সাধারণ সৈনিক থেকে পুরো বিশ্ব কাপিয়ে দেওয়া একজন হিটলার

অ্যাডলফ হিটলার আর ওসামা বিন লাদেনের মধ্যে একটা মিল আছে। দুজনেই অফিশিয়ালি মৃত ঘোষিত হয়েছিলেন মে মাসের এক তারিখে। এডলফ হিটলার কে চিনেন না, আশা করি এমন কোন  লোক নেই। অনেকের চোখে তিনি হিরো,আবার অনেকের চোখে তিনি ভিলেন।

যাই হোক না কেন পৃথিবীর ইতিহাসে তার চেয়ে ঘৃনিত কোন ব্যাক্তির জন্ম হয়নি কখনো। এক সময় চেঙ্গিস খানকে ধরা হয় নৃশংসতার গুরু। আর সেই চেঙ্গিস খান নৃশংসতায় তার কাছে হার মেনেছিলো। তার সৃষ্টি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নির্মমতায় রক্তে ভেসে গিয়েছিলো পৃথিবীর অর্ধেক জনপদ। হত্যা করেছিলেন পৃথিবীর প্রায় সব ইহুদীকে।

এডলফ হিটলারকে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম রাজনৈতিক নেতা ও ঘৃণ্যতম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদি তার জন্ম অস্ট্রিয়াতে  তারপরও জার্মানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার উত্থান ঘটে ।  একটি বিশেষ গোষ্ঠী ও মতাদর্শের নেতা ছিলেন তিনি, পরবর্তীতে এই মতাদর্শই ‘নাৎসি আন্দোলন’ হিসেবে রূপ লাভ করে।

নেতা হিসেবে ঘৃণিত হলেও হিটলার বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে ছিলেন অসাধারন । তিনি একজন চমৎকার বক্তা হিসেবে পরিচিত। যদি কখনো কাউকে কিছু বুঝিয়ে কিছু বুঝানোর প্রয়োজন হত তাহলে খুব চমৎকারভাবে বুঝিয়ে তাক সেই ধারণায় প্রভাবিত করে ফেলতে পারতেন ।

একটা সময় ছিল যখন ‘হিটলার’ নামটিতে কোনো নেতিবাচকতা ছিল না। কিন্তু নাৎসি নেতা হিটলার তার জীবনে এত পরিমাণ ঘৃণ্য ও জঘন্য কাজ করেছেন যে পরবর্তীতে ‘হিটলার’ শব্দটিই ঘৃণ্য ও নেতিবাচক হিসেবে রূপ লাভ করেছে।

তবে হিটলারও আর দশজনটা মানুষের মতই ছিলেন। তারও ছেলেবেলা আছে। তারও একগুচ্ছ ইতিহাস আছে। হিটলারের ‘হিটলার’ হয়ে উঠার আগের ইতিহাস, আর পরের ইতিহাসও আছে।আছে পারিবারিক ইতিহাস, আছে বংশগত ইতিহাস। হিটলারের বংশ সম্বন্ধে খুব বেশি জানা যায় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক হিটলার সম্পর্কে কিছ তথ্য।

তার কৃতকর্মের জন্য তার বংশধরদের ওপর চেপে আছে এক ভয়ানক কলংক। তবে এতসব ছাপিয়েও হিটলারের পরিবারে এমন কিছু ব্যাপার আছে যা মোটামুটি বিস্ময়কর। সেরকমই কিছু তথ্য তুলে ধরছি এখানে।

হিটলারের ব্যক্তিগত জীবন

হিটলারের জন্ম ১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল অস্ট্রিয়া ব্যাভেরিয়ার মাঝামাঝি ব্রনাউ নামে এক আধা গ্রামে। তাের হিটলার ছিলেন তার বাবার তৃতীয় স্ত্রীর তৃতীয় সন্তান। হিটলারের বাবা Alois এর আসল বাবা কে তা কখনোই জানা যাইনি। তাই বৈধভাবে Alois এর কোন সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না। তিনি জীবনের অনেকটা সময় শেষ নাম হিসেবে মায়ের নাম Schicklgruber ব্যবহার করেছিলেন। ১৮৭৬ সালেই Alois প্রথম হিটলার নামটি গ্রহণ করেন। তার ছেলে অ্যাডলফও কখনও হিটলার ছাড়া অন্য কোন শেষ নাম ব্যবহার করেনি। হিটলারের বাবা সরকারী কাস্টমসে সামান্য চাকরি করত। যা আয় করত তা দিয়ে তিন বউ আর তাদের ছেলেমেয়েদের দুই বেলা খাবার সংকুলানই হতো না।

হিটলারের মা বাবা (starschanges.com)

হিটলারের মা বাবা

এডলফের বাবা-মায়ের মোট ছয়টি সন্তান ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এডলফ ও তার বোন পলা-ই পূর্ণবয়স্ক হতে পেরেছেন। বাকি চার জন শিশুকালেই মারা যায়। এডলফের জন্মের আগে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুস্তাভ এবং আইডা মৃত্যুবরণ করে। হাইড্রোসেফালাসে আক্রান্ত হয়ে তার আরেকটি ভাই অট্টো মৃত্যুবরণ করেন। ৬ বছর বয়সে এডমন্ড নামে আরেকটি ভাই মৃত্যুবরণ করে ১৯০০ সালে। ঐ সময়ে শিশুমৃত্যুর হার বেশি ছিল। কিন্তু তার পরেও এক দম্পতির চার চারটি সন্তান মারা যাওয়া বিরলই ছিল সে সময়ে।

হিটলারের বোন পাউলার সাথে (starschanges.com)

চার বছরের ছেলেটা পানিতে পড়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করেন এক ক্যাথলিক ধর্মযাজক। সাদা পোশাক পরা মানুষটার দারুণ ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছিল ছোট্ট ছেলেটা, আর কৃতজ্ঞতাবশত ঠিক করেছিল বড় হলে সেও এমন ধর্মযাজক হবে।  ঘটনাটি তার মনকে আলোড়িত করে। মনের কৃতজ্ঞতা আর ভালোলাগা থেকেই তিনি বড় হয়ে ধর্মযাজক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু বড় হয়ে একটা পর্যায়ে নিজেই ঈশ্বর হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন বলে মনে করেন অনেকে।

ছয় বছর বয়সে স্থানীয় একটি অবৈতনিক স্কুলে ভর্তি হলেন। ছেলেবেলা থেকেই হিটলার ছিলেন একগুঁয়ে, জেদি আর রগচটা। কারনে অকারনে সামান্য ব্যাপারেই রেগে উঠতেন। অকারণে শিক্ষকদের সঙ্গে তর্ক করতেন। পড়াশোনাতে যে তার মেধা ছিল না এমন নয়। কিন্তু পড়াশোনার চেয়ে তাকে বেশি আকৃষ্ট করত ছবি আঁকা। যখনই সময় পেতেন কাগজ পেন্সিল নিয়ে ছবি আঁকতেন।

বয়স যখন এগারো তখন ঠিক করলেন আর একাডেমিক নয় পুরুপুরি ছবি আঁকাতে লিপ্ত হবে।  বাবার ইচ্ছা ছিল স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে কোনো কাজকর্ম জুটিয়ে নেবে। বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই স্কুল ছেড়ে দিলেন হিটলার। স্থানীয় এক আর্ট স্কুলে ভর্তির চেষ্টা করলেন।

কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেন না। একটা বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হলেন। কিন্তু কয়েক মাস  যেতে না যেতেই অর্থের অভাবে স্কুল ছেড়ে দিতে হল।   হিটলারের বাবা ১৯০৩ সালে মারা যান। বাবার রেখে যাওয়া পেনশন ও সঞ্চয়ের অর্থ দিয়েই তাদের সংসার কোনমতে চলতে থাকে। অনেক ভোগান্তির পর ১৯০৭ সালে তার মাও মারা যান ফলে হিটলার নিঃস্ব হয়ে পড়েন। মা মারা গেলে সংসারের সব বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়।

এবার ভাগ্য অন্বেষণে বেরিয়ে পড়লেন হিটলার। ভাগ্যের সন্ধানে ভিয়েনাতে চলে এলেন। ভিয়েনাতে এসে তিনি প্রথমে মজুরের কাজ করতেন। কখনো মাল বইতেন। এরপর রং বিক্রি করতে আরম্ভ করলেন। পড়াশোনায় বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি।  কিন্তু চিত্রশিল্পী হবার স্বপ্ন নিয়ে আবার লিন্‌ৎসে ফিরে আসেন। শিল্পী হিসেবেই তার বেশ সম্ভাবনা ছিল। এ

এ উদ্দেশ্যে তিনি দুইবার “Academy of fine arts Viyena” তে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিলেন ১৯০৭ ও ১৯০৮ সালে এবং দ্বিতীয়বার তিনি খুবই কঠোর ভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণেরই অনুমতি পাননি। কিন্তু এখনো শিল্প বোদ্ধারা মনে করেন যে, হিটলার ছিলেন একজন গুণী শিল্পী। তিনি একশো এর অধিক চিত্রকর্ম ও পোস্টকার্ড তৈরি করেছিলেন।  কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায়  উত্তীর্ন হতে না পেরে তাই হিটলার আবার ভিয়েনায় চলে যান।

ভিয়েনাতে থাকার সময়েই তার মনের মধ্যে প্রথম জেগে ওঠে ইহুদি বিদ্বেষ। তখন জার্মানির অধিকাংশ কলকারখানা, সংবাদপত্রের মালিক ছিল ইহুদিরা।তবে তার মনে কেন ইহুদি বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় তা নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। দেশের অর্থনীতির অনেকখানিই তারা নিয়ন্ত্রণ করত। হিটলার কিছুতেই মানতে পারছিলেন না, জার্মান দেশে বসে ইহুদিরা জার্মানদের উপরে প্রভুত্ব করবে।

হিটলারের জার্মান আগমন ও উত্থান

১৯১২ সালে তিনি ভিয়েনা ছেড়ে এলেন জার্মানির মিউনিখে। দুঃখ-কষ্ট আর বেঁচে থাকার সংগ্রামে ভবগুরের মত আরো দুই বছর কেটে গেল। ১৯১৪ সালে শুরু হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। হিটলার সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে যোগ দিলেন।  ১৬তম বাভারিয়ান রিজার্ভ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সৈনিক ছিল হিটলার। যুদ্ধের পুরোটা সময় জার্মানিকে পক্ষে কাজ করে গেছেন।

১৯১৬ সালের অক্টোবরে আহত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন বিশ্রামে ছিলেন। এছাড়া যুদ্ধের বাকিটা সময় সক্রিয় থেকেছেন। অধিকাংশ সময়ই সম্মুখ সারিতে থেকে হেডকোয়ার্টার্স রানার হিসেবে কাজ করেছেন। যুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯১৪ সালের ডিসেম্বরে সেকেন্ড ক্লাস আয়রন ক্রস লাভ করেন। ১৯১৮ সালের আগস্টে তাকে ফার্স্ট ক্লাস আয়রন ক্রস দেয়া হয়। একজন করপোরালের পক্ষে এটা বেশ বড় প্রাপ্তি।  এই যুদ্ধে সাহস ও বীরত্বের পরিচয় দেখালেও তার কোনো পদোন্নতি হয়নি।

১ম বিশ্বযুদ্ধ  শেষ হল।  জার্মান জুড়ে দেখা দিল হাহাকার আর বিশৃঙ্খলা। এর মধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল নানা বিপ্লবী দল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার জন্য হিটলারকে নিয়োগ করলেন কর্তৃপক্ষ। সেই সময় প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল লেবার পার্টি। তিনি সেই পার্টির সদস্য হলেন। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সেই পার্টিতে হিটলার নিজের অস্থান দৃঢ় করে নিলেন । এক বছরের মধ্যেই তিনি হলেন পার্টিপ্রধান।  নেতা হয়েই তিনি দলের নতুন নাম রাখেন ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স পার্টি’। পরবর্তীকালে এই দলকেই বলা হতো ‘নাৎসি । হিটলার নাৎসি দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং দলীয় প্রধান তথা ফ্যুয়েরার হিসেবে অধিষ্ঠিত হন।

১৯২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম নাৎসি দলের সভা ডাকা হল । এ সভায় হিটলার প্রকাশ করলেন তার পঁচিশ দফা দাবি। এরপর হিটলার প্রকাশ করলেন স্বস্তিকা চিহ্নযুক্ত দলের পতাকা। ক্রমশই নাৎসি দলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তিন বছরের মধ্যেই দলের সদস্য হলো প্রায় ৫৬০০০ এবং এটি জার্মান রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করল।

এ সময় হিটলার একটি আধা সামরিক বাহিনী গঠন করে। এই বাহিনী গঠিত হয় মূলত প্রাক্তন আধা সামরিক কর্মচারী ও বেকার যুবকদের নিয়ে। তখন এ বাহিনী AS নামে পরিচিত হয়। শীঘ্রই এই বাহিনীর সহায়তায় জার্মানির রাজনৈতিক সমাজে হিটলার বেশ প্রভবশালী হয়ে ওঠেন ।

হিটলার চেয়েছিলেন মিউনিখে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব যেন না থাকে। এ উদ্দেশ্যে তারা ১৯২৪ সালে জার্মান সেনাধ্যক্ষ লুন্ডেনডর্ফ ও অন্যকয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় বলপূর্বক ক্ষমতা দখলের জন্যে একটি অভ্যুত্থান করে । একটি ক্ষুদ্র আন্দোলন ও কয়েকজনের মৃত্যর পর ‘বিয়ার হল অভ্যুত্থান’ নামে পরিচিত সেনা অভ্যুত্থান টি ব্যর্থতার পর্যবসিত হয়।রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে হিটলারকে গ্রেফতার ও সাজা হিসেবে ৯ মাসের কারদণ্ড দেওয়া হয়।

তাকে এক বছরের জন্য ল্যান্ডসবার্গের পুরনো দুর্গে বন্দি করে রাখা হলো। কারাগারে বসে হিটলার Mein Kampf নামে একটি আত্মজীবনী লেখেন । বইটিতে হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, ইহুদী বিদ্বেষ, শ্রেষ্ঠ জাতিস্বত্ত্বার বিষয় সমূহ এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও জার্মানির পূর্বাংশ রাশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন। অযোক্তিক আকাশকুসুম ও গাঁজাখুরি কল্পনা এবং ব্যকরনগত ভুল থাকার পরও ‘মাইন ক্যাম্ফ’ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জার্মান জাতির কাছে আশার আলোকবর্তিকা হিসেবে স্থান করে নেয়। এ বইটি তরুন জার্মানরা সাদরে গ্রহণ করে।

জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তার উগ্র স্পষ্ট মতবাদ, বলিষ্ঠ বক্তব্য জার্মানদের আকৃষ্ট করল। দলে দলে যুবক তার দলের সদস্য হতে আরম্ভ করল। সমস্ত দেশে জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠলেন হিটলার।

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে স্ট্রেসম্যানের অকস্মাৎ মৃত্যু হলে জার্মানিতে প্রজাতন্ত্র রক্ষার আর কোনো উপর্যুক্ত কোনো লোকছিলো না ।১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে জার্মানিতে ভয়াবহ অর্থমন্দা দেখা দেয়। এ অবস্থায় তাদের অর্থনীতি খুব বাজে অবস্থায় পতিত হয়। ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিকে ঋণ স্বরুপ অর্থ সাহায্য দেওয়ার অক্ষমতা প্রকাশ করলে জার্মানীর অর্থনীতিতে ধ্বস নামে। ফলে জার্মানির উপর ধার্য করা ক্ষতিপূরন তারা দিতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এ কারনে ১৯৩১ সালে তারা কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করে। অর্থনৈতিক মন্দার ফলে এই সরকারের প্রতি জার্মান জনগনের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। এর সুযোগে ১৯৩০ সালের নির্বাচনে নাৎসি ও কমিউনিস্ট দল জার্মান বহু আসনে জয়ী হয়।

১৯৩২ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোট পেলেন কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন না। হিটলার বুঝতে পারল ক্ষমতা অর্জন করতে গেলে অন্য পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে। কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়ায় হিটলার পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন। এবার ক্ষমতা দখলের জন্য শুরু হলো তার ঘৃণ্য রাজনৈতিক চক্রান্ত। বিরোধীদের অনেকেই খুন হলেন। অনেকে মিথ্যা অভিযোগে জেলে গেল। বিরোধী দলের মধ্যে নিজের দলের লোক প্রবেশ করিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলেন। অল্পদিনের মধ্যেই বিরোধী পক্ষকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে হিটলার হয়ে উঠলেন শুধু নাৎসি দলের নয়, সমস্ত জার্মানির ভাগ্যবিধাতা।

বৃদ্ধ প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ পরিস্থিতির চাপে পড়ে হিটলারকে প্রধানমন্ত্রী তথা চ্যান্সেলর করতে বাধ্য হন । ১৯৩৩ সালের অক্টোবরে হিটলার জাতিপুঞ্জ থেকে জার্মানির সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।  ১৯৩৪ সালের ২ আগস্ট হিন্ডেনবার্গ মারা গেলে হিটলার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয় পদ একীভূত করে জার্মানির সর্বময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

১৯৩৩ সালে হিটলার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জার্মানির হৃৎ গৌরব পুনরুদ্ধার করার সংকল্প গ্রহণ করেন এবং তিনি একে একে ভার্সাই চুক্তির শর্তগুলো মানতে অস্বীকার করে নিজের শক্তি ক্ষমতা বিস্তারে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। হিটলার তার সমস্ত ক্ষমতা নিয়োগ করলেন দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে। তার সহযোগী হলেন কয়েকজন সুদক্ষ সেনানায়ক এবং প্রচারবিদ। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত প্রদেশে বিশাল সৈন্য সমাবেশ করলেন। কিছুদিনের মধ্যেই সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করে রাইনল্যান্ড অধিকার করলেন। অস্ট্রিয়া ও ইতালি ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ হলো জার্মানির সাথে

হিটলারের এই উত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে কাজ করেছিল ইহুদিদের বিরুদ্ধে তার প্রচার। জার্মানদের মধ্যে হিটলার ইহুদি বিদ্বেষের বীজকে রোপণ করে দেন। দেশ থেকে ইহুদি বিতাড়নই ছিল তার নাৎসি বাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য। দেশের  আনাচে কানাচে ইহুদি বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। শুরু হলো তাদের ওপর লুটতরাজ, হত্যা।

হিটলার চেয়েছিলেন এভাবে ইহুদিদের দেশ থেকে বিতাড়ন করবেন। কিন্তু কোনো মানুষই সহজে নিজের আশ্রয়স্থল ত্যাগ করতে চায় না। ১৯৩৫ সালে নতুন আইন চালু করলেন হিটলার। তাতে দেশের নাগরিকদের দুটি ভাগে ভাগ করা হলো, জেন্টিল আর জু। জেন্টিল অর্থাৎ জার্মান, তারাই খাঁটি আর্য, জু হলো ইহুদিরা। তারা শুধুমাত্র জার্মান দেশের বসবাসকারী, এদেশের নাগরিক নয়। প্রয়োজনে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। দেশজুড়ে জার্মানদের মধ্যে গড়ে তোলা হলো তীব্র ইহুদি বিদ্বেষী মনোভাব। ইহুদীরে নিয়ে আমরা পরে আলোকপাত করব।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ইউরোপের মিত্রপক্ষ ও জার্মানদের মধ্যে যে ভার্সাই চুক্তি হয়েছিল তাতে প্রকৃতপক্ষে জার্মানির সমস্ত ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছিল। রাইন ভূমিকে সেনামুক্ত করার কথা ও জার্মানিকে যুদ্ধ শুরুর অপরাধে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করে জার্মানির উপর জোর পূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ভার্সাই চুক্তির ধারাগুলো দেখে তিনি অবাক-বিস্মিত ও মনে মনে রাগান্বিত হন।

১৯৩৩ সালে হিটলার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জার্মানির হৃৎ গৌরব পুনরুদ্ধার করার সংকল্প গ্রহণ করেন এবং তিনি একে একে ভার্সাই চুক্তির শর্তগুলো মানতে অস্বীকার করেনিজের শক্তি ক্ষমতা বিস্তারে মনোযোগী হয়ে ওঠেন।১৯৩৪ সালে হিটলার রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে নিজেকে জার্মানির ফুয়েরার হিসেবে ঘোষণা করেন এবং অল্পদিনের মধ্যে নিজেকে দেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। তার এই সাফল্যের মূলে ছিল জনগণকে উদ্দীপিত করার ক্ষমতা। তিনি দেশের প্রান্তে প্রান্তে ঘুরে ঘুরে জনগণের কাছে বলতেন ভয়াবহ বেকারত্বের কথা, দারিদ্র্যের কথা, নানা অভাব-অভিযোগের কথা।হিটলার তার সমস্ত ক্ষমতা নিয়োগ করলেন দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে। তার সহযোগী হলেন কয়েকজন সুদক্ষ সেনানায়ক এবং প্রচারবিদ। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত প্রদেশে বিশাল সৈন্য সমাবেশ করলেন।

কিছুদিনের মধ্যেই সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করে রাইনল্যান্ড অধিকার করলেন। অস্ট্রিয়া ও ইতালি ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ হলো জার্মানির সাথে।ইতালির সর্বাধিনায়ক ছিলেন মুসোলিনি। একদিকে ইতালির ফ্যাসিবাদী শক্তি অন্যদিকে নাৎসি জার্মানি।

বিশ্বজয়ের আকাঙ্ক্ষায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে ইতালি। প্রথমে আলবেনিয়া ও পরে ইথিওপিয়ার বেশ কিছু অংশ দখল করে নেয়।অবশেষে হিটলার পোল্যান্ডের কাছে ডানজিগ ও পোলিশ করিডর দাবি করলেন। যাতে এই অঞ্চলে সৈন্য সমাবেশ ঘটাতে পারেন। পোল্যান্ডের সরকার তার এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন। পোল্যান্ডের ধারণা ছিল হিটলার তার দেশ আক্রমণ করলে ইউরোপের অন্য সব শক্তি তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে। তাদের সম্মিলিত শক্তির সামনে জার্মান বাহিনী পরাজিত হবে।

 ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে জার্মান বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করল এবং এই দিনটি থেকেই শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।  অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স পোল্যান্ডের সাথে সহায়তা চুক্তি করেছিল  ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড অভিযান শুরু করেছিল আর ৩রা সেপ্টেম্বর মিত্রবাহিনী জার্মানীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল এবং শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। 
১৫ লাখ জার্মান সেনা সীমান্তে অবস্থান নেয় ও ১৩০০ যুদ্ধবিমান পোল্যান্ডে বোমা ফেলে পুরো দেশকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলে। ফরাসি ও ব্রিটিশ বাহিনী সাহায্য করবার সুযোগ পেল না। সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিষ্ক্রিয় রাখার জন্য জার্মানী অনাক্রমণ চুক্তি করে। তৎক্ষণাৎ ফ্রান্স ও ব্রিটেন পোল্যান্ড থেকে জার্মান সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়। হিটলার জার্মানিতে ইহুদীদের চলাচলের উপর কার্ফ্যু জারি করে।
 পোলান্ডের পরে হিটলার দৃষ্টি দেয় নরওয়েতে। সুইডেন থেকে নারভিক বন্দর ও রেলপথে জার্মানে কয়লা প্রবেশ করত। এক সময় প্রকাশ পায় মিত্র পক্ষ নারভিকের ঠিক বাইরের সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনাটি ফাঁস হয়ে গেলে হিটলার ফ্রান্স আক্রমণের ইচ্ছা স্থগিত রেখে নরওয়ে অভিযানের নির্দেশ দিল। ১৯৪০ সালের ৯ই এপ্রিল সুইডেনের সাথে যোগাযোগের সুবিধার্থে একই সাথে নরওয়ে ও ডেনমার্কে আগ্রাসন শুরু করে।
এ সময় ডেনমার্ক বিনা লড়াইয়ে আত্মসমর্পন করে। অন্য দিকে নরওয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। মিত্র বাহিনী নরওয়েতে আসলে এক সময় পিছিয়ে যায়। নরওয়ে হিটলারের কাছে আত্মসমর্থন করে।

এবার ১৯৪০ সালের ১০ মে এক সাথে চারটি দেশ আক্রমণ করে জার্মানী। ফরাসিরা ভেবেছিল আক্রমণ আসবে ফ্রান্স জার্মানী সীমান্তের রণরেখা ম্যাগিনোট লাইনের ওপর। অথবা বেলজিয়ামের ভিতর দিয়ে আরদেন হয়ে। তারা ভেবেছিল জার্মানীর প্যানজার বাহিনী আরদেনের জঙ্গল ভেদ করে আসতে পারবে না।

১৪ই মে নেদারল্যান্ডের পতন ঘটলো। ১৪ই মে আরদেন থেকে জার্মান বাহিনী বেরিয়ে এসে দিশেহারা মিত্র সেনাদের ছিন্নবিছিন্ন করে প্রবল বেগে এগোতে থাকল। ডানকার্ক বন্দর দিয়ে তড়িঘড়ি ফরাসি ও ব্রিটিশ অভিযানবাহিনীর সেনা পশ্চাদপসরণ শুরু হলো। ২৬শে মে থেকে ৪ঠা জুন ইতিহাসের বৃহত্তম সেনা অপসারণের কাজ শেষ হলো। তবে ফেলে আসতে হলো বেশীরভাগ যন্ত্রাদি। এরমাঝে ২৭শে মে বেলজিয়ামের পতন হলো।

ছবিঃ Rolling Stone

১৪ই জুন প্যারিসের পতন ঘটল। ১৬ই জুন প্রধানমন্ত্রী রেনো পদত্যাগ করলেন । ২২শে জুন জার্মান-ফরাসি এবং ২৪শে জুন জার্মান-ইতালীয় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফ্রান্সের বেশিরভাগ এলাকা জার্মানী নিয়ে নেয়। অল্প কিছু জায়গা জুড়ে পেঁত্যা একটি নিরপেক্ষ কিন্তু জার্মানীর প্রভাবাধীন সরকার গঠন করেন। এটি ভিশি ফ্রান্স নামে পরিচিত হয়।

১২ই অক্টোবর ১৯৪০ বুখারেস্টে জার্মান সৈন্য অবতরণ করে। এতে কুটনৈতিক ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিরক্ত মুসোলিনি ১৯৪০ সালের ২৮ অক্টোবর আলবেনিয়া থেকে গ্রিস আক্রমণ করলেন। কিন্তু গ্রিকরা যে শুধু আক্রমণ প্রতিহত করল তাই না, উল্টো ডিসেম্বরের মধ্যে আলবেনিয়ার এক-তৃতীয়াংশ দখল করে গেলে।

ফ্রান্সের পতনের পর ১৯৪১ সালের ২২ জুন সমস্ত চুক্তি ভঙ্গ করে হিটলার রাশিয়া আক্রমণ করল।অপারেশন বারবারোসা  নামে এই অপারেশেনে  তিনটি বড় বড় সেনা দলে বিভক্ত জার্মান বাহিনীর সংখ্যা ত্রিশ লক্ষের কম ছিল না। মোট দেড়শটি বিভিন্ন ডিভিশনের সাথে ছিল তিন হাজার ট্যাংক এবং অজস্র আর্টিলারি পিস। ধরা হয় বিংশ শতাব্দীর সেরা আর্মি ছিল রাশিয়া দখল করতে যাওয়া হিটলারের জার্মান বাহিনী।

জার্মানরা প্রচণ্ড গতিতে এগিয়ে চলে মস্কোর দিকে। রাশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল অধিকার করলেও শীত আসতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল জার্মানরা। তারা পিছু হটতে আরম্ভ করল। এই সুযোগে রুশ গেরিলা বাহিনী আঘাত হানতে থাকে। শীত শেষে আবার জার্মানরা আক্রমণে আসে। এবার তাদের তেলের সংকট দেখা দিলে চেচনিয়ার দিকে হাত বাড়ায়। রাশানরা দখলে রাখতে পারবে না জেনে তেলের খনিতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। 

স্টালিন গ্রাডে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলার পর, ১৯৪৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করল জার্মান বাহিনী। এর আগেই ৩০ জানুয়ারি বন্দী করা হয়েছিল ফিল্ডমার্শাল ফ্রেডরিখ পাউলাসকে। স্ট্যালিনগ্রাড যুদ্ধে প্রায় দেড় লক্ষ জার্মান সৈন্য মারা পড়েছিল আর বন্দী হয়েছিল আরও ৯৫ হাজার যার মধ্যে মাত্র ৫-৬ হাজার জার্মানকে জীবিত ফেরত দেওয়া হয়েছিল ১৯৫৫ সালে।

১৯৪৫-এর প্রথমার্ধে দুটি ফ্রন্ট থেকে জার্মান সৈন্যরা ক্রমাগত পিছু  হটছিল। পিছাতে পিছাতে এক সময় তারা নিজেদের ভূখন্ডে এসে ঠেকে। একদিকে, সোভিয়েত লাল ফৌজ বা রেড আর্মি এবং অন্যদিকে, পশ্চিমা মিত্র জোট উভয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করছিল। তবে এক্ষেত্রে  রেড আর্মি ছিল অগ্রগামী।

১৯৪৪ সালে লাল ফৌজ স্বদেশভূমি থেকে জার্মান বাহিনীকে সম্পূর্ণ উৎখাত করে একের পর এক অধিকৃত 
যতই চারদিক থেকে পরাজয়ের সংবাদ আসতে থাকে হিটলার উন্মত্তের মতো হয়ে ওঠেন। ১৯৪৫ সালের ২৯ এপ্রিল হিটলারের শেষ ভরসা তার স্টেইনের সৈন্যবাহিনী বিধ্বস্ত হয়ে যায়
হিটলার বুঝতে পারেন তার সব স্বপ্ন চিরদিনের জন্য শেষ হয়ে গেছে। বার্লিনের প্রান্তে রুশ বাহিনীর কামানের গর্জন শোনা যাচ্ছে।  সকলের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন।  এ সময় তার একমাত্র সঙ্গী ছিল প্রেমিকা ইভা ব্রাউন। হিটলার তার বারো বছরের সঙ্গিনী ইভাকে বার্লিন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। ইভা হিটলারকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও হিটলারকে পরিত্যাগ করেননি। সোভিয়েত বাহিনী বার্লিনের দখল নিয়েছিল ১৯৪৫ সালের এপ্রিল মাসেই। 
৩০ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে তিনি বাঙ্কার থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে তার সহযোগীদের সাথে শেষবারের মত দেখা করেন। এসময় তিনি তার সহযোগীদের বলেন, তার মৃত্যুর পর যেন তার লাশ এমনভাবে পোড়ান হয় যাতে তার দেহের অংশের কোন চিহ্ন না থাকে। আত্মহত্যার আগে হিটলার তার পোষা কুকুরকে সায়ানাইড পিল খাইয়ে মেরে ফেলেছিলেন, কুকুরটির পাঁচটি বাচ্চাকে খুন করেছিলেন গুলি করে।  কিছুক্ষন পরেই গুলির শব্দ শোনা যায়। যুদ্ধের ফলাফল বুঝতে পেরেই হিটলার আত্মহত্যা করেন ৩০ এপ্রিল হিটলার নিজের পিস্তল দিয়েই আত্মহত্যা করেছিল। এর আগে তার সদ্য বিবাহিতা বউ ইভা বিষপানে আত্মহত্যা করেন।
চারদিক থেকে গোলা পড়ছে। তখন হিটলারের দুই সৈন্য তার মৃতদেহ কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে বাগানে নিয়ে যান এবং এ অবস্থাতেই তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। গোটা বিশ্বধ্বংসের খেলা শেষ করে নিজেই শেষ হয়ে যান অ্যাডলফ হিটলার। অবসান ঘটে কারো কাছে নায়ক আবার কারো কাছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খল নায়কের।
ইভাকে নিয়ে মানুষের উৎসাহের অন্ত নেই চলুন ইভা আর হিটালারে সম্পর্ক নিয়ে কিছু তথ্যঃ

ইভা ব্রাউনের সাথে হিটলারের প্রেম

কিছু কিছু প্রেম কাহিনী আছে যেগুলো সম্পর্কে বিশ্ববাসী জানতে উৎসুক কিন্তু সেসব সম্পর্কে খুব কমই তথ্য পাওয়া যায়। এমনই একটি গল্প হলো হিটলার এবং তার স্ত্রী ইভা ব্রাউনের ভালোবাসার গল্প। তাদের ভালোবাসার গল্প খুবই রহস্যময় একটি; কেননা বিশ্ব খুব বেশি একটা জানে না এই বিষয়ে। কিন্তু অনেকেই বিশ্বাস করেন, তাদের প্রেমের গল্প রোমিও এবং জুলিয়েটের চেয়ে কোনো অংশেই কম ছিল না। আসুন জেনে নেওয়া যাক হিটলার ও তার স্ত্রী ইভা ব্রাউনের সম্পর্কের কথা।
অধিকাংশ মানুষই জানে ইভা ব্রাউন নামে একজন নারী ছিলেন হিটলারের স্ত্রী। কিন্তু অনেকেই জানেন না তারা বিবাহিত হিসেবে থাকতে পেরেছিলেন মাত্র একদিন। অবিবাহিত অবস্থায় তারা অনেকদিন একসাথে ছিলেন। হিটলারের চেয়ে ২৩ বছরের ছোট ছিলেন ইভা ব্রাউন। এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ১৬ বছর ধরে হিটলারের অনুগত শিষ্য ছিলেন ইভা। এমনকি হিটলার একবার তার প্রতি ইভার আনুগত্যের সঙ্গে তার কুকুর ব্লোন্ডির আনুগত্যের তুলনা করেছিলেন। বয়সের এমন পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও হিটলারের প্রতি ইভার খুব আন্তরিকতা ছিল।
হিটলারের বয়স যখন ৪০ আর ইভার বয়স যখন ১৭ । সে সময় তাদের প্রথম দেখা হয়। তখন ইভা ফটোগ্রাফি অ্যাসিসটেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। প্রথম দেখার কিছু দিন পরেই ইভা হিটলারের প্রেমে পড়েন। যদিও ইভার পরিবার এর বিরোধীতা করেছিল।
হিটলার-ইভা

হিটলার-ইভা (aftenposten.no)

আশ্চয্য লাগে না হিটলার ইভার রক্ত নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতেন যে তার দেহে হয়তো ইহুদির রক্ত আছে ?তাই হিটলার ইভার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের বিষয়ে তদন্ত করান। এবং যখন প্রমাণিত হয় যে ইভা খাঁটি এরিয়ান বা আর্য রক্তের অধিকারী তখনই তার সঙ্গে ডেটিং করেন হিটলার !
হিটলার নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং তাকে ধুমপান বা মদপানের অনুমতি দিতেন না ও নাচতে দিতেন না এবং জনসম্মুখে কারো সঙ্গে সাক্ষাত করতে দিতেন। ইভা তার ডায়েরিতে প্রকাশ করেন, হিটলার শুধু নিজের জন্য সুবিধাজনক সময়েই তাকে ভালোবাসতেন।
এ সব কারনে ১৯৩২ সালে যখন তার সময় খারাপ যাচ্ছিল তখন ইভা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এরপর ১৯৩৫ সালেও একই চেষ্টা করেন।  কিন্ত সফল হয়ে উঠে তার সেই চেষ্টা।

হিটলারের সঙ্গে ১৬ বছরের একত্রবাসের সময় ইভার শুধু একটাই ইচ্ছা ছিল, হিটলারকে বিয়ে করা। ১৯৪৫ সালে যখন জার্মানের পতন হয় তার আগ মূহুর্তে হিটলার আর ইভা বিয়ে করেন।  সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যক্রমে ইভার স্বপ্ন সত্যি হয় যে সে হিটলারকে বিয়ে করতে পেরেছে। এর পরেই আত্মহননের কোলে ঢলে পড়েন তারা। মাত্র একদিন স্থায়ী হয়েছিল তাদের এই বিয়ে। ঐ সময় ইভার বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর।

মজার ঘটনা হল আত্ম হত্যার পূর্বে হিটলার একটি উইল লিখে যান যেখানে হিটলার বলেন

‘আমি এবং আমার স্ত্রী শত্রুর হাতে বন্দী হওয়ার এবং আত্মসমর্পণের অপমান থেকে বাঁচতে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছি। আমাদের ইচ্ছা আমাদেরকে যেন মৃত্যুর পরপরই আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়। যেখানে আমি আমার জনগনের জন্য ১২ বছরের সেবার সময়কালে প্রতিদিনের কাজের সেরা অংশটি সম্পন্ন করেছি সেখানেই যেন আমাদেরকে আগুনে পোড়ানো হয়।’

হিটলারের ইহুদী বিদ্বেষ

 ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার কর্তক ইহুদীরের গণহত্যা হলোকস্ট  বা হলোকাস্ট নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হচ্ছে ‘হলোকস্ট’। মানে হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের ওপর চালানো গণহত্যা।  Holocaust শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ holokaustos থেকে। আর holokaustos শব্দটি গঠিত গ্রিক শব্দ hólos (whole) এবং kaustós (burnt) একসাথে মিলে। হলোকাস্ট বলতে বুঝায় একটি জেনোসাইড বা গণহত্যাকে।
এ গণ হত্যা করে হিটলারের জার্মান নাৎসি বাহিনী। এই হত্যাকাণ্ড চলে ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত। ইহুদিদের এই গণহত্যার লক্ষ্যে পরিণত করে পরিকল্পিতভাবে তা ঘটানো হয়। এটি আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়মাপের গণহত্যা। এ সময় প্রায় ৬০ লাখের মত ইহুদিকে হত্যা করা হয়।
 এ ছাড়া এ গণহত্যার সময় আরো ৫০ লাখ অ-ইহুদিকেও হত্যা করা হয় বলে ইতিহাসবিদেরা হলোকাস্টে নিহতের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের কথা উল্লেখ করে থাকেন। এই গণহত্যা যেমনি চলে জার্মানিতে, তেমনি চলে জার্মানির অধিকৃত দেশ বা ভূখণ্ডগুলোজুড়ে। তবে অনেক ইতিহাসবিদ শুধুমাত্র ইহুদি হত্যাকে হলোকাস্ট বলে অভিহিত করেন।
এই পরিকল্পিত গণহত্যার মাধ্যমে থার্ড রাইখ (হিটলারের আমলের জার্মানি এ নামেই পরিচিত ছিল) কার্যত পরিণত হয় একটি ‘জনোসাইড স্টেটে’। প্যারিশ (কাউন্টি বা জেলার অন্তর্গত যাজকীয় বিভাগ, যার নিজস্ব যাজক ও গির্জা আছে) চার্চগুলো ও ইন্টেরিয়র মিনিস্ট্রি সরবরাহ করে জন্ম রেকর্ড, যা থেকে জানা যায় কে ইহুদি ও কে ইহুদি নয়। পোস্ট অফিস সরবরাহ করে ডিপোর্টেশন ও ডিনেচারেলাইজেশন অর্ডার, ফিন্যান্স মিনিস্ট্রি বাজেয়াপ্ত করে ইহুদিদের সম্পত্তি, জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলো ইহুদিদের চাকরিচ্যুত করে।
১৯২২ সালের দিকে হিটলার বলেছিলেন, “আমি যদি কোনো দিন সত্যিসত্যিই ক্ষমতায় যাই, তবে আমার প্রথম ও সব কিছুর আগের কাজ হবে ইহুদিদের শেষ করে দেয়া।”
হিটলারের ইহুদী বিদ্বেশ জার্মানদের মনে ঢুকিয়ে দেওয়ার পরে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইহুদিদের ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। যেসব ইহুদি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এরই মধ্যে অধ্যয়নরত ছিল, তাদের ডিগ্রি দিতেও অস্বীকার করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। হলোকাস্টের আগে ইউরোপে ৯০ লাখ ইহুদি বসবাস করত। হলোকাস্টের ফলে এদের ৬০ লাখই নিহত হয়।  হলোকাস্টের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরাসরি জড়িত ছিল ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার লোক।
এই হত্যাকাণ্ড সবচেয়ে ভয়াবহভাবে চলে মধ্য ও পূর্ব-ইউরোপে। ১৯৩৯ সালের দিকে সেখানে ছিল ৭০ লাখ ইহুদির বাস। সেখানে হত্যা করা হয় ৫০ লাখ ইহুদিকে। অধিকৃত পেল্যান্ডে হত্যা করা হয়েছিল ৩০ লাখ ও সোভিয়েত ইউনিয়নে ১০ লাখ ইহুদিকে। নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াাম, যুগোস্লাভিয়া ও গ্রিসে হত্যা করা হয় আরো হাজার হাজার ইহুদি।
ইহুদি বন্দীদের নির্যাতন ও হত্যা সম্পন্ন করা হয় ধাপে ধাপে। প্রথমে হিটলার আইন পাস করে ইহুদিদের বেসামরিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য। এসব আইনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত আইনটি হচ্ছে ১৯৩৫ সালের নুরেমবার্গ আইন।  তাতে দেশের নাগরিকদের দুটি ভাগে ভাগ করা হলো, জেন্টিল আর জু। জেন্টিল অর্থাৎ জার্মান, তারাই খাঁটি আর্য, জু হলো ইহুদিরা। তারা শুধুমাত্র জার্মান দেশের বসবাসকারী, এদেশের নাগরিক নয়। প্রয়োজনে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।
<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/1btWFHjjqrs” frameborder=”0″ allow=”autoplay; encrypted-media” allowfullscreen></iframe>
হলোকাস্ট চলার সময়ে যে শুধু ইহুদিরা মার খেয়েছে তা নয় ইহুদিদের সশস্ত্র প্রতিরোধও অব্যাহত ছিল। এমন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে ১৯৪৩ সালের জানুয়ারিতে সংঘটিত ওয়ারশো ঘেটো অভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানে সামান্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইহুদি প্রতিরোধকারীরা চার সপ্তাহ ধরে এরা নাৎসি বাহিনীকে কাছে যেতে দেয়নি। ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ইহুদি রাজনৈতিক দলীয় লোক নাৎসি ও তাদের দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফরাসি ইহুদিরাও সে দেশে বড় ধরনের সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। এরা নাৎসিদের ও ফরাসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গেরিলা অভিযানও পরিচালনা করে। এ ধরনের সশস্ত্র ইহুদি অভ্যুত্থানের সংখ্যা একশটির মতো।
এক্সটার্মিনেশন ক্যাম্প বা ইহুদি নিধনশিবিরগুলোর আরেক নাম ছিল ডেথক্যাম্প। নাৎসি জার্মানেরা এই ক্যাম্প গড়ে তুলেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৩৯-৪৫)। এসব ক্যাম্পে লাখ লাখ ইহুদি হত্যা করা হতো প্রথমত গ্যাসচেম্বারে ঢুকিয়ে। তাদের প্রচুর কাজ করিয়ে ও একই সাথে খেতে না দিয়েও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হতো। হলোকাস্টে ব্যবহার করা এক্সটার্মিনেশন ক্যাম্প বা ইহুদি নিধনশিবিরগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ইহুদিদের নিধনের জন্য রাখা হয়েছিল গ্যাসচেম্বার। ইহুদিদের গণহারে গ্যাসচেম্বারে ঢুকিয়ে হত্যা করায় এটি ছিল এক অনন্য নির্মম উদাহরণ, যা ইতিহাসে এর আগে কখনো ঘটেনি।
নাৎসিদের পরিচালিত ইহুদিনিধনের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এদের ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয় মেডিক্যাল এক্সপেরিমেন্টে!
এড্লফ হিটলার কেন ইহুদিদের ঘৃণা করতো? এই প্রশ্নের উত্তর খুব একটা সোজা না। এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে গত ৭০ বছর ধরে গবেষণা চলছে !
২০০৯ সালে জামার্নিতে প্রকাশিত জার্মান ইতিহাসবিদ ও প্রবীন সাংবাদিক ড: জে. রিকার-এর লেখা বই “নভেম্বর নাইন: হাউ ওয়ার্ল্ড ওয়ার ওয়ান লেড টু দ্য হলোকাস্ট” থেকে জানা যায় হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের পরাজিত হওয়ার কারণ হিসেবে একমাত্র ইহুদিদের দায়ী করতো। ইহুদিরাই জার্মানদের বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে এই বিশ্বাস ছিল হিটলারের। এবং তার আরো দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, নভেম্বর ৯, ১৯১৮ সালে জামার্নির রাজতন্ত্রের বিলোপ ইহুদিদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল। তখন হিটলার বসবাস করতো মিউনিখে এবং সেখান থেকেই ইহুদিরা বিপ্লব করে রাজতন্ত্র ধ্বংস করেছিল। হিটলার সবসময় মনে করতো দেশ ইহুদিদের দ্বারা বিষাক্ত হয়ে উঠেছে এবং দেশের অভ্যন্তরে তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
১৯০৬ সালে একদিন ভিয়েনাতে রাস্তার ধারে বসে থাকা এক চিত্রশিল্পীকে দেখতে পেয়ে শখ করে এক মেয়ে গেল নিজের ছবি আঁকাতে। অসম্ভব রূপবতী সেই মেয়ের ছবি আঁকতে গিয়ে মনের অজান্তেই   শিল্পী পড়ে গেল প্রেমে। আমরা যাকে বলি লাভ এট ফার্স্ট সাইট! মেয়েটার বয়েস তখন ১৬, আর শিল্পীর তখন ১৮।

প্রেমে মত্ত টিনেজ বয়সী চিরন্তন প্রেম কাহিনীর মত ছেলেটি মাঝে মাঝে মেয়েটির বাড়ির সামনে গিয়ে বসে থাকতো। বাংলা সিনেমার মত  মেয়েটির বাবা ধনাট্য ব্যবসায়ী। মেয়েটি তাই থাকত  উঁচু পাচিল ঘেরা আলিসান বাড়িতে। মাঝে মাঝেই ছেলেটি তার পোষা প্রিয় কুকুরকে গেটের ফাঁক দিয়ে অই বাড়িতে ঢুকিয়ে দিত । আর কুকুরটার মুখে থাকত প্রেমপত্র।

তেমনি একদিন প্রেমপত্র সহ কুকুরটাকে পাঠায় মেয়েটির বাড়িতে। কিন্তু কুকুরটি আর ফিরে আসে না।  ছেলেটা সারারাত অপেক্ষা করে, সকালে চলে গেল। কারন কুকুরটি ছিল ছেলেটির মায়ের দেওয়া শেষ উপহার।  পরদিন আবার মেয়েটার বাড়ির সামনে গেল। দেখতে পেল বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে প্রিয় কুকুরটা মরে পড়ে আছে । মেয়ের ভাইয়েরা নির্মমভাবে কুকুরটিকে মেরে ফেলে।

কাঁদতে কাঁদতে ছেলেটি চলে আসলো অই বাড়ির সামনে থেকে। আর কোনদিন সে অই বাড়ির সামনে যায়নি।  ছেলেটি মারা যাবার অনেক পরে মেয়েটা বলেছিল, ছেলেটাকে মনে মনে সেও ভালবাসতো। কখনই সাহস করে বলা হয় নাই।

ভিয়েনার সেই মেয়েটার নাম স্টিফানি আইজ্যাক। আর চালচুলোহীন ওই রাস্তার ছবি আঁকিয়ে ছেলেটার নাম এডলফ হিটলার।  অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার ৬০ লাখ ইহুদিকে প্রাণে মেরেছিলেন যার মূলে ছিল যে ইহুদি বিদ্বেষী মনোভব তার পেছনে স্টিফানির প্রেম ও বিরহ যাতনার আঘাতই দায়ী। কারন কুকুর মারা পরে হিটলারের ইহুদিদের প্রতি প্রচন্ড বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছিল।  পরবর্তীতে গোটা ইহুদি জাতির ওপর তার মনটা বিষিয়ে ওঠে।

আরো একটি কারন হিসেবে অনেকে মনে করেন, হিটলারের মা এক ইহুদী বাসায় কাজ করতেন সেখানে তার মায়ের উপর প্রচন্ড অত্যাচার করা হত যা দেখে হিটলারের মনে প্রচন্ড ইহুদী বিদ্বেষ জিইয়ে ছিল।

মজার ব্যাপার হল এডওয়ার্ড ব্লচ ছিলেন একজন সম্মানিত ইহুদি চিকিৎসক যিনি হিটলারের পরিবারের পারিবারিক চিকিৎসক ছিলেন।  তিনি অস্ট্রিয়ার নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের চিকিৎসা করতেন। হিটলার যখন তীব্র ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ছিলেন তখন এডওয়ার্ড ব্লচ প্রথম হিটলারকে দেখার জন্য তার গৃহে যান। ১৯০৭ সাল পর্যন্ত তিনি হিটলারের পারিবারিক ডাক্তার ছিলেন। হিটলারের মা যখন ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তখন ডাক্তার ব্লিচ হিটলারের মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত চিকিৎসা করেন বিনা খরচে।

২য় বিশ্ব শুরু হলে  এত ইহুদী বিদ্বেষী হিটলার তার ছেলেবেলার পারিবারিক চিকিৎসক ইডুয়ার্ড ব্লচকে গ্রেফতার করেন নি। জার্মান বাহিনী যখন অষ্ট্রিয়া দখল করে তখন ডা. ব্লচ হিটলারের কাছে সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠান। হিটলার তাকে না গ্রেফতার করার আদেশ প্রদান করেন!

শেষ কথা

একজন হিটলার যে কিনা সাধারণ এক সৈনিক থেকে অসাধারণ একজন হিটলার হয়ে উঠেছিল। একজন হিটলার যেভাবে দুনিয়াকে যেভাবে কাপিয়ে দিয়েছে তা অবিস্মরণীয়। হিটলার জন্ম দিয়েছে এযাবত দুনিয়ার সবচেয়ে বড় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের। হয়ত ইতিহাস অন্য রকম হত যদি না সে একরোখা আর জেদী স্বভাবের হত। হিটলারের জেদ এমনি ছিল যে তার ভাগিনা ১৯৩৯ সালে তার বিরুদ্ধে সংবাদ পত্রে বিবৃতি দেওয়ার পরে জার্মান বাহিনী সে ভাগিনার বাড়িতে বোমা ফেলেছিল !

তথ্য ও ছবিঃ নানা ওয়েব  পোর্টাল

ইমেইলে নতুন লেখাগুলো পেতে সাইন আপ করুন 🙂

মানজুরুল হক