শিং, কৈ প্রভৃতি মাছ এখানে রয়েছে। জলজ উদ্ভিদের মধ্যে বিলুপ্ত প্রায় মাকনা হাওর অঞ্চলের পুটি, হিঙ্গাজুর, হাওয়া প্রভৃতি বিলে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া শাপলা, শালুক, পদ্ম প্রভৃতি জলজ উদ্ভিদ ও আশাব্যঞ্জকহারে এখানে রয়েছে।এখান থেকে  বছরে প্রায় ২৫০০টন মাছ উৎপাদন হয়। তবে যথেচ্ছভাবে মাছ ধরার কারণে দেশী জাতের রানী, তুরাল, রাঁচি, বাতাসি, গলদাচিংড়ি, বাঘমাছ, চিতল ইত্যাদি মাছ আর এখন হাওরে পাওয়া যায় না বললেই চলে।

অতিথি পাখি

হাওরে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি জলচর পাখির। শীত মৌসুমে ৪৮ প্রজাতির প্রায় ১ লাখ পাখি আসে।এসব অতিথি পাখির  হাঁসের মধ্যে চখাচখী, রাজসরালী, গরাদমাথা রাজহাঁস, ধলাবেলে হাঁস, গাডওয়াল, ইউরেসীয় সিথীহাঁস, টিকিহাঁস, পাতিহাঁস ম্যার্গেঞ্জার প্রভৃতির দেখা মেলে। দেশি প্রজাতির মধ্যে বেগুনি কালেম, পানমুরসী, পাতিকুট, ডাহুক, ইউরেশীয় মুরগি চ্যাগা, ল্যাঞ্জা চ্যাগা, রাঙ্গাচ্যাগা, জলাপিপি, ময়ূরলেজা পিপি, পাতি জিরিয়া,  হাট্টিটি, ভূবনচিল, শঙ্খচিল, বিলুপ্ত প্রায় কুড়াল ঈগল, বড়খোঁপা ডুবুরি, ছোট পানকৌড়ি, খয়রা বক, ধূসর বক, শামুক খোল প্রভৃতি পাখি অন্যতম।

হাকালুকি হাওরে ভ্রমনের সেরা সময়

প্রত্যেকটা পর্যটন এরিয়ার সৌন্দর্য্যের স্বকীয়তার জন্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু সময়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে অপূর্ব লীলাভূমি হাওরটি বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে অপরূপ দৃশ্যের।  আপনি যদি হাকালুকি হাওরে যেতে চান তবে  নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি  মাসের মাঝামাঝি সময় ভ্রমণের জন্য সেরা হবে। এসময় এখানে প্রচুর পরিমাণে অতিথি পাখির কলকাকলিতে চারদিক মুখরিত থাকে  থাকে। জলজ উদ্ভিদ, মাছপ্রেমীদের জন্য এটা সেরা মৌসুম হল এই সময়টি। আপনি চাইলে বর্ষাকালেও ভ্রমণ করতে পারেন ।

খাওয়া-দাওয়া

যদি সাথে করে রেশন নিয়ে আসেন সেক্ষেত্রে  হাওর এলাকার শ্রমজীবী মানুষকে সামান্য কিছু টাকা দিলে আপনাদের পছন্দ মতো টাটকা মাছের ঝোলের তরকারি  দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করবে।আবার চাইলে  রেশন না এনে ওদের সঙ্গেও সুস্বাদু খাবার শেয়ার করা যাবে অনায়াসে। আবার চাইলে বাজার করে নৌকায় উঠতে পারেন  এবং মাঝিকে দিয়ে দিলে   ওরা রান্না করে দিবে। নৌকায় উঠার সময় সঙ্গে চা, নাশতা, বিস্কুট, পাউরুটি, বিশুদ্ধ পানি, কোমল পানীয় ইত্যাদি নিয়ে উঠা ভাল কারন হাওরে আপনি চাইলেই খাবার পাবেন না। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন, পলিথিন,চিপসের প্যাকেট, চানাচুরের প্যাকেট, সিগারেট প্যাকেট, বিস্কিটের প্যাকেট অন্য যে কোন পচনরোধী সামগ্রী হাওরে বা আসে পাসে ফেলে আসবেন না। কারন পর্যটনএলাকাগুলো পরিষ্কার রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ভ্রমনের সময় সংগে যা নিতে হবে

আপনি যদি ব্যাকপ্যাকার হন সেক্ষেত্রে  শীতে তাবু করার জন্যে ভাল একটা তাবু, ব্যাকপ্যাক, শীতের প্রয়োজনীয় জামা কাপড় নিয়ে আসুন। এছাড়া গামছা, কাদা-পানিতে চলা চল উপযোগী রাবারের জুতা  পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য বাইনোকুলার, ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাটারি, মেমরিকার্ড, শুকনো খাবার, চা, চিনি, পর্যান্ত  রেশন, প্রাথমিক চিকিৎসার দরকারী সরঞ্জাম, ঔষধ ইত্যাদি নিতে পারেন।

কোথায় থাকবেন?

হাওর এলাকায় বিল ইজারাদারদের দোচালা কুটিরগুলোয় দু‘চারজন পর্যটক থাকার জন্য খুব চমৎকার একটি ব্যবস্থা। সেক্ষেত্রে অবশ্যই  মালিকের অনুমতি নিতে হবে । তবে হাওরের সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্যে  সবচেয়ে ভাল হয় বিল এলাকায় তাঁবু খাটিয়ে থাকা । জোছনা রাতে তাঁবুতে যাপন, পাখি পর্যবেক্ষণ যে কোনও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটককে বিমোহিত করবে।

আশে-পাশে একই সাথে যে এলাকাগুলো ভ্রমণ করতে পারেন

আপনার হাতে যদি যথেষ্ট সময় থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি চাইলে মাধবকুন্ড প্রাকৃতিক ঝর্ণা, গগণটিলা ও পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চল, হাইল হাওর, চা ও রাবার বাগান এবং শ্রমিকদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা, লাউয়াছড়া উদ্যান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য খ্যাত রেমা-কালেঙ্গা , খাসিয়া ও মনিপুরী সংস্কৃতি ও জীবনধারা পানপুঞ্জি ইত্যাদি অবলোকন করে আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন 

ট্রেনে গমনঃ রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ৩টি ট্রেন  ছেড়ে যায় । ট্রেনের ভাড়া আসন ভেদে ১২০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে ।  আর ট্রেনে গেলে সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা। ট্রেনে গেলে রাত সাড়ে ৯টার উপবন এক্সপ্রেসে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। সে ক্ষেত্রে আপনাকে নামতে হবে মাইজগাও ষ্টেশনে। এটি সিলেটের ঠিক আগের স্টেশন । মাইজগাও স্টেশন থেকে দুটি উপায়ে হাকালুকি যাওয়া যায়  ।

প্রথমত, ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার হয়ে : মাইজগাও স্টেশনে নামার পর কাউকে জিজ্ঞেস করলে  গাছ পালা ঘেরা একটা রাস্তা দেখিয়ে দিবে এটি ধরে প্রায় ১ কি:মি: হাটলেই পৌছে যাবেন ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার।  আপনি চাইলে  ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাতে যেতে পারেন।   অটো রিক্সাতে ১০ মিনিটে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার চলে যাবেন।

বাজারে এসে হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা সেরে চলে যান সামনের নৌকাঘাটে । এখান থেকে সারাদিনের জন্য নৌকা দরদাম করে উঠে পড়ুন । ১০-১৫ জনের বড় গ্রুপ হলে সে ক্ষেত্রে  বড় ছই ওয়ালা ট্রলার  নিয়ে নিন (অবশ্যই দরদাম করে উঠবেন)। কিছু খাবার এবং পানি কিনে নেওয়া উচিত কারন হাওরে কোন দোকানপাঠ পাবেন না।  নৌকায় উঠে কুশিয়ারা নদী পাড়ি দিয়ে হাওরে চলে যান । উল্লেখ্য কুশিয়ারা পার হতে প্রায় ৪০ মিনিট লাগবে।

আবার যদি সিলেট চলে যান সরাসরি ট্রেনে ক্ষেত্রে  সিলেট  শহর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি ফেঞ্চুগঞ্জ আসতে হবে। । সিলেট হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর থেকে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিক্সা অথবা লেগুনা দিয়ে মাইজগাঁও বাজারে যেতে হবে।

দ্বিতীয়ত, গিলাছড়া বাজার হয়ে : কুশিয়ারা নদীর ৪০ মিনিট  সময় বাঁচাতে চাইলে  মাইজগাও থেকে সরাসারি অটো রিক্সা নিয়ে চলে আসতে পারেন গিলাছড়া বাজারে। গিলাছড়া বাজার এর কাছ থেকেই হাওড় শুরু। তবে সমস্যা হলো যদি বড় গ্রুপ যেতে চান তবে সাধারনত এখানে বড় বোট পাওয়া যায় না।

বাসে যাওয়াঃ বাসে করে হাওরে যেতে পারেন। বাসে যেতে চাইলে অনেকগুলো অপশন পাবেন ।  এর মধ্যে শ্যামলী, রূপসী বাংলা, হানিফ, সোহাগ, ইউনিক, উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আরো একাধিক বেনামি  বাস সার্ভিস রয়েছে, যেগুলো অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় যাত্রী আনা-নেয়া করে। খুব সকাল থেকে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত এসব বাস পাবেন। যানজট ভেদে বাসে যেতে সময় লাগতে পারে ৫-৭ ঘন্টা । বাসে গেলে কুলাউড়া নেমে যাওয়াটা ভাল ।

কুলাউড়া থেকে অটোরিক্সাযোগে  সরাসরি হাওরে চলে যেতে পারেন। অথবা সেখানে নেমে অটোরিক্সা নিয়ে অথবা বাসে চলে আসতে পারেন বড়লেখা। সেক্ষেত্রে অটোরিক্সার ভাড়া হবে জনপ্রতি ৫০ টাকার মত । বড়লেখা পৌঁছার পর চলে যেতে পারেন শহর থেকে ১১ কি.মি দূরে হাল্লা এলাকায়। হল্লাতে রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র। এই পর্যটনকেন্দ্রে ওয়াচ টাওয়ার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই স্থান থেকেই নৌকা ভাড়া নিয়ে হাওরে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

বর্ষা এবং শীত উভয় ঋতুতেই ঘুরে আসতে পারেন এশিয়া মহাদেশ তথা বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ হাকালুকি থেকে। বর্ষাকালে এই হাওর ধারণ করে এক অনবদ্য রূপ। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। মনে হবে সে এক বিশাল সমুদ্র।   হাওর সাজে অপরূপ সাঁজে। আবার শীতকালে  হাওরের দিগন্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বিলের পাড়গুলো ধারন করে এক দৃষ্টিনন্দনরুপ । চারধারে জেগে থাকা সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়া কিঞ্চিত উঁচুভূমি বিলের পানিতে প্রতিচ্ছবি ফেলে সৃষ্টি করে অপরূপ দৃশ্যের। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় হাওরের জলরাশির মাঝে সূর্যের প্রতিচ্ছবি সৃষ্টি করে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য । শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে হাওর যেনো পরিণত হয় স্বর্গোদ্যানে। তবে বর্ষা মওসুমেও কিছু অতিথি পাখির দেখা মিলে ।

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক